বিশ্ব

সেউতা সংকটকে হাতিয়ার বানাচ্ছে ইউরোপের কট্টর ডানপন্থিরা: নিউইয়র্ক টাইমস

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৩, ২০২৬
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

স্পেনের সেউতায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অভিবাসী অনুপ্রবেশের ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে আবারও নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার চেষ্টা করছে ইউরোপের কট্টর ডান রাজনীতিকরা। এমনকি মধ্যপন্থিরাও এই ইস্যুতে এমন পন্থা অবলম্বন করছেন, যা অভিবাসন সম্পর্কে উদার নীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে না; বরং ইউরোপ এ বিষয়ে কতটা কট্টর হতে পারে, তা তুলে ধরছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, ইউরোপে এই ধরনের সংকট এবার প্রথম দেখেনি। এর আগে ইতালি ও গ্রিসে ২০১৫ সালে সিরিয়া থেকে শরণার্থীর ঢল এসে হাজির হয়েছিল। সে সময় ইউরোপের মধ্যপন্থা ও উদার নীতির নেতারা যেভাবে বিষয়টি সামাল দিয়েছিলেন, তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে এবার।


স্পেনের ইস্যুকে নিজ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করতে শুরু করেছে ইতালির জর্জিয়া মেলোনির সরকার। চলতি বছর নির্বাচনে যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের। তার আগে এ রকম একটি ঘটনা তাদের পালে হাওয়া জোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 


সেউতা স্পেনের মূল ভূখণ্ড থেকে দূরে অবস্থিত এবং সেখানে অনুপ্রবেশকারী অভিবাসীদের ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশের পথ ছিল না। সেউতা শেনজেনেরও অংশ নয়। তারপরও স্পেন ইউরোপের চাপের মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে।


যে জার্মানির একসময়ের মধ্য-ডান নেতা অ্যাঞ্জেলা মার্কেল সিরীয় অভিবাসীদের নিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা এটি সামাল দিতে পারব’, সেই একই দেশের বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রেডেরিখে মার্জ মরক্কোর উদ্দেশে বলেছেন, ‘অবৈধ অভিবাসী ফেরত নিন এখনই।’ 


দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ বলছে, এই কট্টর ডান দলগুলো ২০১৫ সালে প্রান্তিক অবস্থায় ছিল। কিন্তু এখন তারা হয় ইউরোপের দেশগুলোতে ক্ষমতায় আছে, না হয় ক্ষমতায় যাওয়ার পথে আছে। ফলে ২০২৬ সালে এসে তারা অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রচলিত বয়ানই বদলে দিয়েছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে বৈরিতার মুখে পড়া এড়াতে ইউরোপের মধ্যপন্থি নেতারা এরই মধ্যে অভিবাসন নীতিতে অনেকটাই ডান ঘরানার নীতির দিকে ঝুঁকেছেন।


এ প্রসঙ্গে এইচইসি প্যারিসের অভিবাসন ও জলবায়ু ইস্যুর বিশেষজ্ঞ ফ্রানসয়স জেমেন্নে বলেন, ‘যদি মধ্যপন্থি নেতারা এমন কিছু দেখায়, যাতে বোঝা যায় যে তারা এসব ইস্যু নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না, তাহলে তারা এই বয়ানের খেলায় পুরোপুরি হেরে যাবেন। এ কারণে তারাও দেখাচ্ছেন যে তারা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।’ ডেনমার্ক থেকে শুরু করে ফ্রান্স পর্যন্ত নেতারা দ্রুতই স্পেনের এই অভিবাসীর ঢলের বিষয়ে নিন্দা জানিয়েছেন। এমনকি নিজেদের সীমান্তও অভিবাসীদের জন্য কঠোর করে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 


২০১৫ সালে সিরিয়া, আফগানিস্তান ও অন্যান্য দেশ থেকে ইউরোপে অভিবাসীর যে ঢল নেমেছিল, তা এখনও সেখানকার বাসিন্দাদের স্মৃতিতে অমলিন রয়েছে। সেবারের অভিবাসী সংকট থেকেই কিছু সমস্যার সূত্রপাত হয়েছিল, যা ইউরোপকে কট্টর ডানের পথে নিয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এখানে মূল সমস্যা অভিবাসী আসা নিয়ে নয়, বরং অনিয়ন্ত্রিতভাবে তাদের পৌঁছানো নিয়ে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

