আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের দাবি বহু যুদ্ধের সমাধান করেছেন—সত্যিই কি তাই?

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আটটি সংঘাতে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং এজন্য তার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত। তবে যেসব ইস্যু থেকে এসব সংঘাতের জন্ম, তার অনেকগুলোই এখনো অমীমাংসিত; এমনকি কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তসহ কিছু অঞ্চলে আবারও সহিংসতা দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্প যেসব আন্তর্জাতিক বিরোধে হস্তক্ষেপ করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো-

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান

গত বছরের ৮ আগস্ট ট্রাম্প আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের নেতাদের একত্র করে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করান, যেখানে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার অঙ্গীকার করা হয়। ১৯৮০–এর দশকের শেষ দিক থেকে দুই দেশ বিরোধে জড়িয়ে আছে।

২০২৩ সালে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও মার্চে খসড়া শান্তিচুক্তির পাঠে একমত হওয়ার পরও সেটি স্বাক্ষরিত হয়নি। হোয়াইট হাউসের মধ্যস্থতায় হওয়া ঘোষণাপত্রটি পূর্ণাঙ্গ, আইনগত বাধ্যবাধকতাসম্পন্ন শান্তিচুক্তি নয়। আর্মেনিয়ার সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তাসহ কিছু বিষয় এখনো অমীমাংসিত।

দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক চুক্তিও করে, যার মাধ্যমে দক্ষিণ আর্মেনিয়ার একটি কৌশলগত করিডোরে উন্নয়নাধিকার পায় যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এতে জ্বালানি রপ্তানি বাড়বে।

কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা জুলাই মাসে পাঁচ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নেয়। ট্রাম্প দুদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং সংঘাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত রাখেন।

অক্টোবরে মালয়েশিয়ায় এক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে পড়ে। পরে ২৭ ডিসেম্বর নতুন করে যুদ্ধবিরতি হয়। তবু উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

ইসরাইল, ইরান ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড

গাজায় সংঘাত থামাতে ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। অক্টোবরে ইসরাইল ও হামাস একটি ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময় চুক্তিতে সম্মত হয়। তবুও উভয় পক্ষ একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে এবং সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি।

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ সম্প্রসারণের চেষ্টাও করছেন।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার চেষ্টা চলছিল। ১৩ জুন ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করে এবং ২২ জুন ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলায় যোগ দেন। পরে কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা আবার বেড়েছে।

রুয়ান্ডা ও কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র

রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী পূর্ব কঙ্গোতে বড় অংশ দখল করে। ট্রাম্পের চাপে ২৭ জুন রুয়ান্ডা ও কঙ্গো একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।

কঙ্গো অভিযোগ করেছে, রুয়ান্ডা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরাও রুয়ান্ডার বিরুদ্ধে এম২৩-কে সমর্থনের অভিযোগ তুলেছেন, যদিও রুয়ান্ডা তা অস্বীকার করে। সংঘাতের শিকড় ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।

পাকিস্তান ও ভারত

মে মাসে ভারত-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে এক হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। চার দিনের সংঘাতের পর ১০ মে যুদ্ধবিরতি হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়ে তিনি চুক্তি নিশ্চিত করেছেন, যদিও ভারত এ দাবি অস্বীকার করেছে। মূল সমস্যাগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।

মিসর ও ইথিওপিয়া

গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। মিসর মনে করে এটি তাদের নীলনদের পানির নিরাপত্তার জন্য হুমকি। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন, তবে স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যায়নি।

সার্বিয়া ও কসোভো

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে দুদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের চুক্তি করান। তিনি দাবি করেছেন, তিনি যুদ্ধ ঠেকিয়েছেন। তবে দুই দেশের মধ্যে এখনো পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি নেই। কসোভোর স্বাধীনতাকে সার্বিয়া স্বীকৃতি দেয়নি।

রাশিয়া ও ইউক্রেন

নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি এক দিনের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে পারবেন। তবে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে এখনো সমাধান আসেনি।

তিনি রাশিয়ার বড় দুটি তেল কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর একটি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।

দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়া

ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবার বৈঠকের আগ্রহ দেখিয়েছেন। প্রথম মেয়াদে তিনটি শীর্ষ বৈঠক হলেও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে অগ্রগতি হয়নি। উত্তর কোরিয়া এ সময়ে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে।

তাই বলা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সংঘাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থায়ী ও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক শান্তিচুক্তি এখনো হয়নি এবং অনেক অঞ্চলে সংঘাতের ঝুঁকি রয়ে গেছে।

