প্রযুক্তি

ডিভাইন আইটিকে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিবাদ: অভিযোগ, বক্তব্য ও তথ্যের আলোকে

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় গত ৮ সেপ্টেম্বর ‘রাষ্ট্রীয় সংস্থার আইটি সেবায় এখনো জয়ের বন্ধুর কোম্পানি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডিভাইন আইটি লিমিটেড এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসানকে ঘিরে রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের আইটি প্রকল্পে কাজ পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ ও তথ্য তুলে ধরা হয়।

 

প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর ডিভাইন আইটি কর্তৃপক্ষ এর প্রতিবাদ জানিয়ে একটি লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করে। সেখানে প্রতিবেদনে উল্লিখিত কয়েকটি তথ্য ও অভিযোগের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছে।

 

খবর৭১-এর পাঠকদের জন্য মূল প্রতিবেদনের দাবি এবং ডিভাইন আইটির বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো এখানে পৃথকভাবে তুলে ধরা হলো।

 

মূল প্রতিবেদনে যে অভিযোগ ও তথ্য তুলে ধরা হয়েছে

 

দৈনিক আমার দেশের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ)-এর মতো প্রতিষ্ঠানে ডিভাইন আইটির আইটি সেবা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

 

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প পাওয়া হয়েছে।

 

এছাড়া ‘আমরা প্রবাসী’ প্রকল্প, জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা সংস্থা এবং বিএমটিএফ-এ ডিভাইন আইটির কাজ বা সেবা প্রদানের বিষয়ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

 

ডিভাইন আইটির বক্তব্য

 

প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়ে ডিভাইন আইটির সিইও ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান দাবি করেন, প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠান ও তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।

 

প্রতিষ্ঠানের প্রতিবাদলিপিতে প্রধানত যেসব বিষয় বলা হয়েছে:

 

- রাজনৈতিক যোগাযোগের দাবি: সজীব ওয়াজেদ জয় বা সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল না বলে দাবি করেছেন ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান।

 

- ‘আমরা প্রবাসী’ প্রকল্প: ডিভাইন আইটির দাবি, ‘আমরা প্রবাসী’ প্রকল্পের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না।

 

- বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা: প্রতিবেদনে উল্লিখিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকল্প এবং জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা সংস্থাকে ডিভাইন আইটি তাদের গ্রাহক তালিকার অংশ নয় বলে দাবি করেছে।

 

- বিএমটিএফের ERP সেবা: বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে ডিভাইন আইটি ERP সেবা দিয়েছে—প্রতিবেদনের এই তথ্যও প্রতিষ্ঠানটি অস্বীকার করেছে।

 

- আইনি ও দরপত্র প্রক্রিয়া: ডিভাইন আইটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পে প্রচলিত আইন, নিয়ম এবং দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ করেছে।

 

তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব

 

এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, টেন্ডার ডকুমেন্ট, চুক্তিপত্র, প্রকল্পের কার্যাদেশ এবং অন্যান্য যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।

 

একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম বা বিশেষ সুবিধা নেওয়ার মতো অভিযোগ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ দেওয়াও সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 

ডিভাইন আইটির পক্ষ থেকে প্রতিবেদনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে এসব দাবির চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

 

খবর৭১-এর পর্যবেক্ষণ

 

ডিভাইন আইটি লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের ইতিহাস রয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।

 

তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা যেমন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সত্য বা মিথ্যা প্রমাণ করে না, তেমনি রাজনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগও কেবল সম্পর্কের দাবি বা অনুমানের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না।

 

সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের বিষয়ে অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং যাচাইযোগ্য দাপ্তরিক তথ্য—এই তিনটি বিষয় পৃথকভাবে উপস্থাপন করাই অধিকতর বস্তুনিষ্ঠ পদ্ধতি।

 

ডিভাইন আইটির প্রতিবাদে প্রতিবেদনে উল্লিখিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। এসব দাবির সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও স্বাধীন যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

