জাতীয়

শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা ছাড়া শিক্ষা টিকবে না — বাউবি উপাচার্য

Admin অক্টোবর ০৫, ২০২৫ 0

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপাচার্য ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, “শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে কোনো শিক্ষা কার্যক্রম সফল হতে পারে না। বই, পাঠ, ক্লাস— সব কিছুই অর্থহীন হয়ে যায় যদি ছাত্রদের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়ে।”

তিনি বলেন, “বর্তমানে শিক্ষার্থীরা যে পরিমাণ চাপ, অনিশ্চয়তা ও প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তাতে তাদের মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ। শিক্ষা শুধু পাঠ্যসূচিতে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানবিকতা, সহানুভূতি এবং মানসিক ভারসাম্য গঠনের প্রক্রিয়া।”

‘শিক্ষার্থীর সুখ-দুঃখ না বুঝলে শিক্ষক পূর্ণ হতে পারেন না’

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ঢাকা পোস্টকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে উপাচার্য বলেন, “একজন শিক্ষক শুধু পাঠদানকারী নন, তিনি একজন পরামর্শদাতা, অভিভাবকও। শিক্ষার্থীর মনোজগত বুঝতে পারলে তবেই প্রকৃত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব। কিন্তু আমাদের অনেক শিক্ষক এই দিকটিকে অবহেলা করেন, কারণ প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এ বিষয়ে তেমন সচেতনতা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকের মানসিক প্রশিক্ষণ থাকা জরুরি। ক্লাসে যদি শিক্ষার্থীর মনোযোগ না থাকে, তার কারণ হতে পারে পারিবারিক সমস্যা, দারিদ্র্য বা মানসিক অবসাদ। শিক্ষক যদি এ বিষয়গুলো বুঝতে না পারেন, তাহলে তার পাঠদানের কার্যকারিতা হারিয়ে যায়।”

‘শিক্ষা শুধু পরীক্ষা নয়, এটি জীবন গঠনের পথ’

অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের শিক্ষা এখন পরীক্ষাভিত্তিক হয়ে পড়েছে। পাস-ফেল আর গ্রেডের ভেতরে আমরা মানুষ গড়ার বিষয়টি হারিয়ে ফেলেছি। একটি ভালো ফলাফলের চেয়ে একজন মানসিকভাবে দৃঢ়, আত্মবিশ্বাসী, সৎ মানুষ তৈরি করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

তার মতে, “শিক্ষার্থীরা আজ হতাশায় ভুগছে, আত্মহত্যার ঘটনাও বাড়ছে। এটি কেবল পারিবারিক সমস্যা নয়, এটি শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা। আমাদের পাঠ্যক্রমে মানসিক স্বাস্থ্য, সহনশীলতা ও ইতিবাচক চিন্তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।”

‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাউন্সেলিং সেল থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত’

উপাচার্য বলেন, “বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর থাকেন, যারা শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তা দেন। কিন্তু আমাদের দেশে এমন উদ্যোগ খুবই সীমিত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটি সক্রিয় ‘কাউন্সেলিং সেল’ থাকা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা বিনা দ্বিধায় তাদের সমস্যার কথা বলতে পারেন।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব না দিলে, যত বড় অবকাঠামোই গড়া হোক না কেন, শিক্ষা তার লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে না। শিক্ষার্থীর হাসিমুখই হচ্ছে শিক্ষার সাফল্যের সূচক।”

‘মানুষ গড়ার শিক্ষা ফিরিয়ে আনতে হবে’

নিজের শিক্ষকজীবনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “আমি দেখেছি, যেসব শিক্ষক ছাত্রদের মনের কথা শুনেছেন, তারাই বেশি প্রভাব ফেলতে পেরেছেন। আজও আমি তাদের কথা স্মরণ করি। শিক্ষা মানে শুধু তথ্য দেওয়া নয়— এটি চরিত্র, সহমর্মিতা ও জীবনের দর্শন শেখানো।”

উপাচার্য বলেন, “যে জাতি মানসিকভাবে অসুস্থ, সে কখনও অগ্রসর হতে পারে না। তাই আজকের প্রজন্মকে মানসিকভাবে শক্তিশালী, সহনশীল এবং ইতিবাচক চিন্তাধারায় গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা হবে মানবিকতার আলোয় আলোকিত, প্রতিযোগিতার অন্ধ গহ্বরে নয়।”

