আন্তর্জাতিক

অভিবাসী ঢল ঠেকাতে সিউটায় ভাসমান ব্যারিয়ার বসাচ্ছে স্পেন, সীমান্তে কড়াকড়ি

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউটায় (Ceuta) প্রাণঘাতী অভিবাসী ঢলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্পেন। মরক্কো সীমান্তবর্তী উপকূলে ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি ভাসমান বাধা (ফ্লোটিং ব্যারিয়ার) স্থাপনের কাজ শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়।

 

স্পেন সরকার জানিয়েছে, নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর পর রাতভর সিউটায় অবৈধভাবে অভিবাসীদের প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সিউটায় প্রবেশ করে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকা সীমান্তে নজিরবিহীন ঘটনা। তবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মধ্যে ৪৮ হাজারের বেশি মানুষকে মরক্কোতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

শনিবার রয়টার্সের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ঘন কুয়াশার মধ্যে প্রায় জনশূন্য তারাজাল (Tarajal) সৈকতে টহল দিচ্ছেন স্পেনের সেনা ও পুলিশ সদস্যরা।

 

তারাজাল উপকূলে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে তারাজাল ব্রেকওয়াটারে ভাসমান বাধা স্থাপনের কাজ শুরু করে সিভিল গার্ড পুলিশ। এটি সিউটায় প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত।

 

বাধাটি পানির ওপর ৩০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত দৃশ্যমান থাকবে এবং পানির নিচে প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এর পাশাপাশি নোঙর করা ভাসমান বয়া (বুই) বসানো হচ্ছে। দুটি বাধার মাঝখানে একটি চ্যানেল রাখা হবে, যাতে সিভিল গার্ডের টহল নৌযান চলাচল করতে পারে।

 

জরুরি বৈঠক ডাকল ইউরোপীয় ইউনিয়ন

এই ব্যাপক অভিবাসী প্রবেশের ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইইউর ২২টি সদস্য দেশ যৌথভাবে একটি চিঠি দিয়ে বহিঃসীমান্ত সুরক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

 

বর্তমান ইইউ প্রেসিডেন্সির দায়িত্বে থাকা আয়ারল্যান্ড মঙ্গলবার সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক আহ্বান করেছে।

 

এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইতালির এক মাসের জন্য স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তির আওতায় পাসপোর্টমুক্ত যাতায়াত স্থগিত করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

 

ইউরোপীয় কমিশন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতিদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, ‘বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে এ ধরনের স্বার্থপর, বিভাজনমূলক ও আইনবহির্ভূত পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।’

 

মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭

স্পেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তের স্প্যানিশ অংশ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কেউ সমুদ্রে ডুবে এবং কেউ ব্রেকওয়াটার ও সীমান্তবেষ্টনী টপকানোর সময় পদদলিত হয়ে মারা যান।

 

কর্তৃপক্ষের মতে, অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য অনেক মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রায় উদ্বুদ্ধ করেছে।

 

স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা মানবপাচারকারী চক্রকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন। তিনি বলেন, এসব চক্র দুর্বল মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ের ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

 

সিউটা সফরকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমরা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এনেছি। তবে সংকট পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘মরক্কো সিউটা বা স্পেনের জন্য কোনো হুমকি নয়। তারা আমাদের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। গণহারে প্রবেশের বিষয়ে আগে থেকে কোনো গোয়েন্দা তথ্যও ছিল না।

 

আরও পুলিশ চায় সিভিল গার্ড

স্পেনের সিভিল গার্ডের ইউনিয়ন (AUGC) জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তত আরও ২০০ অতিরিক্ত সদস্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, নতুন ভাসমান বাধা ঘুরে সাঁতরে প্রবেশ ঠেকাতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

 

স্পেন সরকার জানিয়েছে, যারা অবৈধভাবে সিউটায় প্রবেশ করেছেন, তারা মূল ভূখণ্ড স্পেন বা শেনজেন অঞ্চলের অন্য কোনো দেশে যেতে পারবেন না। সিউটা থেকে সমুদ্র বা আকাশপথে বের হওয়ার সময় প্রত্যেক যাত্রীকে পুলিশি পরিচয় যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

 

অন্যদিকে ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় অভিবাসন নীতিতে তুলনামূলক উদার অবস্থান নিয়েছে স্পেন। দেশটি পাঁচ লাখের বেশি অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধতার আওতায় আনার কর্মসূচি চালু করেছে।

