অর্থনীতি

দুই মাস পর পুঁজিবাজারে সাপ্তাহিক লেনদেনে গতি বাড়লো

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০১, ২০২৫ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা দুই মাস পর সাপ্তাহিক লেনদেনে কিছুটা গতি ফিরেছে। গত সপ্তাহে (২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর) সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।

 

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ২৮৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৪৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা বা প্রায় ৭ শতাংশ বেশি। আগের সপ্তাহে (১৯ থেকে ২৩ অক্টোবর) লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ১৩৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার।

 

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ৩৯২টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৭টির, কমেছে ১৭৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৬টির।

 

সূচক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২৮ পয়েন্ট কমে ৫,১২২ পয়েন্টে নেমেছে। ডিএসই-৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে ১,৯৮৮ পয়েন্টে এবং ডিএসইএস সূচক ৬ পয়েন্ট কমে ১,০৮৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

 

প্রতি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৫৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেশি। তবে বাজার মূলধন কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে প্রায় ৫ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা কম।

 

অন্যদিকে, দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ও লেনদেন উভয়ই কমেছে। প্রধান সূচক সিএএসপিআই ০.৮৮ শতাংশ কমে ১৪,২৮৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৯৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বেশি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
এশিয়ায় জ্বালানি তেলের সংকট বেশি

এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি তেল ও গ্যাসের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের ৬০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনা হয়। প্রতি চার ব্যারেল ক্রুড তেলের মধ্যে এক ব্যারেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই তেল হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আমদানি করা হয়।   শিপিং অ্যানালিটিক্স কম্পানি কেপলারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এশিয়া থেকে প্রতিদিন ২৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল কেনা হয়, যার মধ্যে ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী ১৪.৭৪ মিলিয়ন ব্যারেল আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এশিয়ার দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি তেল রপ্তানি করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাক।   মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল দেশ হলো জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। জাপান তাদের চাহিদার ৯৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়া তাদের চাহিদার ৭০ শতাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। ২০২৪ সালে সিঙ্গাপুরও তেল আমদানির পরিমাণ ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশ চীন। দেশটি দৈনিক ৫.৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। এছাড়া তারা রাশিয়া ও কানাডা থেকেও তেল নিয়ে থাকে।   উত্তর এশিয়ার দেশগুলোতে জাহাজে তেল পৌঁছাতে ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতে তেল আসতে এক সপ্তাহের কম সময় লাগে।   ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় এশিয়ার দেশগুলোতে তেলের সংকট নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ড ইতিমধ্যেই তেলের দাম নির্ধারণের প্রস্তুতি নিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং জানিয়েছেন, পেট্রলের দাম নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ তাদের দেশের অর্থনীতির ওপর বিশাল বোঝা সৃষ্টি করেছে।   থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল সাধারণ মানুষকে আহবান জানিয়েছেন, যাতে তারা তেল মজুদ না করেন। এ ছাড়া আগামী ১৫ দিনের জন্য তেলের দাম বেঁধে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গত কয়েক দিন ধরে দেশটির পেট্রল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং অনেক পাম্পে সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম।   ভিয়েতনামের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাময়িকভাবে জ্বালানি পণ্যের ওপর থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফিলিপিন্সেও জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।   সংঘাত চলতে থাকলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে। এক বছরে তেলের দাম ১০ শতাংশ বাড়লে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ০.৪ শতাংশ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ০.১–০.২ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। তিনি জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ে বক্তব্যে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া নতুন সংঘাত দীর্ঘদিন চললে বাজারে স্পষ্ট প্রভাব পড়বে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ভর্তুকির চাপে দিশেহারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত

ছবি: ডিসিসিআই

বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে শক্তিশালী আর্থিক সংস্কারের প্রস্তাব ডিসিসিআই’র

স্বর্ণের দাম আরেক দফা কমেছে। সংগৃহীত ছবি

দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন

ছবি: সংগৃহীত
মূল্যস্ফীতি আবার বাড়ল

মূল্যস্ফীতি আবার ৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। যার অর্থ, নয় মাস পর আবার ৯ শতাংশের ঘরে গেল মূল্যস্ফীতি। গত বছরের মে মাসে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল।   গত বছরের এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ। গত বছরের এপ্রিল মাসের পর ফেব্রুয়ারি মাসের মূল্যস্ফীতিই সর্বোচ্চ।   বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, পণ্য ও সেবার মূল্য সূচক ফেব্রুয়ারিতে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ হয়েছে। জানুয়ারিতে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।   মূলত খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণেই মূল্যস্ফীতি এ পর্যায়ে পৌঁছেছে।   বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য মূল্যস্ফীতি জানুয়ারির ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ হয়েছে।   এতে স্থানীয় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম চড়া হয়েছে বলে বোঝা যায়।   একই সময়ে খাদ্য-বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। জানুয়ারিতে খাদ্য-বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশ ৮১ শতাংশ থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ৯ দশমিক ০১ শতাংশে পৌঁছায়।   অর্থাৎ, আবাসন, পরিবহণ, পোশাক ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে দাম বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।   গত বছরের বেশি সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ক্রমাগত আরও বাড়ছে।     সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও ১২ মাসের গড় হিসাবে জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি ছিল, যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ০৯, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ১৫ জাহাজ

ছবি: সংগৃহীত

আকুর বিল দেওয়ায় রিজার্ভ কমল

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি ‘আতঙ্কে’ শেয়ারবাজারে বড় দরপতন

ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানির মজুত নিয়ে সুখবর দিলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

দেশে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মধ্যেই জ্বালানির মজুত বাড়ার সুখবর দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানিয়েছেন, নতুন করে দুটি জাহাজ নোঙর করায় দেশের জ্বালানি মজুত আরও বৃদ্ধি পাবে।   রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব–এ উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, রোববার সকাল ১১টার দিকে একটি জ্বালানিবাহী জাহাজ নোঙর করেছে এবং দুপুরের দিকে আরও একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এই দুটি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস হলে দেশের মজুত পরিস্থিতি আরও স্বস্তিদায়ক হবে।   তবে চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আপাতত রেশনিং ব্যবস্থা চালু রাখা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। যেহেতু যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা ঘটছে, তাই বিদ্যমান জ্বালানি মজুত সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   মন্ত্রী আরও বলেন, যুদ্ধ কতদিন চলবে তা এখনো অনিশ্চিত। তাই আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবেই সরকার এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি জ্বালানি খাতে পড়েছে। তিনি বলেন, “আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছি। ঋণের বোঝা নিয়ে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। এর মধ্যেই যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, ফলে প্রতিদিনই জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হচ্ছে।”   এ সময় জ্বালানির দাম বাড়ানো নিয়ে গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিরোধী পক্ষের পক্ষ থেকে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ানো হবে। তবে আপাতত জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তিনি আরও বলেন, “আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি মজুত করার প্রয়োজন নেই। দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।” সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে ১০টি জ্বালানিবাহী জাহাজ

হঠাৎ সয়াবিন তেল সরবরাহে সংকট। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে সয়াবিন তেলের সংকট, বাড়ছে দাম

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে জ্বালানিবাহী ৮ জাহাজ

0 Comments