জাতীয়

শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা ছাড়া শিক্ষা টিকবে না — বাউবি উপাচার্য

Admin অক্টোবর ০৫, ২০২৫

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপাচার্য ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, “শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে কোনো শিক্ষা কার্যক্রম সফল হতে পারে না। বই, পাঠ, ক্লাস— সব কিছুই অর্থহীন হয়ে যায় যদি ছাত্রদের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়ে।”

তিনি বলেন, “বর্তমানে শিক্ষার্থীরা যে পরিমাণ চাপ, অনিশ্চয়তা ও প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তাতে তাদের মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ। শিক্ষা শুধু পাঠ্যসূচিতে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানবিকতা, সহানুভূতি এবং মানসিক ভারসাম্য গঠনের প্রক্রিয়া।”

‘শিক্ষার্থীর সুখ-দুঃখ না বুঝলে শিক্ষক পূর্ণ হতে পারেন না’

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ঢাকা পোস্টকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে উপাচার্য বলেন, “একজন শিক্ষক শুধু পাঠদানকারী নন, তিনি একজন পরামর্শদাতা, অভিভাবকও। শিক্ষার্থীর মনোজগত বুঝতে পারলে তবেই প্রকৃত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব। কিন্তু আমাদের অনেক শিক্ষক এই দিকটিকে অবহেলা করেন, কারণ প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এ বিষয়ে তেমন সচেতনতা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকের মানসিক প্রশিক্ষণ থাকা জরুরি। ক্লাসে যদি শিক্ষার্থীর মনোযোগ না থাকে, তার কারণ হতে পারে পারিবারিক সমস্যা, দারিদ্র্য বা মানসিক অবসাদ। শিক্ষক যদি এ বিষয়গুলো বুঝতে না পারেন, তাহলে তার পাঠদানের কার্যকারিতা হারিয়ে যায়।”

‘শিক্ষা শুধু পরীক্ষা নয়, এটি জীবন গঠনের পথ’

অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের শিক্ষা এখন পরীক্ষাভিত্তিক হয়ে পড়েছে। পাস-ফেল আর গ্রেডের ভেতরে আমরা মানুষ গড়ার বিষয়টি হারিয়ে ফেলেছি। একটি ভালো ফলাফলের চেয়ে একজন মানসিকভাবে দৃঢ়, আত্মবিশ্বাসী, সৎ মানুষ তৈরি করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

তার মতে, “শিক্ষার্থীরা আজ হতাশায় ভুগছে, আত্মহত্যার ঘটনাও বাড়ছে। এটি কেবল পারিবারিক সমস্যা নয়, এটি শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা। আমাদের পাঠ্যক্রমে মানসিক স্বাস্থ্য, সহনশীলতা ও ইতিবাচক চিন্তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।”

‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাউন্সেলিং সেল থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত’

উপাচার্য বলেন, “বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর থাকেন, যারা শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তা দেন। কিন্তু আমাদের দেশে এমন উদ্যোগ খুবই সীমিত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটি সক্রিয় ‘কাউন্সেলিং সেল’ থাকা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা বিনা দ্বিধায় তাদের সমস্যার কথা বলতে পারেন।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব না দিলে, যত বড় অবকাঠামোই গড়া হোক না কেন, শিক্ষা তার লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে না। শিক্ষার্থীর হাসিমুখই হচ্ছে শিক্ষার সাফল্যের সূচক।”

‘মানুষ গড়ার শিক্ষা ফিরিয়ে আনতে হবে’

নিজের শিক্ষকজীবনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “আমি দেখেছি, যেসব শিক্ষক ছাত্রদের মনের কথা শুনেছেন, তারাই বেশি প্রভাব ফেলতে পেরেছেন। আজও আমি তাদের কথা স্মরণ করি। শিক্ষা মানে শুধু তথ্য দেওয়া নয়— এটি চরিত্র, সহমর্মিতা ও জীবনের দর্শন শেখানো।”

