প্রবাসী

মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে এবি রাজ্জাক (৩২) নামের এক বাংলাদেশি প্রবাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে মালের একটি ভারতীয় খাবারের হোটেলের গুদামঘর থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই হোটেলেই বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

 

নিহতের স্বজন মিজান মিয়া জানান, জীবিকার তাগিদে প্রায় ছয় মাস আগে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন রাজ্জাক। প্রতিদিনের মতো সোমবার রাতেও তিনি কর্মস্থলে গিয়েছিলেন। কাজের একফাঁকে সহকর্মীরা তাকে গুদামঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য পুলিশ মরদেহটি রাজধানীর ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে (আইজিএমএইচ) পাঠিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পুলিশ এখনো নিশ্চিত কিছু জানায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কোনো কলহের জের ধরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

নিহত রাজ্জাকের দেশের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। তিনি পাকুন্দিয়া উপজেলার পূর্ব নারান্দী গ্রামের মেরাজ মিয়ার ছেলে। প্রবাসে তার এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুতে সহকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ওমানে প্রবাসীদের নিয়ে নতুন আইন

ওমানের বেসরকারি খাতে স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি জারি করা ৬০২/২০২৫ নম্বর প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নির্ধারিত ‘ওমানাইজেশন’ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোকে এখন থেকে দ্বিগুণ কর্মসংস্থান পারমিট বা লাইসেন্স ফি প্রদান করতে হবে। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষভাগ থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন নিয়মের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ওমানি জনশক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।   নতুন এই কাঠামোর আওতায় দেশটির সকল কোম্পানিকে তাদের দক্ষতা অনুযায়ী ‘সবুজ’, ‘হলুদ’ এবং ‘লাল’—এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান সফলভাবে ওমানি নাগরিকদের নিয়োগের কোটা পূরণ করতে পারবে, তারা ‘সবুজ’ শ্রেণিভুক্ত হওয়ার পাশাপাশি লাইসেন্স ফিতে ৩০ শতাংশ বিশেষ ছাড় উপভোগ করবে। তবে যারা এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে থাকবে, অর্থাৎ যারা ‘হলুদ’ বা ‘লাল’ শ্রেণিতে পড়বে, তাদের স্বাভাবিক ফি-র চেয়ে দ্বিগুণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি একটি ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হবে যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।   শ্রম মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আম্মার বিন সালেম আল সাদি এই উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে জানান যে, এটি মূলত বেসরকারি খাতকে ওমানি দক্ষ কর্মীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলার একটি প্রচেষ্টা। সরকারের এই পরিকল্পনাটি কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং আকর্ষণীয় প্রণোদনার একটি সংমিশ্রণ। যদিও সাধারণ বড় কোম্পানিগুলোর জন্য নিয়মটি বেশ কড়া, তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের ‘রিয়াদা’ কার্ডধারী প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট সংখ্যক লাইসেন্সের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা বা ছাড় অব্যাহতভাবে পাবে। এর ফলে ওমানি নাগরিকদের নিয়োগের পাশাপাশি তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করছে সরকার।

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি ফেরত এক নারীর পরিবারের সন্ধান চায় ব্র্যাক

ছবি : সংগৃহীত

কানাডায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী বইমেলা

ছবি : সংগৃহীত
সিডনিতে এএফসি উইমেনস এশিয়ান কাপ ট্রফি রোড ট্রিপ সম্পন্ন

এশিয়ার নারী ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর এএফসি উইমেনস এশিয়ান কাপ এর ট্রফি প্রদর্শনী ‘ট্রফি রোড ট্রিপ’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে সিডনিতে।   সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা থেকে ৭টা পর্যন্ত সিডনির ক্যাম্পবেলটাউনের লিনউড পার্কে ম্যাকার্থার ফুটবলস হোমগ্রাউন্ডে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের ছিল উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি।   উপস্থিত ছিলেন ফেডারেল এমপি ডেভিড মনক্রিপ, স্টেট এমপি ন্যাথান হাগারটি, ক্যাম্বেলটাউন সিটি মেয়র ডার্সি লাউন্ড, কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী, কাউন্সিলর ইব্রাহিম খলিল মাসুদ, কাউন্সিলর আশিকুর রহমান অ্যাশ, কাউন্সিলর এলিজা আজাদ রহমান প্রমুখ।   অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ট্রফিটি কাছ থেকে দেখার এবং স্মরণীয় ছবি তোলার সুযোগ পান। নারী ফুটবল ঘিরে উচ্ছ্বাস ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় পুরো ভেন্যু জুড়ে। অনেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে উপস্থিত হয়ে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হন।   আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ট্রফি রোড ট্রিপের যাত্রা শুরু হয় পার্থ থেকে। এরপর এটি সফর করে নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ড । টুর্নামেন্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১ মার্চ ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়াতে।   এ আয়োজন প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের সভাপতি ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অস্ট্রেলিয়া প্রতিনিধি আবদুল খান রতন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সিডনিতে ট্রফি প্রদর্শনীতে কমিউনিটির ব্যাপক অংশগ্রহণ নারী ফুটবলের প্রতি আগ্রহ ও সমর্থনেরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের কমিউনিটি চ্যাম্পিয়ন, তাঁদের পরিবার ও বন্ধুদের উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ জানান।   অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্টের জনপ্রিয় মাসকট Naara-কে ঘিরেও ছিল বাড়তি আগ্রহ। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।   উল্লেখ্য, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দলসহ এশিয়ার সেরা নারী দলগুলো অংশ নেবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নারী ফুটবলের প্রসার ও উন্নয়নে এই টুর্নামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।   উল্লেখ্য, উইমেনস এশিয়ান কাপ শুরু হবে ১ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত। বাংলাদেশ মহিলা দল প্রথম রাউন্ডে খেলবে ৩,৬ ও ৯ মার্চ।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানুতে অভিযানে ২২২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

