চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে পড়ে এবং সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসতে বাধা পায়, তখন তাকে সূর্যগ্রহণ বলে। আগামী ১২ আগস্ট পৃথিবীতে এমন বিরল দৃশ্যের দেখা মিলতে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন এবং বিশ্বখ্যাত মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, আগামী ১২ আগস্ট একটি বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হবে।
মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, নিয়মিত বিরতিতে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে ২ থেকে ৫টি সূর্যগ্রহণ ঘটে। তবে পৃথিবীর নির্দিষ্ট কোনো একটি স্থান থেকে একটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য গড়ে প্রায় ৩৭৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়েছিল ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল.এই মহাজাগতিক ঘটনাটি ‘গ্রেট নর্থ আমেরিকান এক্লিপ্স’ নামে পরিচিত, কারণ এটি মূলত উত্তর আমেরিকা মহাদেশের ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছিল। তবে ইউরোপ মহাদেশের মূল ভূখণ্ডে দীর্ঘ ২৭ বছর পর এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণটি ঘটতে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৯৯ সালের ১১ আগস্ট ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে শেষবারের মতো পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের বলয় গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, আটলান্টিক মহাসাগর এবং স্পেনের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। এর পাশাপাশি পর্তুগালের একটি ছোট অংশ থেকেও এই দৃশ্য দেখা যাবে।
এ ছাড়া উত্তর গোলার্ধের বহু অঞ্চল—যেমন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা থেকে উত্তর ক্যারোলিনা, কানাডা, ইউরোপের অধিকাংশ এলাকা (যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ) এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বাসিন্দারা আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখতে পাবেন। ইউরোপ ও আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে যখন সূর্য ডুববে, তখনো গ্রহণ থাকবে; ফলে সেখানে একটি বিরল ‘সূর্যাস্ত সূর্যগ্রহণ’ দেখার সুযোগ মিলবে।
নাসা বলছে, ইউরোপের মূল ভূখণ্ড (যেমন—ফ্রান্স) এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বাসিন্দাদের জন্য এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় হবে, কারণ সেখানে সূর্যাস্তের ঠিক আগ মুহূর্তে আংশিক সূর্যগ্রহণ চলবে. ফলে দিগন্তে একটি রক্তিম ও আংশিক ঢাকা পড়া সূর্যের বিরল দৃশ্য তৈরি হবে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, চাঁদের মূল অন্ধকার ছায়া বা ‘আমব্রা’ পৃথিবীর ওপর প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি পথ তৈরি করে এগিয়ে যাবে। গ্রহণটি গ্রিনিচ মান সময় ৫টায় উত্তর মেরুর কাছাকাছি রাশিয়ার সাইবেরিয়ান উপকূল এবং আর্কটিক মহাসাগর থেকে শুরু হবে। এরপর ছায়াটি উত্তর মেরুকে ঘেঁষে পূর্ব গ্রিনল্যান্ড এবং আইসল্যান্ডের পশ্চিম উপকূল অতিক্রম করে আটলান্টিক মহাসাগরে প্রবেশ করবে। মহাসাগর পেরিয়ে এটি স্পেনের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চল এবং পর্তুগালের একেবারে উত্তর-পূর্ব কোণ দিয়ে গিয়ে ভূমধ্যসাগরের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে সূর্যাস্তের মাধ্যমে শেষ হবে।
আর্থস্কাই এস্ট্রোনমির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গ্রহণের সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব হবে ২ মিনিট ১৮.২ সেকেন্ড। আইসল্যান্ডের পশ্চিম উপকূল থেকে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার দূরে ডেনমার্ক প্রণালিতে এই সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব দেখা যাবে। গ্রিনল্যান্ডের ভূমিতে এটি সর্বোচ্চ ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ড, আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিয়াভিকে ১ মিনিট ৪১ সেকেন্ড এবং স্পেনের উত্তরাঞ্চলে ১ মিনিট থেকে ১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফ্রেড এস্পেনাক ও নাসা গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণগ্রাসের মূল পথের ভেতরের এলাকাগুলোতে সূর্য ১০০% ঢাকা পড়বে। এর বাইরে চারপাশের হাজার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
