খেলাধুলা

মিরপুরের উইকেট: আসলেই কি কালো মাটির দোষ

Unknown অক্টোবর ২০, ২০২৫

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে বিতর্ক। অনেকেই মনে করেন, কালো মাটির কারণেই এই উইকেটে ব্যাটসম্যানরা ভুগেন। তবে বাস্তবতা ভিন্ন—সমস্যা মাটির নয়, বরং ব্যবস্থাপনায়।

 

জন্ম ও স্বপ্ন

মিরপুর স্টেডিয়ামে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয় ২০০৬ সালে। অস্ট্রেলিয়ান কিউরেটর রিচার্ড উইন্টারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পার্থের ওয়াকা গ্রাউন্ডের মতো গতিময় ও বাউন্সি উইকেট তৈরি করার জন্য। স্থানীয় বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটির নমুনা নিয়ে তিনি সাভারের কালো মাটি বেছে নেন। কালো মাটিতে ক্লে বেশি থাকায় তা শক্ত ও স্থিতিশীল উইকেট তৈরি করতে সহায়ক।

উইন্টার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন—মিরপুরের উইকেটে বল উঠবে শাঁই শাঁই, ব্যাটসম্যানরাও রান করতে পারবেন সহজে। সেই ভাবনায় ইট, পাথর, বালু ও মাটির স্তরে স্তরে তৈরি হয় মিরপুরের পিচ।

 

কেন ব্যর্থ হলো সেই স্বপ্ন

সমস্যা শুরু হয় কিউরেটরদের ওপর চাপ ও নীতির পরিবর্তনের কারণে। জাতীয় দলের কোচ, ঘরোয়া ক্লাব এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বারবার পিচের ধরন বদলাতে হয়েছে। কখনো স্পিন সহায়ক, কখনো ঘাস কেটে ফেলা—এভাবে মিরপুরের উইকেট তার নির্দিষ্ট চরিত্র হারায়।

অতিরিক্ত খেলার চাপও পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। বছরে প্রায় ১৫০ দিনের মতো খেলা হয় এই স্টেডিয়ামে, যা বিশ্বে বিরল। ফলে উইকেট বিশ্রাম পায় না, আর গুণগত মান হারায়।

 

কালো মাটির দোষ নয়

মিরপুরে তিন শতাধিক রান হওয়া ম্যাচের অভাব নেই—এমনকি টেস্টেও এক ইনিংসে শ্রীলঙ্কা তুলেছিল ৭৩০ রান। অর্থাৎ, মাটির গুণে নয়, ব্যবস্থাপনার ভুলেই উইকেট ব্যাটসম্যানদের জন্য বিভীষিকা হয়ে উঠেছে।

 

সমাধান কী?

বর্তমান অস্ট্রেলিয়ান কিউরেটর টনি হেমিং নতুন করে অস্ট্রেলিয়ার মাটি এনে উইকেট তৈরির পরিকল্পনা করছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাচের সংখ্যা কমানো, ঘাস গজাতে দেওয়া এবং কিউরেটরদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিলে কালো মাটিতেও ভালো উইকেট তৈরি সম্ভব।

যেহেতু অতীতে এই মাঠ রানপ্রসবা হয়েছে, তাই সঠিক যত্ন ও পরিকল্পনা পেলে মিরপুরের উইকেট আবারও সেই অবস্থায় ফিরতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্স–মরক্কো লড়াই: অভিজ্ঞতার বিপক্ষে নতুন শক্তির আত্মপ্রকাশ

বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুই ভিন্ন ধারার দল—দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত উত্থান ঘটানো মরক্কো। শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত বোস্টনে ম্যাচ ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে মরক্কোর জার্সি পরা সমর্থকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।   এই ম্যাচ শুধু শেষ চারে ওঠার লড়াই নয়; এটি বিশ্ব ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত শক্তি ও উদীয়মান শক্তির মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ফ্রান্স তাদের ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে চাইবে, অন্যদিকে মরক্কো নিজেদের নতুন পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ খুঁজছে।   ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানান, তাদের লক্ষ্য কেবল কোয়ার্টার ফাইনাল নয়, আরও অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও তারা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাই খেলতে চায় এবং প্রতিপক্ষকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না।   ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল মরক্কো। এবার নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে আবারও শেষ আটে জায়গা করে তারা প্রমাণ করেছে, আগের সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। তবে সেই কাতার বিশ্বকাপেই সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরেছিল মরক্কো। তাই আজকের ম্যাচটি তাদের জন্য প্রতিশোধের পাশাপাশি নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণেরও বড় মঞ্চ।   ওয়াহবি বলেন, গত বিশ্বকাপের তুলনায় দুই দলই আরও শক্তিশালী হয়েছে। তিনি জানান, ফ্রান্সের বিপক্ষে কোনো বিশেষ গোপন পরিকল্পনা নেই; নিজেদের কৌশল ও দলীয় ফুটবলের ওপরই তারা আস্থা রাখছেন।   তবে গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার সাইবারি চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না, যা মরক্কোর জন্য বড় ধাক্কা। এরপরও কোচ আশা প্রকাশ করেছেন, দল পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তাকে ফিরে পাবে। তিনি আরও জানান, তাদের মূল পরিকল্পনা হলো বলের দখল ধরে রেখে মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ করা এবং দুই প্রান্তের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগানো।   বিশ্লেষকদের মতে, ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড ও অভিজ্ঞতার কারণে ফ্রান্স এখনও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। তবে আজ যদি মরক্কো জয় পায়, তাহলে তারা বিশ্বকাপ জয়ের শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করবে।   মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সাংগঠনিক উন্নয়নেও মরক্কো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। দেশটি ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক এবং আফ্রিকান ফুটবলের অবকাঠামো, একাডেমি ও ক্লাব উন্নয়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মরক্কোকে আর সম্ভাবনাময় দল নয়, বরং প্রতিষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নতুন দুই গিনেস রেকর্ডে অনন্য উচ্চতায় লিওনেল মেসি

আলভারো আরবেলোয়া। ছবি: রয়টার্স

ফুলহ্যামের ডাগআউটে তিন বছরের চুক্তিতে রেয়ালের সাবেক কোচ

২০০ কোটি দর্শকের সামনে এক মঞ্চে ৪ মহাতারকা, বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতিহাস

ছবি: সংগৃহীত
নতুন মুখ নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড ঘোষণা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া জিম্বাবুয়ে চার মাস পর, এই সংস্করণে আবার মাঠে নামতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজটির জন্য প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়েছেন বাঁহাতি পেসার নিউম্যান নিয়ামুরি। আর আড়াই বছর জাতীয় দলে ফিরেছেন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মিল্টন শুম্বা। বছরের শুরুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা হারিয়ে চমক জাগায় জিম্বাবুয়ে, জায়গা করে নেয় সুপার এইটে। সেই দল থেকে এবার তিনটি পরিবর্তন এনেছে দেশটির নির্বাচকরা। বরাবরের মতো এই সংস্করণে দলটিকে নেতৃত্ব দেবেন সিকান্দার রাজা। ব্রেন্ডান টেইলরের চোটে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়া বেন কারান জায়গা ধরে রেখেছেন। যদিও ওই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হয়নি তার। এবার নিয়ামুরির সঙ্গে কারানেরও টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হতে পারে। বাম হাতের চোটে ছিটকে গেছেন গ্রায়েম ক্রিমার। টেইলর ও ক্রিমারের পাশাপাশি বিশ্বকাপ দল থেকে নেই টনি মুনিয়োঙ্গা। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় নিয়ামুরির। সম্প্রতি শেষ হওয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ৬ উইকেট নিয়ে ইনিংস ব্যবধানে জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ২০ বছর বয়সী পেসার। পরে প্রথম ওয়ানডেতে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে দলকে জিততে সাহায্য করেন; ব্যাটিং ধসের মুখে ৫১ বলে ৩৩ রান করার পর, বোলিংয়ে ২২ রান খরচায় দুটি উইকেট নেন তিনি। ২০২২ সালের পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন শুম্বা। জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে এবার আট ম্যাচে ২২৩ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজের পর বুলাওয়ায়োতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে জিম্বাবুয়ে। কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ম্যাচগুলো হবে ১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই। জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড: সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), ব্রায়ান বেনেট, রায়ান বার্ল, বেন কারান, ব্র্যাড ইভান্স, ক্লাইভ মাডান্ডে, টিনোটেন্ডা মাপোসা, টাডিওয়ানাশে মারুমানি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, তাশিঙ্গা মুসেকিয়া, ব্লেসিং মুজারাবানি, ডিওন মেয়ার্স, রিচার্ড এনগারাভা, নিউম্যান নিয়ামুরি, মিল্টন শুম্বা।

