বিশ্ব

ইরানে আটক থাকা ১০ ভারতীয় নাবিককে মুক্তি

মারিয়া রহমান মে ২৭, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

 

ইরানে আটক থাকা ১০ জন ভারতীয় নাবিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের শিপিং কর্তৃপক্ষ। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একটি তেলবাহী জাহাজ আটক হওয়ার পর তারা আটক ছিলেন। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের। 

ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং জানায়, এমভি হারবার ফিনিক্স নামের জাহাজটি জাস্ক বন্দরের কাছে আটক করার সময় ওই নাবিকদের আটক, গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি করা হয়। দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনার পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং তারা নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে গেছেন।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, নাবিকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভারত ও ইরানের মধ্যে জ্বালানি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের হলেও, ভারত একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলে।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল পরিবহনকে ঘিরে প্রায়ই জাহাজ আটক ও নিরাপত্তা ইস্যু দেখা দেয়, যার কারণে অনেক সময় কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বুধবার সন্ধ্যায় দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী নেতাদের আড়াল জীবন ও দলীয় তৎপরতা

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ভারতে চলে যান। গত দুই বছরে তাদের অনেকে কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করেছেন। কেউ কেউ পরে ইউরোপ, আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও চলে গেছেন। তবে ভারতে থাকা নেতাদের বড় একটি অংশ এখনও নিজেদের পরিচয় ও অবস্থান গোপন রেখেই দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।     প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত ৭০ জন নেতা অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় থাকেন। এছাড়া পুলিশের প্রায় ৪০ জন কর্মকর্তাও সেখানে রয়েছেন বলে জানা গেছে। একসময় সাবেক সংসদ সদস্য, সহযোগী সংগঠনের নেতা, পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাসহ প্রায় ২০০ জন কলকাতা ও আশপাশে অবস্থান করতেন।       ভারতে থাকা নেতাদের অনেকেই আত্মীয় ও বন্ধুদের সহায়তায় জীবনযাপন করছেন বলে জানিয়েছেন। তাদের অনেকে আগের মতো আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নন। কেউ ভাড়া বাসায় একা থাকছেন, আবার কয়েকজন মিলে একটি বাসাও ভাড়া নিয়েছেন। অনেকের পরিবার তাদের সঙ্গে নেই। ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে ট্যাক্সি ও গণপরিবহন ব্যবহার করছেন বলেও কয়েকজন দাবি করেছেন।     তবে শুরুটা তাদের জন্য সহজ ছিল না। আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, ভারতে যাওয়ার পর প্রথম কয়েক মাস তারা আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। অনেকেই এক বাসা থেকে অন্য বাসায় অবস্থান বদল করেছেন। কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাসায় থেকেছেন। নিরাপত্তার কারণে ফোন ব্যবহারেও সতর্ক ছিলেন তারা।     ভারতে অবস্থান করেও আওয়ামী লীগের নেতারা রাজনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন। ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠন, মামলায় সহায়তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর কাজ করছেন বলে তারা দাবি করেছেন।       কলকাতা ও আশপাশে থাকা নেতারা নিজেদের মধ্যেও নিয়মিত যোগাযোগ ও বৈঠক করেছেন। একসময় কলকাতার কাছে একটি বাণিজ্যিক অফিস ভাড়া নিয়ে সেখানে বৈঠক করতেন কয়েকজন নেতা। তারা সেটিকে দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতেন বলে জানা যায়। পরে সেটি আর ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে আওয়ামী লীগের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে।     শেখ হাসিনার সঙ্গেও গত দুই বছরে আওয়ামী লীগের নেতাদের যোগাযোগ হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। প্রথম বছর সরাসরি দেখা করার ঘটনা খুব বেশি না থাকলেও পরে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ছোট ছোট দলে দিল্লিতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছেন বলে জানা গেছে।       দলটির কয়েকজন নেতা এখন দেশে ফেরার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এরপর ভারতে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাদের কয়েকজনও দেশে ফিরে পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার মানসিক প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।       তবে তাদের অনেকে এখনও ভারতে থাকলেও নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। দেশে ফিরলে কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা তারা বুঝতে পারছেন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজেদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে দেশে ফিরে আইনি লড়াই করার কথাও বলেছেন কয়েকজন নেতা।       সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি দলীয় কার্যক্রমেই সম্পৃক্ত ছিলাম। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ও সেখানে প্রতিবেদন প্রেরণ ইত্যাদি কাজগুলো করেছি।     নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলছিলেন, বাংলাদেশে আমাদের যে নেতা-কর্মীরা আছেন, তারাই তো মূল শক্তি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা, যেসব মামলা চলছে তাতে সহায়তা দেওয়া এসব করতেই দিন কেটে যায়। এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণার কাজ তো আছেই।       তিনি আরও বলেন, মানসিক আর পারিবারিকভাবে আমি এবং আমরা দেশে ফেরার জন্য প্রস্তুত। রোডম্যাপটা তৈরি, এখন অপেক্ষা করছি টাইমলাইনের জন্য।     শেখ হাসিনাও দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু কবে, কীভাবে তিনি দেশে ফিরবেন, সে ব্যাপারে কিছু প্রকাশ করেননি তিনি।

