সারাদেশ

বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ডেকে নিয়ে পরীক্ষার্থীকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

মারিয়া রহমান মে ৩১, ২০২৬
আটক কিশোর গ্যাংয়ের ৩ সদস্য।
আটক কিশোর গ্যাংয়ের ৩ সদস্য।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ডেকে নিয়ে তাজুল ইসলাম তাজ (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কিশোর গ্যাং সদস্যরা ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে, এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন কিশোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।


শনিবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের মাসুয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


নিহত তাজুল ইসলাম তাজ ওই ইউনিয়নের ফারুক হাওলাদারের ছেলে। তিনি পাটুয়া আল-আমিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।


স্থানীয় সূত্র ও স্বজনরা জানান, মাসুয়াখালী গ্রামের কামাল মৃধার বাড়িতে আয়োজিত একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাজুল। অনুষ্ঠান চলাকালে কয়েকজন কিশোর তাকে বাড়ির পাশের একটি বিলে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। তাজুলের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে রাত ১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


নিহতের চাচা ও সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, তাজুলের তলপেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।


তিনি দাবি করেন, আটক কিশোররা স্থানীয়ভাবে বখাটে ও মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত। এসএসসি পরীক্ষার হলে খাতা দেখাদেখি নিয়ে পূর্বের একটি বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলেও ধারণা করছেন তিনি।


ঘটনার পর স্থানীয়রা রিয়াদ (১৭), সজীব খান (১৭) ও হৃদয় মোল্লা (১৮) নামে তিন কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।


কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের হাতে আটক তিন কিশোরকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তারা এখনো হত্যার দায় স্বীকার করেনি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ডিসি ফরিদা খানমের সহায়তায় ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নার্গিসের

একসময় নিজের রান্নার হাতের ওপর ভর করেই চলতেন নার্গিস আক্তার লিজ। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রাঁধুনির কাজ করে যা আয় করতেন, তা দিয়েই চলত জীবন। কিন্তু প্রায় নয় মাস আগে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস কেড়ে নেয় তাঁর একটি পা। এরপর একে একে বন্ধ হয়ে যায় কাজ, আয় ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের পথ। স্বামী নেই, সন্তানও নেই। উত্তর বাড্ডার একটি অন্ধকার ঘরে একাকী দিন কাটছিল তাঁর।   এমন বাস্তবতায় নার্গিসের জীবনে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।      আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নার্গিস আক্তার লিজের হাতে একটি হুইলচেয়ার ও আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়। তাঁর অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে এই মানবিক উদ্যোগ নেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।     নার্গিসের জীবনটা এমন ছিল না। কর্মক্ষম থাকাকালে নিজের শ্রমেই জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। কিন্তু ডায়াবেটিসের জটিলতায় প্রায় নয় মাস আগে তাঁর একটি পা কেটে ফেলতে হয়। অস্ত্রোপচারের পর বদলে যায় সবকিছু। হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে, আর শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে হারাতে হয় কাজটিও।     এরপর শুরু হয় আরেক লড়াই। চিকিৎসা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর মতো নিয়মিত আয় নেই। পাশে থাকার মতো পরিবারের সদস্যও নেই। উত্তর বাড্ডার একটি ঘরে অনেকটা নিঃসঙ্গভাবেই দিন কাটছিল তাঁর।     নার্গিসের পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম দ্রুত সহায়তার উদ্যোগ নেন। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের মানবিক দায়িত্ব। নার্গিসকে শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, তাঁকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। তাঁর নিজের আয় ও সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ তৈরি করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।     এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নার্গিসকে একটি হুইলচেয়ার ও আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এতে দৈনন্দিন চলাফেরা ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা স্বস্তি পাবেন তিনি। তবে এখানেই শেষ নয়। নার্গিস যেন সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে না থেকে নিজের আয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই তাঁর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মুদি দোকান প্রতিষ্ঠা করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।     একটি মুদি দোকান হয়তো কারও কাছে খুব বড় কিছু নয়। কিন্তু নার্গিসের মতো একজন মানুষের জন্য এটি হতে পারে নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ। হতে পারে নিয়মিত আয়ের পথ, হতে পারে কারও কাছে হাত না পেতে বেঁচে থাকার একটি অবলম্বন।     জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন নার্গিস। একসময় যে নারী নিজের শ্রমে জীবিকা নির্বাহ করেছেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে থমকে যাওয়া সেই জীবন আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে।     মানবিক সহায়তার পাশাপাশি একজন অসহায় মানুষকে আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি হুইলচেয়ার বা আর্থিক অনুদানের গল্প নয়; এটি একজন মানুষকে আবার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ার গল্প।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মোংলায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে মিছিল ঘিরে ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মী আটক

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীন-ভারতের ভূমিকা জরুরি : জামায়াত আমির

ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান। ছবি: সংগৃহীত
ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসির ৫ দিনের রিমান্ড

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতার ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।   বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।   রাত ৮টা ৪৬ মিনিটে রাকিবুল হাসানকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় তাকে ঘিরে আদালত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়। তার আদালতে হাজিরের খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরাও আদালত এলাকায় অবস্থান নেন।   শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তবে আসামিপক্ষে ছিলেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবী মোরশেদুল ইসলাম শাহীন। তিনি বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাকিবুল হাসানকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। রিম্যান্ড আবেদনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবো। কোন ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।   এর আগে বৃহস্পতিবার রাজারবাগ থেকে রাকিবুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. নাজমুল হক। সরকারবিরোধী বক্তব্যসংবলিত একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই রাকিবুল হাসান পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। এর আগে ওই অডিওকে কেন্দ্র করে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসান। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার সেই ক্যান্টনমেন্টের ওসি

সংগৃহীত ছবি

মিয়ানমারে পাচারকালে ৬০০ বস্তা সার উদ্ধার কোস্ট গার্ডের

ছবি: সংগৃহীত

৩৫ যাত্রী নিয়ে মহাসড়কে উল্টে গেল স্লিপার বাস, আহত ১৫

সংগৃহীত ছবি
বরিশাল মহাসড়কে ডিআইজি কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সামনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।      প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যান।     বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।     প্রত্যক্ষদর্শী ব্রাদার্স স্টোর্সের দোকানি মো. তামিম বলেন, কাশিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের দিক থেকে অর্ধশতাধিক লোক মিছিল নিয়ে আসে। তারা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের সামনের মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।      ঘটনাস্থলের কাছে থাকা এক নারী চা দোকানি বলেন, হঠাৎ বিকট শব্দে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে কয়েকজনকে জয় বাংলা স্লোগান দিতে দিতে পালিয়ে যেতে দেখেন।     বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আনিসুর রহমান বলেন, বিকট শব্দের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে সড়কের মধ্যে কিছু বিস্ফোরণের আলামত পাওয়া গেছে। তবে আশপাশে কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। শব্দের উৎস কী ছিল, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সিসি ক্যামেরার ফুটেজও পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেড় বছর আগে গাঁজাসহ আটক হয়েছিল অপ্রতিম হত্যা মামলার আসামি ফাহাদ

ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী প্রতিযোগিতা শুরু

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ায় জেলা ও দায়রা জজের পুনঃপদায়ন বাতিলের দাবিতে আইনজীবীদের বিক্ষোভ

0 Comments