মারিয়া রহমান জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ

দুর্দান্ত গতিতে ছুটছে স্পেন। ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাসের হাতছানি, ৯৬ বছরের অপেক্ষা কি ঘোচাবে স্পেন?

মিশর ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত

ফিফা থেকে রেকর্ড অঙ্কের পুরস্কার পাচ্ছে মিশর

ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের বহনকারী বিমান, ইনসেটে একমাত্র দেশে ফেরা ফুটবলার দানিলো লুইজ। সংগৃহীত ছবি
ভরাডুবির পর দেশে ফিরলেন শুধু ব্রাজিলের একজন খেলোয়াড়

বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেওয়ার পর ব্রাজিল দলে নেমেছে ভিন্ন এক বাস্তবতা। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর সেলেসাওদের বহনকারী বিমান ব্রাজিলে ফিরলেও ২৬ সদস্যের স্কোয়াড থেকে দেশে ফিরেছেন মাত্র একজন ফুটবলার।   ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লামেঙ্গোর ডিফেন্ডার দানিলো লুইজই ছিলেন একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) চার্টার্ড বিমানে দেশে ফেরেন। দলের বাকি খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্র থেকেই নিজ নিজ ক্লাব কিংবা ব্যক্তিগত ছুটির গন্তব্যে চলে যান।   রিও ডি জেনিরোতে বিমান অবতরণের প্রায় দুই ঘণ্টা পর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। দানিলোর সঙ্গে ছিলেন সিবিএফের নির্বাহী সমন্বয়ক রদ্রিগো কায়েতানো এবং টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর হুয়ান। তবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশায় দানিলো গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।   এদিকে দলের ব্যর্থতার পরও কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রতি আস্থা রেখেছে সিবিএফ। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে কায়েতানো জানান, কোচিং স্টাফের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই নতুন বিশ্বকাপ চক্রের পরিকল্পনা শুরু করা হবে।   তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। ফলাফল অবশ্যই প্রত্যাশিত হয়নি, তবে অনেক তরুণ খেলোয়াড় এই টুর্নামেন্টে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের প্রীতি ম্যাচগুলোর প্রস্তুতি শুরু করব।’   শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেওয়াকে হতাশাজনক উল্লেখ করে কায়েতানো বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আরও অনেক দূর যাওয়ার আশা করেছিলাম। তবে সামগ্রিকভাবে গত এক বছর চার মাসের কাজকে ইতিবাচক বলেই মূল্যায়ন করছি। যদি তা না হতো, তাহলে আনচেলত্তিকে দায়িত্বে রাখা হতো না।’   বিশ্বকাপ-পরবর্তী বিরতি শেষে আগামী সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করবে ব্রাজিল। সেই ম্যাচ থেকেই ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে হাঁটবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৮, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আর্জেন্টিনাকে টপকে বিশ্বকাপের মাঝপথে এক নম্বরে ফ্রান্স

ছবি : সংগৃহীত

নটিংহামে ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয়ে বিস্মিত সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী

ছবি: সংগৃহীত

'দিনের আলোয় ডাকাতি' আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ নিয়ে মরিনহো

0 Comments