উপাচার্য বলেন, “যে জাতি মানসিকভাবে অসুস্থ, সে কখনও অগ্রসর হতে পারে না। তাই আজকের প্রজন্মকে মানসিকভাবে শক্তিশালী, সহনশীল এবং ইতিবাচক চিন্তাধারায় গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা হবে মানবিকতার আলোয় আলোকিত, প্রতিযোগিতার অন্ধ গহ্বরে নয়।”

‘শিক্ষা বাঁচাতে হলে মনোবল বাঁচাতে হবে’

শেষে তিনি বলেন, “শিক্ষা শুধু মস্তিষ্কের নয়, এটি হৃদয়েরও বিষয়। আমরা যদি শিক্ষার্থীদের হৃদয়ের যত্ন না নিই, তাহলে শিক্ষার কাঠামো যত শক্তই হোক, ভিত দুর্বল থেকে যাবে। তাই আমি বলব— শিক্ষার্থী বাঁচলে শিক্ষা বাঁচবে, শিক্ষা বাঁচলে সমাজ বাঁচবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
সংসদে স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদলীয় উপনেতার

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের বক্তব্যের ক্রম এবং সময় নির্ধারণকে কেন্দ্র করে স্পিকার ও বিরোধীদলীয় উপনেতার মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। পূর্বনির্ধারিত নামের তালিকায় আকস্মিক পরিবর্তনের অভিযোগ এনে স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলের উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ আবু তাহের। একপর্যায়ে তিনি ক্ষোভে বক্তব্য বর্জন করারও ঘোষণা দেন।   অন্যদিকে, সংসদীয় রীতিনীতি ও উভয় পক্ষের চিফ হুইপদের বিশেষ অধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট করে স্পিকার পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং ছোটোখাটো কার্যপ্রণালীগত বিতর্ক এড়িয়ে দেশের চলমান ব্যাংকিং খাতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ মূল আলোচনায় নিবিড় মনোযোগ দেওয়ার জন্য সংসদকে তাগিদ দেন।   মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ৬৮ বিধিতে আলোচনার সময় স্পিকার ও বিরোধীদলীয় উপনেতার মধ্যে এমন পাল্টাপাল্টি আলোচনা হয়। এ সময় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।   সংসদে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সরকারি দলের আসন থেকে জানানো হয়, অর্থমন্ত্রী এখন বলবেন না, অর্থমন্ত্রী বলবেন সবার শেষে। হি ইজ দ্য লাস্ট বক্তা, উনি পুরো বিষয়টি সাম আপ (উপসংহার) করবেন। এরপর স্পিকার পরবর্তী বক্তা হিসেবে বিরোধী দলের উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নাম ঘোষণা করেন এবং তার জন্য সাত মিনিট সময় নির্ধারণ করে দেন।   