বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাষ্যমতে, আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে সারা দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে। নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, আগামী এক বছরের মধ্যে তারা মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায়। মন্ত্রী ও কমিশনের এমন সবুজ সংকেতের পর থেকেই সারা দেশে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা জোরদার হয়েছে। অনেকে নিজের ছবিযুক্ত পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেটের মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। ঘন ঘন যাতায়াত করছেন নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায়। অনেক জায়গায় সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসকরাও নিজেদের প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছেন।
তবে দলের পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষভাবে এখনও কাউকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। কবে নাগাদ এ প্রক্রিয়া শুরু হবে—তা নিয়েও সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিচ্ছে না দলের হাইকমান্ড। তবে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্র এ বিষয়ে আরও অপেক্ষা করতে চায়।
এক্ষেত্রে তৃণমূলে প্রার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। মূলত, বিজয়ী হওয়ার মতো গণমুখী নেতাদেরই প্রার্থী হিসেবে বাছাই করতে চায় বিএনপি। এ ক্ষেত্রে নজর রাখা হচ্ছে প্রতিপক্ষের শক্তিশালী প্রার্থীর দিকেও।
বিএনপি সূত্রে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে দলটি তিন পদ্ধতিতে তাদের প্রার্থী নির্বাচন করবে।
নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থান
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করেছে মাত্র চার মাস। এরই মধ্যে অনেক সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে। অনেক জায়গায় প্রশাসক দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই সময়ে সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার মতো ঝুঁকি নেবে কিনা, এমন আলোচনাও চলছে। ইতোমধ্যে এ নিয়ে সরকারের অবস্থান খোলাসা করেছেন এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ও নির্বাচন কমিশন।
গত ১৬ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ফখরুল জানান, সরকার আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায়। সে অনুযায়ী ইসিকে প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
একই কথা জানান নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ। সম্প্রতি গণমাধ্যমকে তিনি জানান, অক্টোবরকে টার্গেট করেই এগোচ্ছে কমিশন। মাঠ পর্যায়ের সব তথ্য কমিশনের হাতে। শিগগিরই রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সংলাপ করে তফসিলের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
তৃণমূলে ছুটছেন সম্ভাব্যরা
এখন পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও সারা দেশেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন ক্ষমতাসীন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দলীয় হাইকমান্ড ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নিজের ছবিযুক্ত ব্যানার-ফেস্টুন ও পোস্টার সাঁটিয়েছেন। একই নির্বাচনি এলাকায় একাধিক প্রার্থী নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণসংযোগ করছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিচ্ছেন। যাতায়াত বাড়িয়ে দিচ্ছেন নির্বাচনি এলাকায়। সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদেও একই চিত্র। মেয়র, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছুটছেন তৃণমূলে। সেখানে নানাভাবে ভোটার ও প্রার্থীদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন।
এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি বিএনপির, অপেক্ষা কীসের?
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির চেয়ারম্যানের একজন উপদেষ্টা জানান, তফসিল ঘোষণার আগে তারা প্রার্থী ঘোষণা করবেন না। এছাড়া প্রতিপক্ষের শক্তিশালী প্রার্থী কারা, সেটাও বিবেচনায় রেখে দলটি সামনে এগোতে চায়। ভেতরে ভেতরে তারা প্রার্থী বাছাই করছেন। তিনি জানান, কোনও নির্বাচনি এলাকায় বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী থাকুক তা চায় না দল। তাই কাকে কীভাবে বুঝিয়ে নির্বাচন থেকে বিরত রাখা যায়, বর্তমানে সে দায়িত্ব পালন করছে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি টিম। সব কিছু অনুকূলে এলেই প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।
সিটির প্রশাসকরাও পিছিয়ে নেই
স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে বড় শাখা সিটি করপোরেশন। তাই এই নির্বাচনের প্রতি নজর সব মহলের। কারা প্রার্থী হচ্ছেন—এ নিয়ে সর্বত্রই আলোচনা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশনেই একাধিক প্রার্থী তৎপরতা চালাচ্ছেন। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরাও। অর্ধ ডজনের বেশি প্রশাসক নিজেদের অবস্থান থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম। ইতোমধ্যে ভোটারদের দোয়া চেয়ে ছাপানো তার পোস্টার নগরজুড়ে দৃশ্যমান।
এছাড়া নির্বাচনের দৌড়ে আছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও যুবদল নেতা শফিকুল আলম আলম মিল্টন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, রাজশাহী সিটির প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, খুলনা সিটির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানও প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তারাও তৃণমূল এবং হাইকমান্ডে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। আবার সরাসরি প্রার্থী ঘোষণা না দিলেও দল থেকে কয়েকজনকে কাজ করার সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম জানান, তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান। সেই আলোকেই কাজ করছেন।
অপরদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘‘আগামী সিটি নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে চান।’’ বলেন, ‘‘নির্বাচন করার জন্যই তো দিন-রাত পরিশ্রম করছি। প্রশাসক হওয়ার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়েছি।’’ তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করবেন বলে জানান।
প্রার্থী বাছাই কোন পদ্ধতিতে?
