অন্যান্য

ওজন কমানো নিয়ে প্রচলিত তিনটি ভ্রান্ত ধারণা, যা জানা জরুরি

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২৬, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে মানুষের রোগা হওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। কাঙ্ক্ষিত শারীরিক ওজন পেতে অনেকেই কঠোর পরিশ্রমের বদলে ঝুঁকছেন দ্রুত সমাধানের দিকে। ভুল অস্ত্রোপচার, অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ সেবন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া বিভ্রান্তিকর পরামর্শের ওপর ভরসা করছেন অনেকে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহারের ঘটনাও বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে।

 

এই প্রবণতার পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, দীর্ঘ সময় ধরে ব্যায়াম ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে অনীহা। দ্বিতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল ও অতিরঞ্জিত তথ্য। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকান স্থূলতা বিশেষজ্ঞ ডা. স্পেন্সার নাদোলস্কি সম্প্রতি একটি ভিডিওতে ওজন কমানো নিয়ে প্রচলিত তিনটি ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে কথা বলেছেন।

ওজন কমানোর লক্ষ্যে যারা অবিচল, তাদের জন্য এসব বাস্তব তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি। যদিও সত্য অনেক সময় মেনে নেওয়া কঠিন, তবে এগুলো বুঝতে পারলে স্বাস্থ্যকর ও টেকসই উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

 

শারীরিক ওজনের ভুল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

ডা. নাদোলস্কির মতে, অনেক মানুষই শারীরিক ওজনের ভুল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। শরীরের গঠন, পেশির পরিমাণ, শক্তি কিংবা সামগ্রিক সুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে শুধুমাত্র একটি সংখ্যার পেছনে ছুটে বেড়ান তারা।

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য কোনো স্কেলের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়।’ একজন মানুষ প্রতিদিন কেমন অনুভব করছেন, তার শক্তি, কর্মক্ষমতা ও ল্যাব রিপোর্ট—এসবই প্রকৃত স্বাস্থ্যের সূচক। তাই শারীরিক ওজনের লক্ষ্যমাত্রা এমন হওয়া উচিত, যা শরীরের ক্ষতি না করে দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা যায়।

 

মেদ কমানোর কোনো জাদুকরী খাবার নেই

‘এই পানীয় খেলেই চর্বি গলে যাবে’ কিংবা ‘চর্বি গলানো সালাদ’—এ ধরনের শিরোনামে ভাইরাল ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিত্যসঙ্গী। তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ব্যায়াম ও সঠিক জীবনযাপন ছাড়া দ্রুত ওজন কমিয়ে দেওয়ার মতো কোনো জাদুকরী খাবার বা পানীয় নেই।

ডা. নাদোলস্কির ভাষায়, ‘একমাত্র কার্যকর খাদ্য হলো সেটিই, যেটা দিয়ে আপনি দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারেন।’ আদর্শ ডায়েট এমন হওয়া প্রয়োজন, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয়, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়। যে খাদ্য নিয়মিত ক্ষুধা, দুর্বলতা ও অতিরিক্ত খিদে তৈরি করে, তা কখনোই স্বাস্থ্যকর ও টেকসই ওজন কমাতে সাহায্য করে না।

তিনি সতর্ক করেন, কঠোর ডায়েটের মাধ্যমে একবার ওজন কমিয়ে আবার পুরোনো অভ্যাসে ফিরে গেলে আগের চেয়েও দ্রুত ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

সাহায্য চাওয়া মানেই দুর্বলতা নয়

অনেকের জন্য ওজন কমানো সত্যিই কঠিন। কারো ক্ষেত্রে ওষুধ বা এমনকি অস্ত্রোপচারও প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে ডা. নাদোলস্কি বলেন, ‘GLP-1 ওষুধ নেওয়া কোনো প্রতারণা নয়, আর অস্ত্রোপচার করানো দুর্বলতার লক্ষণ নয়।’

তার মতে, সাহায্য চাওয়া মানে এই নয় যে কেউ যথেষ্ট চেষ্টা করেনি। বরং অনেক সময় শরীরের কিছুটা সহায়তা দরকার হয়। এই ধরনের চিকিৎসা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, খাবারের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি কমায় এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও দেখে নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ সেবন বা মাত্রা বাড়ানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিটি চিকিৎসারই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান ছাড়া এমন পথে হাঁটা একেবারেই অনুচিত।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
আ.লীগের সিগারেট কোম্পানি পরিচালনার অভিযোগ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে : রাশেদ খাঁন

