জাতীয়

শ্যামলীতে চিকিৎসক-নার্সের অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

আক্তারুজ্জামান মে ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল-এ চিকিৎসক ও নার্সের অবহেলায় মেহেনিত বিন জিয়া নামে ৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৫ মে) রাতে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্বজনদের অভিযোগ, হামের উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিন দিন আগে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।

 

শিশুটির এক মামা জানান, শুক্রবার দিনভর শিশুটির অবস্থা তুলনামূলক ভালো ছিল। কিন্তু রাতে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ সময় দায়িত্বে থাকা দুই নার্সের আচরণও অমানবিক ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, “আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমার ভাগ্নেকে বাঁচাতে পারিনি।”

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার থেকে শিশুটিকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। শুক্রবার তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও রাতে হঠাৎ অবস্থার অবনতি ঘটে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আসিফ হান্নান বলেন, শিশুটি হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল এবং তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, “রোগীর স্বজনদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তারপরও যদি তদন্তে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বে বায়ুদূষণের শীর্ষে কিনশাসা, ঢাকায় স্বস্তির খবর

ঈদের ছুটিতে রাজধানী ঢাকায় যানবাহনের চলাচল ও নির্মাণকাজ কমে যাওয়ায় বায়ুদূষণের মাত্রা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে ধুলাবালিও কমে গেছে। ফলে মেগাসিটি ঢাকার বাতাস বর্তমানে তুলনামূলকভাবে সহনীয় অবস্থায় রয়েছে।   সোমবার (৮ জুন) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনশাসা। শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ছিল ১৬৪, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে।   একই সময়ে ১৫২ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল পাকিস্তানের লাহোর। সেখানকার বায়ুমানও ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।   অন্যদিকে ৮২ স্কোর নিয়ে তালিকার ১১তম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। এই স্কোর অনুযায়ী রাজধানীর বাতাসের মান ‘মাঝারি’ পর্যায়ে রয়েছে, যদিও সংবেদনশীল ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়।   আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, ০ থেকে ৫০ স্কোরকে ভালো, ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি, ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর হলে তা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ এর বেশি হলে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়।   বায়ুদূষণ শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর। সাধারণত বস্তুকণা (পিএম২.৫ ও পিএম১০), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও₂), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও₂) এবং ওজোনের মাত্রার ভিত্তিতে একিউআই নির্ধারণ করা হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট চূড়ান্ত

ছবি: সংগৃহীত

মার্চ-এপ্রিলে দেশে ৬০৫ জন খুন : টিআইবি

ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জে ভোরে ট্রাক চুরি, দুপুরে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

ছবি: সংগৃহীত
শরীয়তপুর কারাগারে সাজা শেষে ১৭ বিদেশি বন্দিকে পাঠানো যাচ্ছে না

শরীয়তপুর জেলা কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে আটক থাকা বিদেশি বন্দিদের নিয়ে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাজা শেষ হওয়ার পরও পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া এবং কূটনৈতিক জটিলতার কারণে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক এখনও কারাগারে রয়েছেন। এরই মধ্যে তিনজন বন্দির মৃত্যু হয়েছে, যাদের লাশ সংরক্ষণ ও সৎকারে সরকারি ব্যয় হয়েছে ২৯ লাখ ১৪ হাজার টাকা।   কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছরে পদ্মা সেতু-সংলগ্ন এলাকা থেকে ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন সন্দেহে ২০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় তাদের সাজা দেওয়া হয়। সাজা ভোগ শেষ হলেও পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও ঠিকানা নিশ্চিত করা না যাওয়ায় তারা ‘রিলিজ প্রিজনার’ হিসেবে কারাগারেই অবস্থান করছেন।   মৃত তিন বন্দির মধ্যে সতেন্দ্র কুমার ও বাবুল সিং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান। তাদের মরদেহ দীর্ঘ সময় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সৎকার করা হয়।   এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে রাজন নামে আরও এক বন্দির মৃত্যু হয়। কয়েক মাস হিমাগারে রাখার পর ওই বছরের ডিসেম্বরে তারও সৎকার সম্পন্ন করা হয়।   কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কারাগারে ১৪ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই নিজেদের পরিচয় স্পষ্টভাবে জানাতে পারেন না। ভাষাগত সমস্যার কারণে যোগাযোগেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।   কারা কর্মকর্তারা জানান, বন্দিদের অনেকেই নিয়মিত খাবার গ্রহণ করেন না, পোশাক পরিধানেও অনীহা দেখান এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। ফলে যেকোনো সময় আরও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল কবীর বলেন, বিষয়টি সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিচয় নিশ্চিত করে দ্রুত তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা উচিত।   স্থানীয় বিশিষ্ট আইনজীবী আব্দুল মান্নান তালুকদার বলেন, বিদেশি বন্দিদের মৃত্যুর পর মরদেহ সংরক্ষণ, আইনি প্রক্রিয়া ও সৎকারে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় হয়। তাই মানবিক ও প্রশাসনিক উভয় দিক বিবেচনায় দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।   শরীয়তপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. বজলুর রশিদ জানান, বিষয়টি নিয়ে বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।   এদিকে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   দীর্ঘদিন ধরে সাজা শেষ হওয়া বিদেশি নাগরিকদের কারাগারে আটকে থাকার বিষয়টি মানবাধিকার, কূটনীতি ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান জুন ০৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইনে ৫ মাসে ৩৭২০ কল