শতভাগ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে আইসল্যান্ডের রেইকিয়াভিক, স্পেনের বিলবাও, জারাগোজা, ভ্যালেন্সিয়া, ওভিয়েডো, লা করুনা, এবং পালমা দ্বীপ, গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূল, রাশিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং পর্তুগালের একেবারে উত্তর-পূর্বের সীমান্ত এলাকা।
৯০ শতাংশ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে যুক্তরাজ্যের কর্নওয়াল ও ল্যান্ডস এন্ড, ফ্রান্সের প্যারিস, পর্তুগালের লিসবন, মরক্কোর উত্তর অংশ। এছাড়া ৮০ শতাংশ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের দেখা মিলবে জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহ (আলাস্কা থেকে উত্তর ক্যারোলিনা), উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার অন্যান্য অংশ এবং কানাডার পূর্ব ও উত্তরাঞ্চল থেকেও ১০ থেকে ৫০ শতাংশ সূর্যগ্রহণের দেখা মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে এসে পড়ে এবং সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসতে বাধা পায়, তখন তাকে সূর্যগ্রহণ বলে। আগামী ১২ আগস্ট পৃথিবীতে এমন বিরল দৃশ্যের দেখা মিলতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন এবং বিশ্বখ্যাত মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, আগামী ১২ আগস্ট একটি বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হবে। মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, নিয়মিত বিরতিতে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে ২ থেকে ৫টি সূর্যগ্রহণ ঘটে। তবে পৃথিবীর নির্দিষ্ট কোনো একটি স্থান থেকে একটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য গড়ে প্রায় ৩৭৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়েছিল ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল.এই মহাজাগতিক ঘটনাটি ‘গ্রেট নর্থ আমেরিকান এক্লিপ্স’ নামে পরিচিত, কারণ এটি মূলত উত্তর আমেরিকা মহাদেশের ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছিল। তবে ইউরোপ মহাদেশের মূল ভূখণ্ডে দীর্ঘ ২৭ বছর পর এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণটি ঘটতে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৯৯ সালের ১১ আগস্ট ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে শেষবারের মতো পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের বলয় গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, আটলান্টিক মহাসাগর এবং স্পেনের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। এর পাশাপাশি পর্তুগালের একটি ছোট অংশ থেকেও এই দৃশ্য দেখা যাবে। এ ছাড়া উত্তর গোলার্ধের বহু অঞ্চল—যেমন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা থেকে উত্তর ক্যারোলিনা, কানাডা, ইউরোপের অধিকাংশ এলাকা (যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ) এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বাসিন্দারা আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখতে পাবেন। ইউরোপ ও আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে যখন সূর্য ডুববে, তখনো গ্রহণ থাকবে; ফলে সেখানে একটি বিরল ‘সূর্যাস্ত সূর্যগ্রহণ’ দেখার সুযোগ মিলবে। নাসা বলছে, ইউরোপের মূল ভূখণ্ড (যেমন—ফ্রান্স) এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বাসিন্দাদের জন্য এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় হবে, কারণ সেখানে সূর্যাস্তের ঠিক আগ মুহূর্তে আংশিক সূর্যগ্রহণ চলবে. ফলে দিগন্তে একটি রক্তিম ও আংশিক ঢাকা পড়া সূর্যের বিরল দৃশ্য তৈরি হবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, চাঁদের মূল অন্ধকার