বিশ্ব

ইসরাইল পশ্চিম তীরে ‘বর্ণবৈষম্য’ করছে : জাতিসংঘ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৭, ২০২৬

জাতিসংঘ বুধবার বলেছে, ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরাইলের  কয়েক দশকের বৈষম্য ও বিভাজন আরো তীব্র হচ্ছে। সংস্থাটি ইসলরাইলকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে তাদের  ‘বর্ণবৈষম্যমূলক ব্যবস্থা’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বুধবার একটি নতুন প্রতিবেদনে বলেছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘পদ্ধতিগত বৈষম্য’ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরো খারাপ হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে বলেন, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে পদ্ধতিগতভাবে শ্বাসরুদ্ধ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, পানি সরবরাহ, স্কুলে যাওয়া, হাসপাতালে ছুটে যাওয়া, পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা কিংবা জলপাই সংগ্রহ করা— পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র ইসরাইলের বৈষম্যমূলক আইন, নীতি ও কার্যক্রম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও সীমিত।

তিনি বলেন, এটি বিশেষভাবে গুরুতর ধরনের জাতিগত বৈষম্য ও বিভাজন, যা পূর্বের বর্ণবৈষম্যমূলক ব্যবস্থার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিশেষজ্ঞ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতিকে ‘বর্ণবৈষম্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে, এবারই প্রথমবার কোনো জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান এ শব্দটি ব্যবহার করলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ পশ্চিম তীরে বসবাসরত ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের জন্য দু’টি পৃথক আইন ও নীতি প্রয়োগ করে, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অসম আচরণ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ফিলিস্তিনিরা এখনো  ভূমি  ও সম্পদের মালিকানা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর ফলে তাদের জমি ও বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য পদ্ধতিগত বৈষম্যেরও শিকার হচ্ছে তারা। এর মধ্যে রয়েছে— সামরিক আদালতে অপরাধের বিচার, যেখানে তাদের যথাযথ প্রক্রিয়া ও ন্যায্য বিচারের অধিকার পদ্ধতিগতভাবে লঙ্ঘিত হয়।

ভলকার তুর্ক দাবি করেন, ইসরাইলকে জাতি, ধর্ম বা জাতিগত উৎসের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত বৈষম্য বজায় রাখে এমন সব আইন, নীতি ও কার্যক্রম বাতিল করতে হবে।

মানবাধিকার কার্যালয় বলেছে, চলমান ও বাড়তে থাকা বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার কারণে বৈষম্য আরো জটিল হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর সম্মতি, সমর্থন ও অংশগ্রহণে ঘটছে।

১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বাস করেন। সেখানে ৫ লক্ষাধিক ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে সহিংসতা বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় গাজা যুদ্ধের সূচনার পর সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এএফপি’র হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীরা পশ্চিম তীরে ১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। তাদের মধ্যে যোদ্ধা ছাড়াও অনেক সাধারণ নাগরিক রয়েছেন।  

ইসরাইলের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে অন্তত ৪৪ জন ইসরাইলি সেনা ও সাধারণ নাগরিক ফিলিস্তিনিদের হামলা বা ইসরাইলি সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশগুলোর দায়িত্ব পুনর্ব্যক্ত করলো জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো

 জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দেশগুলোর দায়িত্ব আরও জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে।  তবে বড় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলোর চাপের মুখে দীর্ঘদিনের আলোচিত এ প্রস্তাবের ভাষা কিছুটা নরম করা হয়েছে। বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু এ উদ্যোগে নেতৃত্ব দেয়। জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। এর আগে, সাধারণ পরিষদ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) কাছে জলবায়ু প্রতিশ্রুতি রক্ষায় রাষ্ট্রগুলোর দায়বদ্ধতা নিয়ে পরামর্শমূলক মতামত চেয়েছিল। গত গ্রীষ্মে দেওয়া আইসিজের সেই মতামত জলবায়ু আন্দোলনকারীদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি গুরুত্ব বহন করে। আদালত জানায়, জলবায়ু প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করা ‘অবৈধ।’ একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ‘ক্ষতিপূরণ’ দাবির পথও এতে উন্মুক্ত হয়। ভোটের আগে জাতিসংঘে ভানুয়াতুর রাষ্ট্রদূত ওডো টেভি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি ক্ষতির বোঝা বহন করছে সাধারণত সেইসব দেশ ও সেগুলোর জনগণ, যারা এ সংকট সৃষ্টিতে সবচেয়ে কম দায়ী।’ তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, কেউ কেউ চায় সাধারণ পরিষদ এ বিষয়ে কম বলুক বা একেবারেই নীরব থাকুক। কিন্তু ক্ষতি বাস্তব এবং তা ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।’ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ১৪১টি। বিপক্ষে ভোট দেয় মাত্র আটটি দেশ। এর মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইরান।  তিন দেশই বড় তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক এবং তারা উদ্যোগটি ঠেকানোর চেষ্টা করে। আইসিজের বাধ্যতামূলক নয়, এমন মতামতকে আরও কার্যকর করতে গত জানুয়ারিতে ভানুয়াতু একটি খসড়া প্রস্তাব তোলে। এর লক্ষ্য ছিল আদালতের মতামত বাস্তবায়নের পথ তৈরি করা। তবে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর আলোচনার পর প্রস্তাবের ভাষায় বড় পরিবর্তন আনা হয়। অনেক দেশের কাছে জলবায়ু পরিবর্তনের চেয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও শিল্পখাতের স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পায়। গৃহীত প্রস্তাবে আইসিজের মতামতকে ‘বিদ্যমান আন্তর্জাতিক আইন ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান’ হিসেবে স্বাগত জানানো হয়। একইসঙ্গে জলবায়ু সুরক্ষায় রাষ্ট্রগুলোকে ‘তাদের নিজ নিজ দায়বদ্ধতা পালনের’ আহ্বান জানানো হয়। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিয় গুতেরেস এক বিবৃতিতে এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। তিনি দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর নেতৃত্ব ও তরুণদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। গুতেরেস বলেন, ‘এটি আন্তর্জাতিক আইন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, বিজ্ঞান ও জনগণকে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট থেকে রক্ষায় রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বের শক্তিশালী স্বীকৃতি।’ প্রস্তাবে শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে, জ্বালানি ব্যবস্থায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনে প্রায় ২০০ দেশ এ লক্ষ্য গ্রহণ করেছিল। তেল উৎপাদনকারী সৌদি আরব ও কুয়েত কয়েকটি সংশোধনী আনার চেষ্টা করে।  এসব সংশোধনীতে জলবায়ু পদক্ষেপের নির্দেশক কাঠামো হিসেবে আইসিজের মতামতের কয়েকটি উল্লেখ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। ভানুয়াতু বলেছে, এতে উদ্যোগগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার আদালতে ইলন মাস্কের এক্সকে জরিমানা বহাল

ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিন বিষয়ক জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ আলবানিজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৪২টি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস : মার্কিন প্রতিবেদন

ছবি: সংগৃহীত
ইরান সঠিক জবাব না দিলে পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যাবে : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, চলমান আলোচনায় ইরান সঠিক জবাব না দিলে ওয়াশিংটন দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।   বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমরা ইরান ইস্যুতে চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো সমঝোতা না হলে তেহরানের জন্য কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।   ট্রাম্প জানান, কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে না। তেল রপ্তানিতেও ছাড় দেবে না। তিনি বলেন, ইরানের কাছ থেকে সঠিক উত্তর না পেলে পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যাবে।   তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হলে যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, রক্তপাত ঠেকাতে প্রয়োজনে কিছু সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে পিছিয়ে দিতে তিনি প্রস্তুত।   এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া তেহরান পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে ওমানসহ আঞ্চলিক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নতুন ব্যবস্থাও তৈরি করা হচ্ছে।   ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, চাপের মুখে তেহরান আত্মসমর্পণ করবে না। তার মতে, ইরান সবসময় তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে এবং যুদ্ধ এড়াতে সব পথ অনুসরণ করেছে।   তিনি আরও বলেন, চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে নতি স্বীকার করানো যাবে- এমন ধারণা কেবলই ভ্রম। তবে তিনি উল্লেখ করেন, কূটনীতিতে পারস্পরিক সম্মান যুদ্ধের চেয়ে বেশি নিরাপদ ও টেকসই পথ।   অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে নিয়ে নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হতে চান ট্রাম্প

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল ছবি: পিটিআই

অবৈধ বাংলাদেশি হটাতে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি শুভেন্দুর

ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। ফাইল ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস

ইরানে বাঘের গালিবাফ কি ক্ষমতার নতুন কেন্দ্র

ছবি : সংগৃহীত
ওমরাহ শুরুর তারিখ জানাল সৌদি আরব

চলতি বছরের পবিত্র ওমরাহ পালনের সময়সূচি ঘোষণা করেছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। নতুন সূচি অনুযায়ী, আগামী ১ জুন থেকে ওমরাহ ভিসাধারীরা মক্কায় প্রবেশ ও ওমরাহ পালনের অনুমতি পাবেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশ থেকে আগত ওমরাহ যাত্রীদের জন্য সমন্বিত সেবা ও ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নতুন এই সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ওমরাহ কোম্পানি, বিদেশি এজেন্ট ও যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন ধাপ ও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। খবর গালফ নিউজের। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ওমরাহ কোম্পানি ও বিদেশি এজেন্টদের মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি কার্যক্রম শুরু হয় গত ৪ মার্চ। এরপর ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় ওমরাহ ও জিয়ারাহ ফোরাম এবং প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। আগামী মৌসুমকে সামনে রেখে ৫ মে প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে ১১ মে বিদেশি এজেন্টদের যোগ্যতা যাচাই ও চূড়ান্ত চুক্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের চুক্তি ও ওমরাহ প্যাকেজ প্রস্তুতের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ৩১ মে থেকে ওমরাহ ভিসা ইস্যু শুরু হবে। নতুন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৯ মার্চ ওমরাহ ভিসা ইস্যুর শেষ দিন। একই বছরের ২৩ মার্চ হবে সৌদি আরবে ওমরাহ যাত্রীদের প্রবেশের শেষ সময় এবং ৭ এপ্রিলের মধ্যে সব যাত্রীকে সৌদি আরব ত্যাগ করতে হবে। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উন্নত ডিজিটাল ব্যবস্থা ও সমন্বিত সেবার মাধ্যমে ওমরাহ যাত্রীদের অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও উন্নত করতেই এই নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মারিয়া রহমান মে ২১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির নতুন তদারকি ব্যবস্থা করল ইরান

ছবি : সংগৃহীত

তামিলনাড়ুতে জোট টিকাতে পিছু হটলো বিজয়ের দল

ছবি : সংগৃহীত

ইরানি পতাকাবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা

0 Comments