ব্যবসা শুরু ও পরিচালনা সহজ করতে সরকার নিয়ন্ত্রক সংস্থাসমূহের বিধি-বিধান সংশোধনীর (রেগুলেটরি রিফর্ম) বড় ধরনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ব্যবসার খরচ কমানো এবং এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে গবেষণা সংস্থা বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা শুরুতে উদ্যোক্তাদের যাতে দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে না হয়, সে জন্য ফায়ার, ডিআইএফই ও চেম্বার সদস্যপদসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ১২ মাসের অস্থায়ী অনুমোদন দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।
তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় যেকোনো খাতের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণে সরকার উন্মুক্ত রয়েছে। পাট খাতের উন্নয়নে বিল্ডের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও দেখান তিনি। এ ক্ষেত্রে সবুজ পাট থেকে জুট পাল্প উৎপাদন একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, বিনিয়োগ পরিবেশ সহজ করতে বিডা, বেজা ও বেপজাসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষকে একীভূত করে এক ছাতার নিচে আনার পরিকল্পনা এগোচ্ছে। একই সঙ্গে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হবে।
বিল্ড-এর চেয়ারম্যান আবুল কাসেম খান বলেন, অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসাকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় আনতে ডিরেগুলেশন সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বর্তমান ট্রেড লাইসেন্স ব্যবস্থা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে আছে। তাই ‘ওয়ান লাইসেন্স’ ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজন রয়েছে।
বিল্ডের ট্রাস্টি এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে পাট খাত এখনো গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ খাতের আধুনিকায়ন জরুরি। উৎপাদন দক্ষতা ও মূল্য সংযোজন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
বিল্ড প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এখন পণ্যের ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে। এ জন্য একটি শক্তিশালী জাতীয় ট্রেসেবিলিটি কৌশল প্রয়োজন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে বড় কনটেইনার পরিচালনাকারী টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) গত মে মাসে পরিচালনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ মাসিক কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড গড়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, মে মাসে টার্মিনালটিতে ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৬ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা এনসিটির ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। এর মাধ্যমে টার্মিনালটি পূর্ববর্তী সব মাসিক রেকর্ড অতিক্রম করে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে এনসিটিতে একক মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৩৩ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড হয়েছিল। বর্তমানে চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) বন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এনসিটি পরিচালনা করছে। মে মাস জুড়ে টার্মিনালটিতে দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৮১ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। মোট হ্যান্ডলিং হওয়া কনটেইনারের মধ্যে ৫৯ হাজার ৮৫১ টিইইউ ছিল আমদানি কনটেইনার এবং ৬৬ হাজার ৬৪৫ টিইইউ ছিল রপ্তানি কনটেইনার। যা আমদানি ও রপ্তানি উভয় বাণিজ্য কার্যক্রমেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির প্রতিফলন ঘটায়। চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ পারসোনেল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই এনসিটির অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সিডিডিএল টার্মিনালটির কার্যক্রমে গতি এনেছে। জাহাজ পয়েন্ট, ডেলিভারি পয়েন্ট, অ্যাপ্রাইজ পয়েন্ট, সিএন্ডএফ শেড এবং বিভিন্ন প্রবেশ ও বহির্গমন গেটে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের তৎপরতায় কনটেইনার খালাস ও লোডিং কার্যক্রম আরও দ্রুত ও কার্যকর হয়েছে। জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমানে সবচেয়ে বড় টার্মিনাল এনসিটি। প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা এই টার্মিনালে একসঙ্গে ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচটি জাহাজ ভেড়ানো যায়। এই টার্মিনালে চারটি জেটি রয়েছে এবং বন্দরের মোট কনটেইনারের প্রায় অর্ধেক হ্যান্ডলিং করা হয় এই টার্মিনাল