যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার ক্যাটি জাকারিয়াকে হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। ট্রাম্পের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের আনুগত্য ও সমর্থনের প্রশংসা করে শুক্রবার এ নিয়োগের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘সমর্থনের ক্ষেত্রে তাঁর রেকর্ড অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন। শুরু থেকেই তিনি একজন বিশ্বস্ত ও মেধাবী সমর্থক হিসেবে পাশে রয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি একই সঙ্গে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত ও সদস্য।’
পেশায় আইনজীবী ক্যাটি জাকারিয়া ট্রাম্পের মালিকানাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ক্যারোলাইন লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। গত আগস্টে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করেন লেভিট।
জাকারিয়ার পেশাগত যোগ্যতার প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারাভিযানে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
নিয়োগের জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জাকারিয়া লেখেন, ‘হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়।’
তিনি আরও লেখেন, ‘প্রেসিডেন্টের আস্থা অর্জন করা সত্যিই গর্বের বিষয়। তাঁর নেতৃত্ব এ দেশের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।’
জাকারিয়া বলেন, ‘সামনে আমাদের কাজ হলো দেশের জন্য আরও ভালো ফলাফল নিশ্চিত করা এবং এই প্রশাসন প্রতিদিন যেসব গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করছে, তা মার্কিন জনগণের কাছে তুলে ধরা।’
বর্তমানে জাকারিয়া ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের জ্যেষ্ঠ যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটি ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল পরিচালনা করে। তাঁর কাজকে ‘অসাধারণ’ বলে প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প।
ফক্স নিউজ ও নিউজম্যাক্সসহ বিভিন্ন রক্ষণশীল টেলিভিশন চ্যানেলে নিয়মিত রাজনৈতিক ভাষ্য দিয়ে থাকেন জাকারিয়া। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগে (ডিএইচএস) মুখপাত্র হিসেবে স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। বিভাগটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্বও পালন করে।
-গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত দায়িত্ব-
জাকারিয়া চলতি বছরের শুরুতে তৎকালীন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েমের অধীনে ওই বিভাগে যোগ দেন। তবে তার লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস পরই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন।
ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী জাকারিয়া ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের মিত্র এবং বিশেষ দূত রিচার্ড গ্রেনেলের প্রতিষ্ঠিত রক্ষণশীল রাজনৈতিক সংগঠন ‘ফিক্স ক্যালিফোর্নিয়া’র সঙ্গেও কাজ করেছেন।
সিএনবিসির তথ্য অনুযায়ী, তিনি সংগঠনটির প্রধান আইন উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ডেমোক্র্যাটদের প্রাধান্য থাকা ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে রক্ষণশীল রাজনৈতিক আদর্শ এগিয়ে নেওয়াই সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য।
পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ থেকে ডিগ্রি অর্জন করা জাকারিয়া রিপাবলিকান রাজনীতির মধ্য দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালে তিনি রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটিতে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেন।
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, জাকারিয়াকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ট্রাম্প তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মিত্র ও উপদেষ্টার পরামর্শ নেন। তাদের মধ্যে বিদায়ী প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলইন লেভিটও ছিলেন।
হোয়াইট হাউসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত পদ হলো প্রেস সেক্রেটারি।
