আন্তর্জাতিক

৮০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, ৯৭ ফিলিস্তিনি নিহত

Unknown অক্টোবর ২০, ২০২৫

সুত্র: রয়টার্স

গাজায় মানবিক যুদ্ধবিরতির পরও থামছে না ইসরায়েলি হামলা। গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ৮০ বার যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ৯৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

 

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলায় নিহতদের বেশিরভাগই গাজার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের বেসামরিক মানুষ। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক। হাসপাতালগুলোতে জায়গার অভাবে অনেক আহতকে খোলা জায়গায় চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

 

গাজার সিভিল ডিফেন্স বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী বারবার নিরীহ মানুষের বসতবাড়ি, স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রে আঘাত করছে, যা সরাসরি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।

 

অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা হামাসের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করেই অভিযান চালাচ্ছে। তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, বেশিরভাগ হামলাই বেসামরিক এলাকায় হয়েছে, যেখানে সামরিক উপস্থিতির কোনো প্রমাণ নেই।

 

জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা (UNOCHA) জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় মানবিক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। খাদ্য, পানি, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকটে মানুষ দিশেহারা।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মহলের জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রশাসন। তারা বলছে, ইসরায়েলের লাগাতার হামলা যুদ্ধবিরতিকে অর্থহীন করে তুলছে এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
কানাডার ইউরোপমুখী যাত্রা ‘বড় ভুল’: ওয়াশিংটন পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার আগ্রহ কানাডার না-ই থাকতে পারে, কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮তম সদস্য হওয়ার চেষ্টা করাটা তাদের জন্য হঠকারিতা হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন পোস্ট।   বুধবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ব্যাপক আয়োজন করে কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই আমন্ত্রণের উদ্দেশ্য তুলে ধরতে গিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের সম্পাদকীয়তে লিখেছে, উৎপাদন, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাত— সব দিক থেকে অটোয়াকে ওয়াশিংটন থেকে ব্রাসেলসমুখী করতে চাইছে ইউরোপীয় কমিশন। এ বিষয়ে আগামী মাসের সম্মেলনে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে। ‘মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে’ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একাট্টা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ওয়াশিংটন পোস্টের চোখে, কার্নি মূলত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ক্ষোভ থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে দূরে সরে যেতে চাইছেন। যে জোট উত্তর আমেরিকার জন্য বিপুল সমৃদ্ধি বয়ে এনেছে, সেখানে বিচ্ছেদ ঘটে গেলে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের ভাষায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে তুলে ধরে। কিন্তু মুক্ত বাণিজ্যের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও জটিল সম্পর্ক রয়েছে। তারা জোটের অভ্যন্তরীণ একক বাজারে ২৭টি সদস্য দেশকে সুবিধা দেয় এবং পণ্য সরবরাহকে সহজ ও উন্মুক্ত করে। কিন্তু জোটের বাইরের দেশগুলোর ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সুরক্ষাবাদী প্রবণতা রয়েছে। তারা বাণিজ্যে নানা বাধা তৈরি করে। এছাড়া অন্যান্য দেশের সঙ্গে তারা সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ব্রাসেলসের মাধ্যমে বাণিজ্য চুক্তি করতে বাধ্য করে। ওয়াশিংটন পোস্ট প্রশ্ন তুলেছে, জাপান বা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ইউরোপের আমলাদের দ্বারা নির্ধারিত হলে বিষয়টি কেমন হবে, তা কি কানাডা ভেবে দেখেছে? ইউরোপীয় ইউনিয়নে কানাডার রাষ্ট্রদূত জনাথান উইলকিনসন বলেছেন, সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিতে হয়— এমন কোনো চুক্তিতে তার দেশ রাজি হবে না। কিন্তু জোটে যোগ দিলে কোনো না কোনো মূল্য দিতেই হয়। ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, বুধবার ফন ডার লিয়েন যে ‘প্রযুক্তি জোট’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে কি কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর কিছু তথ্য সুরক্ষা বিধিমালা মেনে নিয়ে কর দিতে হবে? অথবা কানাডাকে কি ডিজিটাল সেবা কর চালু করতে হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার তিন মাসের মাথায় কার্নিকে এমন একটি কর আরোপের সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে হয়েছিল? আইসল্যান্ডের ইইউয়ে যোগ দেওয়ার স্থগিত থাকা আলোচনা পুনরায় চালু হবে কিনা, তা নিয়ে সেখানে গেল মাসে একটি গণভোট হয়। তাতে ভোটাররা আলোচনা শুরুর সরকারি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে দেন। তাদের মূল উদ্বেগ হলো, ইউরো অঞ্চলের মাছ ধরার কোটা দ্বীপ রাষ্ট্রটির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। কারণ তাদের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই আসে এই খাত থেকে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেকে নিয়ন্ত্রক পরাশক্তি মনে করে। জননীতির এমন কোনো ক্ষেত্র নেই বললেই চলে, যেখানে তারা কঠোর নিয়মের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে না। এসব নিয়ম প্রায়ই জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে আসে। এর ফলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোট একটি বড় উদাহরণ। ওয়াশিংটন পোস্ট মনে করে, কার্নির সঙ্গে ফন ডার লিয়েনের ঘনিষ্ঠতার আগ্রহের মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, ট্রাম্প কী মাত্রায় তাদের দীর্ঘদিনের মিত্রদের দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু সময় অনেক ক্ষত সারিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রেও কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক মাত্র দুই বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে নতুন করে সাজানোর সুযোগ আসছে। কারণ, ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে নতুন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু এর মধ্যে যদি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ চলতে থাকে, তাহলে কী পরিস্থিতি দাঁড়াবে? সম্পাদকীয়র শেষভাগে ওয়াশিংটন পোস্ট উত্তরে লিখেছে, “এর ভয়াবহ পরিণতি সীমান্তের দুই পাশে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আর ততদিনে কানাডার মানুষ হয়তো নিজেদের ব্রাসেলসের আমলাদের শক্ত নিয়ন্ত্রণে আবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাবেন।”

