বিদায় পেপ গার্দিওলা। ম্যানচেস্টার সিটিকে সাফল্যের এক স্বর্ণালী দশক উপহার দিয়ে অবশেষে ইতি টানলেন এই মাস্টার ট্যাক্টিশিয়ান।
গত দশ বছরে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে সারি সারি ট্রফির এক মহাকাব্য লিখেছেন তিনি, যার মোট সংখ্যা ২০টি। এই অবিশ্বাস্য অর্জনের মাধ্যমে ইংলিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়েছে ম্যানচেস্টার সিটি; পুরো ম্যানচেস্টার শহরকে যেন লাল (ইউনাইটেড) থেকে স্থায়ীভাবে নীল (সিটি) রঙে রূপান্তর করেছেন তিনি। আর এই রূপান্তরের মূল স্থপতি ছিলেন গার্দিওলাই।
পেপ গার্দিওলার ঐতিহাসিক বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে ম্যানচেস্টার সিটি আয়োজন করেছিল এক জমকালো অনুষ্ঠান—‘দ্য আফটার পার্টি’।
শহরের কো-অপ লাইভ অ্যারেনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রিয় কোচকে বিদায় জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রায় ১৯ হাজার আবেগাপ্লুত সমর্থক।
অনুষ্ঠানে গার্দিওলার তিন সন্তান মারিয়া, মারিউস ও ভ্যালেন্তিনোর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তার সাবেক শিষ্য ও বর্তমান বায়ার্ন মিউনিখ কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি, সাবেক অধিনায়ক ফার্নান্দিনহো এবং বর্তমান তারকা জ্যাক গ্রিলিশ। এ ছাড়া ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ফুটবল দুনিয়ার বাইরের দুই কিংবদন্তি—বাস্কেটবল সুপারস্টার মাইকেল জর্ডান এবং ব্রিটিশ গলফার টমি ফ্লিটউড এই স্প্যানিশ কোচকে শুভকামনা জানান।
২০১৬ সালে যখন গার্দিওলা ইতিহাদ স্টেডিয়ামে পা রাখেন, তখন ক্লাবের অর্থনৈতিক শক্তি থাকলেও অভাব ছিল নিয়মিত ও ধারাবাহিক সাফল্যের।
পেপ এসে সিটিকে বিশ্বমঞ্চের অন্যতম সেরা ক্লাবে পরিণত করেন। এক দশকের যাত্রায় তারা জিতেছে চ্যাম্পিয়নস লিগ, ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, পাঁচটি লিগ কাপ, তিনটি এফএ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড, সুপার কাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপ।
বিদায়ী মঞ্চে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি গার্দিওলা। উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতেই পারিনি এখানে এসে এতটা ভালোবাসা পাব। দীর্ঘ ১০ বছর আপনাদের কোচ হয়ে থাকাটা সত্যিই অসাধারণ এবং অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি।
আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। সারা জীবন আমি আপনাদের এই ভালোবাসা হৃদয়ে ধারণ করব।’
গার্দিওলার বিদায়ের আগে খোলা বাসে করে ম্যানচেস্টার শহরজুড়ে এক বর্ণাঢ্য প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে গার্দিওলার মূল দলের পাশাপাশি অংশ নেয় ক্লাবের নারী ও যুব দলও। এই মৌসুমে সিটির পুরুষ দল জিতেছে এফএ কাপ ও লিগ কাপ, নারী দল ঘরে তুলেছে ‘উইমেনস সুপার লিগ’ এবং অনূর্ধ্ব-যুব দল জিতেছে ‘এফএ ইয়ুথ কাপ’।
ম্যানচেস্টার সিটির রূপকার পেপ গার্দিওলা এরপর কোন ক্লাবের বা দেশের দায়িত্ব নেবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে, সিটির ডাগআউটে তার উত্তরসূরি কে হচ্ছেন—তা নিয়েও ধোঁয়াশা কাটেনি। তবে ফুটবল মহলের গুঞ্জন অনুযায়ী, গার্দিওলার সাবেক সহকারী এবং চেলসির বর্তমান কোচ এনজো মারেসকা সিটির পরবর্তী কোচ হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
স্পেনের উদীয়মান ফুটবল তারকা লামিন ইয়ামাল বলেছেন, বিশ্ব ফুটবলে সাফল্য পেতে হলে বড় দলগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, বরং তাদের হারিয়েই সামনে এগোতে হবে। আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলকে টপকে যেতে হলে আত্মবিশ্বাস, সাহস এবং মাঠে সেরা পারফরম্যান্স দেখানো ছাড়া বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফুটবল অঙ্গনে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত তরুণ প্রতিভাদের একজন ইয়ামাল বলেন, বড় টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য থাকলে কোনো প্রতিপক্ষকেই সহজভাবে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার মতো দল, যারা সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব ফুটবলে দাপট দেখিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে জয় পেতে হলে পূর্ণ প্রস্তুতি এবং মানসিক দৃঢ়তা প্রয়োজন। ‘ভয় নয়, লড়াইয়ের মানসিকতা দরকার’ ইয়ামাল তার মন্তব্যে পরোক্ষভাবে তরুণ খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, শক্ত প্রতিপক্ষকে ভয় পাওয়া নয়, বরং তাদের মোকাবিলা করার মানসিকতা তৈরি করাই আসল বিষয়। তিনি মনে করেন, বড় দলকে এড়িয়ে গেলে উন্নতির সুযোগ কমে যায়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়েই একজন খেলোয়াড় ও দল পরিপূর্ণতা পায়। তার মতে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে টিকে থাকতে হলে প্রতিটি ম্যাচকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হয়। বিশেষ করে বিশ্বকাপ বা বড় টুর্নামেন্টে সফল হতে হলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় পাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি থাকতে হবে। আর্জেন্টিনা নিয়ে আলোচনা আর্জেন্টিনা বর্তমানে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত। দলটির সাম্প্রতিক সাফল্য এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপস্থিতি তাদের আরও ভয়ংকর করে তুলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ইয়ামালের মন্তব্য ফুটবল মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইয়ামালের বক্তব্য আসলে তরুণ প্রজন্মের আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। তিনি দেখাতে চেয়েছেন, বড় দলকে ভয় পাওয়ার বদলে তাদের হারানোর লক্ষ্য নিয়েই এগোতে হবে। ফুটবল মহলে প্রতিক্রিয়া ইয়ামালের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক সমর্থক তার আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ মনে করছেন, আর্জেন্টিনার মতো অভিজ্ঞ দলের বিপক্ষে এমন মন্তব্য ভবিষ্যতে চাপ বাড়াতে পারে। তবে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মানসিকতা একজন শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড় হওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বড় ম্যাচে জয় পেতে হলে ভয় নয়, বরং আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তরুণ তারকার উত্থান মাত্র অল্প বয়সেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে আলো ছড়ানো ইয়ামাল বর্তমানে স্পেন জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। তার গতি, টেকনিক এবং আক্রমণাত্মক খেলার ধরন তাকে ইতোমধ্যে বিশ্ব ফুটবলে বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হতে পারেন, যদি তিনি এই ধরনের মানসিকতা ও পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেন।
বিশ্বকাপে বাজে শুরুর পর, পর্তুগাল দল ও অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে সমালোচনা হচ্ছে ব্যাপক। সমালোচকদের পাল্টা জবাব দিয়ে দলটির ডিফেন্ডার দিয়োগো দালোত বলছেন, কিছু মানুষ সক্রিয়ভাবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযানের বিরুদ্ধে কাজ করছে। উত্তর আমেরিকা আসরে প্রথম ম্যাচে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব (ডিআর) কঙ্গোর বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েও ১-১ ড্র করে শিরোপাপ্রত্যাশী পর্তুগাল। ম্যাচ শেষের পর থেকে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় ম্যাচে মঙ্গলবার উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে সমালোচনার প্রসঙ্গে দালোত বলেন, এসব নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছেন না তারা। “সমালোচনা হবেই, কিন্তু আমাদের বার্তা হলো, লাখ লাখ মানুষ চায় পর্তুগাল জিতুক এবং এমনও অনেকে আছে যারা চায় না পর্তুগাল জিতুক। আমি ফুটবলের সঙ্গে অনেক দিন ধরে যুক্ত আছি, তাই আমি জানি, সমালোচনা এই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ এবং আমরা তা এড়াতে পারি না। তবে গঠনমূলক সমালোচনাও রয়েছে।” “আমাদের বার্তা স্পষ্ট: আমরা দল হিসেবে ঐক্যবদ্ধ, আমরা শক্তিশালী এবং জয়ের জন্য আমরা সবকিছু করতে প্রস্তুত।” পর্তুগালের জয় না চাওয়া মানুষেরা কারা, এমন প্রশ্নের উত্তরে রহস্য রেখে দেন ২৭ বছর বয়সী দালোত। “আমি এক বা দুজন মানুষের নাম বলতে পারব না, তবে এমন কিছু মানুষ আছে যারা চায় না পর্তুগাল জিতুক। আমার কাজ হলো মাঠে নেমে খেলা এবং এই বার্তা দেওয়া যে ফলাফল যাই হোক না কেন, এই দল শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ। সবাই আরও ভালো করতে চায়।” সমালোচনা সবচেয়ে বেশি হচ্ছে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে নিয়ে। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে একেবারেই নিষ্প্রভ ছিলেন তিনি। পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের পাশেও দাঁড়ালেন দালোত। “সমালোচনা সামলানোর ব্যাপারে ক্রিস্তিয়ানোর দক্ষতার কথা সবাই জানে। তিনি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। আমার মনে হয়, তিনি দলকে যা দেন, তা আমাদের এই বার্তা দেয় যে, সমালোচনা খেলারই একটি অংশ এবং সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টে খেললে সমালোচনা সবসময়ই থাকবে।” “তিনি আমাদের যে আত্মবিশ্বাস দেন এবং আমরা তাকে যে আত্মবিশ্বাস দিই, তা সবসময় একই ছিল এবং থাকবে, যতদিন তিনি জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন।” দালোত জানালেন, বিশ্বকাপের আগে তারা সামাজিক মাধ্যম থেকে দূরে রেখেছিলেন নিজেদের। “ব্যক্তিগত আলাপে আমরা কী বলি, তার খুব বেশি কিছু প্রকাশ না করেই বলছি, বিশ্বকাপের আগে সামাজিক মাধ্যম ও সমালোচনা নিয়ে আমাদের মধ্যে একটি আলোচনা হয়েছিল।” “যখন এমন একটি দল থাকে, বিশেষ করে দলে ক্রিস্তিয়ানোর মতো খেলোয়াড় থাকলে, আমাদের এমন সমালোচনা, যা স্বাভাবিক নয়, তা সামলাতে শিখতে হবে। এ কারণেই দলকে সামাজিক মাধ্যমের সমালোচনা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল।”
ফুটবল, সাম্বা নাচ, আমাজন জঙ্গল আর দৃষ্টিনন্দন সমুদ্রসৈকত ব্রাজিল বললেই বিশ্ববাসীর চোখে এই ছবিগুলোই ভেসে ওঠে। দক্ষিণ আমেরিকার সর্ববৃহৎ এই দেশটিকে চেনে না, এমন মানুষ পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া দায়। তবে এই চেনা পরিচিতির বাইরেও ব্রাজিলের বুকে লুকিয়ে আছে এক ভিন্ন আধ্যাত্মিক আবহ। অনেকের মনেই স্বাভাবিক প্রশ্ন জাগে, খ্রিস্টান প্রধান এই লাতিন দেশে কি মুসলিমরা আছেন? সেখানে কি গড়ে উঠেছে ইসলামের কোনো শক্তিশালী ভিত্তি? উত্তরটি কেবল ইতিবাচকই নয়, বরং চমকপ্রদ। ব্রাজিলে ইসলামের ইতিহাস যেমন প্রাচীন, তেমনি বর্তমান সময়ে দেশটির মুসলিমদের সামাজিক ও ধর্মীয় বিকাশ অত্যন্ত সুসংহত এবং সম্ভাবনাময়। মুসলিম জনসংখ্যা (২০২৬ সালের পরিসংখ্যান) ব্রাজিলের সরকারি আদমশুমারি (IBGE) এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর (যেমন ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ) ২০২৬ সালের সর্বশেষ ডাটাবেজ অনুযায়ী, ব্রাজিলে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৭ লক্ষ ৬৭ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষের মধ্যে অবস্থান করছে। ভিন্ন ভিন্ন গবেষণা রিপোর্টের এই পার্থক্যের কারণ হলো, ব্রাজিলের সরকারি শুমারিতে অনেক সময় ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ হয় না। তবে ইসলামিক সেন্টারগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে কার্যকর মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লক্ষের কাছাকাছি, যা ব্রাজিলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ০.