দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা এবার ফিরছেন ভিন্নরূপে। তার আসন্ন সিনেমা ‘মাইশা’ ঘিরে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। সম্প্রতি শুটিং সেট থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি, যা দর্শকদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শুটিং সেটের একটি ছবি শেয়ার করে নিয়েছেন অভিনেত্রী। সেই পোস্টে রাশমিকা মান্দানা লিখেছেন— থিংস আর গেটিং সুপার ব্লাডি অন সেটস অফ মাইশা! অর্থাৎ সেটে এখন খুবই রক্তাক্ত পরিবেশ চলছে!
এই একটি বাক্যই যথেষ্ট হয়েছে তার ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়াতে। অনেকেই ধারণা করছেন, এটি হয়তো একটি অন্ধকার, তীব্র অ্যাকশনভিত্তিক গল্প হতে যাচ্ছে, যেখানে আবেগের পাশাপাশি থাকবে সংঘর্ষ আর সহিংসতার তীব্র উপস্থিতি।
যদিও সিনেমার গল্প নিয়ে নির্মাতারা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেননি। তবে রাশমিকা মান্দানাকে ঘিরে এ ধরনের ইঙ্গিত থেকেই বোঝা যাচ্ছে— তিনি এবার একেবারেই ভিন্ন ধরনের চরিত্রে হাজির হতে চলেছেন। তার আগের অনেক সিনেমায় রোমান্স, কমেডি ও হালকা আবেগঘন চরিত্রে দেখা গেলেও এবার পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন ও বাস্তবধর্মী হতে পারে।
ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের আলোচনা অনুযায়ী, এ চরিত্রের জন্য রাশমিকা মান্দানা নাকি মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন। যদিও নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখনো এ খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবু এ প্রস্তুতির খবর সত্যি হলে বোঝা যায়, সিনেমাটিতে থাকবে শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং অ্যাকশন দৃশ্য এবং হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কমব্যাট সিকোয়েন্স।
রাশমিকা মান্দানা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় নিজের বহুমুখী অভিনয় দিয়ে দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। রোমান্টিক থেকে শুরু করে কমার্শিয়াল ব্লকবাস্টার, সব ধরনের সিনেমাতেই তিনি কাজ করেছেন। এবার ‘মাইশা’ তার ক্যারিয়ারে আরও একটি নতুন অধ্যায় যোগ করতে পারে, যেখানে তাকে দেখা যেতে পারে একেবারে শক্তিশালী ও লড়াকু চরিত্রে।
বর্তমানে তিনি একাধিক বড় প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার আসন্ন তালিকায় রয়েছে ‘পুষ্পা-৩’ ‘ককটেল’ ও ‘রানাবালি’সহ আরও কিছু সিনেমা। এই বৈচিত্র্যময় লাইনআপ ইঙ্গিত দিচ্ছে— তিনি এখন বেছে নিচ্ছেন এমন সব চরিত্র, যা তার অভিনয় দক্ষতার নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।
তবে সব কিছুর মধ্যে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা ‘মাইশা’ নিয়েই। কারণ এর গল্প, চরিত্র ও রাশমিকা মান্দানার নতুন অ্যাকশন অবতার_ সব মিলিয়ে এটি হতে পারে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজগুলোর একটি। এখনো সিনেমার কোনো ট্রেলার বা বিস্তারিত কাহিনি প্রকাশ করা হয়নি। তবে শুটিং সেট থেকে আসা এ ধরনের ইঙ্গিত এবং রাশমিকার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ইতোমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কান চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৯তম আসরে দ্বিতীয়বারের মতো অংশ নিয়ে রেড কার্পেটে আলো ছড়িয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। তামারা