জাতীয়

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট চূড়ান্ত

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ও বিনিয়ন্ত্রণকরণ : ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অভিযাত্রায় বাংলাদেশ’ সম্ভাব্য শিরোনামে জাতীয় বাজেট দিতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বাজেট উপস্থাপন করবেন। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার বই আগামী দু-একদিনের মধ্যে বিজি প্রেসে ছাপা শুরু হবে। এ কারণে শেষ মুহূর্তে পাণ্ডুলিপির ঘষামাজার কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় বাজেটের শিরোনাম কি হবে তা নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। অর্থমন্ত্রীর টেবিলে আরও পাঁচটি শিরোনাম এসেছে। এগুলো হলো-‘অর্থনৈতিক বিনিয়ন্ত্রণকরণ, সবার জন্য উন্নয়ন’, ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ও বিনিয়ন্ত্রণকরণ সবার জন্য উন্নয়ন’, ‘মানবিক কল্যাণমূলক ও উৎপাদনমুখী দেশ কর্মসংস্থান সুশাসন ও সমতায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’, ‘বৈষম্যহীন টেকসই ও ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গড়ার প্রত্যয়’ এবং ‘অর্থনৈতিক পুনর্গঠন : ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির নতুন বাংলাদেশ’। এর মধ্যে একটি শিরোনাম বাজেট বক্তৃতার বইয়ে স্থান পাবে। এছাড়া বাজেট সংক্রান্ত অন্য বইগুলো ছাপা শেষ হয়েছে। বাজেটের দর্শন হিসাবে ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন’ শব্দটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা সীমিত কয়েকটি গোষ্ঠীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত না রেখে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য থেকে এ ধারণাকে সামনে আনা হয়েছে।

 

একই সঙ্গে ‘বিনিয়ন্ত্রণকরণ’ বা ডিরেগুলেশনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসা শুরু, লাইসেন্স গ্রহণ, আমদানি-রপ্তানি এবং শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। প্রশাসনিক জটিলতা কমানো গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেছেন, নতুন সরকারের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজেট। তিনি বলেন, অর্থনীতি বর্তমানে পুনরুদ্ধারের পর্যায়ে রয়েছে। তাই বাজেটকে অবশ্যই বাস্তবসম্মত হতে হবে। উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা ভালো, কিন্তু রাজস্ব আহরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাস্তব সক্ষমতাকে বিবেচনায় নিতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, বৈদেশিক ঋণ নেওয়া কোনো সমস্যা নয়, যদি সেই অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহৃত হয় এবং ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়তা করে। তবে ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

 

মূল্যস্ফীতি কমিয়ে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সর্বশেষ মে মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা অনেক কঠিন হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

 

বেসরকারি গবেষণা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজস্ব আহরণ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। তিনি আরও বলেন, প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, আর বিনিয়োগ বাড়াতে হলে ব্যবসায়িক আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, আর্থিক খাতে সুশাসন এবং নীতি-স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।

 

তিনি বলেন, ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য অবশ্যই ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণাদায়ক। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন। শুধু বাজেটের আকার বড় হলেই হবে না, ব্যয়ের গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য হবে- অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, ব্যবসা সহজীকরণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের ভিত্তি তৈরি করা। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে মোট বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতির আকার বা জিডিপি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক বছরে অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থানের ধীরগতি। নতুন বাজেটে তাই উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিল্প, কৃষি, রপ্তানি, প্রবাসী আয় এবং অবকাঠামো খাতে নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তবে বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে ঘাটতি অর্থায়নের কাঠামো। মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির মধ্যে বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করা হবে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। ফলে নিট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।

 

অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার সঞ্চয়পত্র এবং অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে। পরিচালনসহ অন্যান্য ব্যয় খাতের জন্য ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ইতোমধ্যে ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চাইলেন এমপি নজরুলের সহকারী

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ওবায়দুর রহমান এমপি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ এনে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন।   সোমবার প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দেওয়া এক লিখিত আবেদনে তিনি দাবি করেন, গত ১৪ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানার উত্তর কালশীর আলীনগর এলাকার ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার-২’-এর একটি ফ্ল্যাটে অবস্থানকালে তার ওপর হামলা চালানো হয়।   আবেদনে অভিযোগ করা হয়, দুর্নীতির দায়ে চাকরিচ্যুত পুলিশের সাবেক এসআই আমিন, ইউনুস সরদারের ছেলে মাসুম বিল্লাহ এবং মোক্তাসিম বিল্লাহ লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর হামলা চালান। হামলার সময় তার চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে মা ও ছোট বোন এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।   ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন।   লিখিত আবেদনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন এমপি গাজী নজরুল ইসলামের চালক ও ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি অবগত। আবেদনে এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জমি ও বালুমহাল দখল, ঘুষ গ্রহণ এবং নারীসংক্রান্ত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এছাড়া এসব অভিযোগের পক্ষে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ থাকার দাবিও করেছেন তিনি।   ওবায়দুর রহমান হামলার ঘটনার জন্য সরাসরি এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন।   এ অবস্থায় তিনি হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা দিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।   উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ ওবায়দুর রহমানের লিখিত আবেদনে উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বা সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ২২, ২০২৬

