প্রযুক্তি

চ্যাটজিপিটির বানানো সাক্ষ্য আদালতে, আইনজীবীকে ৫ হাজার ডলার জরিমানা

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি তথ্য যাচাই না করে আদালতে জমা দেওয়ার খেসারত দিতে হলো যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর এক আইনজীবীকে। হত্যার মামলায় আপিলের শুনানির জন্য তৈরি করা নথিতে চ্যাটজিপিটির বানানো সাক্ষী ও পুলিশের মিথ্যা সাক্ষ্য ব্যবহারের ঘটনায় আইনজীবী স্টিফেন অ্যারনসকে ৫ হাজার ডলার জরিমানা এবং আদালত অবমাননার দায়ে দোষী করেছে নিউ মেক্সিকো সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি তাকে আইনজীবীদের শৃঙ্খলাবিষয়ক বোর্ডের তদন্তের জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের মার্চে। মার্কিন নাগরিক অস্কার রেনে স্যান্ডোভাল তার সন্তানদের মাকে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান। সেই হত্যা মামলার আপিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনজীবী অ্যারনস প্রথমে রিভডটকম ব্যবহার করে মামলার শুনানির অডিও থেকে এআই-নির্ভর প্রতিলিপি তৈরি করেন। এরপর সেই প্রতিলিপি, মামলার নথি ও আপিল-সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য চ্যাটজিপিটিতে দেন। 

 

তার ধারণা ছিল, এআই এসব তথ্য থেকে একটি নির্ভুল সারসংক্ষেপ তৈরি করতে পারবে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, এই জেনারেটেড নথিতে ভুল তথ্যের পাশাপাশি সম্পূর্ণ কাল্পনিক সাক্ষী ও পুলিশের বক্তব্য যুক্ত করা হয়।

 

আদালতের নথিতে এমন কাল্পনিক বক্তব্যও ছিল, যেখানে কথিতভাবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গাঢ় রঙের প্যান্ট ও সাদা শার্ট পরা অবস্থায় দেখানো হয়। চলতি বছরের ২১ আগস্টের শুনানিতে অ্যারনস জানান, চ্যাটজিপিটি যে এভাবে বানোয়াট তথ্য তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। এবিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অনুতপ্ত, তবে আশা করি শৃঙ্খলাবিষয়ক বোর্ড এটিকে সৎ ভুল (অনেস্ট মিসটেক) হিসেবেই বিবেচনা করবে।’

 

তবে বিচারপতি সি শ্যানন বেকন তার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি। মামলার শুনানিতে বিচারপতি বেকন বলেন, এআইয়ের ‘হ্যালুসিনেশন’ নিয়ে আইনজীবীদের সতর্কতার বিষয়টি এখন খবরের পাতায় নিত্যদিনের শিরোনাম হয়ে উঠেছে। তার ভাষ্য, এ ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে ছোট শিশু থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরাও অবগত।

 

এবিষয়ে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, আইনজীবী নিজে নথিতে স্বাক্ষর করলে সেটির তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্বও তারই।

 

ঘটনার পর অ্যারনসকে নিউ মেক্সিকো সুপ্রিম কোর্টে মামলায় আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত হওয়া থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আদালত তাঁকে অবমাননার দায়ে ৫ হাজার ডলার জরিমানা করেছে এবং এই অর্থ স্টেট বার অব নিউ মেক্সিকোর ক্লায়েন্ট প্রোটেকশন ফান্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি তার জমা দেওয়া আগের সব আপিল নথি বাতিল করে নতুন আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