৭০%। ২০২৬ সাল অনুযায়ী মসজিদের সংখ্যা ব্রাজিলে মুসলিমদের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো সেখানকার মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারগুলো। ২০২৬ সালের বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সমগ্র ব্রাজিলজুড়ে সক্রিয় মসজিদের সংখ্যা প্রায় ১৫১টি। এর পাশাপাশি রয়েছে শতাধিক সালাত কেন্দ্র বা ‘মুসাল্লা’ এবং ইসলামিক কালচারাল সেন্টার। বিশেষ করে সাও পাওলো, পারানা এবং রিও ডি জেনিরোর মতো বড় বড় রাজ্যগুলোতে মসজিদের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি। মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ও এর কারণ লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিলে ইসলামের প্রসারের গতি বেশ লক্ষণীয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ কাজ করছে। প্রথমত, অভিবাসন। বিগত শতাব্দীতে সিরিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিন থেকে আসা বিপুল সংখ্যক আরব মুসলিম ব্রাজিলে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে মুসলিমরা এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, স্থানীয়দের ধর্ম পরিবর্তন (ধর্মান্তর)। বর্তমানে ব্রাজিলে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবণতা হলো স্থানীয় ব্রাজিলীয়দের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ। বিশেষ করে ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে লাতিন সংস্কৃতির মানুষ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। ফেডারেশন অব মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনস ইন ব্রাজিলের তথ্যমতে, গত এক দশকে স্থানীয়দের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের হার বহুগুণ বেড়েছে এবং বর্তমানে ব্রাজিলে ১০ হাজারেরও বেশি স্থানীয় নবদীক্ষিত মুসলিম রয়েছেন। ব্রাজিলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক মসজিদ ব্রাজিলের ইসলামি ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি বিখ্যাত মসজিদের নাম নিচে আলোচনা করা হলো। মেসকিতা ব্রাজিল (সাও পাওলো) ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদটি কেবল ব্রাজিলেরই নয়, বরং সমগ্র দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে পুরোনো এবং প্রথম মসজিদ। এটি সাও পাওলোর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এবং ব্রাজিলে ইসলামি সংস্কৃতির সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত। ওমর ইবনুল খাত্তাব মসজিদ (ফজ দো ইগুয়াসু) প্যারাগুয়ে এবং আর্জেন্টিনা সীমান্তের কাছে বিখ্যাত ইগুয়াসু জলপ্রপাতের শহরে এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি অবস্থিত। ১৯৮৩ সালে নির্মিত এই মসজিদের স্থাপত্যশৈলী জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদের আদলে তৈরি। এর বিশাল মিনার এবং ধবধবে সাদা রঙের অবয়ব পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব মসজিদ (কুরিতিবো) ১৯৭২ সালে পারানা রাজ্যের রাজধানী কুরিতিবোতে এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চমৎকার ইসলামি ক্যালিগ্রাফি এবং গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদটি ওই অঞ্চলের শিয়া ও সুন্নি উভয় সম্প্রদায়ের মুসলিমদের ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। ব্রাসিলিয়া ইসলামিক সেন্টার মসজিদ (ব্রাসিলিয়া) ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় অবস্থিত এই মসজিদটি দেশটির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে। বিভিন্ন মুসলিম দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ইসলামিক সেন্টারের অধীনে এখানে নিয়মিত বড় বড় সেমিনার ও ধর্মীয় উৎসবের আয়োজন করা হয়। মুসলিমদের ভৌগোলিক অবস্থান ব্রাজিলের মুসলিমরা মূলত বড় শহরগুলোতেই বসবাস করেন। সাও পাওলো, ফোজ দো ইগুয়াসু, কুরিতিবা, রিও ডি জেনেইরো, ব্রাসিলিয়া এবং বেলো হরিজন্তে মুসলিম জনসংখ্যার প্রধান কেন্দ্র। গবেষণা অনুযায়ী ব্রাজিলের প্রায় সব মুসলিমই নগরাঞ্চলে বসবাস করেন। ব্রাজিলে ইসলাম আজ আর কোনো বিদেশি বা বহিরাগত ধর্ম নয়, বরং তা দেশটির সংস্কৃতিরই একটি অংশ হয়ে উঠেছে। যদিও মুসলিমরা সেখানে সংখ্যালঘু, তবুও তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, হালাল খাদ্যের বিশাল বাজার (ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ হালাল মাংস রপ্তানিকারক) এবং স্থানীয়দের ক্রমাগত ইসলামে দীক্ষিত হওয়া প্রমাণ করে যে, ল্যাটিন আমেরিকার এই ফুটবল পাগল দেশে ইসলামের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল ও সম্ভাবনাময়।