জাতীয়

কক্সবাজার হয়ে নৌপথে মানবপাচার আবারও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে

Admin সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫

কক্সবাজার উপকূল হয়ে নৌপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার নতুন করে আশঙ্কাজনক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। পাচারকারীরা এখন শুধু প্রলোভন নয়, অপহরণ করেও সাধারণ মানুষকে জোরপূর্বক ট্রলারে তুলে দিচ্ছে। নারী ও শিশুরাও বাদ যাচ্ছে না এই চক্রের কবল থেকে।

 

ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অপহৃতদের মালয়েশিয়ায় পৌঁছে জিম্মি করে স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করাই পাচারকারীদের মূল লক্ষ্য। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একাধিকবার অভিযান চালিয়ে পাচারকারীদের আটক ও অপহৃতদের উদ্ধার করলেও এ তৎপরতা থামছে না।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নৌপথে মানবপাচারের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বা সামুদ্রিক ঝড়ে প্রাণহানির ঝুঁকি সবসময় থেকে যায়। সম্প্রতি বিজিবি, র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের যৌথ অভিযানে টেকনাফের বাহারছড়া এলাকার পাহাড়ে গোপন আস্তানা থেকে গত দুই সপ্তাহে চার দফায় ১৮৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৬ জন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

প্রতিবছর শীত মৌসুমে কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফ ও রোহিঙ্গা শিবিরে মানবপাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। তবে এ বছর শীত শুরুর আগেই এদের তৎপরতা বেড়ে গেছে। পাচারের জন্য নারী-শিশুসহ স্থানীয় লোকজনকে পাহাড়ি আস্তানায় জড়ো করে ট্রলারে তুলে দেওয়া হচ্ছে সুযোগ মতো।

 

কক্সবাজারে নৌপথে মানবপাচার শুরু হয় ২০০৮ সালে। পরবর্তীতে তা সীমান্তবর্তী বিভিন্ন উপজেলায় বিস্তৃত হয়। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ২০ হাজার মানুষ এই পথে পাচারের শিকার হন। এর মধ্যে অনাহার, পানিশূন্যতা ও পাচারকারীদের নির্যাতনে তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে।

 

মানবপাচারকারী চক্রের হাতে পড়ে অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসেছে। থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছে দালালদের দাবিকৃত টাকা না পেলে নির্যাতনে প্রাণ হারানোর ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।

 

নৌপথে মানবপাচার প্রতিরোধে অভিযান জোরদার হলেও, পাচারকারীদের এই ভয়াবহ ব্যবসা এখনো থামানো যাচ্ছে না বলে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

নির্বাচন কমিশন ভবন (ফাইল ছবি)
আগস্টে তফসিল, অক্টোবরে স্থানীয় নির্বাচন: ইসির প্রস্তুতি শুরু

