আন্তর্জাতিক

২৩টি পারমাণবিক বোমার সমান তাপ ছড়াবে, এআই শহর তৈরির পরিকল্পনা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আমেরিকার উটাহ রাজ্যের একটি ছোট্ট, নির্জন উপত্যকায় বিশাল একটি কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা চলছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্ট্র্যাটোস প্রজেক্ট’। এটি হবে উটাহের হ্যান্সেল ভ্যালিতে একটি এআই ডেটা ও জ্বালানি ক্যাম্পাস। এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

 

প্রকল্পের আকার শুনলে অবাক হবেন আপনি। এই ক্যাম্পাসটি প্রায় ৪০ হাজার একর জমির উপর তৈরি হবে। এটি অনেক বড় শহরের চেয়েও বিশাল। কেউ কেউ বলছেন, এটি প্রায় ২ হাজার ওয়ালমার্ট দোকানের সমান।

 

বিদ্যুৎ লাগবে অনেক বেশি। এই প্রকল্পে এআই, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং জাতীয় নিরাপত্তার কাজে ৯ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগবে। উটাহ রাজ্যের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা সাধারণত ৪ থেকে ৫ গিগাওয়াট। অর্থাৎ, এই একটি কেন্দ্রই পুরো রাজ্যের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে।

 

এত বিদ্যুৎ জোগান দিতে গিয়ে পরিবেশে কী হবে? উটাহ স্টেট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক রবার্ট ডেভিস বলেছেন, ‘এই কেন্দ্র প্রতিদিন পরিবেশে ২৩টি পারমাণবিক বোমার সমান তাপশক্তি ছেড়ে দেবে এই উপত্যকায়।’ 

 

অধ্যাপক ডেভিস আরও বলছেন, হ্যান্সেল ভ্যালিতে দিনের বেলা তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং রাতে ২৮ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই উপত্যকাটি একটি প্রাকৃতিক ‘বাটির’ মতো। রাতে তাপ এখানে আটকে থাকে।

 

পানি নিয়েও আছে বড় চিন্তা। কিছু হিসাব বলছে, এই প্রকল্পের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় প্রতি বছর কোটি কোটি গ্যালন পানি লাগতে পারে। পানি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রকল্প পরিচালকদের প্রকাশ্য বক্তব্য অনুযায়ী তারা হ্যান্সেল ভ্যালি ও আশপাশ থেকে প্রায় ১৩ হাজার একর-ফুট পানি নেবে। এই পরিমাণ পানি দিয়ে ২০ হাজার পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটানো সম্ভব।

 

স্থানীয় মানুষজন রাগে ফুঁসছেন। সাম্প্রতিক গণ-শুনানিতে প্রতিবাদকারীরা স্লোগান দিয়েছেন — ‘মুনাফার চেয়ে মানুষ বড়’ এবং ‘ডেটা দিয়ে পানির পিপাসা মেটে না।’ প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আয়োজিত প্রতিবাদে এক হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন।

 

একটি জরিপে দেখা গেছে, উটাহের ৫৩ শতাংশ ভোটার এই প্রকল্পের বিপক্ষে। মাত্র ৩০ শতাংশ সমর্থন করছেন।

 

প্রকল্পের সমর্থকরাও কম কথা বলছেন না। বিনিয়োগকারী কেভিন ও'লেরি বলেছেন, এটি একটি বৃহত্তর ‘এআই অস্ত্র প্রতিযোগিতার’ অংশ। তিনি বলেছেন, এই ধরনের বিশাল দেশীয় কম্পিউটিং সক্ষমতা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। উটাহের গভর্নর স্পেন্সার কক্স বলেছেন, প্রকল্পটি ধাপে ধাপে নির্মিত হবে এবং প্রতিটি ধাপ আলাদাভাবে অনুমোদন করা হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ন্যাটোতে যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ কমাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, বদলাচ্ছে কৌশলগত সমীকরণ

ইউরোপীয় মিত্রদের জন্য সামরিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। জার্মান সংবাদমাধ্যম স্পিগেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বা সংকট পরিস্থিতিতে ন্যাটো জোটকে দেওয়া যুদ্ধবিমান, কৌশলগত বোমারু বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানের সংখ্যা কমিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে।   এই পরিকল্পনা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ন্যাটো জোট অভ্যন্তরীণ চাপ ও অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ আশঙ্কা করছে, ওয়াশিংটন ভবিষ্যতে জোট থেকে সরে যেতে পারে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাসেলসে ন্যাটো সদর দপ্তরে গত সপ্তাহে এক বৈঠকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের এক দূত সদস্য দেশগুলোর কর্মকর্তাদের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আগের তুলনায় অর্ধেক কৌশলগত বোমারু বিমান সরবরাহ করবে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিমান সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ কমানো হবে। নৌবাহিনীর ক্ষেত্রেও কম সংখ্যক ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ দেওয়া হবে এবং সাবমেরিন আর সরবরাহ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইউরোপকে নিজস্ব নজরদারি ড্রোনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র সশস্ত্র ড্রোন সরবরাহও কমিয়ে দিতে চায়।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে আসছেন, তিনি মনে করেন তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করছে না। জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। ইরান যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে ইউরোপের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।   ন্যাটো কর্মকর্তারা বলছেন, এতদিন জোটের সামরিক পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ছিল। তবে ইউরোপ ও কানাডা এখন প্রতিরক্ষা খাতে বেশি বিনিয়োগ করছে, ফলে ভবিষ্যতে জোটের দায়িত্ব নতুনভাবে ভাগ করা হতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিস্ফোরণ