খবর৭১ মনে করে, দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে ঘিরে অভিযোগের ক্ষেত্রে তথ্যের যথাযথ যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং প্রমাণভিত্তিক সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অনুসন্ধান ও প্রকাশ করাও গণমাধ্যমের দায়িত্ব

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রযুক্তি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ডিভাইন আইটিকে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিবাদ: অভিযোগ, বক্তব্য ও তথ্যের আলোকে

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় গত ৮ সেপ্টেম্বর ‘রাষ্ট্রীয় সংস্থার আইটি সেবায় এখনো জয়ের বন্ধুর কোম্পানি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডিভাইন আইটি লিমিটেড এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসানকে ঘিরে রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের আইটি প্রকল্পে কাজ পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ ও তথ্য তুলে ধরা হয়।   প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর ডিভাইন আইটি কর্তৃপক্ষ এর প্রতিবাদ জানিয়ে একটি লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করে। সেখানে প্রতিবেদনে উল্লিখিত কয়েকটি তথ্য ও অভিযোগের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছে।   খবর৭১-এর পাঠকদের জন্য মূল প্রতিবেদনের দাবি এবং ডিভাইন আইটির বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো এখানে পৃথকভাবে তুলে ধরা হলো।   মূল প্রতিবেদনে যে অভিযোগ ও তথ্য তুলে ধরা হয়েছে   দৈনিক আমার দেশের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ)-এর মতো প্রতিষ্ঠানে ডিভাইন আইটির আইটি সেবা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।   প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প পাওয়া হয়েছে।   এছাড়া ‘আমরা প্রবাসী’ প্রকল্প, জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা সংস্থা এবং বিএমটিএফ-এ ডিভাইন আইটির কাজ বা সেবা প্রদানের বিষয়ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   ডিভাইন আইটির বক্তব্য   প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়ে ডিভাইন আইটির সিইও ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান দাবি করেন, প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠান ও তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।   প্রতিষ্ঠানের প্রতিবাদলিপিতে প্রধানত যেসব বিষয় বলা হয়েছে:   - রাজনৈতিক যোগাযোগের দাবি: সজীব ওয়াজেদ জয় বা সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল না বলে দাবি করেছেন ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান।   - ‘আমরা প্রবাসী’ প্রকল্প: ডিভাইন আইটির দাবি, ‘আমরা প্রবাসী’ প্রকল্পের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না।   - বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা: প্রতিবেদনে উল্লিখিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকল্প এবং জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা সংস্থাকে ডিভাইন আইটি তাদের গ্রাহক তালিকার অংশ নয় বলে দাবি করেছে।   - বিএমটিএফের ERP সেবা: বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে ডিভাইন আইটি ERP সেবা দিয়েছে—প্রতিবেদনের এই তথ্যও প্রতিষ্ঠানটি অস্বীকার করেছে।   - আইনি ও দরপত্র প্রক্রিয়া: ডিভাইন আইটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পে প্রচলিত আইন, নিয়ম এবং দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ করেছে।   তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব   এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, টেন্ডার ডকুমেন্ট, চুক্তিপত্র, প্রকল্পের কার্যাদেশ এবং অন্যান্য যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।   একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম বা বিশেষ সুবিধা নেওয়ার মতো অভিযোগ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ দেওয়াও সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   ডিভাইন আইটির পক্ষ থেকে প্রতিবেদনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে এসব দাবির চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।   খবর৭১-এর পর্যবেক্ষণ   ডিভাইন আইটি লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের ইতিহাস রয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।   তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের পূর্ববর্তী কাজের অভিজ্ঞতা যেমন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সত্য বা মিথ্যা প্রমাণ করে না, তেমনি রাজনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগও কেবল সম্পর্কের দাবি বা অনুমানের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না।   সাংবাদিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের বিষয়ে অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং যাচাইযোগ্য দাপ্তরিক তথ্য—এই তিনটি বিষয় পৃথকভাবে উপস্থাপন করাই অধিকতর বস্তুনিষ্ঠ পদ্ধতি।   ডিভাইন আইটির প্রতিবাদে প্রতিবেদনে উল্লিখিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। এসব দাবির সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও স্বাধীন যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   খবর৭১ মনে করে, দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের যেকোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে ঘিরে অভিযোগের ক্ষেত্রে তথ্যের যথাযথ যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং প্রমাণভিত্তিক সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অনুসন্ধান ও প্রকাশ করাও গণমাধ্যমের দায়িত্ব

