জাতীয়

চাল ও সবজিতেও ক্ষতিকর আর্সেনিক : ঝুঁকিতে খাদ্য নিরাপত্তা

খবর৭১ ডেস্ক, নভেম্বর ০১, ২০২৫

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুতই নিচে নামছে। ফলে পানিতে আর্সেনিকের ঘনত্ব বেড়ে বহু জেলায় তা নিরাপদ সীমা অতিক্রম করেছে। এতে খাবার ও সেচের পানির সংকট দেখা দিচ্ছে, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করছে। 

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) একদল গবেষক দেশের উৎপাদিত চাল ও সবজিতেও ক্ষতিকর মাত্রায় আর্সেনিক শনাক্ত করেছেন, যা মানবদেহে প্রবেশ করে লিভার ও কিডনির ভয়াবহ ক্ষতি করছে। 

গত ১৪ জুন ’টক্সিকোলজি রিপোর্টস’ (এলসেভিয়ার) নামক আন্তর্জাতিক জার্নালে এই তথ্য প্রকাশিত হয়। এর আগে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত চলা এই গবেষণা বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের অর্থায়নে সম্পন্ন হয়েছে। 

গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে চাঁদপুর জেলার দুটি আর্সেনিক-দূষিত উপজেলা হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তিতে। ওই এলাকার পানি, মাটি, চাল ও সবজি পরীক্ষা করে দেখা যায়, আর্সেনিক-দূষিত মাটি ও পানিতে উৎপন্ন চাল ও সবজি প্রাণীর দেহে এমন মাত্রায় বিষক্রিয়া ঘটায়, যা সরাসরি লিভার, কিডনি ও রক্তে ভয়াবহ ক্ষতির সৃষ্টি করছে। 

গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদপুর জেলা থেকে সংগৃহীত চাল ও সবজির (ঢেঁকি শাক, লাউ শাক, মানকচু) নমুনায় আর্সেনিকের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত সীমার তুলনায় বহুগুণ বেশি। পানিতে আর্সেনিক পাওয়া গেছে প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ০.৩৭৩ মিলিগ্রাম, যা স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ সীমার (০.০১ মিলিগ্রাম/লিটার) প্রায় ৩০ গুণ বেশি। একইভাবে মাটিতে আর্সেনিকের সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল প্রতি কিলোগ্রামে ৩২.৫১ মিলিগ্রাম, যা বৈশ্বিক গড়ের (১০ মিলিগ্রাম/কেজি) প্রায় তিন গুণ। প্রতি কিলোগ্রাম চালে আর্সেনিকের মাত্রা পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ০.৯১ মিলিগ্রাম, যা স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত নিরাপদ সীমার (০.৩৭ মিলিগ্রাম/কেজি) দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া, শাক-সবজির মধ্যে ঢেঁকি শাকে আর্সেনিকের মাত্রা পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ১.৯৩ মিলিগ্রাম, যা বৈশ্বিক নিরাপদ সীমার (০.৫ মিলিগ্রাম/কেজি) প্রায় চার গুণ বেশি। 

গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন চবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. লায়লা খালেদা। এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাংশনাল জিনোমিক্স এন্ড প্রোটিওমিক্স ল্যাবরেটরির গবেষণা সহযোগী মো. মাজহারুল আলম এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রভাষক যারীন তাসনিমসহ আরও অনেকে। এছাড়া গবেষণা নমুনার টিস্যুবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে সহযোগিতা করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান। 

গবেষকরা ইঁদুর মডেলে আর্সেনিক দূষিত খাবারের প্রভাব পরীক্ষা করতে ছয়টি গ্রুপ তৈরি করেন। প্রথম গ্রুপে সাধারণ খাবার ও পানি দেওয়া হয়, যা ‘নেগেটিভ কন্ট্রোল’। দ্বিতীয় গ্রুপে সাধারণ খাবারের সঙ্গে সোডিয়াম আর্সেনাইট দেওয়া হয়, যা ‘পজিটিভ কন্ট্রোল’। তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রুপে যথাক্রমে আর্সেনিকমুক্ত এবং আর্সেনিক-দূষিত চাল প্রদান করা হয়। পঞ্চম ও ষষ্ঠ গ্রুপে আর্সেনিকমুক্ত ও আর্সেনিক-দূষিত ঢেঁকি শাক দেওয়া হয়। এইভাবে ছয়টি গ্রুপের মাধ্যমে গবেষকরা আর্সেনিক দূষিত খাবারের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন করেন।