সূত্র- জিও নিউজ

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
যে শহরে প্রায় প্রতি বাড়িতেই থাকে উড়োজাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ক্যালিফোর্নিয়ার পাহাড়বেষ্টিত প্রান্তরে তখন দিনের আলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে। এমন সময় এক বাসিন্দা নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হলেন। তবে তাঁর যাত্রাসঙ্গী কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নয়। বাড়ির পাশে থাকা বিশাল দরজাওয়ালা স্থাপনায় অপেক্ষা করছিল একটি ঝকঝকে ছোট উড়োজাহাজ।   দরজাটি ওপরে উঠতেই স্পষ্ট হয়, সেটি সাধারণ গ্যারেজ নয়, বরং একটি ব্যক্তিগত হ্যাঙ্গার। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তিনি ককপিটে বসেন, ইঞ্জিন চালু করেন এবং বিমানটি নিয়ে এগিয়ে যান নিকটবর্তী বিমানবন্দরের দিকে। রানওয়েতে পৌঁছে অল্প সময়ের মধ্যেই উড়োজাহাজটি আকাশে ভেসে ওঠে।   অফিসে যাওয়ার জন্য এমন দৃশ্য পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষের কাছে কল্পনার মতো মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিশেষ আবাসিক এলাকায় এটি একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা। সেই এলাকার নাম ক্যামেরন এয়ারপার্ক এস্টেটস।   বিশ্বের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী বসতিগুলোর কথা উঠলে ক্যামেরন এয়ারপার্কের নাম সহজেই সামনে চলে আসে। কারণ এখানে বাড়ির সামনে ব্যক্তিগত বিমান পার্ক করা থাকে, যা অন্যত্র গাড়ির মতোই সাধারণ বিষয়। অনেক পরিবারের কাছে উড়োজাহাজ দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।   বাড়ি ও বিমানবন্দর যেখানে পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ার এল ডোরাডো কাউন্টিতে অবস্থিত ক্যামেরন এয়ারপার্ক এস্টেটসের পুরো নকশা তৈরি হয়েছে একটি বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে। পরিকল্পনাটি এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে বাসিন্দারা সরাসরি নিজেদের বাড়ি থেকে বিমান নিয়ে বিমানবন্দরে যেতে পারেন।   এখানকার বহু বাড়ির নকশা প্রথম দেখায় বড় কোনো গুদামঘরের মতো মনে হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেগুলো ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ রাখার জন্য নির্মিত হ্যাঙ্গার। সাধারণ মানুষ যেমন গাড়ির জন্য গ্যারেজ তৈরি করেন, এখানকার বাসিন্দারাও তেমনি বিমান রাখার জন্য বিশাল আকারের হ্যাঙ্গার বানিয়েছেন।   ফলে বাসিন্দারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই নিজেদের প্লেনে চড়ে আকাশপথে যাত্রা শুরু করতে পারেন। এ সুবিধাই এলাকাটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।   দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শুরু হয় যাত্রা ক্যামেরন এয়ারপার্কের ধারণার পেছনে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী এক বিশেষ প্রেক্ষাপট। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অসংখ্য সামরিক বিমানঘাঁটি এবং এয়ারফিল্ড ব্যবহারহীন হয়ে পড়ে। একই সময়ে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত পাইলট বেসামরিক জীবনে ফিরে আসেন।   ১৯৩৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে লাইসেন্সধারী পাইলটের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪ হাজার। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কয়েক বছরের মধ্যেই সেই সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছে যায়। ফলে এই বিপুলসংখ্যক বিমানচালকদের জন্য নতুন ধরনের আবাসন ও অবকাঠামোর প্রয়োজন দেখা দেয়।   সেই প্রয়োজন থেকেই জন্ম নেয় ‘ফ্লাই-ইন কমিউনিটি’ ধারণা—এমন আবাসিক এলাকা, যেখানে বসবাস ও বিমানচালনা একই জীবনধারার অংশ। ক্যামেরন এয়ারপার্ক সেই ধারণার অন্যতম সফল বাস্তব রূপ। সড়ক, কিন্তু শুধু গাড়ির জন্য নয় এই এলাকায় প্রবেশ করলে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে এর প্রশস্ত সড়কগুলো। সাধারণ আবাসিক এলাকার তুলনায় এগুলো অনেক বেশি চওড়া। কারণ এসব রাস্তা শুধু গাড়ির জন্য নয়, ছোট উড়োজাহাজ চলাচলের জন্যও ব্যবহৃত হয়। এখানে এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়, যেখানে একটি ব্যক্তিগত গাড়ির পাশে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে একটি ছোট বিমান। অবশ্য এসব বিমান রাস্তা থেকেই উড্ডয়ন করে না। সড়ক ব্যবহার করে তারা বিমানবন্দরের রানওয়েতে পৌঁছে, এরপর আকাশে ওঠে। এই কারণেই ডাকবাক্স, সাইনবোর্ড ও আলোকস্তম্ভের মতো অবকাঠামোও বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে। অধিকাংশই তুলনামূলক নিচু, যাতে বিমানের ডানার সঙ্গে কোনো সংঘর্ষ না ঘটে। রাস্তার নামেও বিমানপ্রেমের ছাপ ক্যামেরন এয়ারপার্কের ভেতরে ঘুরলে বোঝা যায়, বিমানচালনা এখানে কেবল পরিবহনের মাধ্যম নয়, সংস্কৃতিরও অংশ। এলাকার বহু রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে বিখ্যাত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কিংবা বিমান-সংশ্লিষ্ট শব্দের নামে। বাড়ির সামনে সারিবদ্ধ ব্যক্তিগত বিমান, মাথার ওপর ছোট উড়োজাহাজের আনাগোনা এবং বিমানভিত্তিক নামের সড়ক—সব মিলিয়ে এলাকাটি যেন একটি জীবন্ত এভিয়েশন জাদুঘর। প্রতিবেশীদের আড্ডার কেন্দ্রেও বিমান বিশ্বের অধিকাংশ পাড়ায় প্রতিবেশীদের আলোচনার বিষয় হয় গাড়ি, বাগান বা খেলাধুলা। কিন্তু ক্যামেরন এয়ারপার্কে সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে উড়োজাহাজ।   