অসুস্থতার কারণে স্পিকার তাকে বসে বলার অনুমতি দিলে বিরোধী দলের উপনেতা মাইক পেয়ে নিজের তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। মাননীয় স্পিকার, আপনি তো এই সংসদের জন্য একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি। কিন্তু আনফরচুনেটলি (দুর্ভাগ্যবশত) একটু আগে যে সিচুয়েশনটা ক্রিয়েট (পরিস্থিতি তৈরি) হয়েছে, সেটা খুবই আনফরচুনেট। কারণ স্পিকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়ার পরে, সিট থেকে দাঁড়িয়ে আবার নতুন করে ডিজাইন ও পরিবর্তন করা অসম্ভব একটা বিষয়। এর প্রতিবাদে আমি আজকে কোনো বক্তব্য রাখব না, ধন্যবাদ।   বিরোধী দলের উপনেতার এমন বক্তব্যের পর স্পিকার সংসদীয় রীতিনীতি ব্যাখ্যা করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। স্পিকার বলেন, মাননীয় বিরোধী দলের উপনেতা, বক্তব্য রাখা বা না রাখার ইচ্ছা-অনিচ্ছা সেটা আপনার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু সাধারণত প্র্যাকটিস (রেওয়াজ) হলো, যদি সরকারি দলের নেতারা বক্তব্য দেন, সেখানে চিফ হুইপ নাম উপরে-নিচে করতে পারেন কিছু। আবার বিরোধী দলের তরফ থেকেও যখন কথাবার্তা বলবেন, বিরোধী দলের চিফ হুইপও বক্তাকে উপরে-নিচে দিতে পারেন। এখন আপনি যদি না বলেন, মাননীয় বিরোধী দলের নেতা, আপনি কি উনার পরিবর্তে অন্য কাউকে দিতে বলবেন? আপনাদের ৩০ মিনিট সময় আছে, আপনারা বক্তব্য রাখতে পারবেন। মাইক দেন, বিরোধী দলের উপনেতাকে মাইক দেন।   এরপর পুনরায় মাইক পেয়ে বিরোধী দলের উপনেতা স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তিনি স্পিকারের উদ্দেশ্যে বলেন, এই চেয়ারটা মাননীয় স্পিকারের। আসলে এখানে আমাদের যে সিরিয়ালটা দেওয়া হয়েছে এবং আপনি যেটা করেছেন, এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি কিন্তু আপনার। বাকিরা বলতে পারে, আপত্তি করতে পারে। এখানে যদি কোনো কিছুই ঘোষণা না হতো এবং এরপরে আপনি আমাকে সময় দিতেন বা এরপরে মাননীয় নেতাকে সময় দিতেন, তাতে কোনো আপত্তি ছিল না। কারণ আমাদের দিক থেকে তিনজন বক্তব্য রাখার পরে, আপনি সরকারের পক্ষ থেকে একজনকেও বক্তব্য দিতে দেবেন না, এটা তো ঠিক না। তারা বক্তব্য দিলে আমরা তাদের মাইন্ড (মনোভাব) বুঝতে পারতাম, তারা কী করতে চাচ্ছে। যেহেতু একটা আনপ্লিজেন্ট এনভায়রনমেন্ট (অপ্রীতিকর পরিবেশ) এখানে তৈরি হয়েছে এবং সেটা আপনি অ্যালাউ (অনুমতি) করেছেন; আপনি এটা অ্যালাউ করে আপনার নিরপেক্ষতা হারিয়েছেন।   বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় বিরোধী দলের উপনেতা ভারতের পার্লামেন্টের একটি উদাহরণ টেনে স্পিকারের ভূমিকা ও স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি আপনাকে ভারতের পার্লামেন্টের একটি আলোচনার উদাহরণ দিতে চাই। পার্লামেন্টে ঢোকার সময়ে স্পিকারও ছিলেন, তারপর সেখানে কংগ্রেসের যিনি প্রধান তিনি ছিলেন এবং বর্তমান প্রাইম মিনিস্টার (প্রধানমন্ত্রী) যিনি, তিনিও ছিলেন। তো প্রাইম মিনিস্টার যখন এসেছেন, তখন স্পিকার তাকে একটু অধিকতর সম্মান দেখিয়ে ট্রিটমেন্ট (আচরণ) দিয়েছেন এবং তার