আর্সেনিক-দূষিত চাল ও সবজি উইস্টার অ্যালবিনো ইঁদুরের খাদ্যে ব্যবহারের ১২০ দিনের মধ্যে দেখা গেছে, পর্যায়ক্রমে ইঁদুরের স্বাভাবিক খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমে গেছে এবং দেহের ওজন হ্রাস পেয়েছে। নমুনা পরীক্ষায় আরো দেখা গেছে, প্রাণীর রক্তে হিমোগ্লোবিন, লোহিত ও শ্বেত রক্ত কণিকা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা অ্যানিমিয়া ও দুর্বল ইমিউন সিস্টেমকে নির্দেশ করে। লিভার এনজাইম (অ্যাএলটি, অ্যাএসটি) ও কিডনি সূচক (ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন) বেড়েছে, যা অঙ্গ বিকলতার লক্ষণ।

টিস্যু পরীক্ষায় (হিস্টোপ্যাথলজি) লিভার ও কিডনির কোষ ক্ষয় পরিলক্ষিত হয়েছে, সেই সাথে কোষে ফ্যাট জমা ও প্রদাহের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এই ফলাফলগুলো ইঙ্গিত দেয়, নিয়মিত আর্সেনিক দূষিত খাবার গ্রহণ করলে মানুষের ক্ষেত্রেও একই রকম দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থাৎ লিভার, কিডনি কিংবা অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। 

গবেষকদের দাবি, বাংলাদেশে আর্সেনিক দূষণ নতুন কিছু নয়। গত দুই দশকে বহু গবেষক দেশের বিভিন্ন জেলার চাল, সবজি, মাটি ও পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি রিপোর্ট করেছেন। খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে আর্সেনিক কিভাবে জীবদেহে প্রবেশ করে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে কোনো পরীক্ষামূলক প্রমাণ আগে পাওয়া যায়নি। তারা বলছেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণা মূলত বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত প্রথম বৈজ্ঞানিক কাজ, যেখানে প্রাকৃতিকভাবে দূষিত চাল ও সবজি প্রাণীর খাদ্যে ব্যবহার করে এর ক্ষতিকর প্রভাব দেখা হয়েছে। 

এ বিষয়ে গবেষণা সহযোগী মো. মাজহারুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশে এতদিন আর্সেনিক দূষণকে মূলত পানীয় জলের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু এই গবেষণায় আমরা দেখিয়েছি, প্রতিদিনের খাদ্যও এখন এই আর্সেনিকের নীরব বিষের বাহক। তাই, এখনই জাতীয় পর্যায়ে খাদ্যশস্যে আর্সেনিকের মাত্রা পর্যবেক্ষণ চালু করা জরুরি। নয়তো ভবিষ্যতে লিভার, কিডনি ও ক্যান্সারসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যাবে।’

প্রভাষক যারীন তাসনিম বলেন, ‘আমরা দেখেছি আমাদের প্রতিদিনের খাবার আর্সেনিক-দূষিত মাটি ও পানিতে জন্মানোর মাধ্যমে অজান্তেই নীরব ঘাতক হিসেবে আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে, যা শিশু, নারী ও বয়স্কদের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ফেলছে।’ 

অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় প্রথমবারের মতো প্রাকৃতিক পরিবেশে আর্সেনিক দ্বারা দূষিত খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রাণীর টিস্যু স্তরে এর সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এটি এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক, কারণ বাস্তব পরিস্থিতিতে মানুষ বা প্রাণী যেভাবে খাদ্যের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আর্সেনিকের সংস্পর্শে আসে, সেটিই আমরা পরীক্ষামূলকভাবে দেখাতে চেষ্টা করেছি।’

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ‘এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি আমাদের দেশের বাস্তব সমস্যাকে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে প্রমাণ করেছে। আমরা দেখেছি, আর্সেনিক দূষিত সেচের পানি কৃষিজ মাটিতে গিয়ে সেখানে উৎপাদিত ফসলের মাধ্যমে খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এটি শুধু একটি বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা।’ 

