জাতীয়

চাল ও সবজিতেও ক্ষতিকর আর্সেনিক : ঝুঁকিতে খাদ্য নিরাপত্তা

খবর৭১ ডেস্ক, নভেম্বর ০১, ২০২৫ 0

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুতই নিচে নামছে। ফলে পানিতে আর্সেনিকের ঘনত্ব বেড়ে বহু জেলায় তা নিরাপদ সীমা অতিক্রম করেছে। এতে খাবার ও সেচের পানির সংকট দেখা দিচ্ছে, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করছে। 

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) একদল গবেষক দেশের উৎপাদিত চাল ও সবজিতেও ক্ষতিকর মাত্রায় আর্সেনিক শনাক্ত করেছেন, যা মানবদেহে প্রবেশ করে লিভার ও কিডনির ভয়াবহ ক্ষতি করছে। 

গত ১৪ জুন ’টক্সিকোলজি রিপোর্টস’ (এলসেভিয়ার) নামক আন্তর্জাতিক জার্নালে এই তথ্য প্রকাশিত হয়। এর আগে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত চলা এই গবেষণা বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের অর্থায়নে সম্পন্ন হয়েছে। 

গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে চাঁদপুর জেলার দুটি আর্সেনিক-দূষিত উপজেলা হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তিতে। ওই এলাকার পানি, মাটি, চাল ও সবজি পরীক্ষা করে দেখা যায়, আর্সেনিক-দূষিত মাটি ও পানিতে উৎপন্ন চাল ও সবজি প্রাণীর দেহে এমন মাত্রায় বিষক্রিয়া ঘটায়, যা সরাসরি লিভার, কিডনি ও রক্তে ভয়াবহ ক্ষতির সৃষ্টি করছে। 

গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদপুর জেলা থেকে সংগৃহীত চাল ও সবজির (ঢেঁকি শাক, লাউ শাক, মানকচু) নমুনায় আর্সেনিকের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত সীমার তুলনায় বহুগুণ বেশি। পানিতে আর্সেনিক পাওয়া গেছে প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ০.৩৭৩ মিলিগ্রাম, যা স্বাস্থ্য সংস্থার নিরাপদ সীমার (০.০১ মিলিগ্রাম/লিটার) প্রায় ৩০ গুণ বেশি। একইভাবে মাটিতে আর্সেনিকের সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল প্রতি কিলোগ্রামে ৩২.৫১ মিলিগ্রাম, যা বৈশ্বিক গড়ের (১০ মিলিগ্রাম/কেজি) প্রায় তিন গুণ। প্রতি কিলোগ্রাম চালে আর্সেনিকের মাত্রা পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ০.৯১ মিলিগ্রাম, যা স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত নিরাপদ সীমার (০.৩৭ মিলিগ্রাম/কেজি) দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া, শাক-সবজির মধ্যে ঢেঁকি শাকে আর্সেনিকের মাত্রা পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ১.৯৩ মিলিগ্রাম, যা বৈশ্বিক নিরাপদ সীমার (০.৫ মিলিগ্রাম/কেজি) প্রায় চার গুণ বেশি। 

গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন চবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. লায়লা খালেদা। এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাংশনাল জিনোমিক্স এন্ড প্রোটিওমিক্স ল্যাবরেটরির গবেষণা সহযোগী মো. মাজহারুল আলম এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রভাষক যারীন তাসনিমসহ আরও অনেকে। এছাড়া গবেষণা নমুনার টিস্যুবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে সহযোগিতা করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান। 

গবেষকরা ইঁদুর মডেলে আর্সেনিক দূষিত খাবারের প্রভাব পরীক্ষা করতে ছয়টি গ্রুপ তৈরি করেন। প্রথম গ্রুপে সাধারণ খাবার ও পানি দেওয়া হয়, যা ‘নেগেটিভ কন্ট্রোল’। দ্বিতীয় গ্রুপে সাধারণ খাবারের সঙ্গে সোডিয়াম আর্সেনাইট দেওয়া হয়, যা ‘পজিটিভ কন্ট্রোল’। তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রুপে যথাক্রমে আর্সেনিকমুক্ত এবং আর্সেনিক-দূষিত চাল প্রদান করা হয়। পঞ্চম ও ষষ্ঠ গ্রুপে আর্সেনিকমুক্ত ও আর্সেনিক-দূষিত ঢেঁকি শাক দেওয়া হয়। এইভাবে ছয়টি গ্রুপের মাধ্যমে গবেষকরা আর্সেনিক দূষিত খাবারের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন করেন।

আর্সেনিক-দূষিত চাল ও সবজি উইস্টার অ্যালবিনো ইঁদুরের খাদ্যে ব্যবহারের ১২০ দিনের মধ্যে দেখা গেছে, পর্যায়ক্রমে ইঁদুরের স্বাভাবিক খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমে গেছে এবং দেহের ওজন হ্রাস পেয়েছে। নমুনা পরীক্ষায় আরো দেখা গেছে, প্রাণীর রক্তে হিমোগ্লোবিন, লোহিত ও শ্বেত রক্ত কণিকা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা অ্যানিমিয়া ও দুর্বল ইমিউন সিস্টেমকে নির্দেশ করে। লিভার এনজাইম (অ্যাএলটি, অ্যাএসটি) ও কিডনি সূচক (ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন) বেড়েছে, যা অঙ্গ বিকলতার লক্ষণ।

টিস্যু পরীক্ষায় (হিস্টোপ্যাথলজি) লিভার ও কিডনির কোষ ক্ষয় পরিলক্ষিত হয়েছে, সেই সাথে কোষে ফ্যাট জমা ও প্রদাহের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এই ফলাফলগুলো ইঙ্গিত দেয়, নিয়মিত আর্সেনিক দূষিত খাবার গ্রহণ করলে মানুষের ক্ষেত্রেও একই রকম দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থাৎ লিভার, কিডনি কিংবা অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। 

গবেষকদের দাবি, বাংলাদেশে আর্সেনিক দূষণ নতুন কিছু নয়। গত দুই দশকে বহু গবেষক দেশের বিভিন্ন জেলার চাল, সবজি, মাটি ও পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি রিপোর্ট করেছেন। খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে আর্সেনিক কিভাবে জীবদেহে প্রবেশ করে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে কোনো পরীক্ষামূলক প্রমাণ আগে পাওয়া যায়নি। তারা বলছেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণা মূলত বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত প্রথম বৈজ্ঞানিক কাজ, যেখানে প্রাকৃতিকভাবে দূষিত চাল ও সবজি প্রাণীর খাদ্যে ব্যবহার করে এর ক্ষতিকর প্রভাব দেখা হয়েছে। 

এ বিষয়ে গবেষণা সহযোগী মো. মাজহারুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশে এতদিন আর্সেনিক দূষণকে মূলত পানীয় জলের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু এই গবেষণায় আমরা দেখিয়েছি, প্রতিদিনের খাদ্যও এখন এই আর্সেনিকের নীরব বিষের বাহক। তাই, এখনই জাতীয় পর্যায়ে খাদ্যশস্যে আর্সেনিকের মাত্রা পর্যবেক্ষণ চালু করা জরুরি। নয়তো ভবিষ্যতে লিভার, কিডনি ও ক্যান্সারসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যাবে।’

প্রভাষক যারীন তাসনিম বলেন, ‘আমরা দেখেছি আমাদের প্রতিদিনের খাবার আর্সেনিক-দূষিত মাটি ও পানিতে জন্মানোর মাধ্যমে অজান্তেই নীরব ঘাতক হিসেবে আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে, যা শিশু, নারী ও বয়স্কদের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ফেলছে।’ 

অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় প্রথমবারের মতো প্রাকৃতিক পরিবেশে আর্সেনিক দ্বারা দূষিত খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রাণীর টিস্যু স্তরে এর সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এটি এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক, কারণ বাস্তব পরিস্থিতিতে মানুষ বা প্রাণী যেভাবে খাদ্যের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে আর্সেনিকের সংস্পর্শে আসে, সেটিই আমরা পরীক্ষামূলকভাবে দেখাতে চেষ্টা করেছি।’

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ‘এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি আমাদের দেশের বাস্তব সমস্যাকে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে প্রমাণ করেছে। আমরা দেখেছি, আর্সেনিক দূষিত সেচের পানি কৃষিজ মাটিতে গিয়ে সেখানে উৎপাদিত ফসলের মাধ্যমে খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এটি শুধু একটি বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা।’ 