প্রতিবাদে সেখানে রাহুল গান্ধী দাঁড়িয়ে স্পিকারের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছিলেন; স্পিকার সেটাকে পরে এন্ডোর্স (স্বীকার) করেছেন। এটা হচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড অব পার্লামেন্ট অ্যান্ড রোল অব স্পিকার (সংসদের মানদণ্ড ও স্পিকারের ভূমিকা)। কিন্তু আজকে সেটার ব্যত্যয় ঘটে গেছে। এটা আপনাকে ব্যাখ্যা করতে হবে যে, একজনের নাম ঘোষণার পরে উনি সেটাকে চেঞ্জ (পরিবর্তন) করে আবার অপজিশনের (বিরোধী দলের) একজন বক্তাকে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন, এটার কারণটা কী, এটা আমরা একটু জানতে চাই।   বিরোধী দলের উপনেতার এই গুরুতর অভিযোগের জবাবে স্পিকার অত্যন্ত ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন এবং সংসদীয় বিধি মনে করিয়ে দেন। স্পিকার বলেন, মাননীয় বিরোধী দলের উপনেতা, সংসদের বক্তাদের ক্রম নির্ধারণ করে স্পিকার, স্পিকারের সেই অথরিটি (কর্তৃত্ব) আছে। তারপরও এখানে তেমন কোনো খারাপ পরিবেশ তো আমি দেখতে পাচ্ছি না। আমি তো উভয় দলের মধ্যে সহযোগিতার পরিবেশ এখনো দেখতে পাচ্ছি। তারা তাদের আধা ঘণ্টা সময়ের মধ্যে টাইমটা নির্ধারণ করেছে। সংসদের গুরুত্বপূর্ণ দুজন ব্যক্তি হলেন সংসদ নেতা এবং বিরোধী দলের নেতা; তাদের যে সিরিয়াল, এটা ব্রেক (ভঙ্গ) করা হয় না। তার মধ্যে যদি আপনি মনে করেন যে উপনেতাকে একটু সুযোগ দেওয়া হয় নাই বা কিছু, সেটা আপনি ভাবতে পারেন, কিন্তু এটাতে সিরিয়ালে কোনো ব্যত্যয় ঘটানো হয়নি। দ্বিতীয়ত, ভারতের যে উদাহরণ আপনি দিলেন, সংসদ নেতার অনেক প্রিভিলেজ (বিশেষাধিকার) থাকে। সুতরাং প্রাইম মিনিস্টারকে যদি একটু টাইম বেশি দিয়ে থাকেন স্পিকার, তিনি সংসদ নেতাকে দিয়েছেন, প্রাইম মিনিস্টারকে দেন নাই, সংসদ নেতা হিসেবে দিয়েছেন। সুতরাং কিছু এমন হতেই পারে।   স্পিকার আরও যোগ করে বলেন, যাই হোক, এটা অত্যন্ত তুচ্ছ বিষয়। আপনারা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। এখানে আমার মনে হয়, আমার ব্যক্তিগত মত, এই ছোটোখাটো বিষয় উপেক্ষা করে মূল বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে এটার ওপরেই যদি আপনারা মনোযোগ অধিকতর নিবদ্ধ করেন, তবে জাতি উপকৃত হবে। ধন্যবাদ, প্লিজ গো অ্যাহেড (শুরু করুন)।   স্পিকারের এই আন্তরিক অনুরোধ ও ব্যাখ্যার পর বিরোধী দলের উপনেতা পুনরায় কথা বলতে রাজি হন, তবে তার মানসিক অবস্থা পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “জি মাননীয় স্পিকার, আপনি যেহেতু পরে আবার অনুরোধ করেছেন, আমি আপনার অনুরোধ রক্ষা করব। তবে আলোচনা করার যে মুড (মানসিকতা) আমার ছিল, ফ্রাঙ্কলি স্পিকিং (সত্যি বলতে), আই লস্ট ইট (আমি তা হারিয়েছি)।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয়

