দেশের উত্তরাঞ্চলে বুধবার সকালে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় তীব্র শীতে বিপর্যস্ত ছিল মানুষ। তবে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া জনজীবনে স্বস্তি ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনে।
রংপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্থানভেদে ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে আজ সকাল ৯টায় ৭.৫ ডিগ্রি থেকে ৯.৩ ডিগ্রির মধ্যে ছিল। কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ ও ঠান্ডা বাতাসে হাড়কাঁপানো শীত অনুভব করে মানুষ।
তবে, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে আজ ১৯.৮ ডিগ্রি থেকে ২৪ ডিগ্রির মধ্যে ছিল। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে এই মিষ্টি ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিয়েছে।
বিকেল ৫টায় রংপুর আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আবহাওয়াবিদ মো. মোস্তাফিজার রহমান বাসস’কে বলেন, আগামী কয়েক দিনে রাতের তাপমাত্রা আরো কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে।
তিনি পূর্বাভাস দিয়ে বলেন, উত্তরাঞ্চলে আগামী কয়েক দিনে রাত ও সকালে আবহাওয়া ঠান্ডা ও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং বিকেলে রৌদ্রোজ্জ্বল ও কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
আজ সকালে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে তীব্র শীতের ফলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পার্থক্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। এতে দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ বিপাকে পড়ে।
আবহাওয়াবিদ মো. মোস্তাফিজার রহমান বলেন, সকাল ১০টা থেকে পরিষ্কার আকাশে সূর্য ওঠার পর থেকে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে, যা সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনজীবনকে সহজ ও আরামদায়ক করেছে।
আজ সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রংপুর শহরে ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, দিনাজপুরে ৮.৭ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে ৮.৫ ডিগ্রি, তেঁতুলিয়ায় ৭.৫ ডিগ্রি, ডিমলায় ৮ ডিগ্রি, রাজারহাটে ৮.৫ ডিগ্রি, ঠাকুরগাঁওয়ে ৭.৫ ডিগ্রি, লালমনিরহাটে ৯.৩ ডিগ্রি এবং গাইবান্ধায় ৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রংপুরে ২৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, দিনাজপুরে ২২.৭ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে ২৪ ডিগ্রি, তেঁতুলিয়ায় ২০ ডিগ্রি, ডিমলায় ২২.৫ ডিগ্রি, রাজারহাটে ২৩.৩ ডিগ্রি, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৯.৮ ডিগ্রি, লালমনিরহাটে ২২.৩ ডিগ্রি এবং গাইবান্ধায় ২১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দিনাজপুরের সমাজকর্মী মাহতাব লিটন বাসস’কে বলেন, আজ সকাল থেকে সাধারণ মানুষ সূর্যের হাসিমুখ দেখেছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা মিষ্টি রোদে সতেজ অনুভব করছি। দিনাজপুরে কোনো কুয়াশা নেই। তবে, সকালে প্রচণ্ড ঠান্ডা লেগেছে। এখন আমরা বেশ আরামে আছি। আমি চাই শীত দ্রুত চলে যাক।
স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. গওসুল আজিম চৌধুরী বলেছেন, চিকিৎসকরা আজও হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে কাশি, জ্বর, হাঁপানি এবং অন্যান্য ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত অধিকসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা দিয়েছেন, যেমনটি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হয়ে আসছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ওষুধের মজুত রয়েছে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে শিশু ও নবজাতকসহ ঠান্ডাজনিত রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মকর্তাদের মতে, তীব্র শীতের কারণে কাশি, জ্বর, হাঁপানি এবং অন্যান্য ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকার জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের শীতার্ত ও বিপর্যস্ত মানুষের মাঝে উষ্ণ বস্ত্র বিতরণ আরো জোরদার করেছে।
একই সময়ে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী, পেশাজীবী, সমাজ-সাংস্কৃতিক ও দাতব্য সংস্থা, বাণিজ্যিক সংগঠন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য শীতবস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মালদ্বীপের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি সংখ্যক চিকিৎসক, থেরাপিস্ট, নার্স এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালদ্বীপ সরকার। একই সাথে দেশটি বাংলাদেশ থেকে সরকারি পর্যায়ে সরাসরি উচ্চমানের ওষুধ আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গিলা আলীর সাথে মালেতে অবস্থিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে এই আগ্রহের কথা জানানো হয়। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মালদ্বীপের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গিলা আলী জানান, তার দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বর্তমানে থেরাপিস্টসহ বিশেষায়িত স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবা সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৫০ জন থেরাপিস্ট প্রয়োজন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘মালদ্বীপ সরকার বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি চিকিৎসক ও থেরাপিস্ট নিয়োগ করতে অত্যন্ত আগ্রহী।’ হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম এ বিষয়ে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বাংলাদেশি থেরাপিস্ট ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়টি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে দাপ্তরিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দ্রুতই একদল দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী মালদ্বীপে যোগ দেবেন। সাক্ষাৎকালে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের অভূতপূর্ব অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে বাংলাদেশ থেকে সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) ভিত্তিতে সরাসরি মানসম্মত ওষুধ আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের আন্তর্জাতিক মান ও উৎপাদন সক্ষমতা সরেজমিনে যাচাই করতে মালদ্বীপের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে বলেও মন্ত্রী বৈঠকে জানান। সাক্ষাৎ পরবর্তী আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান স্বাস্থ্য সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়ন ও আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী গিলা আলী মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশে মেডিকেল ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়ায় ধন্যবাদ জানান। এই দিকে লক্ষ্য রেখে, হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম অবহিত করেন যেÑবাংলাদেশ সরকার বর্তমানে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক কোটার অধীনে মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের জন্য ৭টি পূর্ণ অর্থায়িত শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে। তিনি মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের সাশ্রয়ী ও আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। বৈঠকে মালদ্বীপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের আর্থ-সামাজিক অবদানের প্রশংসা করেন। একই সাথে অবৈধ বা কাগজপত্রহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আইসিইউ (আইসিইউ) সেবাসহ অন্যান্য ব্যয়বহুল জরুরি মানবিক চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করেন। উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে কৌশলগত স্বাস্থ্য সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মালদ্বীপস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ও ওষুধ আমদানির বিষয়টি নিবিড়ভাবে সমন্বয় করবে বলে জানানো হয়েছে।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ১০ দিন মাঠে দায়িত্ব পালন করবে। বৃহস্পতিবার বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর নিউমার্কেট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সাভারের নবীনগর ও বাইপাইল, গাজীপুর চৌরাস্তা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় বিজিবি মোতায়েন থাকবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা, মহাসড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে সহায়তা দিতেও বিজিবি কাজ করবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের সাত দিন আগে থেকে ঈদের পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। বিজিবি জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে কোরবানির পশু পরিবহন সহজ করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে তিনটি ‘ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন’ সেবা। রেলওয়ের ঈদ কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, এবার মোট তিনটি বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। প্রতিটি ট্রেনে ব্রেকভ্যানসহ ২৬টি কোচ থাকবে, যা কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হবে। প্রথম ক্যাটল স্পেশাল ট্রেনটি (ক্যাটল স্পেশাল-১) দেওয়ানগঞ্জ বাজার থেকে ২২ মে সন্ধ্যা ৬টায় ছেড়ে ঢাকার ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন/তেজগাঁও স্টেশনে ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে পৌঁছাবে। দ্বিতীয় ট্রেনটি (ক্যাটল স্পেশাল-২) ইসলামপুর বাজার থেকে ২২ মে বিকেল সাড়ে ৩টায় ছেড়ে রাত ১টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। তৃতীয় ট্রেনটি (ক্যাটল স্পেশাল-৩) আবার দেওয়ানগঞ্জ বাজার থেকে ২৩ মে সন্ধ্যা ৬টায় ছেড়ে একই গন্তব্যে ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে এই বিশেষ ট্রেন চালুর মাধ্যমে ঢাকায় পশু পরিবহন আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করছে রেল কর্তৃপক্ষ।