সারাদেশ

মাটিরাঙ্গায় ভুট্টা চাষে নতুন সম্ভাবনা, কৃষকের আয় বাড়ছে

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ভুট্টা চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। অনাবাদি ও উঁচুনিচু পাহাড়ি জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকরা এখন ভুট্টা চাষে সাফল্যের মুখ দেখছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, পরিকল্পিত চাষ ও আধুনিক জাত ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বাড়ছে এবং কৃষকের আয়েও ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।


মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাটিরাঙ্গায় ৫৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়। ওই বছরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৫১ মেট্রিক টন। অপরদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ করা হয়েছে, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪১০ মেট্রিক টন। জমির পরিমাণ কিছুটা কমলেও ফলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।


‘কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারকরণ’ প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মাটিরাঙ্গা কার্যালয়ের উদ্যোগে বিএম-৫১৮ (হাইব্রিড) জাতের ৪টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি প্রদর্শনীতে ৩৩ শতক জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়। প্রদর্শনীগুলো মাটিরাঙ্গা পৌরসভা, গাজিনগর, বেলছড়ি, তবলছড়ি সহ মোট চারটি ব্লকে স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্রদর্শনীতে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমন কৌশল কৃষকদের হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে।
কৃষক আব্দুর মালেক জানিয়েছেন, তিনি চলতি মৌসুমে তার ৩৩ শতক জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছেন। জমি পরিষ্কার করা, আগাছা দমন, সার প্রয়োগ ও সময়মতো বপন—all মিলিয়ে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়েছে। প্রতি কানি জমিতে প্রায় ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, যার মধ্যে বীজ, সার, সেচ, শ্রমিক ও পরিচর্যার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত।


তিনি বলেন, সঠিক সময়ে সার ও সেচ দিতে পারলে ফলন ভালো হয়। বিশেষ করে গাছের বৃদ্ধি পর্যায়ে পরিচর্যা ঠিকভাবে করলে দানা ভরাট হয় এবং ফলন আশানুরূপ পাওয়া যায়। যদি বাজারে দাম ভালো থাকে, তাহলে এই জমি থেকে অর্ধলক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।


বিএম-৫১৮ (হাইব্রিড) জাতের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—উচ্চ ফলনশীলতা, ভালো দানা গঠন, আবহাওয়া সহনশীলতা, শক্ত ও মজবুত গাছের গঠন। গাছের উচ্চতা ১০৫-১১৫ সেমি পর্যন্ত হয়। গাছের জীবনকাল ১৪০-১৪৫ দিন এবং সম্ভাব্য ফলন হেক্টরপ্রতি ১৩-১৪ মেট্রিক টন। উন্নত প্রযুক্তি ও মানসম্মত বীজ ব্যবহারের ফলে পাহাড়ি মাটিতেও আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাচ্ছে।


কৃষক করিম মিয়া বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি বিএম-৫১৮ জাতের ভুট্টা চাষ করে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন। এই জাতের গাছগুলো শক্ত ও মজবুত হওয়ায় ঝড়-বৃষ্টি কিংবা দমকা হাওয়াতেও সহজে হেলে পড়ে না। পাহাড়ি এলাকার অনিশ্চিত আবহাওয়ার মধ্যেও গাছ ভালোভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, যা ফলন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।


তিনি আরও বলেন, রোগবালাই তুলনামূলক কম দেখা যায়। সময়মতো সার ও পরিচর্যা করলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয় এবং মোচাগুলো দানায় পরিপূর্ণ হয়। দানাগুলো মোটা, ভরাট ও আকর্ষণীয় রঙের হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা বেশি। ফলে বিক্রির সময় ভালো দাম পাওয়া যায়, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।


উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ চাকমা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে ভুট্টা একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। মাটিরাঙ্গার মাটি ও আবহাওয়া ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী। সঠিক সময়ে বপন, সুষম সার প্রয়োগ এবং নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিএম-৫১৮ জাতের প্রদর্শনী প্লটগুলোতে কৃষকরা হাতে-কলমে আধুনিক চাষ পদ্ধতি শিখছেন।


তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবং কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চলেন, তাহলে আগামী মৌসুমগুলোতে মাটিরাঙ্গায় ভুট্টা উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।


