প্রবাসী

আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর মৃত্যু

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২১, ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার যুবক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম ফাহিম (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি রাউজান উপজেলার বিনাজুরী গ্রামের লেলাংগারা এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত ফরিদ আহমেদের ছেলে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

 

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আবুধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাহিমের মৃত্যু হয়। এর আগে গত ১০ জানুয়ারি কর্মস্থলে যাওয়ার পথে একটি ব্যক্তিগত গাড়ির ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

ফাহিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার চাচা প্রবাসী মো. মিনহাজ আদিল তানজিদ জানান, ঘটনার দিন বিকেলে সাইকেল চালিয়ে কাজে যাওয়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় আহত হন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয় এবং দীর্ঘ চিকিৎসার পর মঙ্গলবার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 

পারিবারিক সূত্র আরও জানায়, মঙ্গলবার রাতে আবুধাবির সেন্ট্রাল মর্গে ফাহিমের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে বুধবার সকালে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফাহিম প্রায় দুই বছর আগে জীবিকার তাগিদে প্রবাসে যান, এবারের ঈদে দেশে ফেরার পরিকল্পনাও ছিল বলে পরিবার জানিয়েছে।

 

এ ঘটনায় প্রবাসে ও নিজ এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। স্বজনরা দ্রুত মরদেহ দেশে আনতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন এবং স্থানীয়ভাবে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ওমানে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ওমানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওমান শাখা বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।   অনুষ্ঠানে মরহুম জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একইসঙ্গে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন প্রবাসী নেতাকর্মীরা।   ওমান বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে এবং ওমান যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওমান বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাজি আবুল কালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি জানে আলম ও শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।   আলোচনা সভায় বক্তারা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, নেতৃত্বগুণ এবং দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় বক্তব্য দেন ওমান বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন রিপন, যুবদলের সহসভাপতি কামাল উদ্দিন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক কামরুজ্জামান শামীম, যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস ভূঁইয়া এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।   এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ইউনুস মিঠন, বেলাল হোসেন, শহিদুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ, আনোয়ার হোসেন, সাঈদ খোকন, আল আমিন, জহির হোসেন, মোহাম্মদ দিপুসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।   আলোচনা পর্ব শেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন ওমান বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রফিকুল ইসলাম। মোনাজাতে জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।   এ সময় নেতাকর্মীরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি প্রবাসে বিভেদ ভুলে দলীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

আক্তারুজ্জামান মে ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রবাসী ইউসুফ মিয়ার

ফাইল ছবি।

মালয়েশিয়ায় পুলিশ দেখে পালাতে গিয়ে ৯ বাংলাদেশি আটক

ছবি: সংগৃহীত

ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ, বিগ টিকিটে পুরস্কার জিতলেন চার প্রবাসী

ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ-এ সড়ক দুর্ঘটনায় মাহাদি রাজ শুভ নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন তার সহকর্মীরা।   নিহত মাহাদি রাজ শুভ লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং প্রবাসী মুহাম্মদ দুলালের ছেলে।   পারিবারিক সূত্র জানায়, শুভ সৌদি আরবে একটি খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। প্রতিদিনের মতো মোটরসাইকেল নিয়ে ডেলিভারির কাজে বের হলেও সেদিন আর বাসায় ফেরেননি। পরে সহকর্মীরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। রাতের দিকে সৌদি পুলিশ তাদের জানায়, রিয়াদের তোমামা এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে।   ঘটনাটি আরও আলোচনায় এসেছে তার একটি পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে। প্রায় দুই মাস আগে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি হতাশা প্রকাশ করে মৃত্যুকামনাসূচক একটি পোস্ট করেছিলেন। সেই পোস্টের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হওয়ায় পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি আবেগঘন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।   স্বজনদের ভাষ্য, উন্নত জীবনের আশায় মাত্র ছয় মাস আগে দ্বিতীয়বারের মতো সৌদি আরবে গিয়েছিলেন শুভ। ভবিষ্যৎ নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল, কিন্তু দুর্ঘটনায় সবকিছু থেমে গেল।   বর্তমানে তার মরদেহ রিয়াদের একটি হাসপাতালে সংরক্ষণ করা হয়েছে। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।   এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের দাবি জানিয়েছেন।

আক্তারুজ্জামান মে ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঈদের ছুটিতে ঘুরতে গিয়ে ওমানে প্রাণ গেল প্রবাসী বাংলাদেশির

ছবি: সংগৃহীত

প্যারিসে জাতীয় কবি নজরুলের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী পালন

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন সিস্টেম বিকল, সীমান্তে ভোগান্তি

ছবি: সংগৃহীত
ঈদ পালনের আগেই আমিরাতে প্রাণ গেল প্রবাসী বাংলাদেশির

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুলাল মিয়া (৫৩) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ঈদুল আজহার উৎসব শুরুর আগেই ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় তার পরিবার ও প্রবাসী কমিউনিটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।   সোমবার (২৭ মে) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে রাস্তা পার হওয়ার সময় সাইকেলে থাকা অবস্থায় পেছন দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধাক্কায় দুলাল মিয়ার সাইকেল দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তিনি সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে সাকর হাসপাতালে (Saqr Hospital) নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালক নিজেই পুলিশকে বিষয়টি জানায় বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।   নিহত দুলাল মিয়া নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানুল্লাহপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তিনি ২০০৭ সালে প্রবাসে পাড়ি জমান। দীর্ঘদিনের প্রবাস জীবনের পর ঈদের আগে এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম।   স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রবাসে ঈদের আনন্দ শুরুর আগেই এই দুর্ঘটনা সবাইকে নাড়া দিয়েছে।

আক্তারুজ্জামান মে ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দুবাইয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় হাকিমপুর সীমান্তে শতাধিক বাংলাদেশি

ছবি : সংগৃহীত

টরন্টো ম্যারাথনে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন নাফি

0 Comments