আন্তর্জাতিক

ইরান হামলার পর গাজার সব ক্রসিং বন্ধ করল ইসরায়েল

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যাকার দুই সীমান্ত ক্রসিং কেরেম শালম এবং রাফা বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। গাজা দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইসরায়েলি সংস্থা দ্য কো-অর্ডিনেটর অব গভর্নমেন্ট অ্যাক্টিভিটিজ ইন দ্য টেরিটোরিজ (কোগাট) রোববার মধ্যরাতের পর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এ তথ্য।

 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেসবের মধ্যে একটি হলো কেরেম শালম এবং রাফা ক্রসিং বন্ধ করা। পরবর্তী নোটিশ আসার আগ পর্যন্ত এ দুই ক্রসিং বন্ধই থাকবে।

 

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস হামলা চালানোর পর গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করেছিল ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তখন থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর— দু’বছর পর্যন্ত গাজার এই দুই সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ ছিল। এ কারণে এই দুই বছর গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রায়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু চিকিৎসা, ওষুধ ও খাদ্যাভাবে আইডিএফের অভিযানের সময় গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

 

রোববার স্থানীয় সময় মধ্যরাতে উত্তর ইসরায়েলে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের পক্ষ থেকে বলা হয়, শনিবার লেবানেনের রাজধানী বৈরুতে আইডিএফের বিমান অভিযানের জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

 

শনিবার (৬ জুন) লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিমান অভিযান পরিচালনা করেছিল আইডিএফ। এতে ৪ শিশুসহ ২০ জন আহত হয়েছেন।

 

সূত্র : আলজাজিরা

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারে ড্রোন হামলায় ইউক্রেইন-মার্কিন নাগরিকদের সম্পৃক্ত: এনআইএ

সন্ত্রাসের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া সাত বিদেশি নাগরিক মিয়ানমারে বেসামরিক বিমানে ড্রোন হামলায় সম্পৃক্ত ছিলেন বলে দাবি করেছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা— এনআইএ।   দিল্লির একটি আদালতে এনআইএয়ের তরফে এমন দাবি জানানো হয় বলে শুক্রবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে।   সাত বিদেশির মধ্যে ছয়জন ইউক্রেইনের নাগরিক; আরেকজন যুক্তরাষ্ট্রের। তারা বর্তমানে তিহার কারাগারে আছেন।   ওই সাতজনের মধ্যে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে সম্প্রতি আদালতে আবেদন করে এনআইএ। গত ৩১ অগাস্ট আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে।   এর আগে ১৯ অগাস্ট আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে এনআইএ বলেছে, “কিছু ইউক্রেইনীয় ও মার্কিন নাগরিক মিয়ানমারে একটি বেসামরিক বিমানে ড্রোন হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পেয়েছে।”   আবেদনে আরও বলা হয়, “এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের ১৪ নাগরিক বিভিন্ন সময়ে পর্যটন ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেন। তারা বিমানে গুয়াহাটি যান এবং রেস্ট্রিকটেড এরিয়া পারমিট (আরএপি) বা প্রোটেক্টেড এরিয়া পারমিটের (পিএপি) মতো নথি ছাড়াই তারা মিজোরামে যান। এরপর তারা অবৈধভাবে মিয়ানমারে প্রবেশ করেন।”   তারা মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে সেখানে গিয়েছিলেন বলে এনআইএর ভাষ্য।   মিয়ানমারের জাতিগত লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গৃহযুদ্ধের ফলে দেশটি কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একেক সশস্ত্র একেক এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে।   সংখ্যালঘুদের হয়ে কাজ করা গণমাধ্যম সংগঠনগুলোর নেটওয়ার্ক— বার্মা নিউজ ইন্টারন্যাশনাল গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দাবি করে, কাচিন রাজ্যের মিতকিনা বিমানবন্দরে ওই সময় মিয়ানমার ন্যাশনাল এয়ারলাইনসের যাত্রীবাহী বিমানে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা হয়েছিল। বিমানটি মান্দালয়ের উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।   তবে এনআইএর আবেদনে এই হামলার কথাই বলা হয়েছে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে।   এনআইএ তাদের আবেদনে বলেছে, “ওই সাত বিদেশি নাগরিক এর আগেও একইভাবে মিজোরাম হয়ে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন এবং সেখানে আরও দুই দফায় প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেছিলেন। এ ছাড়া ইউরোপ থেকে ভারত হয়ে মিয়ানমারে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছে বিপুল পরিমাণ ড্রোন ও এর প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ অবৈধভাবে আমদানি করেছিলেন।”

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে সহায়তার অভিযোগে তুরস্কের ব্যাংকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