গবেষণা প্রধান অধ্যাপক ড. লায়লা খালেদা বলেন, ‘বাংলাদেশে এর আগেও অনেক গবেষণায় চাল ও সবজিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কিন্তু সেগুলো মূলত আর্সেনিকের পরিমাণ শনাক্তকরনেই সীমাবদ্ধ ছিল। আমাদের গবেষণার উদ্দেশ্য ছিলো খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে আসা আর্সেনিক দূষিত খাদ্যশস্যের প্রকৃত জৈবিক প্রবণতা প্রাণীর শরীরে কতটা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা। গবেষণায় দেখা গেছে, আর্সেনিকযুক্ত চাল ও সবজি কিছু মাস খাওয়ানোর পর ইঁদুরের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায় এবং যকৃত ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর্সেনিকের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, কিডনি ফেইলিওর, লিভার সিরোসিস, চর্মরোগ ও অন্যান্য ক্রনিক রোগের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন প্রয়োজন একটি জাতীয় মনিটরিং সেল চালু করা। যার মাধ্যমে সেচের পানি, মাটি এবং খাদ্যশস্য নিয়মিত পরীক্ষার আওতায় আনা যাবে। আমরা যদি এখনই পদক্ষেপ না নেই, আর্সেনিক দূষণ দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন রোগের মাধ্যমে পুরো জাতির স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। সরকার ও নীতিনির্ধারকদের উচিত অবিলম্বে খাদ্যশস্যে আর্সেনিক দূষণের মাত্রা পরীক্ষণ শুরু করা।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
গণভোট ইস্যুতে সংসদে আসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

গণভোটের রায়কে সম্মান জানাতে হলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে আগে সংসদে অংশ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।   বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর করতে হলে আগে সংসদে যেতে হবে। সেখানে আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নতুন করে শপথ গ্রহণসহ অন্যান্য বিষয়ও নির্ধারিত সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন হবে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।   সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ। যারা দাবি করেন যে নির্বাচনে চক্রান্তের মাধ্যমে তাদের পরাজিত করা হয়েছে, তাদের জন্য সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখা নাজায়েজ। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পর সমালোচক অনেক রাজনৈতিক দলও ওই সনদে স্বাক্ষর করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সংবিধান মেনেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। গণভোটের রায় কার্যকর করতে হলে সংসদে আলোচনা অপরিহার্য। বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করবে এবং উপরাষ্ট্রপতির পদসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আগে সংসদে আসতে হবে, তারপর গণভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। যতটুকু বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, ততটুকু বাস্তবায়ন করা হবে। সব পক্ষের আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতেই সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ দাবির অভিযোগ, তদন্ত শুরু

ছবি : সংগৃহীত

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হলেন প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস

ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট বাড়াচ্ছে ইউএস-বাংলা, যুক্ত হলো শারজাহ ও আবুধাবি

সংগৃহীত ছবি
প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিতে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খুলেছে মন্ত্রণালয়

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি অবস্থায় প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিতকল্পে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। প্রবাসী কল সেন্টার, লিফট-৭, প্রবাসী কল্যাণ ভবন, ইস্কাটন, ঢাকায় এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ)  হতে সোমবার (১৬ মার্চ)  পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত এ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু থাকবে এবং এতে ৩ শিফ্টে ২১ জন কর্মকর্তা ও ৪২ জন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণকক্ষের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় থাকবেন ওয়েজ আর্নারস কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মসংস্থান-১ শাখার উপসচিব মো. হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল। এ ছাড়া অফিস আদেশে কার্যপরিধি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আজ থেকে নিয়ন্ত্রণকক্ষে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে বিদেশস্থ শ্রমকল্যাণ উইংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবেন এবং ছক মোতাবেক তথ্যাদি সংগ্রহপূর্বক ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তার কাছে জমা প্রদান করবেন।

মারিয়া রহমান মার্চ ১০, ২০২৬ 0

সংসদ উপনেতা ও স্পিকার পদে ৮, ডেপুটি স্পিকারে ৪ নাম আলোচনায়

রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে অনুষ্ঠান।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি : উদ্বোধনের আগেই অর্থ পেলেন সুবিধাভোগীরা