র্যালফের ডিজাইন করা মনোমুগ্ধকর ব্লাশ-টোনড বডি-হাগিং গাউনে তার উপস্থিতি ছিল এক কথায় অনবদ্য। তবে আলিয়ার এই গ্ল্যামারাস উপস্থিতিকে ছাপিয়ে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি বিতর্কিত ভিডিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আলিয়া যখন রেড কার্পেটে পোজ দিচ্ছিলেন, তখন একদল আলোকচিত্রীকে তাদের ক্যামেরা নামিয়ে রাখতে দেখা যায়। এমনকি অভিনেত্রী হাসিমুখে হাত নাড়লেও অনেক পাপারাজ্জিই সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করছিলেন না। এই ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হলে নেটিজেনদের একাংশ অভিনেত্রীকে নিয়ে ট্রল শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ক্যাপশনে একজন লিখেছেন, ‘খুবই বিব্রতকর! কান একটি বৈশ্বিক মঞ্চ, অথচ তাকে কেউ চিনতেই পারছে না। কেউ তার দিকে ক্যামেরাও তাক করেনি। তিনি কার দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ছেন? তার মধ্যে ব্যক্তিত্বের অভাব স্পষ্ট।’ ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। কট্টর সমালোচকদের কেউ কেউ আলিয়ার এই মুহূর্তটিকে ‘অস্বস্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘তিনি এমনভাবে হাত নাড়ছেন যেন তিনিই অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ, অথচ ক্যামেরাম্যানরা সব এয়ারপ্লেন মোডে আছেন!’ আবার কেউ কেউ তার আমন্ত্রণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে আলিয়ার ভক্ত এবং সমর্থকদের সংখ্যাও কম নয়। অনেক নেটিজেন এই সংকীর্ণ মানসিকতার সমালোচনা করে বলেছেন, ভারতীয়রাই অন্য ভারতীয়দের সাফল্যে সবচেয়ে বেশি ঈর্ষান্বিত হয়। আলিয়াকে সমর্থন জানিয়ে একজন লিখেছেন, ‘সবাই ভুলে যাচ্ছেন যে তিনি ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে গিয়েছেন। শাহরুখ খানকেও আপনারা একসময় এভাবে ট্রল করেছিলেন।’ অন্যদিকে খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক আলোকচিত্রী গ্রেগ মার্টিন আলিয়ার সঙ্গে একটি সেলফি পোস্ট করে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক মহলেও এই অভিনেত্রীর যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আলিয়ার পক্ষ নিয়ে আরেক ভক্ত লিখেছেন, ‘আলোকচিত্রীরা তার ছবি তুলছেন কিনা তা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো তিনি সেখানে আমন্ত্রিত হয়েছেন এবং পুরো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন।’ সব মিলিয়ে, কানের রেড কার্পেট এবং আলিয়া ভাটের এই ভিডিওটি বর্তমানে বিনোদন জগতের অন্যতম ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছে। কেউ একে দেখছেন ‘উপেক্ষা’ হিসেবে, আবার কারো মতে আলিয়ার বিরুদ্ধে এটি স্রেফ নেতিবাচক প্রচারণার একটি অংশ। সূত্র: এনডিটিভি
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ঢালিউড অভিনেত্রী তমা মির্জা তার ছোটভাই তূর্য মির্জাকে নিজের সন্তানের মতো বলে মনে করেন। সম্প্রতি একটি টেলিভিশনের সেলিব্রিটি টকশো অনুষ্ঠানে এসে এমন আবেগঘন মন্তব্য করেন তিনি। তমা মির্জা পর্দার গ্ল্যামার ও অভিনয়ের বাইরে ব্যক্তিজীবনে কতটা পারিবারিক, তার প্রমাণ মিলল সেই অনুষ্ঠানে। সেখানে নিজের ছোটভাই তূর্য মির্জার সঙ্গে তার এক অনন্য ও আবেগঘন সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন অভিনেত্রী। তার ছোটভাইয়ের সঙ্গে বয়সের ব্যবধান প্রায় ১১ বছর। দীর্ঘ বিরতির পর