এখানে কে নতুন প্লেন কিনেছেন, কার বিমানের ইঞ্জিনে সমস্যা হয়েছে কিংবা কে কোথায় উড়ে বেড়াতে গেছেন—এসবই নিয়মিত আলোচনার বিষয়। অনেক বাসিন্দাই সাবেক সামরিক পাইলট, বাণিজ্যিক বিমানচালক, প্রকৌশলী বা বিমানপ্রেমী। ফলে পুরো কমিউনিটির সামাজিক জীবন বিমানকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। যানজট এড়িয়ে আকাশপথে যাত্রা এখানকার অনেক বাসিন্দার কাছে ব্যক্তিগত বিমান কেবল শখ নয়, বাস্তব যাতায়াতের মাধ্যমও। একসময় এ এলাকার বাসিন্দা বার্ল স্ক্যাগস নিয়মিত নিজের উড়োজাহাজে করে কর্মস্থলে যাতায়াত করতেন। যে পথ সড়কে অতিক্রম করতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগত, আকাশপথে সেটি শেষ হতো এক ঘণ্টারও কম সময়ে। ক্যালিফোর্নিয়ার দীর্ঘ যানজট বিবেচনায় নিলে বিষয়টি আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে।   যখন অন্যরা মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের ভিড়ে আটকে থাকেন, তখন এয়ারপার্কের কিছু বাসিন্দা মেঘের ওপরে উড়ে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছে যান। শনিবারের সকাল মানেই বিমানপ্রেমীদের মিলনমেলা ক্যামেরন এয়ারপার্কের সামাজিক সংস্কৃতির অন্যতম আকর্ষণ হলো শনিবার সকালের আড্ডা। এ সময় অনেক বাসিন্দা বিমানবন্দরে একত্রিত হন।   কেউ নিজেদের উড়োজাহাজ পরিষ্কার করেন, কেউ প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যস্ত থাকেন, আবার কেউ নতুন যন্ত্রাংশ নিয়ে আলোচনা করেন। মাঝেমধ্যে ছোট আকারের উড্ডয়ন সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। ফলে এটি কেবল একটি আবাসিক এলাকা নয়, বিমানপ্রেমীদের একটি প্রাণবন্ত সম্প্রদায়। খ্যাতিমান পাইলটদেরও পছন্দের ঠিকানা ক্যামেরন এয়ারপার্কের পরিচিত বাসিন্দাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিখ্যাত অ্যারোবেটিক পাইলট Julie Clark।   আকাশে দুঃসাহসিক কসরতের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এই বিমানচালক দীর্ঘদিন এখানে বসবাস করেছেন। তাঁর মতো আরও অনেক অভিজ্ঞ পাইলট একই ধরনের মানুষ ও জীবনধারার আকর্ষণে এই এলাকাকে নিজেদের আবাসস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এমন বসতি কি আর কোথাও আছে? ক্যামেরন এয়ারপার্ক অনন্য হলেও একক নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কয়েক শত ফ্লাই-ইন কমিউনিটির অস্তিত্ব রয়েছে। তবে এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এমন বসতি দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রে।   ফ্লোরিডা, টেক্সাস, আরিজোনা এবং ওয়াসিংটন-সহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এমন বহু আবাসিক এলাকা রয়েছে, যেখানে বাড়ির সামনেই ব্যক্তিগত বিমান রাখা যায়।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম ও বিমানপ্রেমীদের আলোচনায় ক্যামেরন এয়ারপার্ক সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে। কারণ এখানে দৈনন্দিন জীবন ও বিমানচালনার সমন্বয় সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। ভবিষ্যতের শহর মনে হলেও এটি বাস্তব প্রথমবার ক্যামেরন এয়ারপার্কে গেলে অনেকেরই মনে হতে পারে, যেন কোনো বিজ্ঞান কল্পকাহিনির জগতে প্রবেশ করেছেন। কারণ পৃথিবীর অধিকাংশ শহরে বাড়ির সামনে গাড়ি দেখা যায়, কিন্তু এখানে দেখা যায় বিমান।   অন্যান্য স্থানে শিশুরা বড় হয় গাড়ির শব্দ শুনে, আর এখানে তারা বেড়ে ওঠে উড়োজাহাজের গর্জন শুনতে শুনতে। আমরা কর্মস্থলে যাওয়ার আগে গাড়ির চাবি খুঁজি, আর এখানে অনেকেই খোঁজেন বিমানের চাবি।   সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এটি কোনো চলচ্চিত্রের সেট নয়, কোনো ধনকুবেরের ব্যক্তিগত দ্বীপও নয়। এটি বাস্তবের একটি আবাসিক এলাকা, যেখানে মানুষ সত্যিই নিজেদের বাড়ির হ্যাঙ্গার থেকে বিমান বের করে আকাশপথে কর্মস্থলে যান।   আর সেই কারণেই ক্যামেরন এয়ারপার্ক পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যতিক্রমী, রোমাঞ্চকর এবং নিঃসন্দেহে সবচেয়ে ‘উড়ন্ত’ আবাসিক এলাকাগুলোর একটি।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ৩১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের রকেট-ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠল উত্তর ইসরায়েল