মাটিরাঙ্গা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ভুট্টা আজ আর শুধু পশুখাদ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের পুষ্টিকর খাদ্য, শিল্পের মূল্যবান কাঁচামাল এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উজ্জ্বল দ্বার। পাহাড়ি অঞ্চলের ঢালু জমিতে ভুট্টা চাষের বিস্তার ঘটালে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।


তিনি আরও বলেন, দেশের প্রধান খাদ্য—ভাত এবং ধানের প্রতি নির্ভরতা বিবেচনায় রেখে ধানের জমিতে ভুট্টার আবাদকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ছেলেধরা সন্দেহে’ যুবককে পিটিয়ে হত্যা, পুলিশ হেফাজতে ২

খুলনা নগরের রায়েরমহল এলাকায় ‘ছেলেধরা সন্দেহে’ এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মারধরে জড়িত সন্দেহে দুজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।   মঙ্গলবার বিকালে মারধরে আহত যুবক সন্ধ্যায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বলে জানিয়েছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (সোনাডাঙ্গা জোন) হুমায়ুন কবির।   নিহত ২৬ বছর বয়সি রাজু শিকদার বাড়ি খুলনার ফুলতলা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে।   সহকারী পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির বলেন, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজু নগরের আড়ংঘাটা থানা এলাকার রায়েরমহল বাজারের বড় মসজিদের পাশ থেকে একটি শিশুকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এতে আশপাশের লোকজনের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন রাজুকে আটক করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।   এক পর্যায়ে তাকে ছেলেধরা সন্দেহে মারধর করা হয়। পরে আশপাশের আরও লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে তাকে পিটুনি দেন।   পরে ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজুকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সহকারী পুলিশ কমিশনার বলেন, রাজুর সঙ্গে থাকা শিশুটি তার পরিচিত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।   ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যেই মারধরের ঘটনায় জড়িত দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তিন ডিসি ও এক বিভাগীয় কমিশনারকে ‘প্রত্যাহার’

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রতিমন্ত্রী সতীশ চন্দ্র আর নেই

স্ত্রীর সঙ্গে জাপান প্রবাসী জুনায়েদ মিয়া। ছবি : সংগৃহীত

খাসি-কাণ্ডে ভাইরাল সেই জাপানপ্রবাসীর শেষ পর্যন্ত বিয়ে

স্মরণসভায় বক্তব্য রাখছেন মাহমুদুর রহমান মান্না।
দুর্নীতি দমন ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করাই প্রধান অগ্রাধিকার: মান্না

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, কলকারখানা বন্ধ থাকলে বক্তৃতা দিয়ে কী হবে? বক্তৃতা দিয়ে বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হবে না। দেশে উৎপাদন না হলে, মানুষের চাকরি না হলে বড় বড় কর্মসূচির কথা বলে কী লাভ?     মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্যের ময়মনসিংহ জেলা শাখা আয়োজিত সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা শাখার আহ্বায়ক নজরুল ইসলামের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।     মান্না বলেন, বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে এখন প্রয়োজন বাস্তবসম্মত ও দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ। দেশের বিপুলসংখ্যক বাড়ি ও ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব। যেসব পরিবারের সৌর প্যানেল কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ারও প্রস্তাব দেন তিনি।       দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের গ্রামের কৃষকরাও সমস্যায় পড়ছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান— কোনোটিই বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই শুধু বক্তৃতা নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।     বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা যাবে না উল্লেখ করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগার কথা বলা হলেও দুই বছর বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে থাকা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। একইভাবে দুই বছর কলকারখানা বন্ধ রেখে দেশের অর্থনীতিও সচল রাখা যাবে না। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের নিজস্ব গ্যাসের অনুসন্ধান এবং অন্যান্য জ্বালানি উৎস ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।       জুলাইয়ের আন্দোলনে প্রাণহানির প্রসঙ্গ টেনে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মানুষের বড় ধরনের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। সেই পরিবর্তন শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য বা সভা-সমাবেশে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। মানুষের অভাব-অভিযোগ ও দুর্ভোগ কমাতে হবে। দ্রব্যমূল্যের চাপ, দুর্নীতি ও বিদ্যুৎ সংকটের মতো বিষয়গুলোর বাস্তব সমাধান করতে হবে।     বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, সরকারের কয়েক মাসের কার্যক্রমে মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিবর্তন কতটা এসেছে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দুর্নীতি কমানো ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।     তিনি বলেন, তাদের রাজনৈতিক স্লোগান ‘বদলে দাও বাংলাদেশ’। এটি শুধু ভোটের জন্য দেওয়া কোনো স্লোগান নয়। বাস্তব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশ পরিবর্তনের চিন্তা থেকেই তারা কাজ করছেন। নাগরিক ঐক্য শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনীতি করে না। মানুষের কাছে বাস্তবসম্মত সমাধান তুলে ধরে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিবর্তনের চেষ্টা করাই তাদের লক্ষ্য।       স্মরণসভায় নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন নাগরিক ঐক্য ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহ্বায়ক আনিসুর রহমান। সঞ্চালনা করেন জেলা শাখার সদস্যসচিব হাতেম রানা।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি, গ্যাসের চাপে চরম মন্দা