ছায়া বা ‘আমব্রা’ পৃথিবীর ওপর প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি পথ তৈরি করে এগিয়ে যাবে। গ্রহণটি গ্রিনিচ মান সময় ৫টায় উত্তর মেরুর কাছাকাছি রাশিয়ার সাইবেরিয়ান উপকূল এবং আর্কটিক মহাসাগর থেকে শুরু হবে। এরপর ছায়াটি উত্তর মেরুকে ঘেঁষে পূর্ব গ্রিনল্যান্ড এবং আইসল্যান্ডের পশ্চিম উপকূল অতিক্রম করে আটলান্টিক মহাসাগরে প্রবেশ করবে। মহাসাগর পেরিয়ে এটি স্পেনের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চল এবং পর্তুগালের একেবারে উত্তর-পূর্ব কোণ দিয়ে গিয়ে ভূমধ্যসাগরের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে সূর্যাস্তের মাধ্যমে শেষ হবে। আর্থস্কাই এস্ট্রোনমির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গ্রহণের সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব হবে ২ মিনিট ১৮.২ সেকেন্ড। আইসল্যান্ডের পশ্চিম উপকূল থেকে মাত্র ৪৫ কিলোমিটার দূরে ডেনমার্ক প্রণালিতে এই সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব দেখা যাবে। গ্রিনল্যান্ডের ভূমিতে এটি সর্বোচ্চ ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ড, আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিয়াভিকে ১ মিনিট ৪১ সেকেন্ড এবং স্পেনের উত্তরাঞ্চলে ১ মিনিট থেকে ১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হবে। মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফ্রেড এস্পেনাক ও নাসা গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণগ্রাসের মূল পথের ভেতরের এলাকাগুলোতে সূর্য ১০০% ঢাকা পড়বে। এর বাইরে চারপাশের হাজার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। শতভাগ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে আইসল্যান্ডের রেইকিয়াভিক, স্পেনের বিলবাও, জারাগোজা, ভ্যালেন্সিয়া, ওভিয়েডো, লা করুনা, এবং পালমা দ্বীপ, গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূল, রাশিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং পর্তুগালের একেবারে উত্তর-পূর্বের সীমান্ত এলাকা। ৯০ শতাংশ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে যুক্তরাজ্যের কর্নওয়াল ও ল্যান্ডস এন্ড, ফ্রান্সের প্যারিস, পর্তুগালের লিসবন, মরক্কোর উত্তর অংশ। এছাড়া ৮০ শতাংশ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের দেখা মিলবে জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহ (আলাস্কা থেকে উত্তর ক্যারোলিনা), উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার অন্যান্য অংশ এবং কানাডার পূর্ব ও উত্তরাঞ্চল থেকেও ১০ থেকে ৫০ শতাংশ সূর্যগ্রহণের দেখা মিলবে।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিভ্রাট শেষে আবারও সচল হয়েছে ফেসবুকের ডেস্কটপ ভার্সন। এর আগে রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর থেকে বিভ্রাটের কারণে বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের একাংশ ভোগান্তিতে পড়েছেন। ডাউন ডিটেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুর দেড়টা থেকে ফেসবুকের বিভিন্ন সেবা ব্যবহারে সমস্যা নিয়ে অভিযোগ আসতে থাকে। মাত্র কয়েক মিনিটেই অভিযোগকারীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ডেস্কটপে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা লগইন, নিউজফিড দেখা ও বিভিন্ন ফিচার ব্যবহারে সমস্যার অভিযোগ করেন। তবে মোবাইল অ্যাপে এমন সমস্যা তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছিল। অবশেষে দুই ঘণ্টা পর ডেস্কটপ ভার্সনের বিভ্রাটের অবসান হয়েছে। ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, বিভ্রাটের ফলে ফেসবুকে লগ-ইন করতে পারছিলেন না তারা। অনেকে অ্যাপ বা ওয়েবসাইট লোড হতে দেরি হওয়া এবং ফিড আপডেট না হওয়ার মতো সমস্যার কথা জানিয়েছেন তারা।