ছবি : সংগৃহীত

হরমুজে জাহাজ চলাচলে ইরানের কড়া বার্তা

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার অন্যতম সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা ডায়ালগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ছবি: সংগৃহীত

চুক্তি ব্যর্থ হলে ইরানে পুনরায় হামলার সম্ভাবনা : হেগসেথ

ছবি : সংগৃহীত
অমরত্বের খোঁজে পুতিন! অঙ্গ মেরামত প্রকল্পে ২৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ

মার্কিন প্রযুক্তি জগতের শীর্ষ ধনকুবেরদের মতো এবার মানুষের আয়ু বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নামলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে কোনো ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয় বরং কোষের বার্ধক্য ঠেকাতে এবং মানুষের অঙ্গ ‘মেরামত’ করতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিপুল অঙ্কের এক মহাপ্রকল্প শুরু করেছেন তিনি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, 'নিউ হেলথ প্রিজারভেশন টেকনোলজিস' নামের এই প্রকল্পে রাশিয়ার সরকার অন্তত ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। তবে ক্রেমলিনের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী গবেষণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ও কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও সংশয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭৩ বছর বয়সী এই রুশ নেতার নির্দেশে চলা প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো এমন জিন-থেরাপি তৈরি করা, যা কোষের বার্ধক্যের গতিকে ধীর করে দিতে পারে। রাশিয়ার উপ-বিজ্ঞানমন্ত্রী দেনিস সেকিরিনস্কি একে বার্ধক্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক সম্ভাবনা বলে দাবি করেছেন। শুধু জিন থেরাপিই নয়, এই প্রকল্পের আওতায় শূকরের শরীরে মানুষের অঙ্গ তৈরি করে তা প্রতিস্থাপনের মতো জটিল বায়োপ্রিন্টিং প্রযুক্তি নিয়েও কাজ চলছে।    সরকারি অনুদানে গবেষণারত বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে ইঁদুরের থাইরয়েড গ্রন্থি ও মানুষের কার্টিলেজ টিস্যু তৈরিতে সফল হয়েছেন এবং চলতি দশকের শেষেই মানুষের সম্পূর্ণ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের উপযোগী করে তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এই আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে পৌনে ২ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে বলে খোদ পুতিনও দাবি করেছিলেন।   এই বিশাল ও সংবেদনশীল উদ্যোগের নেতৃত্বে রয়েছেন পুতিনের নিজের কন্যা এবং হরমোন বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভোরোন্তসোভা। তার সাথে যুক্ত আছেন প্রখ্যাত রুশ পদার্থবিদ মিখাইল কোভালচুক, যিনি মনে করেন অদূর ভবিষ্যতে মানুষ নিজের প্রয়োজনমতো অঙ্গ প্রতিস্থাপন ও তা সারিয়ে তুলতে পারবে। তবে পুতিনের দীর্ঘায়ু লাভের এই মোহ নতুন কিছু নয়। বলা হয়ে থাকে, ১৯৬৮ সালের একটি সোভিয়েত চলচ্চিত্র দেখার পর ১৬ বছর বয়স থেকেই এই বিষয়ে এক ধরনের আচ্ছন্নতা তৈরি হয় তার মনে, যা পরবর্তীতে তাকে কেজিবিতে যোগ দিতেও অনুপ্রাণিত করেছিল। বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলাপকালেও অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অনন্তকাল বেঁচে থাকা কিংবা বরফশীতল ক্রায়োথেরাপির উপকারিতা নিয়ে পুতিনকে কথা বলতে শোনা গেছে।   তবে এই বিপুল ব্যয়ের প্রকল্পকে ঘিরে সমালোচকদের সন্দেহের তীরও বেশ তীক্ষ্ণ। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মহলের একাংশ বলছেন, এই গবেষণার কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য বা ফলাফল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পর্যালোচনার জন্য প্রকাশ করা হয় না। ইউক্রেন যুদ্ধের পর দেশ ত্যাগ করা রাশিয়ার বায়োপ্রিন্টিংয়ের পথিকৃৎ আলেকজান্ডার অস্ত্রভস্কি জানান, কোনো গবেষণাপত্র প্রকাশিত না হওয়ার অর্থ হলো এর বাস্তব কোনো ফল মেলেনি।    সমালোচকদের মতে, দীর্ঘ দুই দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতাকে খুশি রাখতে এবং নিজেদের গবেষণার তহবিল নিশ্চিত করতেই বিজ্ঞানীরা পুতিনকে তার পছন্দের অবাস্তব স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। দীর্ঘায়ু নিয়ে পুতিনের এই অতিরিক্ত সচেতনতা এবং তার স্বাস্থ্য নিয়ে তৈরি হওয়া নানা গুজব ও বডি ডাবলের জল্পনার মধ্যেই রাশিয়ার এই ২৬ বিলিয়ন ডলারের ‘অমরত্ব প্রকল্প’ এখন টালমাটাল ভূরাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ৩০, ২০২৬

ট্রাম্পের ১.৮ বিলিয়ন ডলারের তহবিল আটকে গেল

সংগৃহীত ছবি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ল আরও ৬০ দিন

স্টারমারের পতন ব্লেয়ারের পথ অনুসরণ করে

সংগৃহীত ছবি
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সহযোগী’ বলল ইরান

লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক হামলা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, এসব হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলকে সহায়তা করছে।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই লেবাননে ইসরায়েলের হামলাকে ‘নৃশংস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, শুধু লেবানন নয়, ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য এলাকাতেও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ‘সহযোগীর’ ভূমিকা পালন করছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মার্চের শুরুতে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৩২৪ জন নিহত এবং ১০ হাজার ২৭ জন আহত হয়েছেন। এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও পরিস্থিতি অনিশ্চিত রয়ে গেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলি রিজক বলেন, ইরান হিজবুল্লাহকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে দেখে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় তেহরান সংগঠনটির স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো হিজবুল্লাহকে মেনে নিতে পারে, যদি এর বিনিময়ে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুসহ নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়। তবে এ সম্ভাবনাই ইসরায়েলের উদ্বেগের কারণ হতে পারে। রিজকের মতে, ভবিষ্যতে লেবাননের পরিস্থিতি সরাসরি লেবানন-ইসরায়েল আলোচনার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের গতিপথের ওপর বেশি নির্ভর করতে পারে। এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আনসারিয়া, আল-খারাইব, শাবরিহা, সারাফান্দ, আদলুন ও বাইসারিয়াসহ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সরে যেতে বলেছে। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জাহরানি নদীর উত্তরে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও বলেছে, হিজবুল্লাহর সদস্য, স্থাপনা বা সামরিক সরঞ্জামের কাছাকাছি অবস্থান করলে মানুষ নিজেদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৯, ২০২৬

ইসরায়েল ও লাতিন আমেরিকার খ্রিস্টীয় সিয়নবাদীদের 'ইসাক চুক্তি' উদ্যোগ

সংগৃহীত ছবি

‘এলিয়েন’ ওয়েবসাইট চালু করল হোয়াইট হাউস

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা চূড়ান্ত, এখন ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষা

0 Comments