‘শিক্ষা বাঁচাতে হলে মনোবল বাঁচাতে হবে’

শেষে তিনি বলেন, “শিক্ষা শুধু মস্তিষ্কের নয়, এটি হৃদয়েরও বিষয়। আমরা যদি শিক্ষার্থীদের হৃদয়ের যত্ন না নিই, তাহলে শিক্ষার কাঠামো যত শক্তই হোক, ভিত দুর্বল থেকে যাবে। তাই আমি বলব— শিক্ষার্থী বাঁচলে শিক্ষা বাঁচবে, শিক্ষা বাঁচলে সমাজ বাঁচবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এক অবিসংবাদিত নেতা : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এখন জনতার অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁর মানবিক মূল্যবোধ ও দৃঢ়তা দিয়ে তিনি এই স্থান অর্জন করেছেন। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তারিক চয়ন সম্পাদিত ২০১৩ সালে লেখা ১৯টি প্রবন্ধের সংকলন ‘অবিসংবাদিত তারেক রহমান’ বইয়ের পাঠ উন্মোচন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অবিসংবাদিত শব্দটি কোনো চিরকালীন শব্দ নয়; এটি কর্মের মাধ্যমে অর্জন করতে হয় এবং রক্ষা করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় তা প্রমাণ করেছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার হিসেবে তিনি পারিবারিক পর্যায় থেকেই এই মানবিক গুণাবলী ও মূল্যবোধ অর্জন করেছেন।’ জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, একজন রক্ত-মাংসের মানুষের পক্ষে এত চড়াই-উতরাই ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে টিকে থাকা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত দৃঢ়তা ও মানবিক গুণাবলীর কারণেই সম্ভব হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, তারেক রহমান তাঁর সেই মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে জনআস্থা বজায় রাখবেন।  অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. ইউসুফ হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং বইটির সম্পাদক তারিক চয়ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য, ‘অবিসংবাদিত তারেক রহমান’ শীর্ষক এই সংকলনটিতে দেশের ১৯ জন গুণী শিক্ষক, লেখক, চিন্তক, রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধার লেখা স্থান পেয়েছে। বইটিতে প্রধানমন্ত্রীর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, তাঁর দর্শন, আদর্শ, স্বপ্ন ও রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অনন্যা প্রকাশনী থেকে বইটি প্রকাশ করেন মনিরুল হক।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব হিসেবে সারওয়ার আলমের নিয়োগ

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ-সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্পর্ক জোরদারে ধর্মমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি : সংগৃহীত

এ বছর বইমেলায় থাকবে ৫ শত ৪৯টি স্টল

ছবি : সংগৃহীত
ঘোড়াঘাটের সুরা মসজিদটির উপযুক্ত সংস্কার প্রয়োজন : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