রাজশাহী মহানগরীর কিছু এলাকায় এডিস মশার প্রজনন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাজশাহীর ৩২ শতাংশ বাড়িতে মিলেছে এডিসের লার্ভা

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় গোলাপী বাসের যাত্রা শুরু, টেকসই করার অঙ্গীকার

ছবি: সংগৃহীত
তিন দিনের ছুটি নিয়ে ৪ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান শিক্ষক

তিন দিনের ছুটি নিয়ে প্রায় চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সরকারি মার্চেন্টস একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. জিল্লুর রহমান। দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।   সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে জিল্লুর রহমান এ নিয়ম না মেনেই বিদেশে গেছেন বলে জানা গেছে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সাবেক সভাপতি অঞ্জন দাশ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি দেন।   বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, জিল্লুর রহমান ২০২২ সালের ২২ আগস্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মাত্র তিন দিনের ছুটি নেন। পরদিন ২৩ আগস্ট তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। এরপর থেকে তিনি আর বিদ্যালয়ে ফেরেননি। অর্থাৎ তিন দিনের ছুটি নিয়ে টানা প্রায় চার বছর ধরে তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।   তবে এর আগেও বিদেশ যাওয়ার নজির রয়েছে জিল্লুর রহমানের। ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর তিনি প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে যান। প্রায় পাঁচ মাস পর দেশে ফেরেন। ওই সময় তিনি বিদ্যালয় থেকে দুই মাসের ছুটি নিয়েছিলেন। কিন্তু বিদেশ যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশে ফেরার পর তিনি সরকারি বেতন-ভাতাও উত্তোলন করেছেন।   রায়পুর শহরে থানার পেছনে অবস্থিত সরকারি মার্চেন্টস একাডেমি ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।   অভিভাবক মো. আলাউদ্দিন জানান, পাঁচ বছর আগেও এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির ফল ভালো ছিল। তখন সন্তানকে এ বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে আগ্রহ ও প্রতিযোগিতা ছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে আশানুরূপ ফল হচ্ছে না। ফলে বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান ও সার্বিক পরিবেশ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।   বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনায় নানা সংকট তৈরি হয়েছে। তার নেতৃত্ব না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক নিজেই নিয়মনীতি না মানায় অন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যেও দায়িত্ব পালনে অনীহা তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি এ অনুপস্থিতি প্রতিষ্ঠানের জন্য কোনোভাবেই মঙ্গলজনক নয়।   অভিযোগের বিষয়ে জানতে সোমবার রাতে (১৭ আগস্ট) মো. জিল্লুর রহমানের বিদেশি মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।   ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা ফারুকী বলেন, আমরা প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হইনি। তিনি কবে প্রতিষ্ঠানে যোগ দেবেন, তা নিশ্চিত নয়। ফলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে এখনো তার পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়নি।   এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউসার বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ যেতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনুমতি নেননি। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নকলা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর তোতা মিয়া গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

ভুয়া নার্স ও অদক্ষ জনবলে চিকিৎসা, ৪ ক্লিনিক-২ ফার্মেসিকে জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের গায়ে-হলুদে যাওয়ার পথে গুলিবর্ষণ, ক্যামেরাম্যানসহ গুলিবিদ্ধ ৫

0 Comments