যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধ বন্ধে প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছেন। সোমবার হোয়াইট হাউসে দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পরে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এ তথ্য জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে আরব ও মুসলিম বিশ্বের নেতারা হামাসকে এই পরিকল্পনায় রাজি করাতে কাজ করবেন। তবে এ বিষয়ে হামাসের তাত্ক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেছেন ‘কীভাবে গাজায় যুদ্ধ শেষ করা যায়’—এবং তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে প্রস্তাবটি “অত্যন্ত ন্যায্য”। ট্রাম্প আরও বলেন, অনেক ফিলিস্তিনি শান্তিতে বসবাস করতে চান, কিন্তু তাদের নিজেদের ভাগ্যের দায়িত্ব নিতে হবে; দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিরা হামাসের সঙ্গে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৈঠকের সময় দুই নেতা কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মেদ বিন আব্দুলরহমান বিন জসিম আল-থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, চলতি মাসের শুরুতে কাতারে হামলার ঘটনায় নেতানিয়াহু আল-থানির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
হোয়াইট হাউসে ২০ দফা পরিকল্পনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগে ট্রাম্প সংবাদ সম্মেলন কক্ষে যে কিছুখানি সারমর্ম তুলে ধরেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি শর্ত হচ্ছেন —
চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামাসকে সব ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে;
হামাসের সব অস্ত্র ধ্বংস করা হবে;
যারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবেন তাদের ক্ষমা করা হবে;
হামাসের যেসব সদস্য গাজা ছাড়তে চান, তাদের নিরাপদে অন্য দেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
ট্রাম্প সভার পরে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি শুনেছেন হামাসও এই পরিকল্পনায় রাজি আছে — এবং যদি সত্যি হামাস একমত হয়, তাহলে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি ও গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত হামাসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক একথা ঘোষণা করা হয়নি বলে রিপোর্ট করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটময় মঞ্চে এই ধরনের বহুপক্ষীয় উদ্যোগ বাস্তবায়ন কঠিন—বিশেষ করে অস্ত্রশস্ত্র ধ্বংস ও কর্তৃত্বহীন অবস্থার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। তবু ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে সাম্প্রতিক সংলাপকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসাবে দেখা হচ্ছে, কারণ এতে কাতার ও অন্যান্য মধ্যস্থকার শক্তিদের ভূমিকাও সক্রিয়ভাবে আলোচিত হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে—তা এখনও স্পষ্ট নয়। হামাসের আত্মপ্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া না পাওয়া পর্যন্ত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া মাত্র পাঠককে আপডেট দেবো।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে ভোটের নিয়ম কঠোর করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া উদ্যোগে বড় ধরনের আইনি সুবিধা পেয়েছে তার প্রশাসন। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া একটি নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। তবে পুরোপুরি বাধামুক্ত হয়নি ট্রাম্প প্রশাসন। একই বিষয়ে আরেকটি নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোটের নিয়ম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই চলছেই। সোমবার (২৪ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে বোস্টনের ফেডারেল বিচারক ইন্দিরা টালওয়ানির জুনের আদেশ স্থগিত করে। ওই আদেশের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন তার নির্বাহী আদেশ কার্যকর করতে পারছিল না। আদালতের তিন উদারপন্থী বিচারপতি সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করেছেন। কী করতে চান ট্রাম্প? ট্রাম্প গত মার্চে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এতে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে ভোট দেওয়ার যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের তালিকা তৈরি করে রাজ্যগুলোর কাছে পাঠাতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ফেডারেল নির্বাচনে ‘অযোগ্য’ ব্যক্তিদের ব্যালট দেওয়ার অভিযোগে রাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও মামলা করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে বিচার বিভাগকে বলা হয়। আদেশে আরও বলা হয়, কোনও অঙ্গরাজ্যের অনুমোদিত মেইল-ইন ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে ইউএস পোস্টাল সার্ভিস যেন সংশ্লিষ্ট ভোটারের ব্যালট সরবরাহ না করে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ডাকযোগে ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন এবং দেশজুড়ে এ ধরনের ভোট বন্ধ করার কথা বলেছেন। তবে ডাকযোগে ভোটে ব্যাপক জালিয়াতির প্রমাণ খুবই বিরল বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ২৩ অঙ্গরাজ্যের মামলা ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে ২৩টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি মামলা করে। এসব রাজ্যের বেশিরভাগই ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার এভাবে অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না। নির্বাচনের নিয়ম ও ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলোর সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। জুনে বিচারক টালওয়ানি ট্রাম্প প্রশাসনের আদেশ বাস্তবায়নে নিষেধাজ্ঞা দেন। পরে ট্রাম্প প্রশাসন সেই আদেশ স্থগিত করতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। এবার সর্বোচ্চ আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করল। আরেকটি নিষেধাজ্ঞা বহাল তবে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে ট্রাম্পের পুরো পরিকল্পনা এখনই কার্যকর হচ্ছে। গত ১১ আগস্ট বিচারক টালওয়ানি পৃথক একটি মামলায় ইউএস পোস্টাল সার্ভিসকে ট্রাম্পের আদেশ অনুযায়ী ডাকযোগে ভোটের নতুন নিয়ম কার্যকর করা থেকে দেশজুড়ে বিরত রাখেন। মামলাটি করেছিল কয়েকটি ভোটাধিকার সংগঠন। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট ওই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফলে পোস্টাল সার্ভিসের ওপর দেওয়া এই বাধা এখনো বহাল রয়েছে। এর আগে ইউএস পোস্টাল সার্ভিস ডাকযোগে ভোটের নিয়ম আরও কঠোর করার একটি নতুন বিধিমালা জারি করেছিল। সেখানে রাজ্যগুলোকে মেইল-ইন ব্যালট পাওয়া ভোটারদের তালিকা দেওয়ার পাশাপাশি ব্যালটের খামে নির্দিষ্ট বারকোড ব্যবহারের মতো শর্ত রাখা হয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই নিয়মের বাস্তবায়নও আটকে আছে। নির্বাচনের আগে বাড়তে পারে আইনি লড়াই নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। ফলে ডাকযোগে ভোটের নিয়মে পরিবর্তনের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। সুপ্রিম কোর্টের সোমবারের সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনকে সাময়িকভাবে স্বস্তি দিলেও তার নির্বাহী আদেশকে চূড়ান্তভাবে সাংবিধানিক বলে ঘোষণা করা হয়নি। আদালত শুধু একটি নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে। ফলে অঙ্গরাজ্যগুলো আবার আদালতে যেতে পারে এবং নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসবে, ডাকযোগে ভোটের নিয়ম নিয়ে আইনি লড়াইও আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল থেকে অন্তত ১২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিবাসীদের বহনকারী একটি নৌকাডুবির পর হতাহতের ওই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এক অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করেছে দেশটির ন্যাশনাল গার্ড। তিউনিশিয়ার ন্যাশনাল গার্ড বলেছে, ১৫ জন অভিবাসী নিয়ে ওই নৌকাটি শুক্রবার রাতে তিউনিশিয়ার উপকূল থেকে যাত্রা করে। যাত্রার পর দেশটির জারজিস উপকূল থেকে ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে সমুদ্র সেটি ডুবে যায়। খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযানে যায় ন্যাশনাল গার্ড। প্রথমে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধারের পর আরো ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদিকে নিখোঁজ দুজনের সন্ধানে অভিযান চলছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। অভিবাসীদের ১৪ জন লিবিয়ার বেন গুয়ের্দানে শহরের বাসিন্দা। নৌকাডুবির পর শহরটিতে ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন বাসিন্দারা। এসময় রাস্তা অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে নৌকাডুবির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ইউরোপের দেশ ইতালির লাম্পেদুসা থেকে ১৪৫ কিলোমিটার দূরে আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়া থেকে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার অভিবাসী নৌকায় চড়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার (আইওএম) তথ্য বলছে, মধ্য-ভূমধ্যাসাগরের এই পথ বিশ্বে অভিবাসীদের জন্য ভয়ঙ্কর যাত্রাপথ। আইওএম বলছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে মধ্য-ভূমধ্যসাগরের এই পথ দিয়ে ইউরোপে পৌঁছাতে গিয়ে নিহত অভিবাসীর সংখ্যা তার আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ২০২৬ সালের এখন পর্যন্ত এই পথে ৯১৪ অভিবাসী নিহত হয়েছেন। অভিবাসীদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে তিউনিশিয়া। ২০২৩ সালে ২৫৫ মিলিয়ন ইউরোর একটি চুক্তি সাক্ষর করে ইইউ এবং মরক্কো। এই অর্থের প্রায় অর্ধেক অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে ব্যবহার করার কথা রয়েছে। সূত্র: এএফপি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরসহ তিনটি দেশে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত নবদীপ সুরি ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ কর্মসূচি স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কয়েকটি পোস্টে তিনি এই প্রক্রিয়ায় নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নবদীপ সুরি জানান, পাঞ্জাবে বুথ লেভেল অফিসারের (বিএলও) কাছে ভোটার আইডি ও আধার কার্ড জমা দেওয়ার পর সবকিছু ঠিক আছে বলে জানানো হলেও, পরবর্তীতে ২০০৩ সালের তালিকার সঙ্গে তথ্য না মেলার বার্তা পান। পরে বিএলও তাকে ডেকে নাগরিকত্বের প্রমাণের জন্য ‘অনির্দিষ্ট কিছু নথি’ জমা দিতে বলেন। ২০০৩ সালে দেশের বাইরে থাকায় তিনি পাসপোর্ট জমা দেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে এই সাবেক কূটনীতিক লিখেছেন, তিনটি দেশে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার পরও যদি আমাকে নাগরিকত্ব প্রমাণে সমস্যায় পড়তে হয়, তবে সাধারণ মানুষের ভাগ্য কী? এসআইআর তালিকায় পরিচিত ব্যক্তিদের নাম বাদ পড়া বা ভুল থাকার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। যাচাই-বাছাই শেষে এসব ঘটনা সমাধান করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ২০০২ বা ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় না থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্র প্রমাণের নথি জমা দিতে হয়। প্রাথমিকভাবে নির্বাচন কমিশন আধার কার্ড ছাড়া ১১টি নথি অনুমোদন করলেও, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পর তালিকা সম্প্রসারিত করে আধার কার্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে বিহারে প্রথম এসআইআর চালু করা হয়, যেখানে মৃত ব্যক্তিসহ ৬০ লাখের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়ে। পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে ৯০ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। সূত্র: এনডিটিভি