দিল্লিতে জারি রেড অ্যালার্ট

ছবি: সংগৃহীত

বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ সন্ত্রাসী নিহত

ছবি: সংগৃহীত
‘চিকেনস নেকে’ ২ হাজার কোটি রুপিতে মহাসড়ক বানাচ্ছে ভারত

‘চিকেনস নেক’ হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোরে ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণে ২ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।   মহাসড়কটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘জাতীয় মহাসড়ক ২৭’ এর একটি অংশের সমান্তরালে নির্মাণ করা হবে বলে শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে।   কেন্দ্রীয় সরকার মনে করছে, নতুন এই মহাসড়ক নির্মাণের ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের সঙ্গে দেশটির বাকি অংশের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।   ‘চিকেনস নেক’ ভৌগলিকভাবে নেপাল ও বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষে এগিয়েছে। চীন ও ভুটানের সীমান্তও এই করিডোরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত।   বৃহস্পতিবার ফেইসবুক পোস্টে সেখানে সড়ক নির্মাণে অর্থ বরাদ্দের কথা জানান ভারতের কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গড়করি।   তিনি বলেন, মহাসড়কটি পানিটাঙ্কি ও খড়িবাড়ি হয়ে বাগডোগরা থেকে বিহারের গালগালিয়া পর্যন্ত যাবে। এর দৈর্ঘ্য হবে ৩১ দশমিক ০২ কিলোমিটার; নাম হবে ‘জাতীয় মহাসড়ক-৩২৭’ বা ‘এনএইচ-৩২৭’। ‘এনএইচ-২৭’ এর সঙ্গে ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরত্ব বজায় রেখে এটি নির্মাণ করা হবে।   গালগালিয়ার অবস্থান বিহারের কিশানগঞ্জ জেলায়। অন্যদিকে পানিটাঙ্কি অবস্থিত দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়িতে, যা নেপালে যাতায়াতের বহুল ব্যবহৃত একটি পথ।   ‘চিকেনস নেকের’ দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ কিলোমিটার। এর সবচেয়ে সরু অংশের প্রস্থ ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার। ভারতের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত নিরাপত্তার জন্য এই করিডোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   গড়করি লিখেছেন, “প্রকল্পটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করবে এবং নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের দিকে যাতায়াতের সুযোগও বাড়াবে।”   এ প্রকল্পের আওতায় তিনটি বড় সেতু, একটি ওভারব্রিজ, হাতি চলাচলের জন্য পাঁচটি আন্ডারপাস এবং নতুন মহাসড়কের দুই পাশে সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হবে।   টেলিগ্রাফ লিখেছে, গত দুই বছরে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর চিকেন নেকের প্রতিরক্ষা স্থাপনা ও অবকাঠামো শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার।   এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি বারাণসী থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত একটি উচ্চগতির রেল করিডোর এবং শিলিগুড়ির কাছে ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে নয়া দিল্লি। এছাড়া মালদা থেকে এনজেপি পর্যন্ত আরেকটি রেলপথ স্থাপনেরও অনুমোদনও দিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ফাইল ছবি

নেপালের পর সিকিমেও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা, ঝুঁকিতে ৪০ হিমবাহ হ্রদ

ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যকে বড় বিপদের সতর্কবার্তা ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত
তিন বছরে ৬০ লাখ আফগান শরণার্থী ফিরেছেন নিজ দেশে : জাতিসংঘ

গত তিন বছরেরও কম সময়ে রেকর্ড ৬০ লাখ আফগান শরণার্থী নিজেদের দেশে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ইতিহাসে এত পরিমাণে প্রত্যাবাসন বা মানুষের ফিরে যাওয়ার এমন কোনো বড় ঘটনা এর আগে দেখা যায়নি।    একই সঙ্গে সব ধরনের প্রত্যাবাসন যেন সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছে সংস্থাটি। খবর আনাদোলু এজেন্সির।    ফিরে যাওয়া এসব শরণার্থীর সুনির্দিষ্ট বিস্তারিত তথ্য ইউএনএইচসিআর প্রকাশ না করলেও, এদের বড় একটি অংশ প্রতিবেশী পাকিস্তান ও ইরান থেকে নিজ দেশে ফিরেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।    গত জুনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান যে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইসলামাবাদ সরকারের পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৪ লাখেরও বেশি আফগান নাগরিক তাদের দেশে ফিরে গেছেন।    এ ছাড়া ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২১ লাখ আফগান ইরান থেকে ফিরে এসেছেন।    উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসন এবং পরবর্তীতে বছরের পর বছর চলা সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার কারণে লাখ লাখ আফগান শরণার্থী পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।    জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে পাকিস্তানে ৭ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি নিবন্ধিত আফগান শরণার্থী বসবাস করছেন, অন্যদিকে অবৈধ শরণার্থীর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি বলে ধারণা করা হয়। 

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চীনকে ঠেকাতে বিদেশি ড্রোনে সর্বোচ্চ ১০০% শুল্ক ট্রাম্পের

সংগৃহীত ছবি

টেক্সাসে চালক ছাড়াই যাত্রী বহন করবে টেসলার ‘সাইবারক্যাব’

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশিসহ ৩১ দেশের নাগরিকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বাতিল মালয়েশিয়ার

0 Comments