জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার মানুষ। এর মধ্যে ৬২ শতাংশের বেশি ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ খুলে যায়।
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব পালন করবেন। সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর গণভোটে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যার মধ্যে ৪৭টি ছিল সাংবিধানিক। কয়েকটি প্রস্তাবে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের আপত্তিও ছিল।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি। ফলে যেসব সংস্কারে আপত্তি নেই, সেগুলো বাস্তবায়নে বড় কোনো জটিলতা দেখছেন না সংবিধান বিশ্লেষকরা।
তবে দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি তাদের ইশতেহারে সংসদের আসনসংখ্যার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বললেও গণভোটে উচ্চকক্ষ গঠনের জন্য ভোটের আনুপাতিক হার বিবেচনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, বিএনপি ৪৯.৯৭ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামী ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জোটগত হিসেবে বিএনপি জোট ৫১ শতাংশের বেশি এবং জামায়াত-এনসিপি জোট ৩৮.৫১ শতাংশ ভোট পায়। আসন হিসেবে বিএনপি জোট ২১২টি ও জামায়াত-এনসিপি জোট ৭৭টি আসনে জয়ী হয়।
আসনসংখ্যার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠন হলে বিএনপি জোট ১০০টির মধ্যে প্রায় ৭০টি আসন পেতে পারে। আর ভোটের আনুপাতিক হিসেবে হলে বিএনপি জোটের আসন কমে ৫২–৫৩টিতে নামতে পারে, বিপরীতে জামায়াত জোট পেতে পারে অন্তত ৩৮টি আসন।
এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা বাড়লেও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার জানিয়েছেন, গণভোটের ব্যালটে উচ্চকক্ষের গঠন আনুপাতিক হারে করার বিষয়েই সরাসরি ভোট হয়েছে। তিনি বলেন, যা সরাসরি গণভোটে অনুমোদন পেয়েছে, সেটাই প্রাধান্য পাওয়ার কথা।
তবে বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনা ও বিতর্ক চলবে বলে মনে করছেন অন্তর্বর্তী সরকার ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নিজের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা এলাকা থেকে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করে এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের ভোটার হয়েছেন তিনি। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক বার্তায় গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছে এনসিপি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা এলাকার নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঢাকা-৮ আসনে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-ইউ-১৩ ব্যবহার করে আবেদন করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণের পর নির্বাচন কমিশন আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছে এনসিপি। এর আগে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হন। এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ভোটার হওয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তার ভোটার এলাকা পরিবর্তনকে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। উল্লেখ্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, চলতি সেপ্টেম্বরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। নভেম্বর মাসে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। এরপর পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের কথা রয়েছে।
সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীর দাবি, ইসলামি শরিয়া বিশেষজ্ঞদের মতামত না নিয়ে বিলটি দ্রুত সংসদে পাস করা হয়েছে। তার মতে, নতুন আইনের কিছু বিধান কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এর ফলে ইসলামি উত্তরাধিকার আইনের ফারায়েজের বিধান পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন তিনি। হেফাজতে ইসলামের দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান। বিবৃতিতে আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে আলেম-ওলামাদের মতামত উপেক্ষা করে শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বিলটি সংশোধনের দাবি জানান এবং রাষ্ট্রপতিকে এতে স্বাক্ষর না করার আহ্বান জানান। বিলটির একটি বিধানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দানের মাধ্যমে বাবা-মায়ের কাছ থেকে সন্তানের কাছে সম্পত্তি হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সম্পত্তিটি ব্যবহার ও ভোগ করতে পারবেন। তবে দাতার আগে গ্রহীতা মারা গেলে ওই সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। হেফাজতের এই নেতা মনে করেন, বিধানটি বাইরে থেকে ইতিবাচক মনে হলেও এর মাধ্যমে কোনো কোনো উত্তরাধিকারীকে অন্যদের তুলনায় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এতে শরিয়াহ অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টনের নির্ধারিত নীতি বা ফারায়েজের বিধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আজিজুল হক ইসলামাবাদী আরও বলেন, সংসদে বিল উত্থাপনের আগে আইন মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল ইসলামি শরিয়া বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া। কুরআনে নির্ধারিত উত্তরাধিকার কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে আইন প্রণয়ন করা শরিয়াহর মূলনীতির প্রতি অবজ্ঞা বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইসলামি উত্তরাধিকার আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর প্রাপ্য অংশ কুরআন ও সুন্নাহতে নির্ধারিত রয়েছে। সামাজিক পরিস্থিতি বা পারিবারিক প্রয়োজনের যুক্তিতে সেই নির্ধারিত অংশ পরিবর্তন করার সুযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, উত্তরাধিকারীর নির্ধারিত অংশ এড়িয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো কৌশল গ্রহণ করাও গ্রহণযোগ্য নয়। নিজের বক্তব্যের পক্ষে জামে তিরমিজির ২১১৭ নম্বর হাদিসের উল্লেখ করে হেফাজতের এই নেতা বলেন, আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য অধিকার দিয়েছেন; তাই উত্তরাধিকারীর জন্য আলাদা অসিয়তের সুযোগ নেই। তবে মৃত্যুর পর প্রাপ্তবয়স্ক সব ওয়ারিশ স্বেচ্ছায় ও সম্মতির ভিত্তিতে কোনো বিষয়ে একমত হলে সেটিকে ভিন্ন বিষয় হিসেবে দেখার কথা বলেন তিনি। তার ভাষ্য, সে ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির নির্ধারিত উত্তরাধিকার আইন পরিবর্তনের বিষয় থাকে না; বরং জীবিত ওয়ারিশদের নিজেদের সম্মতির বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় নিজের সম্পত্তি কন্যাকে হেবা করার পরও যদি সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, ভোগদখল ও আয় নিজের জন্য রেখে দেন এবং মৃত্যুর পর সম্পত্তি কন্যার কাছে যাওয়ার শর্ত করেন, তাহলে তা শরিয়াহ অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়। হেবা সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে সম্পত্তির মালিকানা দাতার কাছ থেকে সম্পূর্ণভাবে গ্রহীতার কাছে চলে যাওয়া প্রয়োজন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া সংসদে শরিয়াহবিরোধী আইন পাসের অভিযোগ তুলে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আজিজুল হক ইসলামাবাদী। সরকারকে ধর্মীয় বিধানসংক্রান্ত বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসলামি আইনের বিষয়ে আলেমরা কোনো ছাড় দেবেন না।
চলতি সপ্তাহেই রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল এ সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছিলেন, এই নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত। সেটার আইটি সাপোর্টেড যে আপনার পোস্টাল ভোটিং, সেটারও আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা রাখি আমরা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা সিডিউলটা ডিক্লেয়ার করতে পারব। নির্বাচন পূজা, পরীক্ষা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ২২ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। এতে বলা হয়, সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গত ২১ আগস্ট তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে আসনটি শূন্য হয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন পরিচালনা শাখা ইতোমধ্যে উপনির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে। আসনটি শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে ভোট আয়োজনের বাধ্যবাধকতা থাকায় সময় বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে কমিশন। ইসির জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ওইদিনই বলেন, যেহেতু আসনটি শূন্য হয়ে গেছে। পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। আমরা খুব বেশি সময় নেবো না। এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে তিনি দেশের ২৩-তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।