জাতীয়

এডিবির সঙ্গে ১.৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি, অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

সরকার এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর সঙ্গে ১.৪ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি করেছে। এ অর্থায়নের আওতায় অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সুরক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে চারটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

 

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আগামী ১১ জুন জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করা হবে। বাজেটকে সামনে রেখে অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

বিদ্যুৎ খাতে তিনি জানান, বিদ্যমান সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা আরও আধুনিক, স্মার্ট ও নিরাপদ করতে কাজ চলছে। লোডশেডিংয়ের পেছনে শুধু উৎপাদন ঘাটতি নয়, বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতাও দায়ী বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

জ্বালানি খাতে ১২ কেজি এলপিজির দাম ৫৫ টাকা কমিয়ে ১,৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব না পড়ে।

 

শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে নতুন কমিশন গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়, যা বাজারে আস্থা ফেরাবে বলে সরকার আশা করছে।

শিক্ষা খাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়—যা দেশের ইতিহাসে বড় আয়োজনগুলোর একটি।

স্বাস্থ্য খাতে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে ধাপে ধাপে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমে।

 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জাতীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যাতে দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার মাধ্যমে মৃত্যু কমানো যায়।

সড়ক ও অবকাঠামো খাতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু ও পটুয়াখালী–দৌলতদিয়া দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এগিয়ে চলছে।

 

টিস্তা মহাপরিকল্পনায় নতুন ব্যারেজ নির্মাণ ও পানি ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কৃষি খাতে খাল-নালা খনন, গাছ রোপণসহ একাধিক উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে, যা উৎপাদন ও পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।

 

স্থানীয় সরকার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, নতুন রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট এবং চট্টগ্রামে পানি সরবরাহ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তায় ওএমএস কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশে ভর্তুকি মূল্যে চাল-আটা বিক্রি অব্যাহত রয়েছে এবং খাদ্য মজুদ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি রয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ খাতে প্রতারণামূলক নিয়োগকারী এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতে আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি সংযোজনের কার্যক্রম চলমান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মায় ডুবে দুই স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু, মহানন্দায় নিখোঁজ যুবকের সন্ধান চলছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া দুই স্কুলশিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   নিহতরা হলেন সদর উপজেলার সুন্দরপুর রঊফ হাজীপাড়া এলাকার জেম আলীর ছেলে রিফাত আলী (১৬) এবং ইসলামপুর চর তেরোরশিয়া এলাকার আলম হোসেনের ছেলে রাসেল (১৭)। তারা দুজনই সোবহান উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে কয়েকজন সহপাঠী মিলে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের আলিমনগর ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে প্রবল স্রোতে রিফাত ও রাসেল গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। বন্ধুদের চিৎকারে স্থানীয়রা উদ্ধার চেষ্টা শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যায় দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে।   এদিকে একই দিনে মহানন্দা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে সাকিরুল ইসলাম নামে এক যুবক নিখোঁজ হন। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার আরামবাগ-আজাইপুর এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিনের ছেলে। ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।   চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, পদ্মা নদী থেকে দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি মহানন্দা নদীতে নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘অপরিকল্পিত ও বাস্তবায়ন-অযোগ্য’—পাস হওয়া বাজেট নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা নাজিবুর

ছবি: সংগৃহীত

ইবি শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যা: নতুন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ায় পথকুকুরকে কুপিয়ে আহতের অভিযোগে ফার্নিচার ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

ছবি : সংগৃহীত
খামেনির জানাজায় যোগ দেবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য ও জানাজা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আগামী ২ জুলাই তিনি ঢাকা থেকে তেহরানের উদ্দেশে রওনা দেবেন।   মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।   তিনি জানান, ৪ থেকে ৯ জুলাই তেহরান, কোম ও মাশহাদে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অংশ নেবেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের কয়েকজন সদস্যও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইরান সফর করে জানাজা ও শেষকৃত্যের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।   কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের আমন্ত্রণে হাফিজ উদ্দিন আহমদের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি ৩ জুলাই তেহরানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।   আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির কারণে রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য কয়েক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুলাই তেহরানে শেষ বিদায় ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর কোমে শোকানুষ্ঠান শেষে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদে, তাঁর জন্মভূমিতে, দাফন সম্পন্ন হবে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এই কর্মসূচিতে বিপুল জনসমাগমের আশা করছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট সংসদে পাস

পদ্মা সেতু টোল প্লাজা। ছবি : সংগৃহীত

পদ্মা সেতুতে চার বছরে টোল সংগ্রহ ৩,৪২৯ কোটি টাকা

ছবি : সংগৃহীত

সরকার–এনজিও সমন্বয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্য : ববি হাজ্জাজ

ছবি : সংগৃহীত
চীনের সহযোগিতায় নতুন অর্থবছরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন: পানিসম্পদমন্ত্রী

নতুন অর্থবছরেই বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।   তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে এই প্রকল্পে চীনের কারিগরি সহায়তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে।   রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।   বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, তিস্তা, পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ সারা দেশের প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার নদীভাঙন এলাকার মানুষ আজ প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করছে। তাদের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ।   তারা বাড়িঘর, জায়গা-জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এই মানুষের হাহাকার আমরা দেখেছি।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমি গত ১৯ জুলাই তিস্তাপাড়ের মানুষের কাছে গিয়েছিলাম। যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে ডেকে বলেছিলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যে সমস্যা, তার একটি সমাধান আপনাকে বের করতে হবে। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।   তিনি বলেন, দেশের এক-তৃতীয়াংশ বা প্রায় ৭ কোটি মানুষের সুবিধার জন্য আমরা পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এটি ইতিমধ্যে একনেকে পাস হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার প্রায় ২ কোটি মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই, যে নামেই হোক, এই অর্থ বছরেই আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করব।   চীন সফরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীন সফরে গিয়ে তাদের দূরদর্শী চিন্তা দেখেছি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং তাদের পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনায় কারিগরি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সম্মত হয়েছে। ইতিমধ্যে আমাদের এক্সপার্ট টিম ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ শুরু করেছে।   ভারত থেকে আসা ৫৭টি অভিন্ন নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ফারাক্কাসহ বিভিন্ন ব্যারেজের কারণে শুষ্ক মৌসুমে আমরা পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তিস্তা, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি, বড়ালসহ বিভিন্ন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা বাড়ছে। এর থেকে মুক্তির জন্য খাল খননের বিকল্প নেই।   তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচির যে বিপ্লব শুরু করেছিলেন, আজকে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই খাল খননের মাধ্যমে আমরা নতুন জাগরণ সৃষ্টি করেছি। আমরা কৃষিকে চাঙা করতে চাই। ইতিমধ্যে আমরা জরুরি ভিত্তিতে খাল খননের কাজ শুরু করেছি, আগামীতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।   বিগত সরকারের সমালোচনা করে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর এদেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ সংগ্রামের পর আমরা আজ একটি স্বাধীন সংসদে কথা বলতে পারছি। যারা বিগত দিনের সেই দুঃস্বপ্নকে ফিরিয়ে আনতে চায়, দেশের মানুষ তা আর কখনো মেনে নেবে না। আমরা জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পাশাপাশি জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির সংগ্রামেও মাঠে ছিলাম।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ৩০, ২০২৬
ফাইল ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা ও উসকানি: হাসানুল হক ইনুর মামলার রায় আজ

ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর: জুলাই থেকেই কার্যকর হচ্ছে নবম পে-স্কেল

ছবি: সংগৃহীত

শিশুশ্রম নিরসনে নবায়িত অঙ্গীকার: বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস ২০২৬ উদযাপন

0 Comments