মুসলিমদের অজু ও এশীয়দের চাল ধোয়ায় পানি কমানোর পরামর্শ যুক্তরাজ্যের

  যুক্তরাজ্যের পানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফওয়াট মুসলিমদের অজুর সময় কম পানি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে এশীয় সম্প্রদায়কে চাল ধোয়ার সময়ও পানি কম ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।   অফওয়াটের অর্থায়নে পরিচালিত ‘ধর্ম ও বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়ে পানির দক্ষতা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। পানি অপচয় কমানো এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে পানি সাশ্রয় সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এর লক্ষ্য।   এই কর্মসূচির একটি উদ্যোগে সাউথ স্টাফোর্ডশায়ার ওয়াটার, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মতত্ত্ব অনুষদ এবং ব্রিটেনের প্রথম পরিবেশবান্ধব মসজিদ হিসেবে পরিচিত কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদসহ বিভিন্ন সংস্থা ও পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। কেমব্রিজে পরিচালিত পরীক্ষামূলক প্রকল্পে মুসলিমদের নামাজের আগে অজুর সময় মাত্র এক লিটার পানি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়।   অফওয়াটের তথ্য অনুযায়ী, এক লিটার পানির বোতল ব্যবহার করলে একজন ব্যক্তি প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫৫ লিটার পানি সাশ্রয় করতে পারেন। কারণ, অনেকে দিনে পাঁচবার অজু করার সময় কল ছেড়ে রেখে প্রতিবার প্রায় ১২ লিটার পর্যন্ত পানি ব্যবহার করেন। কেমব্রিজের এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৯০০ লিটার পানি সাশ্রয় হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।   উদ্যোগটির আওতায় ইসলামিক টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে পানি সাশ্রয়ের এই পরামর্শ ব্যাপকভাবে প্রচারের সুপারিশ করা হয়েছিল।   তবে পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেন মুসলিমদের অন্যদের তুলনায় বেশি পানি অপচয়ের জন্য দায়ী করছে, এমন ধারণা তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়। দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরেকটি পানি সাশ্রয়ী উদ্যোগে করদাতাদের প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড ব্যয় করা হয়। ওই উদ্যোগে ২০১৪ সালের ‘মাস্টারশেফ’ বিজয়ী সেলিব্রিটি শেফ পিং কুম্বস এশীয় সম্প্রদায়ের মানুষকে রান্না ও চাল ধোয়ার সময় কম পানি ব্যবহারের পদ্ধতি শেখান।   একটি ইউটিউব ভিডিওতে কুম্বস বলেন, চাল পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত পাঁচ থেকে সাতবার ধোয়া অনেকের সাধারণ অভ্যাস। তবে তার মতে, চাল এতবার ধোয়ার প্রয়োজন নেই।   তিনি নিজে চাল মাত্র দুবার ধোন বলে জানান। ‘করদাতাদের অর্থের অপচয়’   এই উদ্যোগের সমালোচকরা বলেছেন, পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত সাধারণ মানুষকে পানি সাশ্রয়ের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের পুরোনো ও ফুটো পাইপ মেরামতের দিকে বেশি নজর দেওয়া।   জুলাই মাসে গ্রিনপিস ইউকের এক গবেষণায় দেখা যায়, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ফুটো পাইপের কারণে প্রতিদিন প্রায় ২৮৭ কোটি লিটার পানি নষ্ট হচ্ছে। এই পরিমাণ পানি দিয়ে প্রায় ১ হাজার ১৫০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুল ভরানো সম্ভব।   গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, হোসপাইপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিলে যে পরিমাণ পানি সাশ্রয় করা সম্ভব, পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ফুটো পাইপ দিয়ে তার প্রায় পাঁচ গুণ বেশি পানি নষ্ট হচ্ছে।   পানি সাশ্রয় প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাজ্যে বিতর্ক   যুক্তরাজ্যে পানি সাশ্রয়ের একটি প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, সাধারণ মানুষকে পানি কম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়ার আগে পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজেদের অবকাঠামোর পানির অপচয় বন্ধ করা উচিত।   ক্যাবিনেট অফিসের ছায়া মন্ত্রী মাইক উড দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, পানি অপচয় কমানো ভালো উদ্যোগ। তবে এ ধরনের প্রকল্পে করদাতাদের অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   তিনি বলেন, ‘পানির অপচয় কমানো একটি ভালো উদ্দেশ্য। কিন্তু বড় সমস্যা হলো করদাতাদের অর্থের অপচয়। পরিবারগুলো এরই মধ্যে বাড়তি বিলের চাপের মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রথা পরিবর্তনের মতো প্রকল্পে তাদের অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে দেখে তারা খুশি হবে না।’ তবে যুক্তরাজ্যের পানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফওয়াটের এক মুখপাত্র বলেন, দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়া সবাইকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে পানি আরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করা দরকার। সীমিত ও মূল্যবান এই সম্পদ সংরক্ষণে সবারই ভূমিকা রয়েছে।   তিনি বলেন, পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা ও বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর সহযোগিতায় এই পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালানো হয়েছিল। বিভিন্ন সম্প্রদায়কে তাদের জীবনযাপন ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পানি সাশ্রয়ের বাস্তবসম্মত পরামর্শ দেওয়াই ছিল এর লক্ষ্য। প্রকল্পটি ২০২৫ সালের এপ্রিলে শেষ হয়।   অফওয়াটের মুখপাত্র আরো বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষকে কী করা যাবে বা যাবে না, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। ধর্মীয় উপাসনা বা প্রচলিত রীতিতেও হস্তক্ষেপ করা হয়নি। এদিকে জুন মাসে যুক্তরাজ্য সরকার ‘লেটস সেভ ওয়াটার’ নামে ৭ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের একটি প্রচারাভিযান শুরু করে। এতে দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে পানি ব্যবহার কমানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৪, ২০২৬

কীভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা ইরানের তেলের ব্যবসা পাল্টে দিল

ছবি: সংগৃহীত

টিকটক দেখে ভ্রমণের গন্তব্য বেছে নিচ্ছে জেন-জিরা

ছবি: সংগৃহীত

নাইজেরিয়ায় মসজিদে হামলা চালিয়ে ৬০-এর বেশি মুসল্লিকে অপহরণ

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে জয়শঙ্করের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সম্পর্ক তখনই সচল থাকবে যখন তা ‘পারস্পরিক স্বার্থের পরীক্ষায়’ উত্তীর্ণ হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি ঢাকা যুক্ত করার পর শনিবার (২২ আগস্ট) এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন মন্তব্য করলেন।   ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডার্স ফোরামে এক অধিবেশনে তারেক রহমান সরকারের শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জয়শঙ্কর বিষয়টির বিস্তারিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এড়িয়ে যান। তবে তিনি জানান, প্রতিবেশীরা কেবল ভারতের স্বার্থ অনুযায়ী কাজ করবে- এমনটা দিল্লি প্রত্যাশা করে না। বরং উভয় পক্ষ যেখানে সাধারণ জায়গায় ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে, সেখানেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মসৃণ হয়। জয়শঙ্কর বলেন, যেকোনও সম্পর্ক কার্যকর হতে হলে তা পারস্পরিক স্বার্থের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এটা তাদের জন্যও উপকারী হতে হবে, আমাদের জন্যও হতে হবে। আমি বাস্তববাদী, আমি আশা করি না প্রতিবেশীরা কেবল আমাদের স্বার্থ রক্ষার্থেই কাজ করবে। তারা যেমন আমাদের স্বার্থকে শ্রদ্ধা জানাবে, একইভাবে তাদের স্বার্থকেও আমাদের পর্যাপ্ত ও যৌক্তিকভাবে সম্মান করা উচিত। উল্লেখ্য ভারত ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য এবং বিমসটেক জোটের চেয়ারম্যান হিসেবে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সূত্র: উইয়ন নিউজ

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন আশিক মাহমুদ বিন হারুন

ছবি: সংগৃহীত

মৃতদেহের ভারে গাজায় ফুরিয়ে যাচ্ছে দাফনের জায়গা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বিমান অবতরণের মুহূর্তে ল্যাপটপে আগুন

ছবি: সংগৃহীত
জাপানে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প, আহত ২০ জনের বেশি

জাপানে পূর্বাঞ্চলে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। রোববার ভোরে ইবারাকি প্রিফেকচারের দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। তবে এর পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ খবর প্রকাশ করেছে।    জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৬৮ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। জাপানের সাত মাত্রার ভূমিকম্পের তীব্রতা স্কেলে ইবারাকি প্রিফেকচারের বিভিন্ন এলাকায় এবং টোকিওর কিছু অংশে পাঁচের নিচে তীব্রতা রেকর্ড করা হয়েছে।   ভূমিকম্পে সাইতামা, কানাগাওয়া ও চিবা প্রিফেকচারে ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাইতামায় এক তরুণ ও ৭০-এর বেশি বয়সী এক নারী রয়েছেন। কানাগাওয়ায় ৯ জন এবং চিবায় ৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।   ভূমিকম্পের প্রভাবে বিভিন্ন ট্রেন পরিষেবা বিলম্বিত হয়েছে। কিছু ট্রেন কম গতিতে চলাচল করেছে এবং তোবু রেলওয়ের কয়েকটি এক্সপ্রেস ট্রেনের চলাচল বন্ধ রাখা হয়।   ইবারাকির তোকাই-২ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ফুকুশিমা দাইইচি ও ফুকুশিমা দাইনি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি।   প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কর্মকর্তাদের ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা যাচাই এবং জনগণকে দ্রুত তথ্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।   জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করেছে, আগামী এক সপ্তাহ বিশেষ করে পরবর্তী দুই থেকে তিন দিনে একই ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্প হতে পারে। তাই বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পটির কম্পন উত্তর-পূর্ব ও মধ্য জাপানসহ দেশটির বিস্তৃত এলাকায় অনুভূত হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজকে ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ দেখিয়ে মানচিত্র পোস্ট ট্রাম্পের

সংগৃহীত ছবি

প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল হঠাৎ যুক্তরাজ্যে ফিরছেন, আসল কারণ কী?

ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরের ওড়িশা উপকূলে জাহাজডুবি, বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ২২

0 Comments