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
বার্ষিক সাধারণ সভা করল বিআইজেএফ। সংগৃহীত ছবি

বিআইজেএফের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

ছবি: সংগৃহীত

গ্রামীণফোন একাডেমিতে ৪ লাখ নিবন্ধন, চাহিদার শীর্ষে এআই কোর্স

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ছবি: সংগৃহীত

দেশে মোবাইল সংযোগ ১৯ কোটি ১০ লাখ, ফোর-জি ব্যবহার ১০ কোটি ৮০ লাখ: আইসিটি মন্ত্রী

ফাইল ছবি
চ্যাটজিপিটিতে বড় বিভ্রাট, প্রভাব পড়ল বিভিন্ন সেবায়

বড় ধরনের কারিগরি বিভ্রাটের কারণে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ওপেনএআইয়ের এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবটের ওয়েবসাইটে ঢুকতে গিয়ে অনেক ব্যবহারকারী নানা ধরনের অস্বাভাবিক আচরণের মুখোমুখি হচ্ছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট থেকে একটি অচেনা ফাইল ডাউনলোডের চেষ্টাও দেখা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে (বৃহস্পতিবার রাত ১০টা) এ সমস্যা ঠিক হয়েছে। চ্যাটজিপিটি ব্যবহারে সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেই সংবাদ হয়েছে। ডাউনডডিটেকটরের ওয়েবসাইট চ্যাটজিপিটি বিভ্রাট নিয়ে অনেক অভিযোগও জমা পড়েছে। চ্যাটজিপিটি কাজ না করায় অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মজা করে বলেছেন, এবার কাজে নিজেদের মেধাই ব্যবহার করতে হবে। তবে এই বিভ্রাটের প্রভাব শুধু চ্যাটজিপিটিতেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সুবিধার জন্য ওপেনএআইয়ের প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল বেশ কিছু ওয়েবসাইট ও অ্যাপেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। এদিকে চ্যাটজিপিটির পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী কয়েকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেবায়ও সমস্যার কথা জানিয়েছেন কিছু ব্যবহারকারী। অ্যানথ্রপিকের ক্লড এবং এক্সের গ্রক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব সেবায় সমস্যার ব্যাপকতা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। অনেক ব্যবহারকারী স্বাভাবিকভাবে সেবাগুলো ব্যবহার করতে পেরেছেন। বন্ধ হওয়ার বিষয়ে চ্যাটজিপিটিকের প্রশ্ন করলে উত্তর আসে এমন, ‘...তবে আজকের ঘটনাটা শুধু চ্যাটজিপিটিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না-ক্লড ও গ্রকও একই সময়ে সমস্যায় পড়েছিল, আর কিছু অঞ্চলে জেমিনাইতের সমস্যা দেখা যায়। আর মজার ব্যাপার হলো, ৩ সেপ্টেম্বরের আগেও কয়েক দিনের মধ্যে চ্যাটিজিপিটিতে একাধিক ছোটখাটো ইনসিডেন্ট হয়েছিল—যেমন ৩১ আগস্ট ওয়ার্ক মোডে ল্যাটেন্সি/এরর এবং ১ সেপ্টেম্বর ফ্রি/গো ব্যবহারকারীদের কথোপকথনে এলিভেটেড এররস হয়েছিল। তাই আপনি যদি আজ আমাকে কিছুক্ষণ আগে না পেয়ে থাকেন, সম্ভবত আপনার দোষ ছিল না।’ সূত্র: ইনডিপেনডেন্ট ডটকো ডটইউকে, ডাউনডডিটেক্টর, হিন্দুস্তান টাইমস

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
জীবন্ত মানব মস্তিষ্কের কোষে চলছে এই কম্পিউটার। ছবি: রয়টার্স

সিলিকন চিপের বদলে কম্পিউটারে মানুষের মস্তিষ্কের কোষ!