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটনের মালিকানাধীন সিগারেট উৎপাদন কোম্পানির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। আর নাম পাল্টে নেপথ্যে থেকে সেই কোম্পানি পরিচালনা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।   মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি করেন রাশেদ খাঁন।   তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটনের মালিকানাধীন সিগারেট উৎপাদন কোম্পানি তারা ইন্টারন্যাশনাল টোব্যাকোর নাম বদলে জেনুইন লিফ টোব্যাকো লিমিটেড রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগের এই সিগারেট কোম্পানি নেপথ্যে থেকে পরিচালনা করছে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।’   রাশেদ খাঁন আরও বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তদন্ত করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী ঘনিষ্ঠ এ কে এম জিয়া উদ্দিন প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে এমডি বনে যান। পরবর্তীতে এই ব্যক্তি চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের পাদ পান। তিনি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর শরণাপন্ন হন। নিশ্চয়ই তুষার ভূঁইয়া ও প্রাডো গাড়ি কাণ্ডের কথা কেউ ভুলে যান নি! অর্থাৎ, আওয়ামী সুবিধাভোগীদের শেল্টার দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া কি তাহলে এনসিপির নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি?’ তিনি প্রশ্ন করে এরপর বলেন, ‘কেনো কুষ্টিয়ার ঘটনায় এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী চুপ, এখন বুঝতেছেন?’   প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আওয়ামী প্রতিষ্ঠান শেল্টার দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কুষ্টিয়ার এনসিপির নেতারাও আর দায় নিতে রাজি হয়নি। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারাও বিষয়টি জানার পর চুপ হয়ে যায়! এখন দেখা যাক এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না? নাকি এই সিগারেট কোম্পানি থেকে উপার্জিত অর্থের ভাগ নাহিদ ইসলাম পর্যন্তও যায় বলে এই ঘটনায় চুপ থাকবে এনসিপি?’

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৬, ২০২৬

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন কণা-পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন

মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালি উন্মোচনে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন মার্কিন-জার্মান তিন বিজ্ঞানী

বাঁ থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সারজিস আলম, ডা. মাহমুদা মিতু। ছবি: সংগৃহীত

নতুন দায়িত্ব পেলেন আসিফ, সারজিস ও মিতু

ছবি: সংগৃহীত
চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস বন্ধের দাবিতে ঢাকায় জামায়াতের বিক্ষোভ সোমবার

চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে এবং জড়িতদের আটকের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর।   সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে বাংলামোটর মোড় থেকে ঢাকা মহানগরী উত্তরের হাতিরঝিল অঞ্চলের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।   কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।   আয়োজকদের ভাষ্য, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আটকের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।   রোববার রাতে এক তথ্য বিবরণীতে কর্মসূচির বিষয়টি জানান ঢাকা মহানগরী উত্তরের জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো. আতাউর রহমান সরকার।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পাটওয়ারীর ওপর হামলা নিয়ে ফেসবুকে যা বললেন হাসনাত-সারজিস

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় জামায়াতের দুই মেয়র প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দিলেন আমির

সংগৃহীত ছবি

হাসানুল হক ইনুর সাজা বাড়াতে চলতি সপ্তাহে আপিলের সিদ্ধান্ত

প্রতীকী ছবি
দ্বিতীয় বিয়ের আগে অনলাইনেই যাচাই করা যাবে আগের বিয়ের তথ্য

তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে ঠেকাতে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অনলাইনে সংরক্ষিত তথ্য পর্যায়ক্রমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এতে বিয়ের আগে একজনের আগের বৈবাহিক তথ্য অনলাইনে যাচাই করা সম্ভব হবে।   শনিবার রাজধানীর নিকেতনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের (কাজী) জন্য আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান  আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।   ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অনলাইন নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও সফটওয়্যার ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।   আইনমন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব নিকাহ রেজিস্ট্রারকে ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।   তিনি জানান, অনলাইনে বিয়ে ও তালাকের তথ্য সংরক্ষিত থাকলে কেউ আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে অন্যত্র বিয়ে করতে চাইলে তা যাচাই করা সম্ভব হবে। এর ফলে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রতিরোধেও সহায়তা মিলবে।   আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় বিবাহসংক্রান্ত তথ্য পর্যায়ক্রমে এনআইডি, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এতে একজন ব্যক্তির বিয়ে, তালাক ও পরিচয়সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য একই ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হবে।   তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর স্ত্রী বা সন্তানদের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি উঠলেও নিবন্ধিত তথ্য দেখে বৈবাহিক সম্পর্কের সত্যতা যাচাই করা যাবে। এতে উত্তরাধিকার বা বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে বিরোধ থেকে মামলা-মোকদ্দমার প্রবণতা কমতে পারে এবং রাষ্ট্রের ওপর চাপও কমবে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

নারী এমপিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা মামুনুলের

সংগৃহীত ছবি

উপদেষ্টা জীবনের স্মৃতিচারণে আসিফ নজরুলের আবেগঘন স্ট্যাটাস

হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদের উৎস নিয়ে জবাব চাইলেন হাসনাত

0 Comments