গত ২ সেপ্টেম্বর মামলাটির দায়িত্ব পাবলিক ডিফেন্ডার কিম শ্যাভেজ কুকের কাছে দেওয়া হয়। ফলে নতুন আইনজীবীর মাধ্যমে আপিলের কার্যক্রম আবার শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রযুক্তি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
চ্যাটজিপিটির বানানো সাক্ষ্য আদালতে, আইনজীবীকে ৫ হাজার ডলার জরিমানা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি তথ্য যাচাই না করে আদালতে জমা দেওয়ার খেসারত দিতে হলো যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর এক আইনজীবীকে। হত্যার মামলায় আপিলের শুনানির জন্য তৈরি করা নথিতে চ্যাটজিপিটির বানানো সাক্ষী ও পুলিশের মিথ্যা সাক্ষ্য ব্যবহারের ঘটনায় আইনজীবী স্টিফেন অ্যারনসকে ৫ হাজার ডলার জরিমানা এবং আদালত অবমাননার দায়ে দোষী করেছে নিউ মেক্সিকো সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি তাকে আইনজীবীদের শৃঙ্খলাবিষয়ক বোর্ডের তদন্তের জন্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।   ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের মার্চে। মার্কিন নাগরিক অস্কার রেনে স্যান্ডোভাল তার সন্তানদের মাকে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান। সেই হত্যা মামলার আপিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনজীবী অ্যারনস প্রথমে রিভডটকম ব্যবহার করে মামলার শুনানির অডিও থেকে এআই-নির্ভর প্রতিলিপি তৈরি করেন। এরপর সেই প্রতিলিপি, মামলার নথি ও আপিল-সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য চ্যাটজিপিটিতে দেন।    তার ধারণা ছিল, এআই এসব তথ্য থেকে একটি নির্ভুল সারসংক্ষেপ তৈরি করতে পারবে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, এই জেনারেটেড নথিতে ভুল তথ্যের পাশাপাশি সম্পূর্ণ কাল্পনিক সাক্ষী ও পুলিশের বক্তব্য যুক্ত করা হয়।   আদালতের নথিতে এমন কাল্পনিক বক্তব্যও ছিল, যেখানে কথিতভাবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গাঢ় রঙের প্যান্ট ও সাদা শার্ট পরা অবস্থায় দেখানো হয়। চলতি বছরের ২১ আগস্টের শুনানিতে অ্যারনস জানান, চ্যাটজিপিটি যে এভাবে বানোয়াট তথ্য তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। এবিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অনুতপ্ত, তবে আশা করি শৃঙ্খলাবিষয়ক বোর্ড এটিকে সৎ ভুল (অনেস্ট মিসটেক) হিসেবেই বিবেচনা করবে।’   তবে বিচারপতি সি শ্যানন বেকন তার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি। মামলার শুনানিতে বিচারপতি বেকন বলেন, এআইয়ের ‘হ্যালুসিনেশন’ নিয়ে আইনজীবীদের সতর্কতার বিষয়টি এখন খবরের পাতায় নিত্যদিনের শিরোনাম হয়ে উঠেছে। তার ভাষ্য, এ ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে ছোট শিশু থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরাও অবগত।   এবিষয়ে আদালত স্পষ্ট করে জানায়, আইনজীবী নিজে নথিতে স্বাক্ষর করলে সেটির তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্বও তারই।   ঘটনার পর অ্যারনসকে নিউ মেক্সিকো সুপ্রিম কোর্টে মামলায় আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত হওয়া থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আদালত তাঁকে অবমাননার দায়ে ৫ হাজার ডলার জরিমানা করেছে এবং এই অর্থ স্টেট বার অব নিউ মেক্সিকোর ক্লায়েন্ট প্রোটেকশন ফান্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি তার জমা দেওয়া আগের সব আপিল নথি বাতিল করে নতুন আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।   গত ২ সেপ্টেম্বর মামলাটির দায়িত্ব পাবলিক ডিফেন্ডার কিম শ্যাভেজ কুকের কাছে দেওয়া হয়। ফলে নতুন আইনজীবীর মাধ্যমে আপিলের কার্যক্রম আবার শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডিভাইন আইটিকে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিবাদ: অভিযোগ, বক্তব্য ও তথ্যের আলোকে

বার্ষিক সাধারণ সভা করল বিআইজেএফ। সংগৃহীত ছবি

বিআইজেএফের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

ছবি: সংগৃহীত

গ্রামীণফোন একাডেমিতে ৪ লাখ নিবন্ধন, চাহিদার শীর্ষে এআই কোর্স

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ছবি: সংগৃহীত
দেশে মোবাইল সংযোগ ১৯ কোটি ১০ লাখ, ফোর-জি ব্যবহার ১০ কোটি ৮০ লাখ: আইসিটি মন্ত্রী

চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১৯১ মিলিয়ন বা ১৯ কোটি ১০ লাখ মোবাইল সংযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।   সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটি (এপিটি) ওয়্যারলেস গ্রুপের ৩৭তম সভার (এডব্লিউজি-৩৭) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   এ সময় শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়, গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।   মন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১৯১ মিলিয়ন (১৯ কোটি ১০ লাখ) মোবাইল সাবস্ক্রিপশন রয়েছে যার মধ্যে ১০৮ মিলিয়নের (১০ কোটি ৮০ লাখ) বেশি গ্রাহক ফোরজি সেবা ব্যবহার করছেন। তিনি জানান, দেশে ৪৯ হাজারের বেশি ফোরজি সাইট, প্রায় ৪৬ হাজার টাওয়ার এবং এক লাখ ৭৩ হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক রয়েছে।’   ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘তাই এখন শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়, গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও ফাইভজিসহ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতেও বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’   তিনি বলেন, ‘সরকার দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করা, সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত ও টেলিযোগাযোগ সেবা আরও সাশ্রয়ী করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং প্রযুক্তিনির্ভর অন্যান্য শিল্পে ডিজিটাল সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।’   বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এপিটির মহাসচিব ড. মাসানোরি কোন্দো এবং এপিটির ওয়্যারলেস গ্রুপের সভাপতি ড. দাইজুং কিম, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞসহ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান, কমিশনারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ফাইল ছবি

