নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি খরচের মধ্যে মাছ-মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাতক্ষীরা শহরের নিম্ন আয়ের মানুষ। দিনভর পরিশ্রম করে যে অর্থ আয় হচ্ছে, তা দিয়ে সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। ফলে মাছ-মাংস কেনার পরিমাণ কমিয়ে কেউ বিকল্প খাবারের দিকে ঝুঁকছেন, আবার কেউ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও পছন্দের খাবার কিনতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে বাজার তদারকি জোরদার ও ক্রয়-বিক্রয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় বাজারদরের প্রভাব স্পষ্ট। ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলার পর শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়ন থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে সাতক্ষীরা শহরে আশ্রয় নেওয়া এক ব্যক্তিকে জীবিকার জন্য প্রতিদিনের আয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়। একইভাবে একজন রিকশা-ভ্যানচালককে গাড়ির খরচ বাদ দিয়ে পরিবারের খাবার ও অন্যান্য ব্যয় সামলাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালানো এক বিধবা নারী এবং অসুস্থ স্বামী, তিন সন্তান ও প্রতিবন্ধী বড় ছেলেকে নিয়ে জীবনযাপন করা আরেক নারী সীমিত আয়ে প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করছেন। মাছ-মাংসের দাম বাড়ায় তাঁদের মতো পরিবারগুলোর খাদ্যতালিকা ঠিক রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর মাছবাজার ও সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম আগের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত ব্যবধান রয়েছে।
বাজারে বর্তমানে রুই মাছ আকারভেদে ২৬০–২৮০ টাকা, ভেটকি ৫০০–৬০০ টাকা, চন্দনা ইলিশ ২৭০–৩০০ টাকা, পাবদা ৩৫০–৪০০ টাকা এবং চিংড়ি ৬৫০–৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া তেলাপিয়া ১৮০–২০০ টাকা, পাঙাশ ২০০–২২০ টাকা, কাতলা ২৪০–২৫০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০–৬৫০ টাকা, ছোট মাছ ৩০০–৪০০ টাকা, পারশে ৪০০–৫৫০ টাকা এবং কই মাছ ২০০–২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা নাজমুল হাসান বলেন, আগের মতো একই পরিমাণ মাছ কিনতে এখন বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। সংসারের অন্যান্য ব্যয় মেটানোর পর খাবারের জন্য বাড়তি অর্থ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে মাছের পরিমাণ কমাতে হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতা হাফিজা খাতুন জানান, মাছের ধরন ও আকার অনুযায়ী দাম নির্ধারিত হয়। পাইকারি ক্রয়মূল্যের সঙ্গে পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ায় খুচরা বাজারে দাম বাড়ে। তবে দাম বেশি হলে ক্রেতারা আগের তুলনায় কম মাছ কেনেন।'
সাতক্ষীরার বাজারে বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০–১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৪০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ২৩০–২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ টাকা। আগের তুলনায় মাংসের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, লাল বা বাদামি ডিম প্রতিটি ১১ টাকা, সাদা ডিম ১০ টাকা ৫০ পয়সা, হাঁসের ডিম ১৬ টাকা ৫০ পয়সা এবং কোয়েলের ডিম ৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামে আপাতত কোনো পরিবর্তন হয়নি।
মাছ-মাংসের পাশাপাশি সবজির বাজারেও দামের ওঠানামা রয়েছে। সুলতানপুর বাজারে স্থানীয় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ১৫ দিন আগে ছিল ৪০ টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বা ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০–১২০ টাকা কেজি দরে। তবে কিছু সবজিতে ক্রেতারা তুলনামূলক স্বস্তি পাচ্ছেন। বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ৭০ টাকা, যা তিন মাস আগে ছিল ১০০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে ৩০ টাকা বা ৩০ শতাংশ কমেছে। করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাতক্ষীরা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান তানভীর জানান, জেলায় নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভেজাল পণ্য বিক্রি কিংবা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ বলেন, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফা পরিহার এবং ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে যৌক্তিক সমন্বয় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তবে বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্যব্যয়ে চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি বাজারে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দামে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করা হলেও বিষয়টি মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রকাশ্যে আসে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আলম কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার নাওতলা গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে মো. সোহাগ (৩৪), আদর্শ সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকার মৃত হারুন মিয়ার ছেলে ইসমাইল হোসেন জনি (২৮), একই উপজেলার আমড়াতলী গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে এমরান হোসেন ওরফে হৃদয় (৩৪), আড়াইওরা গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে রাহাত হোসেন জুয়েল (২৭) এবং ধর্মপুর এলাকার মৃত সজল মিয়ার ছেলে মো. সুজন (৩২)। তারা বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. সামসুল আলম