 

তবে সরকারের দাবি, এই কর্মসূচির কারণেই সিউটায় অভিবাসীদের ঢল নেমেছে, এমন ধারণা সঠিক নয়। কারণ বৈধতার জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীদের ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে থেকেই স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং আবেদনকালে টানা পাঁচ মাস সেখানে অবস্থানের প্রমাণ দেখাতে হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসী ঢল ঠেকাতে সিউটায় ভাসমান ব্যারিয়ার বসাচ্ছে স্পেন, সীমান্তে কড়াকড়ি

উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউটায় (Ceuta) প্রাণঘাতী অভিবাসী ঢলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্পেন। মরক্কো সীমান্তবর্তী উপকূলে ৫০০ মিটার দীর্ঘ একটি ভাসমান বাধা (ফ্লোটিং ব্যারিয়ার) স্থাপনের কাজ শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়।   স্পেন সরকার জানিয়েছে, নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর পর রাতভর সিউটায় অবৈধভাবে অভিবাসীদের প্রবেশ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে স্থল ও সমুদ্রপথে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সিউটায় প্রবেশ করে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকা সীমান্তে নজিরবিহীন ঘটনা। তবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মধ্যে ৪৮ হাজারের বেশি মানুষকে মরক্কোতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   শনিবার রয়টার্সের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ঘন কুয়াশার মধ্যে প্রায় জনশূন্য তারাজাল (Tarajal) সৈকতে টহল দিচ্ছেন স্পেনের সেনা ও পুলিশ সদস্যরা।   তারাজাল উপকূলে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে তারাজাল ব্রেকওয়াটারে ভাসমান বাধা স্থাপনের কাজ শুরু করে সিভিল গার্ড পুলিশ। এটি সিউটায় প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত।   বাধাটি পানির ওপর ৩০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত দৃশ্যমান থাকবে এবং পানির নিচে প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এর পাশাপাশি নোঙর করা ভাসমান বয়া (বুই) বসানো হচ্ছে। দুটি বাধার মাঝখানে একটি চ্যানেল রাখা হবে, যাতে সিভিল গার্ডের টহল নৌযান চলাচল করতে পারে।   জরুরি বৈঠক ডাকল ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই ব্যাপক অভিবাসী প্রবেশের ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইইউর ২২টি সদস্য দেশ যৌথভাবে একটি চিঠি দিয়ে বহিঃসীমান্ত সুরক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   বর্তমান ইইউ প্রেসিডেন্সির দায়িত্বে থাকা আয়ারল্যান্ড মঙ্গলবার সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক আহ্বান করেছে।   এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইতালির এক মাসের জন্য স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তির আওতায় পাসপোর্টমুক্ত যাতায়াত স্থগিত করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।   ইউরোপীয় কমিশন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতিদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, ‘বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে এ ধরনের স্বার্থপর, বিভাজনমূলক ও আইনবহির্ভূত পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।’   মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ স্পেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তের স্প্যানিশ অংশ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কেউ সমুদ্রে ডুবে এবং কেউ ব্রেকওয়াটার ও সীমান্তবেষ্টনী টপকানোর সময় পদদলিত হয়ে মারা যান।   কর্তৃপক্ষের মতে, অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য অনেক মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রায় উদ্বুদ্ধ করেছে।   স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা মানবপাচারকারী চক্রকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন। তিনি বলেন, এসব চক্র দুর্বল মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায়ের ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে দিচ্ছে।   সিউটা সফরকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আমরা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এনেছি। তবে সংকট পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকবে।’   তিনি আরও বলেন, ‘মরক্কো সিউটা বা স্পেনের জন্য কোনো হুমকি নয়। তারা আমাদের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। গণহারে প্রবেশের বিষয়ে আগে থেকে কোনো গোয়েন্দা তথ্যও ছিল না।   আরও পুলিশ চায় সিভিল গার্ড স্পেনের সিভিল গার্ডের ইউনিয়ন (AUGC) জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তত আরও ২০০ অতিরিক্ত সদস্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, নতুন ভাসমান বাধা ঘুরে সাঁতরে প্রবেশ ঠেকাতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।   স্পেন সরকার জানিয়েছে, যারা অবৈধভাবে সিউটায় প্রবেশ করেছেন, তারা মূল ভূখণ্ড স্পেন বা শেনজেন অঞ্চলের অন্য কোনো দেশে যেতে পারবেন না। সিউটা থেকে সমুদ্র বা আকাশপথে বের হওয়ার সময় প্রত্যেক যাত্রীকে পুলিশি পরিচয় যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।   অন্যদিকে ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় অভিবাসন নীতিতে তুলনামূলক উদার অবস্থান নিয়েছে স্পেন। দেশটি পাঁচ লাখের বেশি অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধতার আওতায় আনার কর্মসূচি চালু করেছে।   তবে সরকারের দাবি, এই কর্মসূচির কারণেই সিউটায় অভিবাসীদের ঢল নেমেছে, এমন ধারণা সঠিক নয়। কারণ বৈধতার জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীদের ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে থেকেই স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং আবেদনকালে টানা পাঁচ মাস সেখানে অবস্থানের প্রমাণ দেখাতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৬ বছর পর ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব: দ্য গার্ডিয়ান প্রতিবেদন

