সারাদেশ

মাটিরাঙ্গায় ভুট্টা চাষে নতুন সম্ভাবনা, কৃষকের আয় বাড়ছে

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ভুট্টা চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। অনাবাদি ও উঁচুনিচু পাহাড়ি জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকরা এখন ভুট্টা চাষে সাফল্যের মুখ দেখছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, পরিকল্পিত চাষ ও আধুনিক জাত ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বাড়ছে এবং কৃষকের আয়েও ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।


মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাটিরাঙ্গায় ৫৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়। ওই বছরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৫১ মেট্রিক টন। অপরদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদ করা হয়েছে, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪১০ মেট্রিক টন। জমির পরিমাণ কিছুটা কমলেও ফলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।


‘কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারকরণ’ প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মাটিরাঙ্গা কার্যালয়ের উদ্যোগে বিএম-৫১৮ (হাইব্রিড) জাতের ৪টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি প্রদর্শনীতে ৩৩ শতক জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়। প্রদর্শনীগুলো মাটিরাঙ্গা পৌরসভা, গাজিনগর, বেলছড়ি, তবলছড়ি সহ মোট চারটি ব্লকে স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্রদর্শনীতে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমন কৌশল কৃষকদের হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে।
কৃষক আব্দুর মালেক জানিয়েছেন, তিনি চলতি মৌসুমে তার ৩৩ শতক জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছেন। জমি পরিষ্কার করা, আগাছা দমন, সার প্রয়োগ ও সময়মতো বপন—all মিলিয়ে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়েছে। প্রতি কানি জমিতে প্রায় ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, যার মধ্যে বীজ, সার, সেচ, শ্রমিক ও পরিচর্যার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত।


তিনি বলেন, সঠিক সময়ে সার ও সেচ দিতে পারলে ফলন ভালো হয়। বিশেষ করে গাছের বৃদ্ধি পর্যায়ে পরিচর্যা ঠিকভাবে করলে দানা ভরাট হয় এবং ফলন আশানুরূপ পাওয়া যায়। যদি বাজারে দাম ভালো থাকে, তাহলে এই জমি থেকে অর্ধলক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।


বিএম-৫১৮ (হাইব্রিড) জাতের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—উচ্চ ফলনশীলতা, ভালো দানা গঠন, আবহাওয়া সহনশীলতা, শক্ত ও মজবুত গাছের গঠন। গাছের উচ্চতা ১০৫-১১৫ সেমি পর্যন্ত হয়। গাছের জীবনকাল ১৪০-১৪৫ দিন এবং সম্ভাব্য ফলন হেক্টরপ্রতি ১৩-১৪ মেট্রিক টন। উন্নত প্রযুক্তি ও মানসম্মত বীজ ব্যবহারের ফলে পাহাড়ি মাটিতেও আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাচ্ছে।


কৃষক করিম মিয়া বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি বিএম-৫১৮ জাতের ভুট্টা চাষ করে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন। এই জাতের গাছগুলো শক্ত ও মজবুত হওয়ায় ঝড়-বৃষ্টি কিংবা দমকা হাওয়াতেও সহজে হেলে পড়ে না। পাহাড়ি এলাকার অনিশ্চিত আবহাওয়ার মধ্যেও গাছ ভালোভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, যা ফলন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।


তিনি আরও বলেন, রোগবালাই তুলনামূলক কম দেখা যায়। সময়মতো সার ও পরিচর্যা করলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয় এবং মোচাগুলো দানায় পরিপূর্ণ হয়। দানাগুলো মোটা, ভরাট ও আকর্ষণীয় রঙের হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা বেশি। ফলে বিক্রির সময় ভালো দাম পাওয়া যায়, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।


উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ চাকমা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে ভুট্টা একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। মাটিরাঙ্গার মাটি ও আবহাওয়া ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী। সঠিক সময়ে বপন, সুষম সার প্রয়োগ এবং নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিএম-৫১৮ জাতের প্রদর্শনী প্লটগুলোতে কৃষকরা হাতে-কলমে আধুনিক চাষ পদ্ধতি শিখছেন।


তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে এবং কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চলেন, তাহলে আগামী মৌসুমগুলোতে মাটিরাঙ্গায় ভুট্টা উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।


মাটিরাঙ্গা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ভুট্টা আজ আর শুধু পশুখাদ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের পুষ্টিকর খাদ্য, শিল্পের মূল্যবান কাঁচামাল এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উজ্জ্বল দ্বার। পাহাড়ি অঞ্চলের ঢালু জমিতে ভুট্টা চাষের বিস্তার ঘটালে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।


তিনি আরও বলেন, দেশের প্রধান খাদ্য—ভাত এবং ধানের প্রতি নির্ভরতা বিবেচনায় রেখে ধানের জমিতে ভুট্টার আবাদকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

কুমিল্লার নঙ্গলকোটের হাসানপুর স্টেশনে সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল ও একই সময়ে গুণবতী এলাকায় মেঘনা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।   বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। লাকসাম জংশন স্টেশন মাস্টার মো. ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।   তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হাসানপুর স্টেশনের আউটারে ইঞ্জিন বিকল হয় চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের। রাত ৮টার দিকে চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস অন্য লাইন দিয়ে যাওয়ার সময় হাসানপুর ও গুণবতী রেলওয়ে স্টেশনের মাঝামাঝি স্থানে এসে লাইনচ্যুত হয়।’   তিনি আরও বলেন, ‘এতে দুটি লাইনেই বন্ধ হয়ে যায় রেল যোগাযোগ। তবে বিকল্প ইঞ্জিন আনা হচ্ছে। সেটি আসলেই আবার চালু হবে রেল যোগাযোগ।’   এদিকে নাঙ্গলকোট স্টেশন মাস্টার জামাল উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস গুণবতী স্টেশন অতিক্রম করে হাসানপুর স্টেশনের অদূরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে আপ লাইনে আটকা পড়ে।   শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের বিকল ইঞ্জিন ও মেঘনা এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারের চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন এলেই কাজ শুরু হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিদায়ের পরদিনই ডিসি সারওয়ারের কল রেকর্ড ভাইরাল, কী ছিল মাজারের টাকার হিসাবে?