বলেন, আলোচিত কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচারের জন্য মামলাটি কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, আসামি জনি, জুয়েল ও সুজনের স্থায়ী ঠিকানা তদন্তে শনাক্ত করা যায়নি। এ কারণে অভিযোগপত্রে তাদের ‘ভাসমান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহত বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএসের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া গ্রামে। তিনি সুশীল বৈরাগীর ছেলে। চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জের পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমিতে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে গত ২৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন বুলেট বৈরাগী। যাত্রাপথে তিনি মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। পরদিন সকালেও বাসায় না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তার মুঠোফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করে কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এদিকে, ২৫ এপ্রিল সকালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার আওতাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। পরে মরদেহটি থানায় নেওয়া হয়। খবর পেয়ে বুলেট বৈরাগীর পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে সঙ্গে থাকা নগদ টাকা লুট করে নেয়। এ ঘটনায় নিহতের মা লিলিমা বৈরাগী বাদী হয়ে গত ২৫ এপ্রিল কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। লিলিমা বৈরাগী বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি জানানো হয়েছে। যারা তার ছেলেকে হত্যা করেছেন, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে দ্বিতীয় দিনের উদ্ধার অভিযানে মরদেহটি পাওয়া যায়। নিহত ব্যক্তির নাম মো. মারুফ হোসেন (৪০)। তিনি শরীফ ল্যান্ডমার্ক লিমিটেডের কর্মী ছিলেন। একই প্রতিষ্ঠানের আরেক কর্মী মো. রাসেল (৩৫) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে পদ্মা সেতুর ৪ নম্বর পিলারের কাছে শরীফ ল্যান্ডমার্ক লিমিটেডের আটজন কর্মী নদীতে গোসল করতে নামেন। এ সময় ছয়জন সাঁতরে নিরাপদে তীরে ফিরতে সক্ষম হলেও মারুফ ও রাসেল নদীতে নিখোঁজ হন। ঘটনার খবর ফায়ার সার্ভিসের কাছে পৌঁছায় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে। পরে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। তবে প্রথম দিনের অভিযানে নিখোঁজ দুজনের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরদিন মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেন ডুবুরিরা। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বেলা ৩টার দিকে মারুফ হোসেনের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর মরদেহটি প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে নিখোঁজ রাসেলকে উদ্ধারে নদীতে তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে ফায়ার সার্ভিস। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পদ্মা সেতুর আশপাশের নদীপথে এ ঘটনার পর পানিতে নামার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।
দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট। বিদ্যালয় খোলা থাকার কথা, চলার কথা পাঠদান। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা গেল শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেউই নেই। বিদ্যালয়ের চাবি রাখা হয়েছে পাশের বাড়ির এক ব্যক্তির কাছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। এ কারণে সন্তানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে পার্শ্ববর্তী মাদরাসায় ভর্তি করেছেন অভিভাবকরা। আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মুজিবনগর ইউনিয়নের ১৮২ নম্বর সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখতে পান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ। একই ইউনিয়নের চরলিউলিন বাংলাবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকসহ আরও দুই শিক্ষক প্রায়ই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। তারা রাজনীতিতে জড়িত থাকায় বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন ইউএনও রুমানা আফরোজ। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি এবং বিদ্যালয়ের চাবি অন্যের কাছে রেখে দেওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে কৈফিয়ত তলব করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়। আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) জারি করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ওই দিন দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষকদের উপস্থিত পাননি। এ বিষয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) চাকরি বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধান উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জবাব পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ জানান, মুজিবনগর ইউনিয়নের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছি। ১৮২ নম্বর সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর পৌনে ১টায় গিয়ে কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে পাইনি। বিদ্যালয়ের চাবি পাশের বাড়ির একজনের কাছে রাখা ছিল। স্থানীয়দের কাছ থেকেও শিক্ষকদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসার অভিযোগ পেয়েছি। এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। সরকারি বিদ্যালয়ে এভাবে পাঠদান কার্যক্রম চলতে পারে না। শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।