জাতীয়

শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা ছাড়া শিক্ষা টিকবে না — বাউবি উপাচার্য

Admin অক্টোবর ০৫, ২০২৫

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপাচার্য ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, “শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে কোনো শিক্ষা কার্যক্রম সফল হতে পারে না। বই, পাঠ, ক্লাস— সব কিছুই অর্থহীন হয়ে যায় যদি ছাত্রদের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়ে।”

তিনি বলেন, “বর্তমানে শিক্ষার্থীরা যে পরিমাণ চাপ, অনিশ্চয়তা ও প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তাতে তাদের মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ। শিক্ষা শুধু পাঠ্যসূচিতে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানবিকতা, সহানুভূতি এবং মানসিক ভারসাম্য গঠনের প্রক্রিয়া।”

‘শিক্ষার্থীর সুখ-দুঃখ না বুঝলে শিক্ষক পূর্ণ হতে পারেন না’

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ঢাকা পোস্টকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে উপাচার্য বলেন, “একজন শিক্ষক শুধু পাঠদানকারী নন, তিনি একজন পরামর্শদাতা, অভিভাবকও। শিক্ষার্থীর মনোজগত বুঝতে পারলে তবেই প্রকৃত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব। কিন্তু আমাদের অনেক শিক্ষক এই দিকটিকে অবহেলা করেন, কারণ প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এ বিষয়ে তেমন সচেতনতা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকের মানসিক প্রশিক্ষণ থাকা জরুরি। ক্লাসে যদি শিক্ষার্থীর মনোযোগ না থাকে, তার কারণ হতে পারে পারিবারিক সমস্যা, দারিদ্র্য বা মানসিক অবসাদ। শিক্ষক যদি এ বিষয়গুলো বুঝতে না পারেন, তাহলে তার পাঠদানের কার্যকারিতা হারিয়ে যায়।”

‘শিক্ষা শুধু পরীক্ষা নয়, এটি জীবন গঠনের পথ’

অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের শিক্ষা এখন পরীক্ষাভিত্তিক হয়ে পড়েছে। পাস-ফেল আর গ্রেডের ভেতরে আমরা মানুষ গড়ার বিষয়টি হারিয়ে ফেলেছি। একটি ভালো ফলাফলের চেয়ে একজন মানসিকভাবে দৃঢ়, আত্মবিশ্বাসী, সৎ মানুষ তৈরি করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

তার মতে, “শিক্ষার্থীরা আজ হতাশায় ভুগছে, আত্মহত্যার ঘটনাও বাড়ছে। এটি কেবল পারিবারিক সমস্যা নয়, এটি শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা। আমাদের পাঠ্যক্রমে মানসিক স্বাস্থ্য, সহনশীলতা ও ইতিবাচক চিন্তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।”

‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাউন্সেলিং সেল থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত’

উপাচার্য বলেন, “বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর থাকেন, যারা শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তা দেন। কিন্তু আমাদের দেশে এমন উদ্যোগ খুবই সীমিত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটি সক্রিয় ‘কাউন্সেলিং সেল’ থাকা উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা বিনা দ্বিধায় তাদের সমস্যার কথা বলতে পারেন।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব না দিলে, যত বড় অবকাঠামোই গড়া হোক না কেন, শিক্ষা তার লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে না। শিক্ষার্থীর হাসিমুখই হচ্ছে শিক্ষার সাফল্যের সূচক।”

‘মানুষ গড়ার শিক্ষা ফিরিয়ে আনতে হবে’

নিজের শিক্ষকজীবনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “আমি দেখেছি, যেসব শিক্ষক ছাত্রদের মনের কথা শুনেছেন, তারাই বেশি প্রভাব ফেলতে পেরেছেন। আজও আমি তাদের কথা স্মরণ করি। শিক্ষা মানে শুধু তথ্য দেওয়া নয়— এটি চরিত্র, সহমর্মিতা ও জীবনের দর্শন শেখানো।”

উপাচার্য বলেন, “যে জাতি মানসিকভাবে অসুস্থ, সে কখনও অগ্রসর হতে পারে না। তাই আজকের প্রজন্মকে মানসিকভাবে শক্তিশালী, সহনশীল এবং ইতিবাচক চিন্তাধারায় গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা হবে মানবিকতার আলোয় আলোকিত, প্রতিযোগিতার অন্ধ গহ্বরে নয়।”

‘শিক্ষা বাঁচাতে হলে মনোবল বাঁচাতে হবে’