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে: নাহিদ ইসলাম

জামায়াত থেকে এমপি নজরুল বহিষ্কার

একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটির আট প্রকল্প অনুমোদন

হবিগঞ্জের হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন ব্যারিস্টার সুমন

হবিগঞ্জের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।   বুধবার (২২ জুলাই) তার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি শেখ জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।   আদালতে ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার পূর্ণিমা জাহান।   এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর খিলগাঁও ও আদাবর থানায় দায়ের করা পৃথক দুটি হত্যা মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল বর্তমানে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।   এর আগে ওই দুই হত্যা মামলায় তাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান এবং বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলটি জারি করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২২, ২০২৬

মেগা প্রকল্পে অনিয়ম-বিলম্ব সহ্য নয়, ১৮০ দিনের বিশেষ সংস্কারে সরকার

গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে এয়ারপোর্ট সড়ক অবরোধ

আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ বাড়ানোর দাবিতে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি কী?

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে দেশে যাতে জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে বড় ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এক বৈঠকেই রেকর্ড প্রায় ১৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আজ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) জোড়া বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য তোলা হচ্ছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।   মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত সভায় ১৫.৮০ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৫টি চালানের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল কেনা হবে। সংশ্লিষ্ট একটি নথি পর্যালোচনা করে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থা এবং প্রণালিভিত্তিক (স্ট্রেট অব হরমুজ) নৌপথের নিরাপত্তার চরম হুমকির মুখে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিএপি) ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ওমানভিত্তিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এনার্জি মাল্টিনেক্স কনভার্জেন্স টেকনোলজিস এলএলসি’ থেকে সরাসরি প্রক্রিয়ায় এ ডিজেল কেনা হচ্ছে। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা (প্রায় ৪০.৭৯ মিলিয়ন ডলার)। ওই হিসাবে ১ লাখ টন ডিজেল কিনতেই সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১০০৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ ১৬ লাখ টন ডিজেল আমদানিতে সরকারকে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।   প্রস্তাব অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৫টি চালানের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল কেনা হবে। একই দিনে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ৮টি প্রধান ক্রয়ের চূড়ান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ বজায় রাখতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন (CCC) ও বিএডিসির মধ্যকার চুক্তির আওতায় ১২তম লটে ৪০,০০০ (+-১০%) টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হতে পারে। রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার টন মসুর ডাল (৫০ কেজির বস্তায়) ক্রয়ের প্রস্তাব। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল ক্রয়ের প্রস্তাব। বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় নোয়াখালী জেলার ভাসানচরে টার্ন-কি ভিত্তিতে ব্যাটারি ব্যাক-আপ ও বিতরণ ব্যবস্থাসহ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।    এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৫০ কেজি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ১ কোটি ৬০ লাখ পিস বস্তা ই-জিপি সিস্টেমে ক্রয়ের প্রস্তাব। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জিসিবি এলাকার ৫টি কার্গো বার্থ ৫ বছরের জন্য ডিপিআর-২০০৬ অনুসরণপূর্বক বার্থ অপারেটর নিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার উৎপাদনের কাঁচামাল জরুরি ভিত্তিতে ক্রয়ের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের সময়সীমা ন্যূনতম ৪২ দিনের পরিবর্তে ২১ দিন নির্ধারণের নীতিগত অনুমোদন চেয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়।   জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এক নথিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিএসসি) পূর্বনির্ধারিত চুক্তিভিত্তিক সরবরাহকারীরা সময়মতো তেল সরবরাহে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় বিকল্প উৎস হিসাবে জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেয় বিপিএসসি।    তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক যুদ্ধের ঝুঁকি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পিপিআর বিধিমালা ব্যবহার করে সরাসরি কেনাকাটার বিধান থাকলেও এতে স্বচ্ছতা ও সর্বোচ্চ জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ, পরিবহণ ও কৃষি খাতের উৎপাদন সচল রাখতে আপৎকালীন মজুত বাড়াতেই দ্রুত এ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশ-উত্তর কোরিয়ার যৌথ অবস্থান ৯৭তম

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে চার মাসের অনিশ্চয়তা শেষে দেশে ফিরলেন ১৭ নাবিক

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসীদের ভোটাধিকার ব্যবস্থা নিয়ে ইসির জরুরি বৈঠক আজ

0 Comments