ছবি: সংগৃহীত

ব্যক্তিগত হেলিকপ্টারের দাম কত, এক ঘণ্টায় তেল লাগে কত?

ছবি: সংগৃহীত

উসাইন বোল্টকে ছাড়িয়ে গতির বিশ্ব রেকর্ড গড়ল রোবট সুপারম্যান

ছবি: সংগৃহীত
সেপ্টেম্বর থেকে আবারও বাড়তে পারে স্মার্টফোনের দাম

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মোবাইল চিপ নির্মাতা কোয়ালকম আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের বিভিন্ন সেমিকন্ডাক্টর পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সময়ে প্রকাশিত কোম্পানির তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলেও দেখা গেছে, স্মার্টফোন বাজারে চাপ বাড়লেও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের সংকট মোকাবিলায় মূল্য সমন্বয়ের পথেই হাঁটছে প্রতিষ্ঠানটি। যার ফলে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে আগামী প্রজন্মের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলোর খুচরা দামে।   এক বিজ্ঞপ্তিতে কোয়ালকম জানায়, গত কয়েক মাসে মেমোরি ও সাবস্ট্রেটসহ যাবতীয় কাঁচামালের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনই বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ডেটা সেন্টার তৈরির বিশাল জোয়ার চিপের বাজারে নতুন সংকট তৈরি করেছে। এই চাপ আরও বেড়েছে কোয়ালকমের প্রধান উৎপাদন অংশীদার তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিকে (টিএসএমসি) ঘিরে। সাধারণত অ্যাপল, এনভিডিয়া, কোয়ালকমসহ বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চিপ তৈরি করে থাকে টিএসএমসি। যদিও প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করছে, তবুও ধারণা করা হচ্ছে সরবরাহ সংকট ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।   নিকি এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিএসএমসি গ্রাহক ও অর্ডারের পরিমাণভেদে চিপের উৎপাদন মূল্য ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। আর সেই অতিরিক্ত ব্যয় এবং নিজস্ব মুনাফার মার্জিন ধরে রাখতেই কোয়ালকমও গ্রাহকদের জন্য চিপের দাম বাড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোয়ালকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস্টিয়ানো অ্যামন আর্থিক ফলাফল প্রকাশের সময় বলেন, সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার পরিস্থিতির কারণে এখন মূল্য সমন্বয় অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে।   তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক প্রান্তিকে মোট রাজস্ব ৯.৯৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও মূল হ্যান্ডসেট চিপ খাতে আয় ২০ শতাংশ কমে ৫.০৯ বিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। অতিরিক্ত মূল্যের দরুন অনেক গ্রাহকই এখন দামি ফ্ল্যাগশিপের পরিবর্তে সাশ্রয়ী ফোনের দিকে ঝুঁকছেন।   বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরের ওপর স্যামসাং, শাওমি, ওয়ানপ্লাস, অনার, মটোরোলা, আসুসসহ অধিকাংশ অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারার নির্ভরশীল। যার ফলে চিপের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শেষ পর্যন্ত নতুন স্মার্টফোনের খুচরা দামেই পড়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শেষ ভাগ এবং ২০২৭ সালের শুরুতে বাজারে আসা ফ্ল্যাগশিপ ও প্রিমিয়াম অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলোর দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।   সূত্র: কোয়ালকম ডট কম

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডেস্কটপে হোয়াটসঅ্যাপ লগ-ইনে সমস্যা? জেনে নিন সমাধান

ছবি: সংগৃহীত

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখতে পারবেন যেসব দেশের মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রিতে ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু করল ফেসবুক

0 Comments