কুমিল্লার লালমাই পাহাড় ঘিরে বহু বছর ধরে ছড়িয়ে আছে রহস্য আর নানা গুঞ্জন। স্থানীয়দের দাবি, এখানে একসময় তেল-গ্যাসের সন্ধান মিলেছিল। বিদেশি কোম্পানি এসে গভীর খনন কাজও চালিয়েছিল। এরপর হঠাৎ করেই একটি হেলিকপ্টার এসে পুরো কূপ সিলগালা করে দেয়—এমন গল্প দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মুখে মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসায় এলাকায় আবারও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর এলাকার লালমাই পাহাড়ে মূলত অনুসন্ধান কার্যক্রম চালায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ সালের দিকে ‘লালমাই-১’ ও ‘লালমাই-২’ নামে দুটি কূপ খনন করা হয়। প্রাথমিকভাবে কিছু পরিমাণ তেলের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও তা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক ছিল না।
জানা গেছে, লালমাই-১ কূপ থেকে দৈনিক মাত্র ২০ থেকে ২৫ ব্যারেল তেল উত্তোলন সম্ভব হয়েছিল। অন্যদিকে লালমাই-২ কূপেও পর্যাপ্ত চাপ পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি তেলকূপকে লাভজনক করতে প্রতিদিন কয়েকশ ব্যারেল তেল উত্তোলন প্রয়োজন হয়। কিন্তু লালমাইয়ে উৎপাদন ছিল খুবই সীমিত। পাশাপাশি তেলের সঙ্গে অতিরিক্ত পানি উঠে আসা, চাপ কমে যাওয়া এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ করে কূপগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ বা “প্লাগ অ্যান্ড অ্যাবানডন” করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এখনো এ নিয়ে নানা রহস্যময় গল্প প্রচলিত রয়েছে। বড় ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, বহু বছর আগে বিদেশি কোম্পানি এসে হাজার হাজার মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করেছিল। পরে হেলিকপ্টার এসে কূপ সিল করে দেওয়া হয়। আরেক বাসিন্দা মো. শহীদ বলেন, ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছেন কূপটি বিশেষভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে, তবে কেন সেটি করা হয়েছিল তা কেউ স্পষ্টভাবে জানে না।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিত্যক্ত তেল বা গ্যাসকূপ খোলা অবস্থায় রেখে দিলে গ্যাস লিক, অগ্নিকাণ্ড কিংবা ভূগর্ভস্থ পানিদূষণের মতো বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই অলাভজনক কূপগুলো আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সিলগালা করা হয়।
এ বিষয়ে পেট্রোবাংলা–এর উপব্যবস্থাপক সৈকত মাহমুদ জানান, লালমাই এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হলেও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক কোনো তেলের মজুত পাওয়া যায়নি। ফলে কূপগুলো নিয়ম মেনেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
রাজধানীর কালশী বস্তিতে সাম্প্রতিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। শনিবার (৩০ মে) মানবিক বিবেচনায় বাহিনীর মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে বাউনিয়াবাদ কালশী বস্তি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১২৫০ জনের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান জানান, গত ২৫ মে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কালশী বস্তির অসংখ্য ঘরবাড়ি পুড়ে যায় এবং শত শত পরিবার তাদের সহায়-সম্বল হারিয়ে মানবেতর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। অনেক পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে এবং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে দিন কাটাচ্ছে। চারিদিকে ঈদুল আজহার আনন্দমুখর পরিবেশের মাঝেও বস্তিবাসীদের এমন মৌলিক সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে। খাবার বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এই স্বেচ্ছাসেবা দায়িত্ব পালনে ৪১ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য এবং ৩৫ জন টিডিপি সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। বাউনিয়াবাদ আইডিয়াল হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত এ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (উইং) শুভ্র চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর আনসার (পশ্চিম) জোনের অধিনায়ক উপপরিচালক আরিফুর রহমান, ঢাকা মহানগর আনসার (দক্ষিণ) জোনের অধিনায়ক উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামানসহ বিভিন্ন থানার আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তাবৃন্দ। তিনি বলেন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ ও সংকটকালীন সময়ে মানবিক সহায়তা, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটে জনগণের পাশে থেকে মানবকল্যাণে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ এই বাহিনী।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে কেবল একজন সেনাপ্রধান বা রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন ‘জন্মগত নেতা’। সততা, দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আজ নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সামরিক জীবন থেকেই জিয়াউর রহমান অসাধারণ নেতৃত্বগুণ, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছেন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে মাত্র ২০ থেকে ২২ বছর বয়সে একজন তরুণ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি যে বীরত্ব ও রণকৌশলের পরিচয় দিয়েছিলেন, তার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বীরত্বপূর্ণ উপাধিতে ভূষিত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটময় মুহূর্তে যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন মেজর জিয়াউর রহমান নিজের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য তিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং জাতিকে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীতে ফিরে গেলেও দেশের ক্রান্তিলগ্নে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে তাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়। রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে তিনি একদলীয় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেন। কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের অবদান ছিল সুদূরপ্রসারী। দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ, বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি এবং রেমিট্যান্সভিত্তিক অর্থনীতির ভিত্তি নির্মাণে তার চিন্তাধারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সততা ও সাদামাটা জীবনযাপনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, 'ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করেও তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া ভাঙা সুটকেস ও ছেঁড়া শার্ট তার ব্যক্তিগত সততা, স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের প্রতি দায়িত্বশীলতার প্রমাণ বহন করে।' দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রকৃত রাজনীতি করতে হলে শহীদ জিয়ার জীবন, আদর্শ ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, বরং একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক ও দেশপ্রেমিক। তার আদর্শ ধারণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে উপজেলা বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে দেশ, জাতি এবং জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদী রক্ষায় ৬ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ শেষে উত্তেজিত জনতা অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি টোল ঘর ভেঙে দেয়। শনিবার দুপুরে উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট বাজার এলাকায় ‘সচেতন তরুণ সমাজ ও এলাকাবাসী’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং নদী রক্ষা প্রকল্পের ব্লক অপসারণের কারণে ব্রহ্মপুত্রের তীরবর্তী এলাকা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের মদদে দীর্ঘদিন ধরে ফকিরের হাট থেকে কাঁচকোল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। বক্তারা আরও বলেন, এ বিষয়ে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছে। আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, পরিবেশসম্মত নদী খনন, নদীতীরে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নদী গবেষণা সংগঠন Riverine People-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. তুহিন ওয়াদুদ, প্রভাষক নিহারিকা শারমিন, প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন, খন্দকার বদরুল ইসলাম রাঞ্জুসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা। সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা ফকিরের হাট এলাকায় অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি টোল ঘর ভেঙে দেয়। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ ও নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।