দিয়ে। এটিতে ব্যাকআপ ফ্যাসিলিটিজ হিসেবে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি সম্বলিত ইয়ার্ড। টার্মিনালে বন্দরের মালিকানাধীন জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠা-নামা করার জন্য রয়েছে ১৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেন। এর পাশাপাশি কনটেইনার স্থানান্তরের যত যন্ত্র দরকার, সবই আছে টার্মিনালটিতে। এছাড়া চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং জেনারেল কার্গো বার্থেও (জিসিবি) কনটেইনারবাহী জাহাজ পরিচালিত হয়। বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) পরিচালনা করছে সৌদি আরবভিত্তিক টার্মিনাল অপারেটর রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি টার্মিনালে মোট ৩৪ লাখ ১০ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে সব বিনিয়োগ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আওয়ামী লীগ আমলে তাদের নেতাদের ব্যবহার করে কোনো প্রকার বিনিয়োগ ছাড়াই টার্মিনালটি থেকে সাইফ পাওয়ার টেক হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। দেশি কিংবা বিদেশি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে তেমন সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এনসিটি থেকে বিতর্কিত সাইফ পাওয়ারটেককে সরিয়ে দিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। তখন থেকে বন্দর বিদেশিদের হাতে না দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন পক্ষ সরব হয়। আন্দোলনের মধ্যেই ২০২৫ সালের ৭ জুলাই থেকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় নৌবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেডকে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সিডিডিএলের চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং পেশাদারত্বের ফলেই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তাদের মতে, এই অর্জন দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে, বৈদেশিক বাণিজ্য সহজতর করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।
সোমবার (১ জুন) রাতেই ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম। যার পদত্যাগ চেয়ে দিনভর ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলন করেছে ব্যাংকটির গ্রাহকরা। জানা গেছে, রাত সাড়ে ১০টায় পর্ষদের পাঁচ সদস্য নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়। নতুন এমডি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্বপালন করবেন আলতাফ হোসাইন। এ বিষয়ে জানতে ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম ও স্বতন্ত্র পরিচালক খুরশিদ ওয়াহবকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা রিসিভ করেননি। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান মো. খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পর্ষদের পাঁচজন সদস্য ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশ নেন। সভায় সম্প্রতি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানের জমা দেওয়া পদত্যাগপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত এমডি মো. আলতাফ হোসাইনকে দায়িত্বে বহাল রেখে ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের চাপে রাতেই অনলাইন সভার আয়োজন করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো চাপ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দেওয়া হয়নি। তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে অনলাইন সভা আয়োজন করেছে। ব্যাংকিং সময়ের বাহিরে রাতে সভায় আয়োজন করা যায় কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, স্ব শরীরে হলে ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে সভা আয়োজন করতে হতো। যেহেতু অনলাইনে হয়েছে তাতে কোনো সমস্যা নেই। ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের যোগদানের উদ্দেশে পরিচালনা পর্ষদের সভা ডেকেছিল ব্যাংকটি। তবে গ্রাহকদের আন্দোলনের কারণে সশরীর সেই সভাটি অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। জানা গেছে, নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর দিলকুশা এলাকায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন ব্যাংকটির গ্রাহকেরা। সকালে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে মানববন্ধন কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আজ ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পর্ষদ সভা অনুষ্ঠানের কথা ছিল। জানা যায়, ঈদের আগের শেষ কর্মদিবস ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা স্বতন্ত্র পরিচালক ছিলেন। একই দিন রাত ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর খুরশীদ আলম পদত্যাগে বাধ্য হন। তাঁর নিয়োগের পর থেকে ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক একটি পক্ষ এই নিয়োগের বিরোধিতা শুরু করে নানা ব্যানারে। এমনকি এই নিয়োগের বিরুদ্ধে ঈদের ছুটির মধ্যেও দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করা হয় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ ঢাকায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