গবেষণা প্রধান অধ্যাপক ড. লায়লা খালেদা বলেন, ‘বাংলাদেশে এর আগেও অনেক গবেষণায় চাল ও সবজিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কিন্তু সেগুলো মূলত আর্সেনিকের পরিমাণ শনাক্তকরনেই সীমাবদ্ধ ছিল। আমাদের গবেষণার উদ্দেশ্য ছিলো খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে আসা আর্সেনিক দূষিত খাদ্যশস্যের প্রকৃত জৈবিক প্রবণতা প্রাণীর শরীরে কতটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা। গবেষণায় দেখা গেছে, আর্সেনিকযুক্ত চাল ও সবজি কিছু মাস খাওয়ানোর পর ইঁদুরের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায় এবং যকৃত ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর্সেনিকের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, কিডনি ফেইলিওর, লিভার সিরোসিস, চর্মরোগ ও অন্যান্য ক্রনিক রোগের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন প্রয়োজন একটি জাতীয় মনিটরিং সেল চালু করা। যার মাধ্যমে সেচের পানি, মাটি এবং খাদ্যশস্য নিয়মিত পরীক্ষার আওতায় আনা যাবে। আমরা যদি এখনই পদক্ষেপ না নেই, আর্সেনিক দূষণ দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন রোগের মাধ্যমে পুরো জাতির স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। সরকার ও নীতিনির্ধারকদের উচিত অবিলম্বে খাদ্যশস্যে আর্সেনিক দূষণের মাত্রা পরীক্ষণ শুরু করা।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
তামাক কোম্পানির নতুন নতুন ফাঁদ

বিশ্বব্যাপী তামাক নিয়ন্ত্রণ জোরদার হওয়ায় প্রথাগত সিগারেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমছে।   ২০০০ সালে বিশ্বে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন, যা ২০২৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২০ বিলিয়নে।   কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো এখন আর প্রথাগত সিগেরেট নিয়ে বসে নাই। তারাদের টার্গেট শিশু-কিশোর, নতুন প্রজন্ম। ‘কম ক্ষতিকর’, ‘স্মোক-ফ্রি’ বা ‘ধূমপান ছাড়ার সহায়ক’ এমন মিথ্যা তথ্যের নতুন নতুন ফাঁদে আটকাচ্ছে নতুন প্রজন্মকে। নতুন নতুন কৌশলে বাজারজাত করছে ই-সিগারেট, ভেপিং, হিটেড টোব্যাকো ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন প্রজন্মের নিকোটিন পণ্য।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাজারে বর্তমানে ১৬ হাজারের বেশি সুগন্ধিযুক্ত তামাক ও নিকোটিন পণ্য রয়েছে। বাবলগাম, চকলেট, চেরি, মিন্ট এমন নানা ফ্লেভারে তৈরি পণ্য শিশু-কিশোরদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। অনেক ই-সিগারেট ইউএসবি ড্রাইভ, কলম বা খেলনার আদলে ডিজাইন করা হচ্ছে।   বর্তমানে বিশ্বে অন্তত দেড় কোটি কিশোর-কিশোরী নিয়মিত ই-সিগারেট ব্যবহার করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা, রঙিন ডিজাইন, সুগন্ধি ও সেলিব্রেটি মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে তামাক কোম্পানিগুলো।   গবেষণায় দেখা গেছে, ই-সিগারেট ব্যবহারকারী শিশু-কিশোরদের মধ্যে পরবর্তীতে প্রথাগত সিগারেট ব্যবহারের ঝুঁকি প্রায় তিনগুণ বেশি।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, ই-সিগারেটের প্রধান ভোক্তা ১৩-১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা, যাদের বড় অংশ আগে কখনো ধূমপায়ী ছিল না।   টিকটক, ইউটিউব, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে এগুলোর প্রচারণা চলছে ব্যাপকভাবে। গবেষণায় দেখা গেছে, তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ এমন দেশগুলোতেও তরুণদের বড় অংশ নিয়মিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ই-সিগারেটের প্রচারণা দেখে।

আক্তারুজ্জামান মে ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাবিতে শিশু সুরক্ষায় চালু হচ্ছে গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের আমের বাজার হতে পারে জাপান ও মালয়েশিয়া