ছবি : সংগৃহীত

২৩টি পারমাণবিক বোমার সমান তাপ ছড়াবে, এআই শহর তৈরির পরিকল্পনা

ছবি : সংগৃহীত

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান, হতাহত বহু

ছবি : সংগৃহীত
মেলানিয়াকে বাদ দিয়ে পুত্রবধূকে নিয়ে চীন সফরে ট্রাম্প! ক্ষোভে ফার্স্ট লেডি

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তির পরিবারও যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা পারিবারিক কলহ থেকে মুক্ত নয়, তা আবারও প্রমাণিত হলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফরকে কেন্দ্র করে তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ট্রাম্পের দ্বিতীয় পুত্র এরিক ট্রাম্পের স্ত্রী লারা ট্রাম্পের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন ও তিক্ততা এবার প্রকাশ্যে এসেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই চীন সফর দুই নারীর মধ্যকার সম্পর্ককে আরও খারাপের দিকে নিয়ে গেছে। মেলানিয়া ট্রাম্প এই রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ না নিলেও, প্রেসিডেন্টের সঙ্গী হয়েছিলেন পুত্রবধূ লারা ট্রাম্প। রাডার অনলাইন-এর তথ্য অনুযায়ী, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ট্রাম্পের সফরসঙ্গী দলের অংশ হতে না পারায় এবং তার পরিবর্তে এরিকের স্ত্রী লারা সেখানে উপস্থিত থাকায় চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন।   যদিও সফরের আগে মেলানিয়ার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছিল, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবার সফর করছেন না। তবে তিনি নিজে যেতে না পারলেও, সেখানে লারার উপস্থিতি তিনি মোটেও ভালোভাবে নেননি।   এদিকে, রাষ্ট্রীয় এই সফরে এরিক এবং লারার উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে। বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ আয়োজিত এক ভোজসভার একটি ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ওই ছবিতে লারা, এরিক, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একসঙ্গে দেখা যায়।   ছবিটি দেখে নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, সেখানে তাদের কোনো কাজ নেই। কবে থেকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার পুরো পরিবার সফর করা শুরু করল? আরেকজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ট্রাম্প চীন সফরে তার সবকিছুই নিয়ে এলেন, অথচ মেল (মেলানিয়া) এলেন না? এরিক ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ তার স্ত্রীর সাথে একটি ছবি পোস্ট করলে সমালোচনা আরও তীব্র হয়। ‘সল্টি পলিটিক্স’-এর লেখক জুলি রগিনস্কি এরিকের এই উপস্থিতিকে একটি ‘জাতীয় নিরাপত্তা কেলেঙ্কারি’ বলে অভিহিত করেছেন।   অতিথি তালিকা প্রকাশের পর এই সমালোচনা ও বিতর্ক থামাতে ট্রাম্প পরিবারের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, এরিক সেখানে সম্পূর্ণ ‘ব্যক্তিগতভাবে’ উপস্থিত ছিলেন। বিবৃতিতে ব্যাখ্যা করা হয়, তিনি কোনও ব্যক্তিগত বা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন না, বরং এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রেসিডেন্টের পাশে থাকবেন।   সূত্র: উইয়ন নিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৭, ২০২৬

রাশিয়ার হুমকিতে কিয়েভ ছাড়ার আহ্বান : ইউরোপীয় দেশগুলো রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সম্পূর্ণ অবিশ্বাসে ইরান নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনা : অগ্রগতি হলেও বড় বাধা এখনো কাটেনি

ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তির ৩০ দিন পর খুলবে হরমুজ প্রণালি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কি এশিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের এক মাস পর হরমুজ প্রণালিতে পাতা জলমাইন অপসারণ শুরু করবে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   এদিকে, শান্তিচুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়িয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে ইরান। অবরোধ জোরদার করতে বিভিন্ন স্থানে জলমাইন স্থাপন করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। পেন্টাগনের ধারণা, প্রণালির বিভিন্ন অংশে অন্তত এক ডজনের বেশি মাইন পাতা হয়েছিল।   হরমুজে অবরোধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও তরল গ্যাসের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করে।   টানা ৪০ দিনের সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুদ্ধবিরতির পরও ইরান হরমুজ থেকে অবরোধ না সরানোয় দেশটির সামুদ্রিক বন্দরগুলোর ওপর পাল্টা অবরোধ আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   এর আগে হরমুজ থেকে মাইন অপসারণের চেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। তবে কোথায় কোথায় মাইন পাতা হয়েছে, সে তথ্য গোপন রাখায় কার্যক্রম পুরোপুরি সফল হয়নি।   সূত্র: রয়টার্স

আক্তারুজ্জামান মে ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত কমাতে পাকিস্তানের শান্তি উদ্যোগকে সমর্থন চীনের

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের দক্ষিণে নৌ-মাইনবাহী জাহাজে মার্কিন হামলার দাবি

ছবি: সংগৃহীত

উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, যুদ্ধ থামাতে কাতারে আলোচনা

0 Comments