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৮, ২০২৬

ওয়েব সিরিজের দৃশ্য নকল করে স্ত্রীকে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আসামে ভয়াবহ বন্যা, প্রাণহানি প্রায় শতাধিক

ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ দেখে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

হাসপাতালে মিঠুন চক্রবর্তী, কেমন আছেন জানালেন শুভেন্দু

হাসপাতালে ভর্তি বলিউড অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী।   বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে কলকাতার ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাকে। দু’বছর আগে হাতে চোট পেয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। সেই সময়ে অস্ত্রোপচার করে তার ডান হাতে প্লেট বসানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই প্লেট বের করা হয়েছে বলে জানা যায়।   চিকিৎসকরা জানিয়েছে বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল। দু-একদিনের মধ্যেই ছাড়া হতে পারে তাকে।   এদিকে, অসুস্থ মিঠুনকে দেখতে শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে চিনার পার্কের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা বাইপাসের ধারের ওই বেসরকারি হাসপাতালে যান শুভেন্দু অধীকারী। মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে দেখা করেন। বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন দুজনে। মিঠুনের শরীরের খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।   হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উনি বাংলার সম্পদ। তার সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বাংলায় রাষ্ট্রবাদী সরকার আসার নেপথ্যে মহাগুরুর অবদান অনেক। ছোট্ট একটা অপারেশন হয়েছে। ভালো আছেন।’’ এরপর নিজেই সোশাল মিডিয়ায় মিঠুন চক্রবর্তী সঙ্গে সাক্ষাতের ছবিও পোস্ট করেন শুভেন্দু।   এর আগে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর নিউটাউনে বর্ষীয়ান অভিনেতার বাড়িতে গিয়ে দেখা করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ০৭, ২০২৬
থাইল্যান্ডের দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুল।

থাইল্যান্ডের স্কুলে বন্দুক হামলা, হামলাকারীসহ নিহত ৭

ছবি : সংগৃহীত

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ

ছবি : সংগৃহীত

১৯৮ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘ডলফিন’

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালাল ইউক্রেন

রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন অঞ্চলটির গভর্নর মিখাইল ইয়েভরায়েভ।   গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট যৌথভাবে বড় পরিসরের এ হামলা প্রতিহত করেছে। তবে ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে তিনটি ব্যক্তিগত বাড়িতে আগুন লাগে, কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং বেশ কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হতাহতের তথ্য তখনও যাচাই করা হচ্ছিল।   ইউক্রেনীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাতের ওই হামলায় ইয়ারোস্লাভলের স্লাভনেফট-ইয়ানোস তেল শোধনাগারে আগুন লাগে।   এদিকে, রাশিয়ার টভার অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর ইগর কোরোলেভ জানান, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ওয়াইল্ডবেরিজ -এর একটি লজিস্টিকস কমপ্লেক্সে পড়ে ভবনের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কালিনিন জেলায় একটি বাগান সমবায়ের কয়েকটি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।   রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, বুধবার রাতভর বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ৬০৫টি ফিক্সড-উইং ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষ্ণ সাগরে ওডেসার দক্ষিণ ও পূর্বে ইউক্রেনের সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী দুটি শুকনো পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা।   অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রামে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইউক্রেনীয় বাহিনী যুদ্ধের সামনের সারি থেকে ১,৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তার মতে, হামলায় রাশিয়ার বাশনেফট-নোভোইল শোধনাগার এবং স্লাভনেফট-ইয়ানোস শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন তথ্য জানাল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব সফরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

ইউক্রেনের ৬০৫টি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি রাশিয়ার

0 Comments