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো মানুষের সাহায্য বা তদারকি ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। নিরাপত্তা গবেষকদের উন্মোচন করা এ ঘটনা প্রযুক্তি বিশ্বে বড় মাইলফলক হলেও সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন আতঙ্ক তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট। এ ঘটনায় মানুষের সাহায্য ছাড়াই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ এক সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে একটি এআই এজেন্ট। এআই প্রযুক্তি সাইবার অপরাধীদের কাজকে আরও সহজ করে দিচ্ছে। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এ সাইবার আক্রমণে এক র্যানসমওয়্যার আক্রমণ চালিয়েছে এআই। র্যানসমওয়্যার সাইবার আক্রমণে ভুক্তভোগীরা সাধারণত নিজেদের ডেটা বা তথ্যের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার জন্য অপরাধীদের মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হয়। মার্কিন ক্লাউড নিরাপত্তা কোম্পানি ‘সিসডিগ’-এর একটি গবেষক দল বলেছে, এ এআই আক্রমণকারীটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জেডপাফার’, যা প্রথমে দুর্বল ও অরক্ষিত সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে সার্ভার থেকে প্রয়োজনীয় পাসওয়ার্ড এবং লগইন তথ্য খুঁজে বের করে। সবশেষে মূল প্রোডাকশন ডেটাবেইসটি লক বা এনক্রিপ্ট করে ডেটাবেইসটি আনলকের বিনিময়ে বিটকয়েনের মাধ্যমে মুক্তিপণ দাবি করে জেডপাফার। এ পুরো বিষয়টি নিয়ে এক ব্লগ পোস্টে সিসডিগ-এর থ্রেট রিসার্চ ডিরেক্টর মাইকেল ক্লার্ক লিখেছেন, “র্যানসমওয়্যার যখন থেকে একটি হুমকি হিসেবে তৈরি হয়েছে, তখন থেকেই এর পেছনে কোনো না কোনো মানুষ সরাসরি জড়িয়ে ছিল বা একজন মানুষ এর স্ক্রিপ্ট বা কোড লিখে দিয়েছিল। “তবে সিসডিগ থ্রেট রিসার্চ টিম এমন ঘটনা লিপিভুক্ত করেছে, যা আমাদের মতে প্রথম ‘এজেন্টিক র্যানসমওয়্যার’-এর প্রমাণ। এ এমন এক চাঁদাবাজির ঘটনা, যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। এআই অ্যাপ্লিকেশন তৈরির ওপেন-সোর্স টুল ‘ল্যাংফ্লো’-এ প্রবেশাধিকার পাওয়ার পরপরই এআই মডেলটি আলিবাবা, টেনসেন্ট ও হুয়াওয়ের মতো ‘চীনা ক্লাউড সেবাদাতাদের লক্ষ্য করে’ লগইন তথ্য ও পাসওয়ার্ড খুঁজতে শুরু করে। এ স্বয়ংক্রিয় অভিযানটি বাস্তব সময়ে বা রিয়াল-টাইমে নিজস্ব কৌশল পরিবর্তন ও খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছিল, যার কাজের গতি ছিল দক্ষ যে কোনো মানব অপারেটরের চেয়েও দ্রুত। আক্রমণটি সম্পর্কে সিসডিগ-এর গবেষক মাইকেল ক্লার্ক বলেছেন, “সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এই এলএলএম-এর আচরণ। এ অভিযানটি রিয়াল-টাইমে পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছিল এবং কোনো ধাপে ব্যর্থ হলে সংশোধিত প্যারামিটার ব্যবহার করে পুনরায় চেষ্টা করছিল। “এক পর্যায়ে দেখা যায়, লগইন ব্যর্থ হওয়ার পর কেবল ৩১ সেকেন্ডের মধ্যে মডেলটি সমস্যার সমাধান করে সফলভাবে লগইন করে ফেলেছে।” সিসডিগ-এর গবেষকেরা আরও উদ্বেগজনক বিষয় লক্ষ্য করেছেন, যেখানে ভুক্তভোগী ব্যক্তি বা কোম্পানি যদি মুক্তিপণ পরিশোধও করত তবুও তারা নিজেদের হারিয়ে যাওয়া ডেটা আর ফেরত পেতেন না। কারণ এ এআই এজেন্টটি কোনো ব্যাকআপ না রেখেই মূল ডেটা বা তথ্য আগেই সম্পূর্ণ মুছে ফেলেছিল। গবেষণার এসব ফলাফল এখনও পিয়ার রিভিউড না হলেও এতে ক্রমাগত সাইবার ঝুঁকির স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। এর থেকে প্রমাণ মেলে, মানুষের কোনো রকম তদারকি ছাড়াই জটিল সব সাইবার আক্রমণ চালাতে বিভিন্ন এআই সিস্টেম দিন দিন আরও সক্ষম হয়ে উঠছে। গেল মাসে বিরল এক যৌথ সতর্কবার্তায় পাঁচ দেশের নিরাপত্তা জোট ‘ফাইভ আইস’ বলেছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারগুলোর ওপর বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি করা থেকে এআই এখন কেবল ‘কয়েক মাস দূরে’ রয়েছে। সেই সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, “সামনের দিকের বিভিন্ন এআই মডেল বর্তমান শিল্প খাতের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যাবে, যা সাইবার জগতের আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা উভয় সক্ষমতাকেই মৌলিকভাবে বদলে দেবে। ফলে পরিস্থিতি ঠেকাতে পুরো কোম্পানি ও সার্বিকভাবে গোটা সমাজকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।