ছবি: সংগৃহীত

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩৭ হাজার কোটি টাকার প্রস্তুতি - টিআইবি

ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু, পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আজ সংসদ অনেক ‘কালারফুল’ দেখা যাচ্ছে: স্পিকার

  শপথ নেওয়ার পর এই প্রথম অধিবেশনে যোগ দেওয়া সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, নারী সদস্যদের আগমনের ফলে জাতীয় সংসদ ‘পূর্ণতা’ পেয়েছে।   স্পিকার বলেন, আজকে তো সংসদ অনেক ‘কালারফুল’ দেখা যাচ্ছে। সংসদ আজ নারী সদস্যদের আগমনের ফলে পূর্ণতা পেয়েছে। তাদেরকেও আমি অভিনন্দন জানাই।   রোববার বিকাল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়, এই অধিবেশনেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।     প্রথম দিনের বৈঠকে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ, এক মিনিট নীরবতা পালন এবং মোনাজাত হয়।   এরপর স্পিকার সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের স্বাগত জানান।   গেল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হয়। এরপর ৩০ এপ্রিল এই সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৪৯ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। তারা শপথ নেন ৩ মে।   পরদিন বিরোধী দলের জন্য বরাদ্দ বাকি আসনে এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতিকে নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তিনি শপথ নেন ৬ মে।   এই সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ১২ মার্চ, শেষ হয় ২৫ কার্যদিবস চলার পর ৩০ এপ্রিল শেষ হয় এই অধিবেশন।   সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রথমে দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বেও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের উপস্থিতি ও সংসদে তাদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।   বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রেহানা আক্তার রানু সংসদে নারী সদস্যদের আরও বেশি কথা বলার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।   তিনি বলেন, ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, এই সংসদে আজ বসন্ত আমাদের ৫০ জনের কাছে।   রানু বলেন, প্রত্যেক রাজনীতিবিদের জীবনের স্বপ্ন থাকে এই মহান সংসদে আসবার।   এ পর্যায়ের স্পিকার তাকে প্রশ্ন করার জন্য আহ্বান জানান।   রেহেনা আক্তার রানু তখন বলেন, মাননীয় স্পিকার আপনাকে কড়া হেডমাস্টার হিসেবে দেখতে চাই না। নারীবান্ধব স্পিকার হিসেবে এ সংসদে দেখতে চাই।   পরে তিনি বলেন, আমরা যে ৫০ জন এই সংসদে এসেছি, আপনি যদি আমাদের কথা বলার সুযোগ দেন, তাহলে আমরা ৫০টি অলংকার নয়, ৫০টি নারী জাতির অহংকার হিসেবে নিজেদের পরিচিত করব।   প্রশ্ন করার আগে তিনি নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।   সংসদ সদস্য রানু স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, আজ থেকে ৩০ বছর আগে আমি আপনার নির্বাচনি এলাকার জনসভায় বক্তব্য রেখেছিলাম। আমি আপনার জনপ্রিয়তা দেখেছি। আপনি সাতবার এমপি হয়েছেন। আমিও আপনার মতো সাতবার এমপি হতে চাই। এই কারণে এই সংসদে কথা বলার সুযোগ চাই।   বক্তব্য দীর্ঘ হলে স্পিকার তাকে কার্যপ্রণালি বিধি অনুসরণ করে প্রশ্নে আসার অনুরোধ জানান।   তিনি বলেন, সংসদ পরিচালনা হবে কার্যপ্রণালি বিধি মোতাবেক। এই প্রশ্নোত্তর পর্বে একটি প্রশ্ন করার সুযোগ আছে।   পরে নারী সদস্যদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, এখানে রেহানা আক্তার রানু যা বলেছেন, সেটা আমি ধরে নেব যে সকল সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যের বক্তব্য। সুতরাং এটার পুনরাবৃত্তি করার আপনারা চেষ্টা করবেন না।   রেহানা আক্তার রানুর সাতবার সংসদ সদস্য হওয়ার আকাঙ্ক্ষার বিষয়ে স্পিকার বলেন, সাতবার এমপি, বক্তৃতা দিয়ে তো সাতবার এমপি হওয়া যায় না। আপনারা এলাকায় মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করেন। আপনারা সাতবার কেন, ২৭ বারও হতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৭৩ কোটি টাকায় ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার অধিকার কিনলো বিটিভি

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ছবি: সংগৃহীত

‘সরকারে আসার ঝুঁকি এত ভয়াবহ হবে ভাবিনি’: ফারুকী

ছবি: সংগৃহীত

গ্রামাঞ্চলে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না: রুমিন ফারহানা

0 Comments