সকালে চোখ খোলার পর শরীরের প্রথম ও সবচেয়ে জরুরি চাহিদা হলো পানি। সারা রাত ঘুমের সময় শরীর খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করলেও শ্বাসপ্রশ্বাস, ঘাম, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য পদার্থ বের হওয়ার মতো প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। এর ফলে শরীর ধীরে ধীরে পানিশূন্য হয়ে পড়ে। তাই ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমের পর শরীর স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা শুষ্ক হয়ে যায়। সকালে উঠেই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে শরীরের তরলের ভারসাম্য ঠিক হয়। এতে ব্রেন ফগ কমে, ঝিমুনি কাটে এবং মনোযোগ বাড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে স্কুলে যাওয়ার আগে পানি খেলে মনোসংযোগ বাড়ার সম্ভাবনাও থাকে।
ঘুমের সময় শরীরে কোনো খাবার বা পানীয় না ঢুকলেও দেহের ভেতরের কাজ থেমে থাকে না। শ্বাস নেওয়া, রক্তসঞ্চালন, শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং বিষাক্ত পদার্থ বের করার জন্য শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যায়। তাই সকালে পানি না খেলে ক্লান্তি, মাথা ভার লাগা বা অলস ভাব দেখা দিতে পারে।
সকালে পানি খাওয়ার একাধিক উপকারিতা রয়েছে।
রাতে যে পানির ঘাটতি তৈরি হয়, তা পূরণ করে শরীরকে আবার কর্মক্ষম করে তোলে। পানি খেলে অন্ত্রে স্বাভাবিক নড়াচড়া শুরু হয়, ফলে হজম ভালো হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে।
অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী এক ঘণ্টার জন্য বিপাকীয় হার প্রায় ২৫–৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি শরীরের ভেতরে জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ সহজে বের হয়ে যায়, কিডনি ও লিভারের ওপর চাপ কমে।
সকালে পানি খেলে মন ও শরীর দুটিই সতেজ হয়।
ঝিমুনি কাটে, মাথা হালকা লাগে এবং দিনের শুরুটা অনেক বেশি সক্রিয় হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস অপ্রয়োজনীয় খিদে কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। সকালের নাশতার আগে পানি খেলে অন্ত্রের ভেতরের আস্তরণ খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়, ফলে খাবার থেকে পুষ্টিগুণ শোষণের ক্ষমতাও বাড়ে।
সকালে পানি খেলে মন ও শরীর দুটিই সতেজ হয়। ঝিমুনি কাটে, মাথা হালকা লাগে এবং দিনের শুরুটা অনেক বেশি সক্রিয় হয়। নিয়মিত এই অভ্যাস অপ্রয়োজনীয় খিদে কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। সকালের নাশতার আগে পানি খেলে অন্ত্রের ভেতরের আস্তরণ খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়, ফলে খাবার থেকে পুষ্টিগুণ শোষণের ক্ষমতাও বাড়ে।
পরিমাণের দিক থেকে ঘুম থেকে উঠে ১ থেকে ২ গ্লাস পানিই যথেষ্ট। খুব ঠাণ্ডা বা খুব গরম পানি নয়—স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা সামান্য উষ্ণ পানি শরীর সবচেয়ে সহজে গ্রহণ করতে পারে। প্রতিদিন এই ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় উপকার এনে দিতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতা মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে জেলা বিএনপি। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন জেলা বিএনপির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষারকে মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করে জেলাবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। অন্যথায় পাবনায় তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার জানান, ৯ জুলাই এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার পাবনা সদর ও চাটমোহরে রাজনৈতিক সফর করেন। বিএনপি তাদের স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু এনসিপির দুই নেতা তাদের সভা-সমাবেশে বিএনপি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের নামে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত বক্তব্য দিয়েছেন। বিএনপির পাবনা জেলা শাখা এনসিপি নেতা সারজিস আলম ও সরোয়ার তুষারের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, তাদের বক্তব্য ছিল উসকানিমূলক ও সংসদ সদস্যের সম্মানহানির অপচেষ্টা। তাদের মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। শিমুল বিশ্বাসের নামে তারা মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে পাবনার মানুষের মনে যে ক্ষত সৃষ্টি করেছেন, তার জন্য পাবনাবাসীর কাছে তাদের ক্ষমা চাইতে হবে। তা না করলে পাবনার জনগণ যেকোনো সভা-সমাবেশে সারজিস আলম ও সরোয়ার তুষারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবেন। মকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার বলেন, ‘সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জনকল্যাণমূলক কাজে পাবনার জনগণের নেতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেন না। পাবনার জনগণ তাদের আস্থা, বিশ্বাস ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে তাকে হৃদয়ে ধারণ করেছেন। শিমুল বিশ্বাসের নামে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়ে পাবনার জনমনে বিন্দুমাত্র রেখাপাত করা সম্ভব নয়।’ সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সামাদ খান, আনিসুল হক, নূর মোহাম্মদ মাসুম, শেখ তুহিন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক হিমেল রানাসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে পাবনা জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক বরকতুল্লাহ ফাহাদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে সাংগঠনিক বক্তব্য দিয়েছি। বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে আমাদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে, সেটিও আমরা জেনেছি। আজ সন্ধ্যার পর এ বিষয়ে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ গত ৯ জুলাই পাবনা সফরে এনসিপি নেতা সারজিস আলম ও সরোয়ার তুষার অভিযোগ করেছিলেন, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের ইন্ধনে জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় করা হত্যা মামলার আসামিরা গ্রেফতার হচ্ছেন না। জুলাই আন্দোলনে গুলিবর্ষণ করে দুই শিক্ষার্থীকে হত্যাকারী আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাইদ খান ওরফে সাঈদ চেয়ারম্যানসহ পাবনার আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন তিনি। ওই বক্তব্যর পর থেকেই বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতারা ক্ষুব্ধ হন। গত কয়েক দিনে জেলা ছাত্রদল, জেলা যুবদল, সেচ্ছাসবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানির শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। কোম্পানি তিনটিতে বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগকারীদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে সতর্কবার্তা জারি করেছে ডিএসই। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কোম্পানি ৩টি হলো- এটলাস বাংলাদেশ, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ এবং দেশ গার্মেন্টস। জানা গেছে, ১২ জুন এটলাস বাংলাদেশ, ১৩ জুন শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ১৪ জুন দেশ গার্মেন্টসের শেয়ার দর বৃদ্ধি নিয়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ জানতে চেয়ে ব্যাখ্যা চায় ডিএসই কর্তৃপক্ষ। ডিএসইর ব্যাখ্যার উত্তরে কোম্পানি ৩টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো রকম অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই তাদের শেয়ার দর এভাবে বাড়ছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, এটলাস বাংলাদেশের শেয়ার দর ৩০ জুন ছিল ৭০ টাকা ১০ পয়সা। আর ১২ জুলাই লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৯২ টাকা ১০ পয়সায়। অর্থাৎ ৭ কর্মদিবসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছে ২২ টাকা বা প্রায় ৩৩.৩৮ শতাংশ। এদিকে, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর ৫ জুলাই ছিল ২১ টাকা ৯০ পয়সা। আর ১৩ জুলাই লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ২৯ টাকা ২০ পয়সায়। অর্থাৎ ৬ কর্মদিবসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছে ৭ টাকা ৩০ পয়সা বা প্রায় ৩৩.৩৩ শতাংশ। অপরদিকে, দেশ গার্মেন্টসের শেয়ার দর ৮ জুলাই ছিল ১৪৭ টাকা ৬০ পয়সা। আর ১৪ জুলাই লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ১৬৯ টাকা ৩০ পয়সায়। অর্থাৎ ৪ কর্মদিবসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছে ২১ টাকা ৭০ পয়সা বা প্রায় ১৪.৭০ শতাংশ।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, পরাজিত শক্তির আস্ফালন থাকাই স্বাভাবিক। তবে তাদের এসব অপচেষ্টা জুলাইপন্থী শক্তির ঐক্যকে আরও সুসংহত করবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সমুন্নত রেখে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠাই এবি পার্টির প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরস্থ এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে উত্তরা ও রামপুরা এলাকায় জীবনপণ সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই আন্দোলনের কোথাও কোনো ঘাটতি থাকলে আমরা তা গঠনমূলকভাবে তুলে ধরব। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে হেয় করার কোনো অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। যারা আজ জুলাইকে খাটো করার চেষ্টা করছে, তাদের অতীত অবস্থান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা বরাবরই জুলাইবিরোধী শক্তির অংশ ছিল। অথচ আবরার ফাহাদ হত্যা, বিশ্বজিৎ হত্যা কিংবা ধারাবাহিক ধর্ষণের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোতে তারা কখনোই সোচ্চার ছিল না। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। তারা ভুলে গেছে, প্রায় তিন শতাধিক সংসদীয় আসন নিয়ে ক্ষমতায় থাকার পরেও জনগণের গণঅভ্যুত্থানের মুখে তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিষেধক। মঞ্জু আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কথা উঠলেই এবি পার্টির নাম স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে। এই অবস্থান কাউকে দিয়ে অর্জন করা হয়নি; অসীম ত্যাগ, সাহস ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তা অর্জিত হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এবি পার্টি নিজেদের সামর্থ্যেরও বাইরে গিয়ে কাজ করেছে। সার্বক্ষণিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল, কারফিউ ভেঙে মিছিল হয়েছে, নেতা-কর্মীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আন্দোলন সফল না হলে এবি পার্টির কার্যালয় হয়তো চিরতরে বন্ধ হয়ে যেত এবং দলের নেতৃত্বের ওপর নেমে আসত ভয়াবহ নির্যাতন। তিনি বলেন, শুরু থেকেই এবি পার্টি বিশ্বাস করেছে,জনগণই আন্দোলনের মূল শক্তি। আমরা বলেছিলাম, জনগণই রাজপথে নেমে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় আমাদের নেতা-কর্মীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শূন্য থেকে গড়ে ওঠা একটি অর্গানিক রাজনৈতিক দল হিসেবে এবি পার্টি শুরু থেকেই ঝুঁকি নিয়েই পথচলা শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অনেক দল জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে বিভক্তি ও বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছে। এবি পার্টি মধ্যপন্থার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আমরা ধর্মীয় দল নই, তবে ধর্মভিত্তিক সব দলের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। আমরা ক্ষমতাসীন দলও নই, কিন্তু রাজনৈতিক সৌজন্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক বজায় রাখি। এখন এবি পার্টির রাজনীতির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে। এ পর্যায়ে জনগণের আস্থা ও সমর্থন অর্জনের লক্ষ্যে গণভিত্তিক ও ভোটের রাজনীতির মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান বলেন, এবি পার্টির রাজনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসাইন বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের উত্থান-পতন থাকবেই। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের সময় শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা রাজপথে ছিলাম। ভবিষ্যতের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও আমরা একইভাবে প্রস্তুত থাকব। যুব পার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান করে যুব পার্টিকে শক্তিশালী করা হবে। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমিকবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন, মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সামিউল ইসলাম সবুজ, মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল, ঢাকা মহানগর উত্তর যুব পার্টির আহ্বায়ক মাহফুজার রহমান ইমতু, সদস্য সচিব ইশরাত জাহান লিজা, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সাবেরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতরা।