দীর্ঘ ৪৭ বছর পর ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপে লাইসেন্সপ্রাপ্ত আউটলেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে মদ বিক্রির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার লাক্ষাদ্বীপ মদ্যপান নিষেধাজ্ঞা আইন ১৯৭৯ বাতিল করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৯৭৯ সালের এই আইনের কারণে মূলত পুরো দ্বীপপুঞ্জটিই এতদিন মদমুক্ত ছিল, যেখানে কেবল কাভারাত্তি ও বাঙ্গারাম দ্বীপের সরকারি বার ও পর্যটন রিসোর্টগুলোর জন্য সীমিত ছাড় ছিল।
গত ৫ জুন প্রকাশিত একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা আইনটি বাতিল করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রশাসক কর্তৃক অফিসিয়াল গেজেটে বিজ্ঞাপিত তারিখ থেকে নতুন নিয়মটি কার্যকর হবে।
নতুন লাক্ষাদ্বীপ আবগারি বিধিমালা ২০২৬ অনুযায়ী আগের নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার পরিবর্তে এখন মদের উৎপাদন, দখল, আমদানি, রফতানি, পরিবহন, ক্রয়, বিক্রয় ও ব্যবহারের জন্য একটি লাইসেন্সিং কাঠামো চালু করা হচ্ছে। এটি সরকারি মালিকানাধীন কর্পোরেশন এবং সংস্থাগুলোকে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় আমদানি ও খুচরা বিক্রির লাইসেন্স নেওয়ার অনুমতি দেবে।
তবে, অ্যালকোহল সংক্রান্ত করের হার অনেক বেশি রাখা হয়েছে। ইন্ডিয়ান মেড ফরেন লিকার (আইএমএফএল) এবং বিদেশী মদের ওপর আবগারি শুল্ক ৪০০ শতাংশ, বিয়ারের ওপর ২০০ শতাংশ এবং ওয়াইনের ওপর ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রসঙ্গগত, দিল্লিতে আইএমএফএল, বিয়ার, ওয়াইন এবং আমদানিকৃত বিদেশী মদের ওপর ২৫ শতাংশ ভ্যাট নেওয়া হয়।
অবশ্য এই নতুন বিধিমালার মানেই অবাধ মদের বাজার নয়। মদ্যপান নিয়ন্ত্রণ, ক্রয় ও নিজেদের কাছে রাখার সীমা নির্ধারণ, এমনকি লাক্ষাদ্বীপের সম্পূর্ণ বা যেকোনও অংশে মদ্যপান নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ক্ষমতা প্রশাসকের হাতেই থাকছে। এছাড়া ২১ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিদের কাছে মদ বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৩৬টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত লাক্ষাদ্বীপ দ্বীপপুঞ্জের ১০টি দ্বীপ মানববসতিপূর্ণ; যার মধ্যে রয়েছে আগাত্তি, আমিনি, আন্দ্রোত, বিত্রা, চেতলাত, কাদমাত, কালপেনি, কাভারাত্তি, কিলতান এবং মিনিকয়। বিদেশী এবং ভারতীয় পর্যটকদের বিশেষ অনুমতিপত্র নিয়ে এই দ্বীপপুঞ্জে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে বিদেশী পর্যটকদের যাতায়াত কেবল আগাত্তি, বাঙ্গারাম ও কাদমাত দ্বীপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইসরায়েলের আরব অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকার ভোটকেন্দ্রে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটগ্রহণে বিলম্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক ভোটার ভোট দিতে পারছেন না। শেষ পর্যন্ত তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, এবার রেকর্ডসংখ্যক মানুষ ভোট দিতে বের হয়েছেন। আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে। ইচ্ছাকৃত বিলম্বের অভিযোগ ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস ইন ইসরায়েল’ জানিয়েছে, আরব অধ্যুষিত এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটগ্রহণে বিলম্বের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং অনেকের ভোট দেওয়ার সুযোগ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া অস্বাভাবিক ধীরগতিতে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতির কারণে অনেক আরব ইসরায়েলি নাগরিক শেষ পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। এ পরিস্থিতিতে সংস্থাটি ইসরায়েলের প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রগুলোতে দ্রুত পর্যবেক্ষক পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে। একাধিক শহরে ধীরগতিতে ভোটগ্রহণ জেরুজালেম পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাহাত, তেল শেভা, লাকিয়া, সেগেভ সালোম, আবু তুলুল, উম বাতিন, ইকসাল, জালজুলায়া, কাফর কারা, জিসার ই-জারকা, কাফর মান্দা, আর’আরা, তামরা, কাফর কান্না, তিরা ও দাবুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ধীরগতিতে ভোটগ্রহণ চলছে। আরব ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে নেতানিয়াহুর উদ্বেগ এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, অনেক আরব ভোট দিতে বের হয়েছেন। তাদের ভোট নির্বাচনের ফলাফলে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি ইহুদি ভোটারদেরও ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ভোটগ্রহণে বিলম্বের অভিযোগ এবং ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সম্ভাব্য বাধা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাসের সদস্যরা আগামী ডিসেম্বরের জন্য তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখতে পারে। রবিবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বিষয়টি সম্পর্কে জানেন, এমন তিন ব্যক্তি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তাদের মতে, আগামী বছর পর্যন্ত তেল উৎপাদনের নীতিতে আর কোনো পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা কম। ওপেক প্লাসের সাতটি প্রধান সদস্য দেশের মধ্যে অনলাইনে এ বৈঠক হবে। দেশগুলো হলো সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান ও ওমান। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে কয়েক মাস ধরে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি ব্যাহত হয়েছে। এখন এসব দেশ আবার রপ্তানি বাড়াচ্ছে। তবে বেশির ভাগ দেশ এখনো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম তেল উৎপাদন করছে। ওই তিন ব্যক্তি নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি। তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ওপেক প্লাসের মধ্যে রয়েছে পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এবং রাশিয়াসহ এর সহযোগী দেশগুলো। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও ওপেক ও রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি। গত সেপ্টেম্বরে ওপেক প্লাস দৈনিক ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের কাজ শেষ করে। ২০২৩ সালে প্রথম এই উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে তেল উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো নির্ধারিত সীমার চেয়ে কম তেল উৎপাদন করছে। রয়টার্স গত জুলাইয়ে জানিয়েছিল, চলতি বছরের শেষ তিন মাসে ওপেক প্লাসের তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় কোনো পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা নেই। এর পরিবর্তে জোটটি ২০২৭ সালের উৎপাদন কোটা নিয়ে আলোচনায় মনোযোগ দিচ্ছে। ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত ওপেক প্লাসের বেশির ভাগ সদস্যের জন্য দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমানোর আরো একটি সিদ্ধান্ত কার্যকর রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০২৭ সালের জন্য উৎপাদনের নতুন ভিত্তিমাত্রা নির্ধারণের আগে সদস্যদেশগুলোর তেল উৎপাদনের সক্ষমতা পর্যালোচনার কাজ শেষ করতে হবে ওপেক প্লাসকে। এই ভিত্তিমাত্রার ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে প্রতিটি দেশের তেল উৎপাদনের কোটা। পাশাপাশি, উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্তগুলো কিভাবে ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হবে, সেই পরিকল্পনাও এর মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোট জালিয়াতি সম্পর্কে তথ্য দিলে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২০২০ সালের নির্বাচনে নিজে জয়ী হয়েছিলেন বলে যে দাবি তিনি করে আসছেন, সেটিকে আবারও সামনে আনতে এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সংশয় তৈরি করতেই সোমবার তিনি এই নতুন ঘোষণা দেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘অতীতের নির্বাচন বা আসন্ন ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কেউ ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করলে এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও সাজা নিশ্চিত হলে, তথ্যদাতাকে ১০ লাখ ডলার দেওয়া হবে!’ তবে এই পুরস্কারের অর্থ কোথা থেকে আসবে বা কীভাবে তা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের মাত্র আট দিন আগে হওয়া জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে তা ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ট্রাম্প এর আগেও বারবার নির্বাচন নিয়ে জালিয়াতির ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। যদিও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতি, বিশেষ করে নাগরিকদের বাইরে অন্য কারও ভোট দেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। ফেডারেল নির্বাচনে এটি এমনিতেই বেআইনি। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প আরও কিছু অভাবনীয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। এই প্রস্তাবে ১ লাখ কোটি ডলারের বেশি খরচ হবে, যার জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। এছাড়া রিপাবলিকানরা জয়ী হলে নর্থ ক্যারোলাইনার একটি সামরিক ঘাঁটিতে দূষিত পানির কারণে অসুস্থ হওয়া সাবেক সেনাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।