আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসির প্রধান নির্বাহীদের কমিটি (সিইসি) ও বোর্ড সভায় এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, আগামী ২১ মে ভার্চুয়াল সভায় বসবে সিইসি। এরপর ৩০ ও ৩১ মে আহমেদাবাদ-এ অনুষ্ঠিত হবে আইসিসির বোর্ড সভা।
বর্তমানে ডব্লিউটিসির চতুর্থ চক্র চলছে। তবে ২০২৭-২৯ চক্র থেকে নতুন কাঠামো চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত বছর সাবেক নিউজিল্যান্ড ব্যাটার রজার টোস-এর নেতৃত্বে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছিল আইসিসি।
ওয়ার্কিং গ্রুপের অন্যতম বড় প্রস্তাব হচ্ছে, বর্তমান ৯ দলের পরিবর্তে ডব্লিউটিসিকে ১২ দলের টুর্নামেন্টে রূপ দেওয়া। এতে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড এবং আফগানিস্তান-কেও অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এর আগে এপ্রিল মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছিল, নতুন প্রস্তাবে এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজকেও ডব্লিউটিসির অংশ করার চিন্তাভাবনা চলছে। বর্তমানে অংশগ্রহণকারী দলগুলো দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ভিত্তিতে সিরিজ আয়োজন করে এবং প্রতিটি দলকে দুই বছরের চক্রে তিনটি হোম ও তিনটি অ্যাওয়ে সিরিজ খেলতে হয়।
বর্তমান ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম (এফটিপি) শেষ হবে আগামী বছরের মার্চে। এরপর ২০২৭ সালের জুনে ইংল্যান্ড-এ অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল।
তবে মে মাসের বৈঠকেই নতুন কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানা গেছে। আইসিসি আশা করছে, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে এবং আগামী জুলাইয়ে এডিনবার্গ-এ অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় এ বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
এদিকে বোর্ড সভা আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)-এর অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সাধারণত পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি সরাসরি সভায় অংশ নেন। তবে ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে তিনি সরাসরি যোগ দেবেন নাকি ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বকাপে প্রথম খেলতে এসে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ডিআর কঙ্গো। দারুণ এই পথচলা আরও টেনে নিতে উন্মুখ তারা। দলটির কোচ সেবাস্টিয়ান দাসাবরাহ বললেন, গ্রুপ পর্ব পেরুনোর উচ্ছ্বাসে মেতে না থেকে, দ্রুতই তারা শুরু করবেন ইংল্যান্ড ম্যাচের প্রস্তুতি। আটলান্টায় বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১০টায় ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে কঙ্গো। পর্তুগালকে ১-১ ড্রয়ে রুখে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করা দলটি কলম্বিয়ার বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হেরেছিল ১-০ গোলে। তবে, শেষ ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয় সেরা দলের একটি হয়ে নকআউটের মঞ্চে ওঠে কঙ্গো। স্বপ্নময় পথচলায় কঙ্গোর এবারের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, যারা বিশ্বকাপে সাফল্য খরায় ভুগছে সেই ১৯৬৬ সাল থেকে। তবে, টমাস টুখেলের বর্তমান দলটিকে ফেভারিটদের একটি মানছেন অনেকে। তিন ম্যাচের দুটি জিতে, একটিতে ড্র করে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘এল’ গ্রুপের সেরা হয়ে ইংল্যান্ড দেখিয়ে দিয়েছে, নিজেদের সামর্থ্য। থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে গোলের জন্য ইয়োয়ান উইসার দিকে তাকিয়ে থাকবে কঙ্গো। ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এরই মধ্যে জালের দেখা পেয়েছেন তিনবার। এর মধ্যে উজবেকিস্তান ম্যাচে তিনি করেন জোড়া গোল। উইসা খেলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল নিউক্যাসল ইউনাইটেডে। ডিফেন্ডার অ্যারন-ওয়ান-বিসাকা খেলেন ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেডে। এছাড়া ওয়াটফোর্ড, সান্ডারল্যান্ড, বার্নলিতে খেলা ফুটবলারও আছে কঙ্গো দলে। উইসা-বিসাকাদের ইংল্যান্ডে খেলার অভিজ্ঞতা দাসাবরাহ কাজে লাগাতে চান ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই। আমরা অবিলম্বে ইংল্যান্ড ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করব। আমাদের স্কোয়াডে কিছু খেলোয়াড় আছে, যারা ইংলিশ লিগের ক্লাবগুলোতে খেলে। তারা আমাদের সাহায্য করতে পারে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জন্য খুবই বড় একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে। এজন্য আমরা আমাদের সাধ্যমতো সেরা উপায়ে প্রস্তুতি নিব।
বাংলাদেশি সমর্থকদের প্রতি আর্জেন্টিনার তারকা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের ভালোবাসাটা সর্বজনবিদিত। বছর তিনেক আগে বাংলাদেশেও সফর করে গিয়েছিলেন সেই ভালোবাসা থেকেই। এবার দেশটির সমর্থকদের জন্য ভালোবাসাটা নতুন করে প্রকাশ করলেন তিনি। জানালেন, তারাও কোনো না কোনোভাবে আর্জেন্টাইনই। বাংলাদেশ সফরের বহু আগে থেকেই এই লাল সবুজের দেশ তার মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিতভাবে বাংলাদেশিদের সমর্থন তার নজর এসেছে বহুবার। ভালোবাসাটাও বেড়েছে তাই পাল্লা দিয়েই। সেটা জানা গেল আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের পর। জর্ডানের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে জয়লাভ করে। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে লো সেলসো, লাউতারো মার্তিনেজ ও মেসি গোল করেন। ম্যাচ শেষে তিনি চলে আসেন মিক্সড জোনে। সেখানে একগাদা বাংলাদেশি সাংবাদিক রীতিমতো ছেঁকে ধরেন তাকে। সেখানেই তিনি প্রকাশ করেছেন তার ভালোবাসাটা। সেখানে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আর্জেন্টিনাকে নিয়ে কতটা আবেগপ্রবণ, তা তিনি নিজে সেখানে গিয়ে উপলব্ধি করেছেন। তাদের ভালোবাসা ও সমর্থন তাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে। বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রতি তার পূর্ণ ভালোবাসা রয়েছে বলেও জানান এই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের গোলরক্ষক। তিনি বলেন, ‘সেখানকার ভক্তদের আমি ভালোবাসি। বাংলাদেশে গিয়েছিলাম আমি, দেশটাকে আমি ভালোবাসি। কোনো না কোনোভাবে তারাও তো আর্জেন্টাইনই।’
চলতি বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড লিওনেল মেসি নিজের করে নিয়েছেন। জর্ডানের বিপক্ষেও করেছেন আরেকটি বিশ্বরেকর্ড। বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি। এতদিন ৬ ম্যাচে গোল করে তিনি ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জেয়াজিনহোর (১৯৭০) সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন। এবার সপ্তম গোল করে তাদের ছাড়িয়ে গেছেন ৮০ মিনিটে। শেষ গ্রুপ ম্যাচে মেসি বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ৬০ মিনিটে। তার পর ফ্রিকিক থেকে দুর্দান্ত গোলটি করেছেন তিনি।