অলঙ্কারের বাজারে এখন স্বর্ণ যেন সোনার হরিণ। শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধির উপকরণ হিসেবেই নয়, বরং লাভজনক বিনিয়োগ এবং দেশের রিজার্ভের মূল্য ধরে রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এই মূল্যবান ধাতু। অস্থির বৈশ্বিক বাজারেও এটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয় করতে গিয়ে চলতি বছরের প্রথম ২৯ দিনে দেশে এক ভরি স্বর্ণের দাম ৬১ হাজার ৮১৯ টাকা বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকায় পৌঁছায়। পরে দামের ওঠানামার মধ্যে ২৫ মে তা দাঁড়ায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। অথচ ২০২১ সালের শুরুতে এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ৭৫ হাজার টাকারও নিচে। বিশ্ববাজারে বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৫৩৯ মার্কিন ডলার। সেই হিসেবে এক ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় ১ হাজার ৮৬৮ মার্কিন ডলার। প্রতি মার্কিন ডলার সমান ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা হলে দেশে এক ভরি স্বর্ণের দাম হওয়ার কথা ২ লাখ ২৯ হাজার ২৯৭ টাকা। তবে বর্তমানে দেশে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ৫ শতাংশ ভ্যাট। যা গিয়ে ঠেকছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ২৭ টাকায়। এমন মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতাই এখন স্বর্ণ কেনার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে দাম বেড়ে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেলেও দেশে স্বর্ণের ব্যবহার কমেনি; বরং বিশ্ববাজারের তুলনায় কিছুটা বেশি দামেই দেশে মূল্যবান ধাতু কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এতে ব্যবসায়ও মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যবসার অবস্থা এখন খুবই খারাপ। দাম আজ কমে, কাল বাড়ে; এই পরিস্থিতির কারণে ক্রেতাও কমে গেছে। তার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তবে বাজুসের দাবি, স্বর্ণের দাম বাড়লেও এর ব্যবহার মোটের ওপর কমেনি। বরং অনেকেই বিদেশ থেকে স্বর্ণালঙ্কার কিনে আনার দিকে ঝুঁকছেন। বাজুস সভাপতি এনামুল হক খানের দাবি, বিদেশের তুলনায় দেশে স্বর্ণের দামে এত পার্থক্যের অন্যতম কারণ হচ্ছে কর ও ভ্যাট কাঠামো। তিনি বলেন, মূলত এক ভরি স্বর্ণ আমদানি করতে খরচ রয়েছে, সেটা ডিলারের কাছ থেকে নেয়ার সময় ভ্যাট দিতে হয়। পরে সেই স্বর্ণ দিয়ে অলঙ্কার তৈরি করে ক্রেতার কাছে বিক্রি করার সময় আবারও ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করে সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হয়। এতে ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা; কেউই বাড়তি লাভ করেন না। কিন্তু এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশে স্বর্ণের দামে পার্থক্য তৈরি হয়। এই মূল্য ব্যবধানের পেছনে মূলত বিদ্যমান সরকারি নীতিই দায়ী। একই ধরনের তথ্য দিয়েছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলও। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে দৈনিক গড়ে ২৩০ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ লেনদেন হয়েছে। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৪ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে প্রায় ৩১ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারে ৪৪ শতাংশ সরবরাহ আসে বিভিন্ন দেশের স্বর্ণালঙ্কার খাত থেকে। এই সম্ভাবনাময় বাজারে অংশীদার হতে স্বর্ণ আমদানির নীতিগত জটিলতা দূর করার আহ্বান জানিয়েছে বাজুস। সংগঠনটির সভাপতি বলেন, আমদানির খরচ অনেক বেশি। এছাড়া ভ্যাটের সমস্যা রয়েছে। এরপর একাধিক সংস্থার উপস্থিতিতে স্বর্ণ খালাস করতে হয়। এসব জটিলতার কারণে একজন আমদানিকারক বা ডিলারের জন্য স্বর্ণ আমদানি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তবে দেশের ক্রেতাদের বঞ্চিত করে বিদেশি বাজার ধরতে চান না ব্যবসায়ীরা। তাই মধ্যবিত্তের নাগালে স্বর্ণালঙ্কার রাখতে আসন্ন বাজেটে ৫ শতাংশ ভ্যাট বাতিল করে প্রতি ভরিতে নির্দিষ্ট ২ হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বাজুস। এনামুল হক খান বলেন, বর্তমানে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায়ের পদ্ধতি চালু আছে। আমরা চাই এটি পরিবর্তন করে শতাংশের ভিত্তিতে নয়, প্রতি ভরিতে ২ হাজার টাকা নির্ধারিত ভ্যাট আদায় করা হোক।