নির্বাচন পরিচালনা এবং আচরণ বিধিমালাসহ আইন ও বিধির প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে আগামী আগস্টে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেক্ষেত্রে অক্টোবরের শুরুর দিকে ভোট কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। তবে স্থানীয় সরকারের কোন প্রতিষ্ঠান দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি। এদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে সরকারের কাছে নতুন অর্থবছরের জন্য প্রায় দুই হাজার ৯০০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ চেয়েছে ইসি। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে এই বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে বরাদ্দ হওয়া অর্থের সমান। ইসি কর্মকর্তারা জানান, ভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা এবং আচরণ বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিবর্তনের কাজগুলো এগিয়ে নিচ্ছে ইসি। সংসদে অনুমোদিত এ সংক্রান্ত আইনের সংশোধনীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় ইসির প্রতীক সংরক্ষণ আইনও পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এসব আইন-বিধি সংশোধনীর খসড়া তৈরির কাজ প্রায় শেষ করে এনেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং জেলা পরিষদের জন্য আলাদা আলাদা আইন-বিধি প্রণয়ন করা হচ্ছে। আইন ও বিধিমালার খসড়া প্রণয়ন শেষে চলতি জুনের মধ্যে সেগুলো সংস্থার ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। সবার মতামত নিতে ১৫ দিন উন্মুক্ত রাখা হবে এগুলো। এরপর কমিশন সভায় খসড়া অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে জুলাইয়ের মধ্যে সব বিধি ও আইনের সংস্কার শেষ করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম কেনাকাটা, মজুদ ও অন্যান্য চাহিদা পূরণ শেষে আগস্টে স্থানীয় সরকারের অন্তত একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি রয়েছে ইসির। তবে আগে পরিকল্পনায় থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলসহ অংশীদারদের সঙ্গে সংলাপে বসছে না ইসি। সময়ের অভাব ও আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় সংলাপের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে সংস্থাটি। তবে সার্বিক বিষয়ে সকল অংশীজন ও নাগরিকদের পরামর্শ-সুপারিশের সুযোগ থাকবে। বর্তমানে স্থানীয় সরকারের ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১ জেলা পরিষদ, ৪৯৫ উপজেলা পরিষদ, ৩৩০ পৌরসভা এবং ১৩ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদ নির্বাচন উপযোগী রয়েছে। তবে কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন দিয়ে ভোট কার্যক্রম শুরু হবে- সেটা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম কয়েকদিন আগে সাংবাদিকদের বলেছেন, বাজেটে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ আসার অপেক্ষায় আছে মন্ত্রণালয়। এরপর স্থানীয় সরকারের কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, সেই বিষয়ে ইসির সঙ্গে যৌথ বৈঠক করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, জুলাইয়ের মধ্যে সব ধরনের আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ শেষ হবে। আগস্টে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণের এক থেকে দেড় মাস আগে তফসিল ঘোষণা করতে হয়। সে হিসেবে আগস্টে তফসিল হলে নির্বাচন গড়াবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। তবে কোন নির্বাচন আগে হবে- সেটা নির্ভর করছে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় কী সিদ্ধান্ত আসে, তার ওপরই। তিনি বলেন, সবকিছু নির্ভর করছে বর্ষা মৌসুমের (জুন-জুলাই) পরিস্থিতির ওপর। অক্টোবর থেকে মার্চ পযন্ত ভোটের উপযুক্ত সময়। এর মধ্যে বছর শেষে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। সব বিষয় বিবেচনা করে যথাসময়েই সিদ্ধান্ত নেবে ইসি। ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার বাজেট চাহিদা ইসির ইসির বাজেট ও অর্থ শাখার কর্মকর্তারা জানান, এবারের বাজেটে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। তবে চূড়ান্ত বাজেট বরাদ্দে কিছুটা কাটছাঁট হতে পারে। ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশের কথা রয়েছে। ইসি বলছে, স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করতে ইসির চাহিদা রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ৩৩০ কোটি টাকা, পৌরসভার জন্য ৩০০ কোটি টাকা এবং উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার চাহিদা রয়েছে। এই ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য চাওয়া হয়েছে ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ইসিতে বরাদ্দ আসে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। ইসি সাশ্রয় করেছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় খাতে অর্থ ব্যয় না করা তথা কৃচ্ছ্রতা সাধনের নীতি অবলম্বন করতে চায় ইসি। ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব (বাজেট) শামসুল হক ফৌজদার বলেন, চলতি অর্থবছরের জন্য ইসি ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। তবে ইসির জন্য বরাদ্দ চূড়ান্ত অঙ্কটি বাজেট পেশের দিন জানা যাবে। জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংসদ নির্বাচনে বরাদ্দ করা অর্থের মধ্যে ৮০০ কোটি টাকার মতো অব্যয়িত রয়ে রয়েছে। সেখানে অপ্রয়োজনীয় কোনো খরচ করা হয়নি, কৃচ্ছ্রতাসাধনও করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও চাহিদামতো বরাদ্দ থাকবে আশা করি। সেখানেও আমরা যথাসম্ভব ব্যয় কমিয়ে নির্বাচন করার চেষ্টা করব। তবে ভোটের ব্যয়ে কখনও অর্থ সঙ্কুলানে ঝামেলা হয় না, যখন যা দরকার সরকার তা বরাদ্দ দেয়।