ছবি: সংগৃহীত

সাভারে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার দুই পুলিশ সদস্য

ছবি: সংগৃহীত

ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশের নতুন উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস সম্পর্ক জোরদারে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব

বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেলের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।   বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা খাতে সহযোগিতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক সম্পদ, তৈরি পোশাক শিল্প এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায়।   নেদারল্যান্ডসের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে খাদ্য সংরক্ষণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মূল্য সংযোজন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব তুলে ধরে তারা।   বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে অগ্রগতি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করা হয়। এছাড়া ক্রীড়া অঙ্গনে নারীদের সাফল্য, বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে মেয়েদের অংশগ্রহণকেও ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হয়।   জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নদী ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নেদারল্যান্ডসের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে দেশটি।   মাহদী আমিন বৈঠকে দেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, ই-কমার্স এবং উদ্ভাবনী শিল্প খাতের উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কেও অবহিত করেন।   বৈঠকের শেষে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান বিনিময় বাড়ানো এবং যৌথ ব্যবসায়িক উদ্যোগ সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আক্তারুজ্জামান জুন ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম চূড়ান্তে জুরিবোর্ডের সভা

ছবি: সংগৃহীত

২ দিনেও সন্ধান মেলেনি স্বপনের, ছেলের লাশ ফেরতের আকুতি বাবার

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক বিতর্কে সংসদ সরগরম, তদন্ত ও সংস্কারের আশ্বাস

ছবি: সংগৃহীত
২,২৬৬ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ২ হাজার ২৬৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ২ হাজার ২২৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৩৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা।   মঙ্গলবার (০৯ জুন) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন প্রকল্প ৩টি ও সংশোধিত প্রকল্প ৩টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প ২টি । সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন’ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশের ৩৩টি জেলায় সার্কিট হাউস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিফট সংযোজন’ প্রকল্প। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট সম্প্রসারণ প্রকল্প-২’। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকা সিএমএইচে ক্যানসার সেন্টার নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’ এবং দেশের ৬৫৩টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন প্রকল্পের সংশোধিত সংস্করণ, পাশাপাশি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়া, সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রীর মাধ্যমে ইতিমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত আরও ৬টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। এর মধ্যে ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন উন্নয়ন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসন, ডাকসেবা সম্প্রসারণ, ঢাকা সেনানিবাসে এমইএস ট্রেনিং সেলের অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিশুবিবাহ প্রতিরোধ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায় এবং খুলনায় পাইকগাছা কৃষি কলেজ স্থাপন প্রকল্প রয়েছে। একনেক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের ১২ তম এবং বর্তমান সরকারের চতুর্থ একনেক সভায় মোট ১২টি প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। তবে সভায় যাচাইবাছাই শেষে ৮টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় উপস্থাপিত ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘সমন্বিত উপজেলা ভূমি কমপ্লেক্স নির্মাণ’ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক দুটি প্রকল্প নীতিগত অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হলেও বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে সংশোধন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া, অনুমোদন না পাওয়া বাকি দুটির মধ্যে একটি বহুল আলোচিত চীনা ইকোনমিক জোন প্রকল্প অন্যটি খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক (তৃতীয় সংশোধন) প্রকল্পটি। একনেকের আলোচ্যসূচিতে থাকা খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক (তৃতীয় সংশোধন) প্রকল্পটি অনুমোদন পায়নি। বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবে বিরক্তি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। যে কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন না দিয়ে একনেক সভা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সভায় প্রকল্পটির বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্বের কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একনেক সভায় প্রকল্পের খরচ কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এলজিইডি-পিডাব্লিউডিসহ সব বিভাগের রেট সিডিউল এক না হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করে দ্রুত সময়ে রেট সিডিউল একীভূত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া সড়কের পাশে যেন ইউক্লিপটাস-ইপিলি-ইপিল গাছ না লাগানো হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, বহুল আলোচিত চীনা ইকোনমিক জোন প্রকল্পটি সভার আলোচ্যসূচিতে থাকলেও সময় স্বল্পতার কারণে আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আগামী একনেক সভায় প্রকল্পটি উত্থাপন করা হতে পারে এবং তখন অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হাইকোর্ট স্থগিত করল সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত রায়

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই-জুন নয়, জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছরের প্রস্তাব জামায়াতের

ছবি: সংগৃহীত

লাম্পি রোগে গরুর মৃত্যু বাড়ছে, অদক্ষ পশু চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় ক্ষতিগ্রস্ত গাইবান্ধার খামারিরা

0 Comments