জাতীয়

ইসি’র গলার কাঁটা এখন ইভিএম

মারিয়া রহমান মে ৩১, ২০২৬
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এখন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ‘বোঝা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই নির্বাচনের আগে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকায় এই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনগুলো কিনেছিল কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন। ওই নির্বাচনে মাত্র ৬টি আসনে ইভিএমে ভোট  গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীকালে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং  সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহার করা হয়। তারপর থেকে দেশের বিভিন্ন গুদামে এগুলো পড়ে আছে।


ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অব্যবহৃত এই ইভিএমের রক্ষণাবেক্ষণের পেছনে ব্যয় বাড়ছে। এই খরচ বহন করতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে ইসি।


বিপাকে ইসি

ইভিএম প্রকল্পের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। তবে আরও একবছর বাড়ানো হয় প্রকল্পের সময়। সেই সময়ও শেষ হয়েছে ২০২৪ সালের জুন মাসে। পরে ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার বাতিল করে এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন। পাশাপাশি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) থেকেও বাদ দেওয়া হয় ইভিএমের অংশ।


ইসির যুগ্মসচিব মো. মঈন উদ্দিন খান বলেন, ‘‘ইভিএম নিয়ে এখনও অনেক জটিলতা রয়েছে। এ নিয়ে দুদকের দায়ের করা একটি  মামলা এখনও চলমান। তাই এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নিতে গেলেই বিষয়টি জটিল হয়ে পড়ে।’’


তিনি বলেন, ‘‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্বাচন সংস্কার কমিশন বলেছিল, ইভিএম আর ব্যবহার করার দরকার নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে, তারাও একই মত দিয়েছে। ফলে ইসি এখন আর ইভিএম ব্যবহার করতে চায় না। কিন্তু সমস্যা হলো— এগুলো তো সরকারি সম্পদ। ব্যবহার না করলে সেগুলোর কী হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’’


মঈন উদ্দিন বলেন, ‘‘তবে এখানে আরেকটি জটিলতা আছে। যেহেতু ইভিএম নিয়ে মামলা হয়েছে, তাই এগুলো এখন মামলার আলামতের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ইভিএম এখন একধরনের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। চাইলেই এগুলো সরিয়ে ফেলা বা অন্যভাবে ব্যবহার করা সম্ভব নয়।’’


ইভিএম নিয়ে ইসির পরিকল্পনা জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘‘মোটামুটি দেড় লাখের মতো ইভিএম আছে। আমাদের অবস্থান হলো— আমরা শুধু ইনভেন্টরি করে সরকারের ঘাড়ে দায়িত্ব দিতে চাই।’’


তিনি বলেন, কমিশনের পরিকল্পনা হচ্ছে, একটা ইনভেন্টরি করা হবে। স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে দেখা হবে কতগুলো আছে, কী অবস্থায় আছে। তারপর সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলা হবে— আপনারা এগুলো নিয়ে যান। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশন এগুলো দিয়ে আর নির্বাচন করবে না। এগুলোর মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে।’’


রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘‘দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলার জন্য কিছু নমুনা রেখে দেওয়া হবে। বাকিগুলো সরকারকে দিয়ে বলা হবে— আপনারা নিষ্পত্তি করেন। যেটা ব্যবহারযোগ্য, ব্যবহার করেন। যেটা ফেলে দিতে হয়, ফেলে দেন। যেটা বিক্রি করা যায়, বিক্রি করেন। আর যদি সরকার কোনোভাবেই নিতে না চায়, তাহলে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে নিলামে বিক্রি করবো।’’


কত ইভিএম কোথায় আছে, ইসির ব্যয় কত?