পৌরাণিক কাহিনী আর নানা জনশ্রুতি নিয়ে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার ঐতিহাসিক নিদর্শন সুরা মসজিদ। তবে দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় এই মসজিদটির দ্রুত ও উপযুক্ত সংস্কার প্রয়োজন।  মন্ত্রী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ও মুসল্লিরা মনে করেন, প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর ঐতিহাসিক এই মসজিদটির দ্রুত ও উপযুক্ত সংস্কার প্রয়োজন। তারা মসজিদটির সংস্কারের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।  মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এমপি নির্বাচন পূর্ববর্তী প্রচারণার সময় এই মসজিদটি পরিদর্শন করেন। সেসময় তিনি এই মসজিদের অবকাঠামো উন্নয়নসহ ঐতিহাসিক নিদর্শনটি মনোরম পরিবেশ আকারে সংস্কার করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।  ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, সরকারের কাছে আমাদের আবেদন এই ঐতিহাসিক মসজিদটির মূল অবকাঠামো ঠিক রেখে যুগ উপযোগী সংস্কার করা হোক। এতে ঐতিহাসিক নিদর্শনটি রক্ষা পাবে। মসজিদ সংরক্ষণের জন্য মসজিদ এলাকায় একটি বাউন্ডারি ওয়াল ও বড় গেট করে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও পবিত্র রমজান মাসে এই মসজিদের মুসল্লিদের জন্য ইফতার ও তারাবির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।  ৫০০ বছরের প্রাচীন স্থাপত্যের সাক্ষী এই সুরা মসজিদ। দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে ঘোড়াঘাট-হিলি স্থলবন্দরে পাকা রাস্তার পাশে চোরগাছা মৌজায় অবস্থিত। দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদের নির্মাণ কারুকার্য এক নজর দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন ছুটি আসেন পর্যটকরা। সুরা মসজিদের নির্মাণ নিয়ে বহু জনশ্রুতি প্রচলিত আছে। অনেকেই এই মসজিদকে সৌর মসজিদ বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। আবার কেউ বলে সূর মসজিদ। আবার অনেকের কাছে সম্রাট শাহ সুজা মসজিদ নামেও পরিচিত। স্থানীয়দের মতে ‘সূর’ শব্দের অর্থ ‘অপদেবতা’ বা ‘জিন’। জনশ্রুতি রয়েছে, শত শত বছর আগে জিনেরা এক রাতে মসজিদটি নির্মাণ করেন। আজও অনেকেই এই জনশ্রুতিতে বিশ্বাস করেন। মসজিদটির কারুকার্য ও নির্মাণশৈলী দেখে কেউ কেউ ধারণা করেন ১৬ শতকের সুলতানি আমলে হোসেন শাহীর শাসন আমলে এটি নির্মাণ করা হয়। এই মসজিদকে আসমানি বা গায়েবি অর্থাৎ লোক চক্ষুর আড়ালে তৈরি হওয়া মসজিদ বলেও দাবি করা হয়।  স্থানীয় প্রবীণদের মতে, মোগল সম্রাটের আমলে বাংলার সুবেদার শাহ সুজা এই মসজিদ নির্মাণ করেন। তাই তারা একে শাহ সুজা মসজিদ নামে ডাকেন।  তবে এর নির্মাণ ও গঠনশৈলী দেখে ধারণা করা হয়, শাহ সুজার ক্ষমতা গ্রহণের অনেক আগেই এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। যেহেতু এই মসজিদটিতে কোনো শিলালিপি নেই, তাই গঠনশৈলীর উপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য নির্মাণকাল বের করা হয়েছে। স্থাপত্যশৈলী ও নির্মাণ কালের কলা কৌশল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ধারণা করা হয়। বড় মসজিদটির বাইরের দিকের আয়তন উত্তর-দক্ষিণে ৪০ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ২৬ ফুট। ৪ ফুট উঁচু মজবুত প্লাটফর্মের উপর মসজিদের অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এর প্রধান কক্ষের আয়তন ভেতরে ১৬ দশমিক ১৬ ফুট। প্রধান কক্ষের সাথে যুক্ত আছে ৬ ফুট প্রশস্ত রাস্তা। পুরো মসজিদের দেয়ালে অসংখ্য খোপ কাটা মৌলক টেরাকোটার অলংকরণ। যা এর ইমারতের বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। সুলতানি আমলের বিরল স্থাপত্য সুরা মসজিদ প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত। নামাজের কক্ষ ও বারান্দা। মসজিদের উপরে বর্গাকার ও গম্বুজ বিশিষ্ট নামাজ কক্ষ এবং ছোট ৩ টি গম্বুজ বিশিষ্ট একটি বারান্দা রয়েছে। নামাজের কক্ষটি দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে ৭ দশমিক ৮৪ মিটার। বারান্দার মাপ ৪ দশমিক ৮৪ মিটার লম্বা ও ২ দশমিক ১২ মিটার চওড়া। চুন সুরকির সাহায্যে ছোট আকৃতির ইট দ্বারা নির্মিত মসজিদের দেওয়াল ১ দশমিক ৮০ মিটার প্রশস্ত। নামাজ কক্ষের ৪ কোণে ৪টি ও বারান্দায় দুটি কালো পাথরের মিনার রয়েছে। মসজিদে প্রবেশের জন্য পূর্ব দিকে ৩ টি ও উত্তর দক্ষিণ দিকে একটি খিলানকৃত প্রবেশ পথ আছে। মসজিদের ভিতরে কেবলা দেয়ালে তিনটি সুন্দরভাবে অলংকৃত পাথরের তৈরি অবতল মেহরাব রয়েছে। মসজিদে ইটের সাথে পাথরের ব্যবহার, দেওয়ালের মাঝে পাথরের স্তম্ভ ও ইটের গাঁথুনি চোখে পরার মত। এছাড়া প্রত্যেক দরজার নিচে চৌকাঠ রয়েছে। সেগুলো পাথরের তৈরি। পূর্ব পাশে মসজিদে প্রবেশের সিঁড়ি রয়েছে।  এখানকার কালো বেলে পাথর বাংলার পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত রাজমহল থেকে আনা হয়েছে বলে মনে করা হয়। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী মসজিদটি দেখার জন্য আসেন। অনেকে আসেন এখানে মানত করা গরু খাসি কুরবানি দিয়ে রান্না করে আশ-পাশের লোকজনকে খাওয়ানোর জন্য। স্থানীয়দের মতে, প্রয়োজনীয় সংস্কার করে মসজিদটি সংরক্ষণ করা হলে এর সৌন্দর্য যেমন অটুট থাকবে, দর্শনার্থীর সংখ্যাও বাড়বে।  মসজিদের ইমাম মওলানা মো. ইনামুল হক বলেন, আমি এই মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়াই। দিনাজপুর জেলার প্রাচীন এ স্থাপত্যের সাক্ষী এ মসজিদটি প্রায় পাঁচশত বছর আগে নির্মিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা মসজিদটি দেখার জন্য আসেন। দর্শনার্থীরা কেউ নামাজের জন্য আবার কেউ মানত শোধ করার জন্য আসেন। ০০০০০০০০০০০ শোষণমুক্ত দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা জয়নুল আবদিন ফারুকের নোয়াখালী, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শোষণমুক্ত সমাজ ও দেশ গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক। এ সময় তিনি অতীতের সকল ভেদাভেদ ভুলে পুরো উদ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশ মতো কাজ করার অঙ্গীকার করেন।   আজ মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সেনবাগ পৌরসভা ও উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।  নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, আইনশৃঙ্খলা, মাদক, শিক্ষা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন ও ইমাম মোয়াজ্জেমদের ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ঈদের আগে বিজিএফ কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের আছে। উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নুর পেয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয়নুল আবদিন ফারুক এ সব কথা বলেন।  এ সময় সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বাশার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাদিয়া আফরোজ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা খুরশিদ ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম, এলজিইডি প্রকৌশলী সাবিনা ইয়ামিন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল হক, সেনবাগ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি ম্যানেজার মিনারুল ইসলামসহ বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রাখতে হবে : ত্রাণমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য : প্রধানমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ

ছবি : সংগৃহীত
রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়ে দেশের রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে বলেছেন। আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেছেন, ‘রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।’ তবে বেসরকারি উদ্যোক্তারা এ উদ্যোগের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হবেন, মালিকানা বা অংশীদারত্বের ধরন কেমন হবে, সে বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা বিএনপির একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রুগ্ন ও বন্ধ পাটকল ও চিনিকলগুলো খুলে দিয়ে সেখানে পুরাতন শ্রমিকদের বহাল রেখে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের জুন মাসে সংসদে দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছিল, ওই সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৩৯৭টি। এর মধ্যে বিসিকের নিয়ন্ত্রণাধীন রুগ্ন/বন্ধ শিল্প ৩৮২টি, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন পাঁচটি, বিএসএফআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন ছয়টি চিনিকল এবং বিএসইসি’র চারটি কারখানা রয়েছে। এরপর গত দুই বছরে এই সংখ্যা আরো বেড়েছে। তবে, হালনাগাদ কোনো পরিসংখ্যান সরকারের তরফে প্রকাশ করা হয়নি। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন কর্মসংস্থান তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বন্ধ ও রুগ্ন শিল্প কারখানাগুলো খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে বলেছেন। এ ব্যাপারে শিল্প মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ শুরু করছে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

মাভাবিপ্রবি থেকে প্রথমবারের মতো তিন গবেষকের পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন

ছবি : সংগৃহীত

নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ পেলেন আলী হোসেন ফকির

সংগৃহীত ছবি

ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন প্রায় ৩৯ লাখ করদাতা

0 Comments