পরিবারে আসা এই কনিষ্ঠ সদস্যের প্রতি তার ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ শুরু থেকেই ছিল অন্যরকম। তিনি বলেন, ২০১২ সালের দিকে তার বাবা ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে থাকলেও পরিবারের হাল শক্ত হাতে ধরেন অভিনেত্রী। ২০১৩ সালে বাবাকে কর্মজীবন থেকে অবসর নিতে বলেন এবং তখন থেকেই পরিবারের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি। তমা মির্জা বলেন, তূর্যর কাছে আমি ঠিক আম্মুর পরের জায়গাটাতেই আছি। আমি ওর যেমন ভালো বন্ধু, ঠিক তেমনি অভিভাবকও। আমি যখন কোনো রিলস বানাই বা ছবি তুলি, আগে ওকে দেখাই যে সব ঠিক আছে কিনা। তিনি আরও বলেন, ও আবার গান গাইতে খুব পছন্দ করে। ও যখন গান করে, তখন আমাকেও শোনায়। কখনো কখনো ওকে আমার নিজের সন্তানের মতো মনে হয় বলেও জানান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ও বড় কোনো ভুল করলেও আমি শাসন করতে পারি না। তখন আম্মুকে বলি তুমি বকা দাও, কিন্তু আম্মু বলে ও তোমাকেই ভয় পায় তুমিই বলো। আর আমি কিছুতেই ওকে বকা দিতে পারি না বলে জানান তমা মির্জা।
ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা পূর্ণিমা। এখন আর আগের মতো অভিনয়ে দেখা যায় না তাকে। মাঝে তিনটি সিনেমায় কাজ করলেও সেগুলো এখনো মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে, পাশাপাশি নাটকেও দীর্ঘ বিরতিতে আছেন এই নায়িকা। তবে পূর্ণিমা ভক্তদের জন্য সুখবর, সম্প্রতি এই নায়িকা সচেতনতামূলক একটি প্রামাণ্যচিত্রের অংশ হয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই ‘অস্তিত্বের লড়াই’ নামের এই প্রামাণ্যচিত্রে অংশ নিয়েছেন তিনি। ১৯৭০ সালে ভোলায় ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে ‘প্রেমের তাজমহল’ খ্যাত প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক গাজী মাহবুব এটি নির্মাণ করেছেন। সম্প্রতি এফডিসিতে এর দৃশ্যধারণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রমাণ্যচিত্রটির সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে পূর্ণিমা বলেন, ‘এই প্রামাণ্যচিত্রের ভাবনাটি আমার খুব ভালো লেগেছে। মানুষকে সচেতন করার একটি দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে আমি এতে অংশ নিয়েছি। আমি সবসময়ই এমন ভালো এবং ইতিবাচক কাজের সঙ্গে থাকতে চাই।’ বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান মানবসুর উন্নয়ন সংস্থা (মাউস)-এর জন্য প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মিত হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব লাভুর গ্রন্থনা ও পরিকল্পনায় প্রামাণ্যচিত্রটির নাম রাখা হয়েছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’। নির্মাতা গাজী মাহবুব জানান, এতে উঠে আসবে ১৯৭০ সালে ভোলা জেলায় বন্যার সেই মর্মান্তিক কাহিনি ও বর্তমান বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের করণীয় কী। মানবসুর উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গঠনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে এটি দেখানো হবে। এছাড়া ইন্টারনেটেও এটি প্রকাশিত হবে বলে জানান তিনি। পূর্ণিমাসহ প্রামাণ্যচিত্রটিতে আরও অভিনয় করেছেন চলচ্চিত্রের একঝাক পরিচিত মুখ। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রবীণ নির্মাতা ও অভিনেতা কাজী হায়াৎ, শিবা শানু, তানহা তাসনিয়া, শিরিন শিলা, মৌ খান ও জয় চৌধুরীসহ আরও অনেকে।