শেষে তিনি বলেন, “শিক্ষা শুধু মস্তিষ্কের নয়, এটি হৃদয়েরও বিষয়। আমরা যদি শিক্ষার্থীদের হৃদয়ের যত্ন না নিই, তাহলে শিক্ষার কাঠামো যত শক্তই হোক, ভিত দুর্বল থেকে যাবে। তাই আমি বলব— শিক্ষার্থী বাঁচলে শিক্ষা বাঁচবে, শিক্ষা বাঁচলে সমাজ বাঁচবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬-এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   রবিবার (২৬ জুলাই) সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এ নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধন করেন।   সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের প্রথম পর্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে পদোন্নতির জন্য যোগ্য কর্মকর্তাদের বিবেচনা করা হবে।   পদোন্নতি পর্ষদের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এবং সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শহীদ ও বীর সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে আহত ও শহীদ সেনা সদস্যদেরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।   পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য এবং সর্বোপরি দায়িত্ব পালনের উপযুক্ততার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।   তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের এই ত্যাগ ও অবদানের জন্য সেনাপ্রধানসহ সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।   অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)। শত কর্মব্যস্ততার মধ্যেও উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করায় সেনাবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।   অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি (অব.) এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং পরিদর্শন বইয়ে তাঁর মূল্যবান মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি ব্যয় কমাতে ১৮ মন্ত্রীর নিরাপত্তা এসকর্ট প্রত্যাহার

বঙ্গভবন ছাড়লেও চুপ্পু এখনো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবলয়ে

ছবি: সংগৃহীত

ভিসা ছাড়াই এশিয়ার ৬ দেশে ভ্রমণের সুযোগ বাংলাদেশিদের

শিক্ষাধারায় বৈষম্য দূর করতে হবে, যানজট নিরসনে নতুন সড়ক হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসার মধ্যে চলমান কাঠামোগত বৈষম্য দূর করার তাগিদ দিয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, এক দেশের ভেতরে কারিকুলাম ও দক্ষতার ভিন্নতায় আলাদা জনগোষ্ঠীর সৃষ্টি মানা যায় না। একই সঙ্গে সিলেটের দীর্ঘদিনের যানজট ও অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে আম্বরখানা-লাক্কাতুরা সড়ক ও বিমানবন্দর-টিবি গেট বিকল্প সড়কসহ মেগা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।   শনিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অডিটোরিয়ামে ‘রাইজ’ ও ‘ইউরো কিডস’ স্কুলের বার্ষিক গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষাব্যবস্থায় আধুনিকায়নের আহ্বান জানান মন্ত্রী।    খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটে শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় গ্যাপ ছিল, যা এখনো পুরোপুরি পূরণ হয়নি। শিক্ষার মানোন্নয়নে আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে। একই দেশে তিন ধারার শিক্ষাব্যবস্থা পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ারে বৈষম্য তৈরি করছে উল্লেখ করে তিনি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্যক্রমের সামঞ্জস্য বিধানের পাশাপাশি আধুনিক যুগের চাহিদায় সকল মাধ্যমে আইটি ও কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার ওপর জোর দেন।   এর আগে সিলেট সার্কিট হাউসে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক যৌথ সভায় অংশ নেন মন্ত্রী। সেখানে আম্বরখানা থেকে লাক্কাতুরা পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণ, সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়ক প্রশস্তকরণ এবং ওসমানী বিমানবন্দর থেকে লাক্কাতুরা হয়ে টিবি গেট পর্যন্ত বিকল্প সড়ক নির্মাণের নির্দেশনার কথা জানান তিনি। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সিসিকের ৪২টি ওয়ার্ডের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও ছড়া সংরক্ষণে প্রাকৃতিক পানির প্রবাহ বজায় রেখে সমন্বিত মেগা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে, যা সিলেটকে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপ দেবে।   অনুষ্ঠানগুলোতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খাইরুল ইসলাম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. নুরের জামান চৌধুরী, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং রয়্যাল এডুকেয়ারের চেয়ারম্যান ফয়সল আহমদ চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২৬, ২০২৬
এআই দ্বারা নির্মিত প্রতীকী ছবি

গ্যাসসংকটে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে কারখানা

ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার সেবা চালু করল আকিজ এভিয়েশন

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্ক সফর শেষে ঢাকায় ফিরলেন সেনাপ্রধান

ছবি: সংগৃহীত
শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের পাশে আগুন

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের পাশে আগুন লেগেছে। ঘটনাস্থলে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট।   শনিবার (২৫ জুলাই) রাত ৯টা ২০ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার সংবাদ আসে রাত ৯টা ২০ মিনিটে। পরে ঘটনাস্থলে দুটি ইউনিট গিয়ে আগুনের কোনো অস্তিত্ব পায়নি। তবে কার্গো ভিলেজের পাশে একটি ময়লার স্তুপে ধোঁয়া দেখা যায়। সেখানে দুটি ইউনিট কাজ করছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোন হতাহতের ঘটনা নেই। আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বৈঠক করতে মন্ত্রী নিজে গেলেন সৌদি দূতাবাসে!

ছবি - সংগৃহীত

কবে বঙ্গভবন ছাড়ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন?

স্ফিয়ার হ্যান্ডবুকের বাংলা সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন

0 Comments