ছবি: সংগৃহীত

নতুন আর্থ এআই টুল প্রত্যাহার করল গুগল, কারণ কী?

ছবি: সংগৃহীত
বৈদ্যুতিক ত্রুটির ঝুঁকিতে সৌদিতে ৬ হাজারের বেশি বিএমডব্লিউ গাড়ি প্রত্যাহার

সৌদি আরবে বিএমডব্লিউর কিছু গাড়িতে বৈদ্যুতিক ত্রুটি শনাক্ত হওয়ায় ৬ হাজারের বেশি গাড়ি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ কার্যক্রম শুরু করেছে।   শুক্রবার (৩১ জুলাই) গালফ নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, চালকের আসনের ওয়্যারিং হারনেসে ত্রুটি থাকার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ত্রুটির ফলে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হতে পারে, যা ধোঁয়া নির্গমন বা গাড়িতে আগুন লাগার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।   মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ মডেল বছরের মোট ৬ হাজার ৫৭৪টি বিএমডব্লিউ গাড়ি এই রিকলের আওতায় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিএমডব্লিউ ৫ সিরিজ ও ৭ সিরিজের বিভিন্ন মডেল অন্তর্ভুক্ত।   সৌদি কর্তৃপক্ষ গাড়ির মালিকদের রিকলস ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের গাড়ির ভিআইএন (Vehicle Identification Number) যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে গাড়িটি রিকলের আওতায় রয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়।   এ ছাড়া প্রয়োজনীয় মেরামতের জন্য গ্রাহকদের সৌদিতে বিএমডব্লিউর অনুমোদিত পরিবেশক মোহাম্মদ ইউসুফ নাগি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মেরামত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হবে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক গাড়িতে বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার জটিলতা বাড়ার কারণে এ ধরনের ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো যাত্রীদের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।   সূত্র: গালফ নিউজ

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মরক্কো থেকে স্পেন ঢোকার চেষ্টাকালে ৫৭ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

মানবদেহে প্রয়োগে আশাব্যঞ্জক ফল, ক্যানসার টিকা নিয়ে নতুন দাবি রাশিয়ার

ছবি: সংগৃহীত

এল নিনো ঘিরে জাতিসংঘের নতুন সতর্কতা, বাড়তে পারে তাপপ্রবাহ ও দুর্যোগের ঝুঁকি

ছবি: সংগৃহীত
গাজার প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তিকে স্বাগত ইউরোপীয় ইউনিয়নের

গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তির খসড়াকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস।   শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কালাস বলেন, এই চুক্তি সফল করতে হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এর প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেখাতে হবে।   তিনি বলেন, ‘হামাস চুক্তি মেনে চলছে কি না, তা যাচাই করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে শেষ পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।’   কালাসের মতে, প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের জন্য উভয় পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা এবং চুক্তির শর্ত মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আলজেরিয়ায় মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা, নিহত ২৭

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি (সংগৃহীত)

প্রায় ১৪ হাজার বন্দিকে বাড়িতে পাঠাচ্ছে ইতালি, জানুন নতুন আইনের বিস্তারিত

ট্রাম্প বলেন, ইরান খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। তারা অত্যন্ত অসৎ এবং তাদের সঙ্গে সমঝোতা করা কঠিন।

ইরানে হামলা অব্যাহত থাকবে, যুদ্ধে জয়ের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের : ট্রাম্প

0 Comments