চ্যাটজিপিটিতে বড় বিভ্রাট, প্রভাব পড়ল বিভিন্ন সেবায়

জীবন্ত মানব মস্তিষ্কের কোষে চলছে এই কম্পিউটার। ছবি: রয়টার্স

সিলিকন চিপের বদলে কম্পিউটারে মানুষের মস্তিষ্কের কোষ!

ছবি: সংগৃহীত

ব্যক্তিগত হেলিকপ্টারের দাম কত, এক ঘণ্টায় তেল লাগে কত?

ছবি: সংগৃহীত
উসাইন বোল্টকে ছাড়িয়ে গতির বিশ্ব রেকর্ড গড়ল রোবট সুপারম্যান

বিশ্বের দ্রুততম মানব উসাইন বোল্টকে দৌড়ে হারিয়ে দিতে সক্ষম নতুন মানবাকৃতির রোবট তৈরি করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। ট্র্যাকে দৌড়ানোর একটি ভিডিওতে ‘সুপারম্যান’ নামের এই প্রোটোটাইপ রোবটকে ঘণ্টায় ২৮.৩ মাইল বা প্রতি সেকেন্ডে ১২.৬৬ মিটার গতি তুলতে দেখা গেছে। ২০০৯ সালের ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে জ্যামাইকান স্প্রিন্টার উসাইন বোল্ট ঘণ্টায় ২৭.৭৮ মাইল বা প্রতি সেকেন্ডে ১২.৪২ মিটার গতিতে দৌড়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। আর তাই প্রযুক্তি ও গতিবিদ্যার সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের শারীরিক সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে নতুন রোবটটি।   উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রোবট কুকুর ও মানবাকৃতির রোবট তৈরির জন্য পরিচিত চীনের হাংঝৌভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি রোবটটির নকশা করেছে। ভিডিওর আরেকটি অংশে দেখা গেছে, স্থির অবস্থা থেকে রোবটটি ওপরের দিকে দুই মিটার লাফ দিচ্ছে, যা ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টোফার স্পেলের গড়া ১.৭ মিটার বা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চির লম্বালম্বি লাফানোর বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ইউনিট্রি তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে ভিডিও প্রকাশ করে লিখেছে, ‘ইউনিট্রির নতুন রোবটের ট্রেইলার: সুপারম্যান ভেঙে দিচ্ছে মানবজাতির সীমা।’ প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, রোবটটি তৈরি করতে মাত্র তিন মাসের কিছু বেশি সময় লেগেছে। এর পায়ের দৈর্ঘ্য মাত্র ০.৮৫ মিটার বা ২.৮ ফুট। ছোট পদক্ষেপ নিয়ে এমন বিস্ময়কর গতি তোলা অত্যন্ত চমকপ্রদ। রোবটের উচ্চতা, ওজন, ব্যাটারি ক্ষমতা কিংবা লাফানোর পরীক্ষা কতবার করা হয়েছে সেই বিস্তারিত কারিগরি তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি ইউনিট্রি। এর আগে ইউনিট্রির তৈরি এইচ১ মডেলের মানবাকৃতির রোবট প্রতি সেকেন্ডে ১০ মিটার বা ঘণ্টায় ২২.৩ মাইল গতিতে দৌড়ে শিরোনামে এসেছিল। রোবটটির দৌড়ানোর ধরন নিয়ে অনেকে রসিকতা করলেও এটির ক্ষমতা সবাইকে চমকে দিয়েছে। রোবটটির দ্রুতগতিতে লাফ দেওয়া ও দৌড়ানোর এই ক্ষমতা প্রমাণ করে আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত যন্ত্র মানুষের দৈনন্দিন কাজ এবং উদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। প্রযুক্তি বিশ্লেষক মা জিহুয়ার ধারণা, ভবিষ্যতে হিউম্যানয়েড রোবট কঠিন ভূখণ্ড, দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে সহজে কাজ করতে পারবে।   সূত্র: ডেইলি মেইল

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সেপ্টেম্বর থেকে আবারও বাড়তে পারে স্মার্টফোনের দাম

ছবি: সংগৃহীত

ডেস্কটপে হোয়াটসঅ্যাপ লগ-ইনে সমস্যা? জেনে নিন সমাধান

ছবি: সংগৃহীত

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে পারবেন যেসব দেশের মানুষ

0 Comments