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি-হুতির পাল্টাপাল্টি হামলা, প্রাণ বাঁচাতে পালাচ্ছেন ইয়েমেনিরা

ছবি: সংগৃহীত

দলের নাম-প্রতীক হারানোর পর মুখ খুললেন মমতা

ছবি: সংগৃহীত

এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ায় ফিজিতে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে জুমার নামাজের সময় মসজিদের বাইরে বিস্ফোরণ, নিহত ১৬

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কোহাট জেলায় জুমার নামাজের সময় একটি মসজিদের কাছে শক্তিশালী আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫০ জনের বেশি। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য ও ১১ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।   প্রদেশটির রাজধানী পেশোয়ার থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে পুরোনো পুলিশ লাইনসের কাছে ওই মসজিদটি অবস্থিত। শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে মসজিদের বাইরে বিস্ফোরণটি ঘটে।   বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলে একটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের অধিকাংশই মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লি।   কোহাট জেলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট (এমএস) তাহির আলী শাহ জিও নিউজকে জানান, হামলার পর হাসপাতালটিতে ১৫টি মরদেহ এবং ৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে আনা হয়েছে।   ডন-কে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) জুলফিকার হামিদও হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান। তিনি বলেন, একটি গাড়িতে থাকা আত্মঘাতী হামলাকারী প্রথমে ভবনের ফটকে আঘাত করে বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর কয়েকজন হামলাকারী কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের (সিটিডি) ভবনের দিকে এগিয়ে গেলে সেখানে তাদের নিষ্ক্রিয় করা হয়। আর তিনজন হামলাকারী স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের দিকে চলে যায়।   রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমদ ফয়জি জানান, বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।   এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি।   তথ্যসূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। ছবি: সংগৃহীত

ফের প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার ঘোষণা এরদোগানের

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে ইরানের পক্ষে চীন-রাশিয়ার ভেটো

ছবি: সংগৃহীত

তাইজে ২৪ ঘণ্টার সংঘাতে ৩০ হুথি নিহতের দাবি ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের সামরিক শক্তিকে সম্মান করে পাকিস্তান, অস্ত্র প্রতিযোগিতা নয়: ডিজি, আইএসপিআর

ভারতের সঙ্গে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়ানোর কোনো আগ্রহ পাকিস্তানের নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (ISPR)-এর মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ইসলামাবাদ ভারতের সামরিক সক্ষমতাকে সম্মান করে এবং পাকিস্তান কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসী পরিকল্পনা করছে না।   আল আরাবিয়া ইংলিশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্রকে ভারতের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ও প্রচলিত হামলা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ভারত প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে—এ বিষয়টি পাকিস্তান অবগত। তবে ইসলামাবাদ এটিকে দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো অস্ত্র প্রতিযোগিতার সূচনা হিসেবে দেখতে চায় না।   আহমেদ শরিফ চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানও অস্ত্র প্রতিযোগিতায় যেতে আগ্রহী নয়। তবে দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখার বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। তার দাবি, সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করা এবং প্রয়োজন হলে জবাব দেওয়ার মতো সক্ষমতা পাকিস্তানের রয়েছে।   সাক্ষাৎকারে ভারতের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গও উঠে আসে। ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট ওডিশার চাঁদিপুরের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে অগ্নি-৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ওই পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির প্রযুক্তিগত ও কার্যকরী বিভিন্ন মানদণ্ড যাচাই করা হয়েছে।   ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এসব উন্নয়ন নিয়ে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্যে আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্য এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।   দুই দেশই পারমাণবিক অস্ত্রধারী হওয়ায় তাদের সামরিক সক্ষমতার পরিবর্তন আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য সামরিক সক্ষমতার উন্নয়নও ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের নিরাপত্তা সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।   এদিকে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানের ওপরও জোর দিয়েছেন। তার বক্তব্যের সারকথা হলো, পাকিস্তান প্রকাশ্যে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা এড়িয়ে চলার কথা বললেও নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখার নীতিতে অটল রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিতর্কের মধ্যেই প্রথম বিমানবাহী রণতরী পেল ইন্দোনেশিয়া

সংগৃহীত ছবি

হুতিদের দমনে চীনের সহায়তা চায় সৌদি আরব

ছবি: সংগৃহীত

মিশিগানে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, নিরাপদে বের হলেন পাইলট

0 Comments