ছবি: সংগৃহীত

প্রজনন সুরক্ষায় ৩ মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে সুন্দরবন, জীবিকার শঙ্কায় বনজীবীরা

সংগৃহীত ছবি
সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের দুঃখ প্রকাশ

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় হামলার ঘটনার পর রাতেই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই দুঃখপ্রকাশ করে।   বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অব্যাহত পরিদর্শন এবং বিপুলসংখ্যক সাংবাদিকের উপস্থিতির কারণে হাসপাতালের সেবাদানকারী কর্মীরা কয়েকদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও বিভিন্ন সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদেরও অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে। শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। মন্ত্রীর হাসপাতাল ত্যাগের পর বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক হাসপাতালে প্রবেশের চেষ্টা করলে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বার্থে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের প্রবেশ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে।   আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথোপকথনের একপর্যায়ে একজন সাংবাদিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ‘ঝাড়ুদার’ বলে সম্বোধন করেন। এতে কর্মীরা অপমানিত বোধ করেন এবং উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের হাসপাতাল ত্যাগের অনুরোধ জানান। সে সময় উপস্থিত হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং কর্মীদের নিবৃত্ত করতে উদ্যোগও নেন বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। আদ্-দ্বীন হাসপাতাল জানায়, তারা সব সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করে আসছে। তারপরও ৩০ মে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হাসপাতাল কর্মীদের অনিচ্ছাকৃত আচরণে গণমাধ্যমকর্মীদের মনে কোনো কষ্টের সৃষ্টি হয়ে থাকলে তারা বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।   উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে থাকা ছয় নবজাতক মারা যায়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। পরিদর্শনে শেষে হাসপাতালের কলেজ ভবনের আটতলায় একটি বেকারি কারখানা পাওয়ার কথা জানান তিনি। বেকারি কারখানা থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে নবজাতকদের ক্ষতি করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান মন্ত্রী। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন ও বেকারির সন্ধান পাওয়ার খবর পেয়ে সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালটিতে যান সংবাদকর্মীরা। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিদর্শন শেষে চলে যাওয়ার পরপরই হাসপাতালটির সবগুলো প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে হাসপাতালটির নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন। একপর্যায়ে দুইপক্ষ বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দিতে যান। তাদের উপস্থিতিতেই গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হন হাসপাতালটির নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। সাংবাদিকদের ধাওয়া দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া ও কয়েকজনকে মারধর করা হয়।

মারিয়া রহমান মে ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশী বীর

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)

ইসি’র গলার কাঁটা এখন ইভিএম

সংগৃহীত ছবি

জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদ নয়, হবে নতুন কারাগার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তামাকমুক্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়তে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

তামাক ও নিকোটিনের মরণঘাতী প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ দেশের আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (৩১ মে) ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ ২০০৩ সালে এফসিটিসিতে স্বাক্ষর, ২০০৪ সালে অনুসমর্থন এবং ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। পরবর্তীতে এই আইনকে আরো শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনও আনা হয়েছে। তিনি বলেন, তামাকে বিদ্যমান নিকোটিন মারাত্মক আসক্তি সৃষ্টি করে। বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা, গুলসহ যে কোনো তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার এবং ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগসহ অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি আরো বলেন, তামাকের প্রলোভন থেকে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষার লক্ষ্যে তামাকজাত দ্রব্যের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রমোশন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অ্যাপস, ওটিটি প্ল্যাটর্ফম, নাটক-সিনেমাসহ সব মাধ্যমেই তামাকের প্রচারণা নিষিদ্ধ। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাক কম্পানির প্রচার-প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১৮ বছরের নিচে তামাক ও নিকোটিন পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারেক রহমান বলেন, নতুন বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি। জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যর বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগে ঘটে, যার একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, তামাক ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্য ব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনীতিতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

মারিয়া রহমান মে ৩১, ২০২৬
ফাইল ফটো

সব গ্রেডে ৫০% বৃদ্ধি নাকি ১১ গ্রেড থেকে দ্বিগুণ? যা থাকছে নবম পে-স্কেলে

ছবি : সংগৃহীত

ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে সোমবার খুলছে অফিস-আদালত

ছবি : সংগৃহীত

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছে নগরবাসী

0 Comments