আন্তর্জাতিক

আলজেরিয়ায় মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা, নিহত ২৭

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আলজেরিয়ায় একটি যাত্রীবাহী বাস গভীর খাদে পড়ে অন্তত ২৭ জন নিহত এবং আরও ৩৯ জন আহত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ সেদ্দিক আইত মেসাউদেনে এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সেতিফ শহর থেকে রাজধানী আলজিয়ার্সের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাসটি গন্তব্য থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে এল কারমা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে গভীর খাদে পড়ে যায়।

 

দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এননাহার টিভির খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সিফি ঘরিয়েব বুমেরদেস বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজন আহত ব্যক্তির খোঁজখবর নিয়েছেন।

 

এদিকে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেব্বুন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তেব্বুন বলেন, এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ীরা ‘সড়কের অপরাধী ও সন্ত্রাসী’। তিনি জানান, তদন্ত শেষ হওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আলজেরিয়ার সিভিল প্রোটেকশন সংস্থা জানিয়েছে, কী কারণে বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

দেশটির সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত গতিসহ বিভিন্ন মানবিক ভুলই আলজেরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। গত বছর দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৮৩৮ জন নিহত এবং ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

 

সিভিল প্রোটেকশন সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে তারা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলজেরিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

 

এর আগে, গত বছরের আগস্টে আলজিয়ার্সের কাছে একটি বাস খাদে পড়ে ১৮ জন নিহত ও ২১ জন আহত হন। আর ডিসেম্বরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় বেচার অঞ্চলে একটি বাস উলটে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

সূত্র: আলজাজিরা

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
আইফোন কেনার জেদে মহারাষ্ট্রে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

ভারতের মহারাষ্ট্রে আইফোন কেনাকে কেন্দ্র করে এক তরুণ এবং তার বাবা ও মা পাহাড় থেকে পড়ে নিহত হয়েছেন। বাবা ও ছেলে পাহাড় থেকে গড়িয়ে গিরিসঙ্কটে পড়ে যাওয়ার পর সেখানে থাকা মা তাদের অনুসরণ করে ঝাঁপিয়ে পড়েন।   ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাজ্যের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর জেলায়। শনিবার ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, অনেকের মোবাইল ফোনের ক্যামেরা অন করা থাকায় পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ড হয়ে গেছে।   এনডিটিভি জানিয়েছে, কুনাল (১৮) কিস্তিতে একটি আইফোন কেনেন, কিন্তু কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। এ থেকেই ঘটনার উৎপত্তি। এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে ঘটে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা।   তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, কুনাল যে আইফোন কিনেছিলেন তার কিস্তি পরিশোধ করার জন্য পরিবারের কাছে টাকা চান। এই নিয়ে বাবার সঙ্গে তার জোর কথা কাটাকাটি হয়। উত্তেজিত কুনাল বাড়ি থেকে বের হয়ে যান আর সকাল ১০টার দিকে নিকটবর্তী তিসগাঁওয়ের একটি পাহাড় বেয়ে ওঠেন।   পেছনে পেছনে তার বাবা ও মা সেখানে এসে হাজির হন। তারা স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে কুনালকে বুঝিয়ে সুজিয়ে পাহাড় থেকে নামনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কুনাল পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি দিতেই থাকে।   ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “তোমার মা-র জন্য বেঁচে থাকো।” কিন্তু কুনাল উত্তর দেয়, “না, আমাকে মরতে হবে। এ ছাড়া আর পথ নেই।”   যারা কুনালকে বুঝিয়ে নামানোর চেষ্টা করছিলেন তাদের মধ্যে তিসগাঁওয়ের পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জয় যাদবও ছিলেন। তারা সবাই মিলে কুনালকে একটি আইফোন ১৫ প্রো কিনে দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন।   “আমরা অনেক অনুনয়-বিনয় করেছিলাম, যে তার উচিত তার মাকে দেখা। তার ঝাঁপ দেওয়া উচিত হবে না। সে শিক্ষিত আর তার একটি ভবিষ্যৎ আছে। যা যা বলে তাকে বোঝানো যায় আমরা সব বলার চেষ্টা করেছিলাম,” বলেন যাদব।   কিন্তু কুনাল কোনো কথাই শুনছিল না। সে বারবার কাঁধ ঝাকাচ্ছিল আর মৃত্যুই তার একমাত্র পথ বলে জেদ করছিল।   এভাবে প্রায় তিন ঘণ্টা পার হওয়ার পর দুপুর প্রায় ১টার দিকে কুনালের বাবা মুরালিধর চাঁদগুডে ছেলে পাহাড়ের যে কিনারে দাঁড়িয়ে ছিল সেখানে গিয়ে হাজির হন। তিনি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন আর এক পর্যায়ে তাকে পাহাড়ের কিনার থেকে টেনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন।   কিন্তু একপর্যায়ে দুজনেই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন আর গড়িয়ে পাহাড়ের পাশের গিরিসঙ্কটে পড়ে যান। অদূরে দাঁড়ানো কুনালের মা সঙ্গীতা স্বামী ও ছেলেকে পড়ে যেতে দেখে কিছুক্ষণের মধ্যে নিজেও লাফ দেন। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়।   কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশ মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।   স্থানীয় অনেক বাসিন্দা ও ওই এলাকায় থাকা পর্যটকদের সামনেই ঘটনাটি ঘটেছে। তাদের অনেকেই কুনালকে বুঝানোর চেষ্টায় যোগ দিয়েছিলেন। এ ঘটনার বিষয়ে পুলিশ আর কিছু জানায়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনকে মুছে দিচ্ছে ইসরাইল’