এ পদের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়, সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে হয় এবং প্রেসিডেন্টের অবস্থান জনসমক্ষে তুলে ধরতে হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সৌদি আরবের খ্যাতনামা মদিনা ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে প্রায় ১০০ জন মুসলিম লেখক ও চিন্তাবিদের বই প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার একটি খবরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি নথির সূত্রে এ তথ্য সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নথিটি প্রকাশ করেন সৌদি গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী আবদুল্লাহ আল-ওদাহ। যার সূত্র ধরে এ খবর প্রকাশ করেছে হাওজা নিউজ। আবদুল্লাহ আল-ওদাহের দাবি অনুযায়ী, নথিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারবিষয়ক বিভাগের তথ্যপ্রযুক্তি ইউনিটের। এতে মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও লেখকের নাম রয়েছে, যাদের বই লাইব্রেরিতে রাখা বা প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আবুল হাসান আলী নদভী, আবুল আ’লা মওদুদী, মালেক বেন্নাবী, ইউসুফ আল-কারদাওয়ি, মুহাম্মদ আল-গাজালি, মুস্তাফা আল-সিবাই, আবদুল ওয়াহহাব খাল্লাফ ও আবদুল আজিজ আল-তারিফী। এ ছাড়া আরো কয়েকজন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও লেখকের নাম রয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এসব লেখকের বই লাইব্রেরিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত তালিকাটির সত্যতা, সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ কিংবা নিষেধাজ্ঞার নির্দিষ্ট পরিধি সম্পর্কে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। তালিকাটির সত্যতা, নিষেধাজ্ঞার পরিধি কিংবা সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। নিষেধাজ্ঞার মানদণ্ড ও বিতর্ক তালিকায় থাকা লেখকদের অনেকের বই-ই দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা কেন্দ্রে পঠিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে আবুল হাসান আলী নদভী ও আবুল আ’লা মওদুদীর রচনা অত্যন্ত প্রভাবশালী। তাদের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চিন্তাবিদদের নাম একই তালিকায় আসায় সিদ্ধান্তটির যৌক্তিকতা, স্বচ্ছতা ও মানদণ্ড নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা ও গবেষণার স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিভিন্ন মতাদর্শ ও চিন্তাধারা সম্পর্কিত বই পড়ার সুযোগ গবেষণার একটি আবশ্যকীয় অংশ। সুস্পষ্ট প্রশাসনিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক কারণ ছাড়া এসব রচনা শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে রাখা হলে তা ভিন্নমত বোঝার ও বিকল্প চিন্তার চর্চাকে সংকুচিত করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা ও বই নির্বাচনের নীতি থাকতে পারে—এমন মন্তব্য করে পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে সম্পৃক্ত মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যেকোনো সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ ও স্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাখ্যার ভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন। বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদদের নাম ঘিরে বিতর্ক তালিকায় থাকা অনেক লেখকের বই দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষক ও ধর্মীয় মহলে আলোচিত। বিশেষ করে আবুল হাসান আলী নদভী ও আবুল আ’লা মওদুদীর রচনা ভারতীয় উপমহাদেশসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপকভাবে পঠিত ও আলোচিত হয়ে আসছে। এ ছাড়া তালিকায় থাকা কয়েকজন লেখক তাদের গবেষণা, ধর্মীয় চিন্তাধারা ও সাংস্কৃতিক অবদানের জন্য বিভিন্ন মহলে স্বীকৃতি পেয়েছেন। ফলে তাদের নাম একই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আসায় সিদ্ধান্তটির যৌক্তিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে কোনো লেখকের পাণ্ডিত্যপূর্ণ পরিচিতি কিংবা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তার সব রচনার প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন নিশ্চিত করে না। একইভাবে কোনো বইয়ের প্রবেশাধিকার সীমিত করার সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ রয়েছে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যে মাঝ আকাশে দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে একটি ছোট বিমানবন্দরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর বিবিসির কর্তৃপক্ষ জানায়, ম্যাকমিনভিল মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের কাছে রবিনসন আর২২ এবং এয়ারবাসের একটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর দুটি হেলিকপ্টারই মহাসড়কের পাশের একটি খোলা মাঠে বিধ্বস্ত হয়। নিহতদের মধ্যে একজন ২২ বছর বয়সি ফ্লাইট প্রশিক্ষক ছিলেন। তার সঙ্গে একই হেলিকপ্টারে ছিলেন যুক্তরাজ্যের এক শিক্ষানবিশ পাইলট। অন্য হেলিকপ্টারটিতে থাকা একমাত্র আরোহীও প্রাণ হারিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবিনসন আর২২ হেলিকপ্টারে থাকা ফ্লাইট প্রশিক্ষকের নাম ম্যাডি আসবো। তবে যুক্তরাজ্যের শিক্ষানবিশ পাইলটের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তার স্বজনদের দুর্ঘটনার খবর জানাতে কনস্যুলেট ও এফবিআইয়ের সঙ্গে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। অন্য হেলিকপ্টারটির একমাত্র আরোহীর নাম টাইলার ডেলেন স্টারডেভ্যান্ট (৩৮)। তিনি ওরেগনের নিউবার্গ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এ দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। বিবিসি জানিয়েছে, দুর্ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে এফএএর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত একটি হেলিকপ্টার পরিচালনা করত জেরি ট্রিম্বল হেলিকপ্টারস নামের একটি ফ্লাইট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ম্যাকমিনভিল মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরে। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় জড়িত হওয়ায় তারা গভীরভাবে শোকাহত। তদন্তকারীদের সঙ্গে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করছে। এদিকে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর দনিপ্রোর প্রধান রেলস্টেশনে ড্রোন হামলায় ১৪ জন নিহত হন। একই দিন চেরনিহিভ ও ক্রেমেনচুক শহরে হামলায় আরো পাঁচজন নিহত হন। রাতে রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজনের মৃত্যু হয়। দেশটির কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়াও আরও অনেকে আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এসব হামলার ঘটনা ঘটে বলে রয়টার্স জানায়। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে সংস্থা উক্রজালিজনিৎসিয়া জানায়, দনিপ্রো শহরের প্রধান রেলস্টেশনের একটি প্ল্যাটফর্মে জেটচালিত ড্রোন আঘাত হানে। ওই সময় সেখান থেকে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হামলার পর প্ল্যাটফর্মজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে হতাহতদের দেহ। বিস্ফোরণের আঘাতে আশপাশের ফুটপাত ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে। দনিপ্রোতে আরেকটি হামলায় একটি ছাত্রাবাসে আগুন ধরে যায়। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানজা জানান, এক দিনের হামলায় শহরটির প্রায় সাড়ে তিন লাখ পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে রাজধানী কিয়েভেও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। রাত ১১টার কিছু আগে চালানো এ হামলায় অন্তত একজন নিহত হন। শহরের বিভিন্ন গুদামে আগুন ধরে যায়। দনিপ্রো নদীর পূর্ব তীরের একটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে শহরের সামরিক প্রশাসন। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সের্গেই কোরেৎস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করছে। ট্রেন, রেলস্টেশন ও আবাসিক ভবনেও হামলা চালানো হচ্ছে। এসব হামলার কোনো যুক্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দনিপ্রো ছাড়াও ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর চেরনিহিভে ড্রোন হামলায় দুই কিশোরী নিহত হয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি ব্যস্ত সড়কে চালানো এ হামলায় চার শিশুসহ অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান দিমিত্রো ব্রাইঝিনস্কি বলেন, সাধারণ শান্তিপ্রিয় মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তারা কেউ কাজে যাচ্ছিলেন, কেউ দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যস্ত ছিলেন, আবার কেউ দিনের পরিকল্পনা করছিলেন। মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রেমেনচুকে আবাসিক ভবন ও ব্যক্তিগত স্থাপনায় হামলায় তিনজন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর। এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়ায় রুশ ড্রোনের পৃথক তিনটি হামলায় কয়েকটি বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ছয়জন আহত হন। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার এসব হামলাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সবাই যখন উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগের অপেক্ষায়, তখনই রাশিয়া হামলা চালাচ্ছে। এটি ইচ্ছাকৃত। জেলেনস্কি আরও বলেন, রাশিয়া নতুন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ইউক্রেনের গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এ বিষয়ে তিনি মিত্রদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। ইউক্রেন ও রাশিয়া- দুই পক্ষই জানিয়েছে, সেখানে মাইন নিষ্ক্রিয় করার কাজ শেষ হয়েছে। এখন শহরটিতে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং ইচ্ছুক বাসিন্দাদের নিরাপদে বের করে আনার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। তবে খেরসনে সীমিত পরিসরে যুদ্ধবিরতি চললেও ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে রেলপথসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার কারণে দেশটির স্বাভাবিক জনজীবন ও অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিও ইউক্রেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ চলছে। আগামী মাসে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রক্রিয়ার মধ্যেই ইউক্রেনের কর্মকর্তারা মস্কোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স