সংসদ নির্বাচনে জয় পাওয়ায় স্পেন বিএনপির উল্লাস

ছবি: সংগৃহীত

বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতি ইন স্পেনের কমিটি গঠন

ছবি: সংগৃহীত
৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন

স্পেন সরকার ঘোষণা করেছে যে, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে নিয়মিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই পদক্ষেপের আওতায় বাংলাদেশি প্রবাসীরা অনেকেই নিয়মিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এবং পাসপোর্ট ইস্যুতে দীর্ঘসূত্রতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী এই সুবর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।   স্পেন সরকার সম্প্রতি ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে নিয়মিত করার ঘোষণা দিয়েছে। এই পদক্ষেপ স্পেনের অভিবাসী ইতিহাসে একটি বড় ঘটনা এবং স্পেনসহ ইউরোপের অন্য দেশগুলোর জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে। ২০০১ ও ২০০৫ সালে স্পেনে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হলেও, ২০২৬ সালের আগে এ রকম সহজ শর্তে অভিবাসীদের নিয়মিত করার সিদ্ধান্ত আগে কখনো নেওয়া হয়নি।   স্পেনের এই উদ্যোগে বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা, যাদের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই সুযোগ থেকে উপকৃত হতে পারবেন। তবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫–এর আগে যারা স্পেনে প্রবেশ করেছেন, শুধু তাঁরাই এই সুবিধা পাবেন।   স্পেনের নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়া যদিও সহজ শর্তে, তবে এর জন্য আবেদনকারী প্রবাসীদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এবং পাসপোর্ট ইস্যু দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অন্য সরকারি দপ্তরের কাজের গতি খুব ধীর হওয়ায় প্রবাসীরা এই প্রক্রিয়া সময়মতো শেষ করতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন। পাসপোর্ট নবায়ন এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ইস্যুর প্রক্রিয়ায় দেরির কারণে অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী যথাসময়ে আবেদন করতে পারছেন না, যা তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।   প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে যদি সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তারা এই সুযোগ হারাবেন। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর উচিত, পাসপোর্ট নবায়ন এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, যাতে প্রবাসীরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন।   বাংলাদেশি প্রবাসীরা তাদের সঠিক ডকুমেন্টেস সম্পন্ন করতে স্পেন সরকারের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ দূতাবাস স্পেনকে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে।   স্পেন সরকার জানিয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়া এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হবে এবং শেষ তারিখ হবে ৩০ জুন ২০২৬। আবেদনকারীদের জন্য কোনো কাজের কন্ট্রাক্ট লাগবে না, শুধু পাসপোর্ট এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রমাণপত্র যথাযথভাবে জমা দিতে হবে।   বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সভাপতি আল মামুন বলেন, কারও প্রলোভনে পড়ে আর্থিক লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এখনো চূড়ান্ত বুলেটিন আসেনি, তখনই আপনারা সঠিক তথ্য পাবেন।   অ্যাসোসিয়েশন ভালিয়ান্তে বাংলার সভাপতি ফজলে এলাহী বলেন, স্পেনের এই নিয়মিতকরণ পদক্ষেপ বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য একটি বিরল সুযোগ, তবে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এটি অনেকেই হারাতে পারেন। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ দূতাবাস স্পেনকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে।   মাদ্রিদের বাইতুল মোকাররম জামে মসজিদের সভাপতি খোরশেদ আলম মজুমদার বলেন, যদি এই সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা যায়, তবে স্পেনের অভিবাসী নিয়মিতকরণের এই উদ্যোগ বাংলাদেশিদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।    মাদ্রিদে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি, সবাই আন্তরিকভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের সর্বাত্মক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে দূতাবাস এবং কমিউনিটির সমন্বয় করা উচিত বলে মনে করেন অভিজ্ঞ কমিউনিটি ব্যক্তিত্বরা।

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় ভয়াবহ স্কুল শুটিংয়ের ঘটনায় শোক সভা

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী ইয়াছিন ফরাজীর ক্যালিগ্রাফি শিল্পে নতুন দিগন্ত, মালয়েশিয়ায় প্রশংসিত

ছবি: সংগৃহীত

বিপুল ভোটে জয় পাওয়ায় পর্তুগাল বিএনপির আনন্দ-উচ্ছ্বাস

0 Comments