মারিয়া রহমান জুন ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

আদ-দ্বীনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ছবি : সংগৃহীত

গরম বাড়লেই দেশে বেড়ে যায় নারী ও শিশু নির্যাতন, তাপমাত্রা বাড়লে সহিংসতা প্রায় ৪.৪৯% বৃদ্ধি পায়

জাতিসংঘে মোতায়েন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। ছবি : সংগৃহীত

আজ আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস

টাকা, সরকারের লোগো ও অর্থমন্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত
জুনেই পে-স্কেল ও গ্রেড-পেনশনে বড় চমক

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চলতি জুন মাসের মধ্যেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ হতে পারে।   বেতন গ্রেডে বড় ধরনের পরিবর্তনের পাশাপাশি পেনশন ও বিভিন্ন ভাতার কাঠামোতেও আসতে পারে উল্লেখযোগ্য সংশোধন, যা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।   সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এ উদ্দেশ্যে আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।   তবে পে-স্কেল কমিশনের সব সুপারিশ একযোগে বাস্তবায়ন করতে গেলে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থের প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে বর্তমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রাখার কথা বলা হলেও বেতনের পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বিবেচনায় রয়েছে।   সংশ্লিষ্টদের মতে, এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নিম্ন ও উচ্চ—উভয় পর্যায়ের সরকারি চাকরিজীবীদের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে কিছুটা স্বস্তি মিলবে।   অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে আগামী ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হতে পারে। এরপর পরবর্তী দুই বছরে বাকি অংশ সমন্বয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।   কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা এবং সরকারি ব্যয়ের চাপ বিবেচনায় রেখেই এই পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে।   নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীকেও অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। বিশেষ করে যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী বর্তমানে তুলনামূলক কম পেনশন পাচ্ছেন, তাদের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।   প্রস্তাবনায় কিছু ক্ষেত্রে পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুযোগ রাখার কথাও বলা হয়েছে। ফলে বিপুল-সংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী সরাসরি উপকৃত হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।   যদিও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় সন্তুষ্ট নন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ। বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের নেতারা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বর্তমান পরিস্থিতিতে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   তাদের দাবি, নতুন পে-স্কেল এক ধাপেই বাস্তবায়ন করতে হবে এবং শতভাগ বেতন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনা না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।   এদিকে অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের আয় বাড়বে, যা বাজারে ভোগব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে একই সঙ্গে সরকারের ব্যয়ভার বৃদ্ধি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১০, ২০২৬
ইসলামী ব্যাংকের লোগো ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কার হাতে, তথ্য প্রকাশের দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত

সংসদে স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদলীয় উপনেতার

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয়

ছবি: সংগৃহীত
সাভারে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার দুই পুলিশ সদস্য

ঢাকার সাভারে ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারের অভিযানে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন দুই পুলিশ সদস্য। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাভার পৌর এলাকার বক্তারপুর বেদেপল্লী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   আহত দুই পুলিশ সদস্য হলেন সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এসএম শামীম এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মশিউর রহমান। হামলার পর তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক মামলার এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে একটি দল অভিযানে যায়। অভিযানের সময় আসামিকে আটক করা হলে কয়েকজন ব্যক্তি পুলিশের কাজে বাধা দেন এবং তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে আরও লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে আটক আসামি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।   সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জানান, আহত দুই পুলিশ সদস্যের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।   ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অভিযানের সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিকেও পুনরায় ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।   ঘটনার বিষয়ে সাভার মডেল থানায় পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ক্রীড়া কূটনীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশের নতুন উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস সম্পর্ক জোরদারে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব

ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম চূড়ান্তে জুরিবোর্ডের সভা

0 Comments