ইসি সূত্র থেকে জানা যায়, গাজীপুরের বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির গুদামসহ দেশের বিভিন্ন গুদামে বর্তমানে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫২২টি ইভিএম রয়েছে। গুদাম ভাড়া বাবদ জমছে বকেয়ার বিশাল অঙ্ক।


সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি-বিএমটিএফ তাদের গুদামের প্রতি বর্গফুটের ভাড়া ধরেছে ১৫১ টাকা করে। আর সে হিসাবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে বকেয়া ভাড়া বাবদ ৭০ কোটি টাকা দাবি করেছে বিএমটিএফ। জানা গেছে,  ইসি এখন পর্যন্ত এই টাকা পরিশোধ করেনি। অপরদিকে দেশের বিভিন্ন গুদামে রাখা ইভিএমের জন্য ভাড়া বাবদ ইসিকে প্রতি মাসে ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ গুনতে হচ্ছে ৩৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮১৮ টাকা।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘‘কোটি কোটি টাকা ভাড়া যাচ্ছে। আমরা বলছি, এই ভাড়া কীভাবে দেবো? তাই আমরা চিন্তা করছি একটি ইনভেন্টরি করার।’’


বিএমটিএফের ভাড়া বাবদ বকেয়া ৭০ কোটি টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমরা তাদের মৌখিকভাবে বলেছি— আমাদের কোনও টাকা নেই, দিতে পারবো না। তারা টাকা চাইছে, আর আমরা বিষয়টা ঝুলিয়ে রেখেছি।’’


রহমানেল মাছউদ বলেন, একটা প্রকল্প হলে তার মেইনটেন্যান্স, স্টোরেজ— এসবের বাজেটও থাকার কথা। যদি ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হয়, তাহলে স্টোরেজের জন্যও বরাদ্দ থাকা উচিত ছিল। কোথায় রাখবো, কীভাবে রাখবো— এসবের পরিকল্পনা থাকা দরকার ছিল। আমাদের হাতে এ ধরনের কোনও খাত নেই, যেখান থেকে এই টাকা দেবো। জেলা পর্যায়েও বিভিন্ন জায়গায় স্টোর ভাড়া করা হয়েছে। সেখানেও সমস্যা আছে। প্রাইভেট কোম্পানিগুলো ভাড়া চাচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান হলে একভাবে কথা বলা যায়, কিন্তু ব্যক্তিগত গুদামের মালিকদের তো কিছু না কিছু দিতেই হবে। আমার ব্যক্তিগত মত হলো—কম হোক, বেশি হোক— তাদের (ব্যক্তিগত গুদামের মালিকদের) সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু ভাড়া নির্ধারণ করে তা দেওয়া উচিত।’’


ইভিএম নিয়ে টিআইবি’র সুপারিশ

অব্যবহৃত-অকেজো ইভিএমের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে একাধিক সুপারিশ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তাদের দেওয়া সুপারিশগুলো হলো:


১. ইভিএম সংরক্ষণের জন্য প্রতি মাসে বিপুল অর্থ ব্যয়সহ রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ এবং পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ইভিএম সংক্রান্ত চলমান মামলা দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।


২. নির্বাচন-সংক্রান্ত তথ্য ও ভোটারের তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকি হ্রাসে নিলামের আগেই ইভিএমে সংরক্ষিত সব তথ্য মুছে ফেলা এবং সব হার্ডওয়‍্যার উপযুক্তভাবে ভেঙে ফেলতে হবে এবং তা যে করা হয়েছে— তা নিশ্চিত করতে একটি ‘নিষ্পত্তি সনদ’  বাধ্যতামূলক করতে হবে।


৩. ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ অনুসরণ করে ইভিএমকে ই-বর্জ্য হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করতে হবে এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ ইভিএম লট আকারে নিলামে বিক্রয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদফতরের অধীনে নিবন্ধিত অভিজ্ঞ ই-বর্জ্য রিসাইক্লিং কোম্পানিদের কাছে দরপত্র আহ্বানের ব্যবস্থা করতে হবে— যাদের খ্যাতনামা আইটি ব্র্যান্ড, মোবাইল টেলিফোন সেবাপ্রতিষ্ঠান, পুলিশ ও প্রতিরক্ষা বিভাগের সংবেদনশীল ই-বর্জ্য ও যন্ত্রপাতি ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা রয়েছে, যেন নিরাপদ ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিরসনের পাশাপাশি সম্ভাব্য রাজস্ব প্রাপ্তির স্বার্থে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা যায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রতীকী ছবি
আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি: দেশের সাড়ে ৪৭ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত

আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামের পরিবারগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।     দেশের ৪৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) করা এক বিশেষ জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বিবিএসের ‘দারিদ্র্য ও জীবিকা পরিসংখ্যান সেল’ পরিচালিত ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’ অনুযায়ী, গত এক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়ে গ্রামের ৫১ দশমিক ৯১ শতাংশ, শহরাঞ্চলের ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন এলাকার ৩২ দশমিক ১১ শতাংশ পরিবার ঋণ করতে বাধ্য হয়েছে।     গত বছরের ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়।       এতে গ্রামীণ, শহরাঞ্চল ও সিটি করপোরেশন এলাকার মোট তিন হাজার পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ১৫০টি নমুনা এলাকা (স্যাম্পলিং ইউনিট) থেকে ট্যাবলেট ডিভাইস ও ডিজিটাল কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পার্সোনাল ইন্টারভিউয়িং পদ্ধতিতে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়।     জরিপে থেকে জানা যায়, জাতীয় পর্যায়ে পরিবারপ্রতি গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা, যেখানে গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। পরিবারপ্রতি সবচেয়ে বেশি মাসিক গড় ব্যয় সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা।     এরপরে রয়েছে শহরাঞ্চলে গড়ে ৩৭ হাজার ৩৪৪ টাকা ও গ্রামীণ এলাকায় ৩২ হাজার ৫৩২ টাকা। জাতীয় পর্যায়ে মাসিক খরচের অর্ধেক খাদ্যে এবং বাকি অর্ধেক খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় হয়, তবে অঞ্চলভেদে এর ভিন্নতা রয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় খাদ্যের পেছনে খরচ বেশি হয়, অন্যদিকে শহরাঞ্চলে খাদ্যবহির্ভূত খাতে খরচ বেশি। সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে মাসিক খরচের ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশই ব্যয় হয় খাদ্যবহির্ভূত খাতে।     বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, মহামারির পর থেকে বাংলাদেশ যে দুর্বল সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এই জরিপের ফলাফল যেন তারই এক প্রতিচ্ছবি।       সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৫৬ মাস ধরে মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশি ছিল।       বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘মজুরি হার সূচক’ অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার কমে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়ায়, যা আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। এই সূচকের মাধ্যমে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের ৬৩টি পেশার স্বল্প আয়ের দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের মাসিক মজুরির হিসাব রাখা হয়।     গত ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের সবশেষ বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মন্দা মানুষের জীবনযাত্রার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর পেছনে মূল কারণ হলো শ্রমের চাহিদায় ঘাটতি এবং টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতি। এর প্রভাবে দেশে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে আনুমানিক ২২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ১৮, ২০২৬

অবকাশকালীন ছুটির পর সুপ্রিম কোর্টের প্রথম কার্যদিবস ২৫ অক্টোবর

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সবুজায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মেসির জোড়া গোলে আটলান্টাকে ৩-১ ব্যবধানে হারাল ইন্টার মায়ামি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। ফাইল ছবি
দুই সপ্তাহে দুবার খুলনায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী

২২ অক্টোবর ও ৫ নভেম্বর খুলনা সফর করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সম্ভাব্য এ সফর ঘিরে প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন।    নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম খুলনা সফর।   সম্ভাব্য সফরসূচি অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান হয়ে আকরাম পয়েন্টে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে এলএনজি আমদানি ও পুনর্গ্যাসীকরণের অবকাঠামো স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।   ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে জাহাজে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সংরক্ষণ করা হয়। পরে তা গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এ ধরনের টার্মিনাল স্থাপনের মাধ্যমে এলএনজি গ্রহণ ও গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।    তবে আকরাম পয়েন্টে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন, বিনিয়োগ, নির্মাণকাজ শুরুর সময় এবং গ্যাস সরবরাহের সময়সূচি এখনো নিশ্চিত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য পরিদর্শন প্রকল্পটির উপযোগিতা যাচাইয়ের অংশ।   প্রধানমন্ত্রীর এ সফর সামনে রেখে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দাকোপের নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল। এ সময় খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।   দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু জানান, সূচি অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে আকরাম পয়েন্টে যাবেন। তবে দাকোপে তার কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নেই।   খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরটি সরকারি। স্থানীয়ভাবে কোনো কর্মসূচি না থাকলেও তার আগমন ঘিরে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এলাকার মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।   এদিকে, আগামী ৫ নভেম্বর বিকাল ৪টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ উপলক্ষে গত ১২ অক্টোবর খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।   জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে সরকারি দপ্তরগুলোর প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের নিয়মিত অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং অপ্রয়োজনে নৈমিত্তিক ছুটি নেওয়ার প্রবণতা কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইশরাকের হাতে অস্ত্র, ঘটনার তদন্তের নির্দেশ পুলিশের

ছবি: সংগৃহীত

রয়টার্সের প্রতিবেদন: হামের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের লড়াই, বিশ্বজুড়ে সতর্কবার্তা