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে পুলিশের গাড়িতে ভুল দিকের গাড়ির ধাক্কা, নিহত ৭

ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার ‘শিখা ইন’ হোটেলে আগুনে ৯ মৃত্যু, মালিক গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের নীতি বাতিল করল মার্কিন আদালত

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত রাখার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি বাতিল ঘোষণা করেছেন নিউইয়র্কের ম্যানহাটান জেলা আদালতের বিচারক জ্যানেট ভার্গাস।   শুক্রবার এ সংক্রান্ত মামলার রায় দিতে গিয়ে বিচারক বলেন, জাতীয়তার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনগত ক্ষমতার মধ্যে পড়ে না। একই সঙ্গে এই নীতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিধিবদ্ধ ক্ষমতার সীমাও অতিক্রম করেছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।   রায়ের লিখিত অনুলিপিতে বিচারক জ্যানেট ভার্গাস বলেন, আবেদনকারীর জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ চালু বা স্থগিত রাখার নীতি মার্কিন ভিসা নীতি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত আইনগত এখতিয়ারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, কলম্বিয়া, মিসর, সিরিয়াসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করা হয়েছে। একই নীতির আওতায় গ্রিনকার্ড ও নাগরিকত্বের আবেদন পর্যালোচনা এবং গ্রিনকার্ড প্রস্তুতের প্রক্রিয়াতেও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। ২১ জানুয়ারি থেকে সিদ্ধান্তটি কার্যকর হয়।   মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর অভিবাসীদের মধ্যে সরকারি সহায়তা গ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে—এমন যুক্তি দেখানো হয়েছিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে।   ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ম্যানহাটান জেলা আদালতে মামলা করে অভিবাসী অধিকার সংগঠন Catholic Legal Immigration Network এবং African Communities Together। মামলাটির শুনানি শেষে শুক্রবার সিদ্ধান্ত জানান বিচারক জ্যানেট ভার্গাস।   এর আগে গত ৩ আগস্ট কলাম্বিয়া জেলা আদালতের বিচারক অমিত মেহতা বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের গ্রিনকার্ড আবেদন পর্যালোচনা স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন।   সাম্প্রতিক এসব আদালতের সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন ও ভিসা-সংক্রান্ত নীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ আইনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   সূত্র: রয়টার্স

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের সামরিক জোটে বাংলাদেশ, অবশেষে মুখ খুললো ভারত

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের ই১ বসতি প্রকল্পে আন্তর্জাতিক ও আরব বিশ্বের তীব্র বিরোধিতা

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের সংকট ও খাবারের অভাবে পশ্চিম এশিয়া ছাড়ল মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকন

ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের পাশে তুরস্কের নৌবাহিনী এলে ‘ছিন্নভিন্ন’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ভারতের

সম্প্রতি সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে ‘মক্কা চুক্তি’ নামে একটি সামরিক চুক্তি করেছে পাকিস্তান। এতে বলা হয়েছে অন্য কোনো দেশ যদি এ তিন দেশের কারও ওপর হামলা চালায় তাহলে এটি সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর ধারার সঙ্গে মিল থাকায় অনেকে তিন দেশের এ জোটকে ‘সুন্নি ন্যাটো’ হিসেবে অভিহিত করছে।   ভারতের মেজর জেনারেল (অবঃ) গগন দ্বীপ বক্সি বলেছেন, চুক্তি করার আগ থেকেই তুরস্ক পাকিস্তানকে সামরিকভাবে সহায়তা করছে। যা দেখা গিয়েছিল ২০২৫ সালের অপারেশন সিঁদুরের সময়। ওই সময় পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যখন যুদ্ধ চলছিল তখন ইসলামাবাদের প্রতি সমর্থন জানাতে করাচি বন্দরে নিজেদের একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠায় তুরস্ক।   এছাড়া ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে এক হাজারের বেশি ড্রোন দিয়ে ও সেগুলো পরিচালনা করে তুরস্ক সহায়তা করেছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।   কিন্তু অবস্থান দূর হওয়ার কারণে তুরস্ক তাদের যুদ্ধজাহাজ নিয়ে পাকিস্তানকে সহায়তা করতে আসতে পারবে না বলে জানান তিনি। ভারতের সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা বলেছেন, যদি তুরস্ক কখনো পাকিস্তানকে যুদ্ধজাহাজ নিয়ে সহায়তা করতে আসে তাহলে তাদের নৌসেনারা তার্কিস নৌবাহিনী ও যুদ্ধজাহাজকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারবে।   তিনি বলেন, “পাকিস্তানকে সহায়তার চেষ্টা করা তুরস্কের সেনাদের ভূমধ্যসাগর ও আরব সাগর হয়ে আসতে হবে। পাকিস্তানকে সহায়তার চেষ্টা করতে আসা তুরস্কের নৌবহরকে ভারতের নৌবাহিনী ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারবে।”   সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে মমতাকে দায়ী করলেন অমিত শাহ

ছবি: সংগৃহীত

পিতৃত্বের স্বীকৃতি, সাবেক কার সেলসম্যান হলেন বেলজিয়ামের রাজপুত্র

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ

0 Comments