টাইগার সোহেল। ছবি: সংগৃহীত

মাদকের গডফাদার ও যুবলীগ নেতা ‘টাইগার সোহেল’ গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত

সেতু থেকে ছিটকে পড়ল বাস, যাত্রীদের উদ্ধার করল কোস্ট গার্ড

সংগৃহীত ছবি
জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন, আইনজীবী শফিক নজরুল রিমান্ডে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাসের বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা ও প্রতারণার মামলায় অ্যাডভোকেট শফিক নজরুলকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত মঙ্গলবার তার চার দিনের রিমান্ড আদেশ দিয়েছে।   আদালতে শফিক নজরুলের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন। কয়েকজন আইনজীবী শফিক নজরুলকে নির্দোষ দাবি করে রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে বিচারক চার দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য দিয়েছেন।   মামলার অভিযোগে বলা হয়, শফিক নজরুল ফেইসবুকে পেইজ খুলে বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাসের বিজ্ঞাপন প্রচার করতেন। পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করতেন। খুরশীদ আলম নামে এক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা দাবি করে পরে ধাপে ধাপে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা নেন। পরে ১২ জুনের বার কাউন্সিল পরীক্ষায় সেই ব্যক্তি অকৃতকার্য হলে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।   এরপর শেরেবাংলা নগর থানায় খুরশীদ আলম মামলা করলে সোমবার শফিক নজরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।   তার রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, বার কাউন্সিল পরীক্ষা ও সরকারকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে আসামি দীর্ঘদিন ধরে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান ও অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ের ছবি ব্যবহার করে ফেইসবুকে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দেন। তাকে রিমান্ডে নিলে চক্রের অন্য সদস্য ও অর্থ লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য উদঘাটন সম্ভব হবে।   কয়েকজন আইনজীবী শফিক নজরুলকে নির্দোষ দাবি করে রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। এক আইনজীবী বলেন, “তিনি শুধু পরীক্ষার আগে সাজেশন দিয়েছেন। কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন বা প্রতারণার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।”   শুনানিতে আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামি শফিক নজরুল নিজেকে ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়’ বলে দাবি করেন।   সব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, “কোথায় কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছি প্রশ্ন বাবদ, এটা কোথাও প্রমাণ নেই। কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।   “আমি সাজেশন দিয়েছি পরীক্ষার আগে, ১০০টা প্রশ্নে ১০০টাই কমন পড়েছে। আমি একজন এক্সপার্ট। আমি কি সাজেশন দিতে পারব না? এটা মিথ্যে মামলা। আমাকে অর্থ মামলায় গ্রেপ্তার করেছে কাল (সোমবার)। তারপর বেঁধে রেখেছে। পুলিশের কি এই ক্ষমতা আছে?”

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর প্রকাশ্যে গণশুনানি, আলোচনায় তিন ইউপি

সংগৃহীত ছবি

তিস্তা নদীতে পানির চাপ বৃদ্ধি, সব গেট খুলে দিল কর্তৃপক্ষ

সংগৃহীত ছবি

পরীক্ষায় দলীয় নেতাকর্মীদের গণহারে ফেল, মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত

সংগৃহীত ছবি
ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে পিআইও বদলি, তদন্ত কমিটি গঠন

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় টিআর-কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পে ১৫ শতাংশ ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ওঠা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়কে বদলি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ প্রশাসন শাখার উপসচিব সানজিদা ইয়াছমিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।   প্রজ্ঞাপনে অভিযোগ ওঠা পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়কে আগামীকাল বুধবারের মধ্যে সংযুক্তকরণ কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ওই দিন অপরাহ্নে বর্তমান কর্মস্থল হতে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) হিসেবে গণ্য হবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে এ ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন-১) তাশনূভা নাশতারান সাক্ষরিত এক চিঠিতে অধিদপ্তরের উপপরিচালক (গবেষণা) কাজী মো. বদরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে সূত্র হিসেবে ‘ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ঘুষ চাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা, বললেন ১৫ পারসেন্ট যদি দেন, ৩৮ হাজার আসে’ শিরোনামে দৈনিক প্রথম আলোসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত ভিডিওর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিৎ সাহা পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়কে বদলি করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্তকরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনা তদন্তের জন্য আগামীকাল একজন উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা আসবেন।   এর আগে গতকাল সোমবার ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ইউপি সদস্য ও টিআর-কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের সভাপতিদের কাছে প্রকল্প পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়ের নিজ কার্যালয়ের বসে ১৫ শতাংশ ঘুষের টাকা চাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এ বিষয়ে অনলাইনসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ভিডিওসহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চিড়িয়াখানা ছেড়ে সাভারে যাচ্ছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’

ছবি: সংগৃহীত

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের বিভিন্ন স্থানে

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে এপেক্স হোল্ডিংসের ৪ কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

0 Comments