ছবি: সংগৃহীত

‘মেড ইন বাংলাদেশ’ প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রী

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনতামূলক কূটনৈতিক অবস্থান থেকে সরে এসে জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছে। এ নীতির মূল লক্ষ্য জনগণকেন্দ্রিক কূটনীতি প্রতিষ্ঠা করা।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সম্প্রতি বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘অন্য কোনো দেশের জনগণ বা সরকারের স্বার্থ বিবেচনার আগে আমরা আমাদের নিজেদের জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দিচ্ছি - এটাই মূল পার্থক্য।’   তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের জনগণকে এবং জাতীয় স্বার্থকে সবার আগে রাখছি।’   শামা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুসৃত নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তার ভাষায়, জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও এ দেশের জনগণের স্বার্থই ছিল কেন্দ্রীয় বিবেচ্য বিষয়।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী ভূরাজনৈতিক বলয়ের দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রেখেই বাংলাদেশ তার স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়।   তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ মানে বাংলাদেশ একা নয়। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস না করে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা বাড়ানোই এ নীতির লক্ষ্য।   শামা বলেন, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপের দেশগুলো, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ফলপ্রসূ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ।   তিনি বলেন, ‘আমরা সব অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী ও বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।’   এ নীতিকে ‘বাস্তববাদী ও বাস্তবভিত্তিক’ আখ্যা দিয়ে শামা বলেন, বঙ্গোপসাগর ঘিরে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।   তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রয়োজন, উৎপাদনকেন্দ্র প্রয়োজন, প্রযুক্তির ব্যাপক বিকাশ প্রয়োজন।’   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, প্রযুক্তির বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।   বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক উদ্যোগের মধ্যে বাংলাদেশ কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখবে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের জন্য কী ধরনের সুফল বয়ে আনবে, তার ভিত্তিতেই প্রতিটি অংশীদারিত্ব মূল্যায়ন করা হবে।   তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য কোনো সুবিধা বয়ে আনলে আমরা যেকোনো বহুপক্ষীয় ফোরামে যোগ দেব। বিষয়টি খুবই সহজ।’   ইন্দো-প্যাসিফিক উদ্যোগ এবং ব্রিকস, সার্ক ও বিমসটেকের মতো বহুপক্ষীয় জোট ও আঞ্চলিক কাঠামোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে শামা বলেন, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ পরস্পরবিরোধী হওয়ার প্রয়োজন নেই।   তিনি বলেন, ‘আমি এখানে কোনো বিরোধ দেখি না।’   ‘বন্ধু চাই, প্রভু নয়’   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অধীনতামূলক প্রবণতা থেকে ইতিবাচক সরে আসা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাহরাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আগের সরকার ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়েছিল, যা কখনো কখনো বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে।   তিনি বাসসকে বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এ নীতি থাকলেও বাস্তবে আগের সরকার অধীনতামূলক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছে।   তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে সুরক্ষিত না করেই আওয়ামী লীগ সরকার ভারতকে ট্রানজিট-সুবিধাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক ছাড় দিয়েছিল।   এর বিপরীতে বিএনপি সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি সার্বভৌমত্ব, সমতা ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে আরও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করেন তিনি।   আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্টের অর্থ হলো, অন্য সবকিছুর আগে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে স্থান দিতে হবে।’   তিনি বলেন, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে, তবে কোনো দেশের অধীনস্থ অবস্থান গ্রহণ করা যাবে না।   তিনি বলেন, ‘আমাদের নীতি হওয়া উচিত—বন্ধু চাই, প্রভু নয়।’   তিনি আরও বলেন, ‘অন্য কোনো দেশ যত বড় বা শক্তিশালীই হোক না কেন, সেটি আমাদের বন্ধু হতে পারে, কিন্তু প্রভু হতে পারে না।’   সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, সমমর্যাদার ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরকার সঠিক পথে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।   পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক সম্পর্কের উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন ও মালয়েশিয়া সফরকালে কূটনৈতিক যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন।   তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে দিকেই এগোচ্ছে। আমরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’   তবে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে বাংলাদেশকে সামরিক জোটে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।   আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের সামরিক জোটে যোগ দেওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। তবে অর্থনৈতিক চুক্তি ও অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই অংশ নিতে পারি।’   তিনি অর্থনৈতিক কূটনীতি সম্প্রসারণ, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   নিজের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের শাকসবজি ও মাছের বিদেশে যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। ফলে প্রচলিত রপ্তানি খাতের বাইরেও নতুন বাজার সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে।   তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতি সম্প্রসারণ করতে হবে।’   কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য অভ্যন্তরীণ শক্তি জরুরি   সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কার্যকারিতা শেষ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ শক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং কূটনৈতিক দর-কষাকষির ক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।   বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংহতি, কার্যকর সুশাসন এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রয়োজন।   তিনি বলেন, ‘বাইরের বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আমাদের খুবই সীমিত। তবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ শক্তির ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।’   সাবেক এই কূটনীতিক স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি কার্যকর করার জন্য তিনটি বিষয়কে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন। এগুলো হলো জাতীয় শক্তির সংহতি, বাংলাদেশের প্রয়োজনের বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী স্বার্থ সামলানোর কূটনৈতিক দক্ষতা।   তিনি বলেন, রাজনৈতিক আবেগের বশবর্তী না হয়ে কোন দেশের কাছ থেকে বাংলাদেশ কী প্রত্যাশা করে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।   হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এ ধরনের মূল্যায়নে আবেগ বা আবেগপ্রবণতার কোনো স্থান নেই। আমাদের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালিত হতে হবে নিজেদের প্রয়োজনের ভিত্তিতে।’   সার্ক পুনরুজ্জীবনে অগ্রাধিকার   এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করা সরকারের আঞ্চলিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   তিনি বলেন, ‘সার্ককে কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, কী ধরনের নীতি নেওয়া যেতে পারে এবং কী রোডম্যাপ গ্রহণ করা যায়—তা নিয়ে আমরা সার্কের সব দেশের সঙ্গে আলোচনা করছি।’   শামা জানান, সার্ক পুনরুজ্জীবনের একটি রোডম্যাপ তৈরি করে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।   তিনি বলেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সার্ক ও বিমসটেক উভয় সংস্থাকেই ভূমিকা রাখতে দেখতে চায় বাংলাদেশ।   তিনি বলেন, ‘দুটি সংস্থাই পাশাপাশি কাজ করতে পারে।’   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা ভূরাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে এককভাবে নিজেদের সম্পৃক্ত করার চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই সরকারের কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ১৮, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে সবাই সমান, সংখ্যালঘু নেই: চিফ হুইপ

সংগৃহীত ছবি

লালনের সাম্য ও ঐক্যের দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

0 Comments