বিএনপি নির্বাচিত না হলে মহিলাদের বিপদ ছিল : নায়াব ইউসুফ এমপি

ছবি : সংগৃহীত
টাঙ্গাইলে মধুপুর বনের লেকের সংস্কার শুরু

 টাঙ্গাইল মধুপুর জীববৈচিত্র রক্ষা এবং বন্য প্রাণীর পানির সঙ্কট নিরসনে গড়গড়িয়া লেক সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। লেক ও পুন:খনন ও সংস্কারের কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এদিকে লেক পুন:খননের কারণে উজানের আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কাা করছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টির একটি অংশ। লেকটির সংস্কারের ফলে মধুপুর বনের জীববৈচিত্রে প্রাণ ফিরে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গেছে, শালবন পুন:প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের অধীনে গত ৭ ফেব্রুয়ারি মধুপুর জাতীয় উদ্যান রেঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে গড়গড়িয়া লেকের পুন:খনন কাজ শুরু করেছে বন বিভাগ। এরপর থেকেই স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি অংশ নানা বিভ্রান্তি ছড়াতে শুরু করে। ফলে লেক সংস্কারের কাজ সময় কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। বন বিভাগ বিষয়টিকে প্রথম থেকেই উদ্দেশ্য ও বিভ্রান্তিমুলক বলে মনে করছে। মধুপুর গড়ের ৪৫ হাজার ৫৬৫ দশমিক ১৮ একর বনভুমিতে চিত্রা হরিণ,মায়া হরিণ, মুখপোড়া হুনুমান এবং অনেক প্রজাতির পশুপাখির আবাসস্থল। এসব বন্য পশুপাখির পানির প্রয়োজন নিশ্চিত করতে ১৯৭০ সালের দিকে গড়গড়িয়া লেক খনন করা হয়। এরপর গত প্রায় ৫৫ বছরে লেকটি পুন:খনন বা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।  ফলে লেকের অধিকাংশ জায়গা ভরাট হয়ে যায়। শুস্ক পানি শুন্যের কোঠায় নেমে আসে। ফলে বন্যপ্রাণী ও পশুপাখি মারাত্মক পানির সঙ্কটে পড়ে। সারা বছর বন্যপ্রাণী ও পাখির জন্য পানির নিশ্চয়তা, জলাভুমির ইকোসিস্টেম ও জলজ প্রাণ সংরক্ষণ, শুষ্ক মৌসুমে বনের ভেতরে আগুন লাগলে তা নেভানোর কাজে পানির উৎস তৈরিকরণ ও লেকের কাছে গায়রা গ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কৃষিকাজের সেচ সুবিধাসহ নানা লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য নিয়ে লেকটির পুন:খননের উদ্যোগ নেয় বন বিভাগ। টাঙ্গাইল বন বিভাগ জানায়, লেকটির গভীরতা বাড়ানো হচ্ছে। যাতে সারাবছর বন্যপ্রাণী ও পাখি জন্য পানির নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও স্থানীয়দের আবাদি জমির যাতে ক্ষতি না হয়, সেজন্য লেক থেকে উত্তোলন করা মাটি বনের কাছে পরিত্যক্ত জমিতে রাখা হচ্ছে। যা স্থানীয়দের আবাদি জমির থেকে অন্তত আধা কিলোমিটার দুরে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি গড়গড়িয়া লেক সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, মধুপুর জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি লাল মিয়া ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তি।  এই ব্যপারে জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বাসস’কে জানান, লেক থেকে উত্তোলন করা মাটি খুবই সর্তকতার সাথে সরানো হচ্ছে। যাতে স্থানীয়দের আবাদের জমি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। লেক পুন:খননের বিষয়ে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক বলেন, গড়গড়িয়া লেকের উজানে আদিবাসীদের প্রচুর ধানী জমি রয়েছে। লেকের কাছে পানি নিষ্কাশনের জন্য ১৯৭৭ সালে একটি দীর্ঘ নালা খনন করা হয়। যা বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে। নালাটি পরিস্কার করা দরকার। তা না হলে আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। লেকটি সংস্কার হলে বনের পশু-পাখিদের জন্য সুপেয় নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা হবে বলে মনে করেন ইউজিন নকরেক। টাঙ্গাইল বিভাগীর বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বাসস’কে জানান, সংস্কার কাজ শেষ হলে গড়গড়িয়া লেক মধুপুর গড়ের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও বন্যপ্রাণী টিকে থাকার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

রাইড শেয়ারের মোটরসাইকেলের জন্যে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫ লিটার জ্বালানি তেল নির্ধারণ

ছবি : সংগৃহীত

নাটোরে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালন

বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু

0 Comments