বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একদল প্রকৌশলীর হাতে গড়ে ওঠা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত কর্মী ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম টিপসই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বের ১১টি দেশে। বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরিশাস, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও এনজিওতে ব্যবহৃত হচ্ছে দেশে তৈরি এই প্রযুক্তি।
ইনোভেস টেকনোলজিসের এই প্ল্যাটফর্ম বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি সক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে ১ হাজার ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ও ২ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি ব্যবহারকারীকে সেবা দিচ্ছে। সফটওয়্যার, বায়োমেট্রিক ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২৫ সালে দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় তিন গুণ। বিশ্ববাজারে এই সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি নিজেদের ব্র্যান্ড পরিচিতিতেও পরিবর্তন এনেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশে তৈরি সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সমাধান সাধারণত স্থানীয় বাজার পার হয়ে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার নজির তুলনামূলক কম। টিপসইয়ের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশে একযোগে ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি এখন ইউরোপ ও এশিয়ার আরও কিছু দেশে উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এই সম্প্রসারণে বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত আছে অ্যাক্সিলারেটিং এশিয়া ও অরবিট ভেঞ্চারস। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে বিদেশি বিনিয়োগ আসার এই ধরনের ঘটনা দেশের স্টার্টআপ খাতের জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
টিপসইয়ের বিপণন বিভাগের প্রধান অর্ণব সিকদার বলেন, ‘আমাদের প্রযুক্তি এগিয়েছে, প্ল্যাটফর্মও বড় হয়েছে। নতুন বাজারে যাওয়া এবং বাংলাদেশে তৈরি এই প্রযুক্তিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত করানোই এখন আমাদের লক্ষ্য।’
আগামী কয়েক মাসের মধ্যে টিপসইয়ের সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম, যন্ত্র, ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনজুড়ে ধাপে ধাপে নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি চালু করা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
স্পেসএক্সের তৈরি বিশাল রকেট স্টারশিপ প্রথমবারের মতো কক্ষপথে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে মহাকাশযানটি ২৬টি নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। সোমবারের এই পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এসেছে। তবে মহাকাশযানটির একটি ইঞ্জিন আগেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই মিশন শেষ করতে হয়েছে। স্টারশিপের ১৪তম পরীক্ষামূলক ফ্লাইটটি ১০ ঘণ্টা চলার কথা ছিল। তবে নিচের স্তরের সুপার হেভি বুস্টার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর স্টারশিপের তিনটি প্রধান ইঞ্জিনের একটি বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এ কারণে মহাকাশযানটি কক্ষপথে যেতে পারবে না। পরে প্রকৌশলীরা জানান, অন্য ইঞ্জিন ব্যবহার করে কক্ষপথে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এরপর সফলভাবেই কক্ষপথে পৌঁছে স্টারশিপ। এবারের মিশনটি আগের পরীক্ষামূলক ফ্লাইটগুলোর চেয়ে আলাদা ছিল। কারণ, প্রথমবারের মতো স্টারশিপে বাস্তব বাণিজ্যিক পেলোড বহন করা হয়েছিল। কক্ষপথে পাঠানো ২৬টি স্টারলিংক ভি৩ স্যাটেলাইটই ছিল স্টারশিপের প্রথম বাণিজ্যিক পেলোড। স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ২৬টি স্যাটেলাইটই সফলভাবে নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। বুস্টারের অবতরণেও সাফল্য মেক্সিকো উপসাগরের তীরে টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের কাছে স্পেসএক্সের স্টারবেস থেকে স্টারশিপ উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রায় ৪০ তলা ভবনের সমান উচ্চতার এই যানটির দুটি প্রধান অংশ—সুপার হেভি বুস্টার এবং তার ওপরে থাকা স্টারশিপ মহাকাশযান। উৎক্ষেপণের পর সুপার হেভি বুস্টারটি স্টারশিপকে মহাকাশে পৌঁছে দেয়। এরপর সেটি ফিরে এসে সমুদ্রে নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণ করে। তবে নামার সময় বুস্টারের কয়েকটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছে স্পেসএক্স। অন্যদিকে, স্টারশিপ কক্ষপথে পৌঁছানোর পর স্যাটেলাইটগুলো মোতায়েন করে। পরে প্রশান্ত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রিতভাবে নামার চেষ্টা করে মহাকাশযানটি। পানিতে পড়ার সময় এর নিচের অংশে আগুন ধরে যায় এবং পরে এটি এক পাশে কাত হয়ে পড়ে। এই মিশনের পর স্টারশিপটি উদ্ধার করে পুনর্ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল না। ভবিষ্যতের চাঁদ মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা স্টারশিপকে ভবিষ্যতে স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইট দ্রুত উৎক্ষেপণ এবং নাসার নভোচারীদের চাঁদে পাঠানোর কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে স্টারশিপের ১৩টি পরীক্ষামূলক ফ্লাইট হলেও আগের কোনোটিই কক্ষপথে পৌঁছাতে পারেনি। তাই এবার কক্ষপথে পৌঁছানোকে স্টারশিপ কর্মসূচির জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইঞ্জিনের সমস্যা এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যানও স্টারশিপের কক্ষপথে পৌঁছানোর ঘটনায় স্পেসএক্সকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি মিশনটি নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনার প্রশংসা করেন। সূত্র: সামা টিভি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চ্যাটবটের সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার প্রবণতাও বাড়ছে। চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য থেকে শুরু করে আর্থিক তথ্য পর্যন্ত নানা বিষয় মানুষ এখন এআই চ্যাটবটে জানাচ্ছেন। তবে এতে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জুনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো না কোনো এআই টুল ব্যবহার করেছেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক এআই প্রতিষ্ঠান ব্যবহারকারীদের চ্যাটবটের কথোপকথন তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করে। ফলে ব্যবহারকারীরা যেসব তথ্য চ্যাটবটে দিচ্ছেন, সেগুলো কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির মানবকেন্দ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক ইনস্টিটিউটের গোপনীয়তা ও তথ্যনীতি বিশেষজ্ঞ জেনিফার কিং বলেন, এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবহারের পর সেগুলো কীভাবে প্রক্রিয়া করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা খুবই সীমিত। জনপ্রিয় এআই সেবা চ্যাটজিপিটি, ক্লদ ও জেমিনি এআই ব্যবহারকারীদের কথোপকথন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করে। তবে ব্যবহারকারীরা আগের চ্যাট মুছে ফেলতে পারেন এবং কিছু তথ্য ব্যবহারের অনুমতি বন্ধ করার সুযোগও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এআই চ্যাটবটে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। চিকিৎসার নথির মতো গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আপলোড করার আগে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলা উচিত। এ ছাড়া যেখানে সুযোগ রয়েছে, অস্থায়ী চ্যাট ব্যবহার করা এবং এআই প্রশিক্ষণে নিজের তথ্য ব্যবহারের অনুমতি বন্ধ করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এআই প্রতিষ্ঠানের গোপনীয়তা নীতি ও সেটিংস নিয়মিত পর্যালোচনা করতেও বলা হয়েছে। সূত্র: এবিসি নিউজ
তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের পেশাজীবী সাংবাদিকদের নিবন্ধিত সংগঠন বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ) বার্ষিক সাধারণ সভা করেছে। টানা চার ঘণ্টাব্যাপী সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত মত প্রকাশের মধ্য দিয়ে সভা শেষ হয়। সভাপতি হিটলার এ হালিমের সভাপতিত্বে রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত বিসিএস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি ভূঁইয়া মোহাম্মাদ ইনাম লেনিন। বার্ষিক সব কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন হাসান। নির্বাহী কমিটির নিয়মিত মাসিক সভা, বৈঠকের সিদ্ধান্ত নথিভুক্ত, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে অংশগ্রহণমূলক করা ছাড়াও সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নে নেওয়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন তিনি। সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন হাসান বলেন, বর্তমান কমিটি প্রায় শতভাগ সদস্যের ভোটে নির্বাচিত। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় নিয়মিত সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে সারাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছে। আইসিটি ঘরানার সব সংগঠন এখনও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারেনি। বিআইজেএফ-ও এ সংকটের বাইরে নয়। সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও সর্বোত্তম চেষ্টা ছিল কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। কমিটিতে নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে ছয়জন ছিল নতুন মুখ। নিজেদের প্রথম লক্ষ্য ছিল কোষাধ্যক্ষের পদকে সক্রিয়, কার্যকর ও দৃশ্যমান করা। এতে সাধারণ সদস্যদের কাছে আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়। সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়নসহ ইন্ডাস্ট্রিতে সংগঠনের ইনক্লুশনে বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি কাজ করছে। বিধি অনুযায়ী, জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ সময়ের অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম। আর্থিক প্রতিবেদনে উপস্থাপনে তিনি বলেন, হিসাব-নিকাশে যথাসাধ্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমান কমিটি আর্থিক লেনদেনের বেশিরভাগ ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পাদন করেছে। সব ধরনের হিসাব-নিকাশ যথাযথ প্রক্রিয়ায় লিপিবদ্ধ। আর্থিক লেনদেন সমর্থিক জরুরি কাগজপত্র ও প্রমাণাদি সংরক্ষণ করা হয়েছে। আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর আলোচনা শেষে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সর্বসম্মতিক্রমে উপস্থিত সদস্যরা অনুমোদন করেন। বিদ্যমান নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান এনকে রয় অ্যান্ড কোং দিয়ে পরের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সভায় দুই তৃতীয়াংশের বেশি সদস্যদের উপস্থিতিতে কণ্ঠভোটে উপস্থাপিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদিত হয়। সভাপতি হিটলার এ হালিম বলেন, বর্তমান নির্বাহী কমিটি সাংগঠনিক সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করেছে। সদস্যদের মত প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গ্রুপে সমালোচনার সুযোগ ছিল উন্মুক্ত। চলতি কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন ও নিয়মিত আয়োজন সম্পন্ন করতে সচেষ্ট। বিআইজেএফকে সাংগঠনিকভাবে সংগঠিত ও সুদৃঢ় করতে ধারাবাহিক সব কাজ করেছে ইসি। ভবিষ্যতে নির্বাহী কমিটিতে যারা আসবেন, তারা যেন এমনই ধারাবাহিকতা রাখতে পারেন সেই প্রত্যাশাই করছি। সদস্যের অধিকাংশই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বার্ষিক সাধারণ সভায় তাদের মতামত, পরামর্শ ও প্রত্যাশার ব্যক্ত করেন। সদস্যরা যথাযথ আর্থিক প্রতিবেদন, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের জন্য নির্বাহী কমিটিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সদস্যদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন সভাপতি, সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। বিবিধ আলোচ্যসূচিতে সংগঠনকে ক্রিয়াশীল, সমৃদ্ধ ও ইন্ডাস্ট্রিবান্ধব করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সদস্যরা। সংগঠনের স্বার্থ সংক্রান্ত বিষয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়। সভায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তুষার, প্রকাশনা ও গবেষণা সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. এনামুল করিম অংশ নেন। বিআইজেএফের এজিএমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বার্তা তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতের পেশাজীবী সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ) বার্ষিক সাধারণ সভা করেছে। রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিসিএস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রায় চার ঘণ্টা আলোচনা হয়। বিআইজেএফের সভাপতি হিটলার এ হালিমের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি ভূঁইয়া মোহাম্মাদ ইনাম লেনিন। সভায় ২০২৪-২৫ মেয়াদের সাংগঠনিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন হাসান। তিনি বলেন, ‘নির্বাহী কমিটির নিয়মিত সভা, সিদ্ধান্ত নথিভুক্তকরণ, সদস্যদের অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম এবং দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে।’ সাব্বিন হাসান বলেন, ‘বর্তমান কমিটি প্রায় শতভাগ সদস্যের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংগঠনের মতো বিআইজেএফও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সংগঠনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান কমিটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল কোষাধ্যক্ষের দপ্তরকে সক্রিয় ও কার্যকর করা, যাতে সদস্যদের কাছে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আইসিটি শিল্পে সংগঠনের সম্পৃক্ততা বাড়াতেও কাজ করা হয়েছে।’ সভায় জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অধিকাংশ লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। সব হিসাব যথাযথভাবে নথিভুক্ত এবং আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে। আলোচনা শেষে উপস্থিত সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করেন। পরবর্তী অর্থবছরের হিসাব নিরীক্ষার দায়িত্বও এনকে রয় অ্যান্ড কোংকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সভাপতি হিটলার এ হালিম বলেন, ‘সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বর্তমান নির্বাহী কমিটি কাজ করেছে। সদস্যদের মতামত ও সমালোচনার সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনসহ সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ সভায় সদস্যরা সংগঠনের কার্যক্রম, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশংসা করেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে সভাপতি, সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। পাশাপাশি সংগঠনকে আরও সক্রিয়, সমৃদ্ধ ও আইসিটি শিল্পবান্ধব করার বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ দেন সদস্যরা। সভায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তুষার, প্রকাশনা ও গবেষণা সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মো. এনামুল করিম উপস্থিত ছিলেন।