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিন পদ্ধতিতে প্রার্থী বাছাই করতে চায় বিএনপি। এগুলো হলো—সাংগঠনিক প্রতিবেদন, জনমত জরিপ ও কেন্দ্রীয় মূল্যায়ন। এ তথ্য জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকালে তিনি বলেন, ‘‘যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে স্থানীয় সংগঠনের মাধ্যমে প্রতিবেদন করা হবে। এতে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রার্থীদের ব্যাপারে নিজেদের মতামত দেবেন। আর এ ক্ষেত্রে দলের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষেরে মতামত নেওয়া হবে। সর্বশেষ তাদের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক ধরনের মূল্যায়ন থাকবে।’’
নেতাকর্মী ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত জনপ্রিয়, ত্যাগী এবং ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সপ্তাহের সাত দিন—রবিবার, সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার। প্রতিদিনের জীবনে নামগুলো এতটাই পরিচিত যে এর পেছনের ইতিহাস নিয়ে খুব কমই ভাবা হয়। অথচ এই সাত দিনের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রাচীন সভ্যতার জ্যোতির্বিজ্ঞান, ধর্মীয় বিশ্বাস, পুরাণ এবং আকাশ পর্যবেক্ষণের দীর্ঘ ইতিহাস। সূর্য, চাঁদ এবং খালি চোখে দেখা পাঁচটি গ্রহ—মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র ও শনি—মিলে প্রাচীন মানুষের কাছে ছিল সাতটি গুরুত্বপূর্ণ আকাশীয় বস্তু। বিভিন্ন সভ্যতা এসব জ্যোতিষ্ককে দেবতা ও পুরাণের চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত করে সময়ের হিসাবের একটি কাঠামো তৈরি করে। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে সপ্তাহের সাত দিনের নামের প্রচলন। তবে কী হলো সপ্তাহের সাত দিনের নামকরণ সপ্তাহের সাত দিনের নামের ইতিহাসে প্রাচীন রোমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। রোমানরা খালি চোখে দৃশ্যমান সাতটি আকাশীয় বস্তুকে তাদের দেবতাদের সঙ্গে যুক্ত করেছিল। সপ্তাহের প্রতিটি দিনের নামের সঙ্গে তাই কোনো না কোনো দেবতা বা জ্যোতিষ্কের সম্পর্ক তৈরি হয়। রোববার ছিল সূর্যের দিন, সোমবার চাঁদের, মঙ্গলবার যুদ্ধদেবতা মার্সের, বুধবার মার্কারির, বৃহস্পতিবার জুপিটারের, শুক্রবার ভেনাসের এবং শনিবার স্যাটার্নের। রোববার—সূর্যের দিন রোমানদের কাছে রোববার ছিল ‘ডিয়েস সোলিস’, অর্থাৎ সূর্যের দিন। সূর্যদেব সোলকে আলো, শক্তি ও প্রাণশক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। পরবর্তী সময়ে খ্রিস্টধর্মের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে রোববার ‘লর্ডস ডে’ বা প্রভুর দিন হিসেবেও পরিচিতি পায়। সোমবার—চাঁদের নামে সোমবারের ল্যাটিন নাম ছিল ‘ডিয়েস লুনায়ে’—অর্থাৎ চাঁদের দিন। রোমান পুরাণে লুনা ছিলেন চাঁদের দেবী। চাঁদের কলা পরিবর্তন এবং সময় গণনার সঙ্গে চন্দ্রের সম্পর্ক থাকায় প্রাচীন সমাজে এর বিশেষ গুরুত্ব ছিল। মঙ্গলবার—মার্সের দিন মঙ্গলবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল রোমান যুদ্ধদেবতা মার্স। তার নামেই ল্যাটিনে দিনের নাম ছিল ‘ডিয়েস মার্তিস’, অর্থাৎ মার্সের দিন। মার্স ছিলেন যুদ্ধ, সাহস ও সামরিক শক্তির প্রতীক। রোমান সাম্রাজ্যের সামরিক সংস্কৃতিতেও এই দেবতার গুরুত্ব ছিল ব্যাপক। বুধবার—মার্কারি থেকে বুধবারের নামের সঙ্গে যুক্ত রোমান দেবতা মার্কারি। তিনি ছিলেন বাণিজ্য, যোগাযোগ, ভ্রমণ ও দ্রুততার দেবতা এবং দেবতাদের বার্তাবাহক হিসেবে পরিচিত। ল্যাটিন ‘ডিয়েস মার্কুরিই’ অর্থ মার্কারির দিন। পরবর্তী বিভিন্ন ইউরোপীয় ভাষায় এই নামের পরিবর্তিত রূপ দেখা যায়। বৃহস্পতিবার—জুপিটারের নামে রোমানদের দেবরাজ জুপিটার ছিলেন আকাশ, বজ্র ও বিদ্যুতের দেবতা। একই সঙ্গে তিনি শাসন, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের প্রতীক। তার নামেই ল্যাটিনে বৃহস্পতিবারের নাম ছিল ‘ডিয়েস ইয়োভিস’। জ্যোতির্বিজ্ঞানে জুপিটারই বৃহস্পতি গ্রহ। শুক্রবার—ভেনাসের দিন প্রেম ও সৌন্দর্যের দেবী ভেনাসের সঙ্গে শুক্রগ্রহের সম্পর্ক স্থাপন করেছিল রোমানরা। সৌন্দর্য, ভালোবাসা, আকর্ষণ ও উর্বরতার সঙ্গে ভেনাসের ধারণা যুক্ত ছিল। ল্যাটিন ‘ডিয়েস ভেনেরিস’ বা ভেনাসের দিন থেকেই শুক্রবারের নামের ঐতিহাসিক সূত্র পাওয়া যায়। শনিবার—স্যাটার্নের নাম থেকে শনিবারের সঙ্গে যুক্ত রোমান দেবতা স্যাটার্ন। কৃষি, ফসল ও সময়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। তাকে ঘিরে আয়োজিত ‘স্যাটারনালিয়া’ ছিল রোমানদের অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব। ল্যাটিন ‘ডিয়েস স্যাটার্নি’ অর্থ স্যাটার্নের দিন। ইংরেজি ‘Saturday’ নামটিও সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। রোম থেকে উত্তর ইউরোপে রোমানদের এই সাত দিনের নামকরণের ধারণা ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যায়। বিশেষ করে জার্মানিক ও অ্যাংলো-স্যাক্সন জনগোষ্ঠী রোমান দেবতাদের জায়গায় নিজেদের পরিচিত দেবতাদের সঙ্গে দিনের নামের সম্পর্ক স্থাপন করে। যেমন, রোমান যুদ্ধদেবতা মার্সের সঙ্গে তুলনা করে নর্স যুদ্ধদেবতা টিউয়ের নাম থেকে ‘Tuesday’ শব্দটির উৎপত্তি। একইভাবে মার্কারির সঙ্গে ওডেনের সম্পর্ক স্থাপন করে ‘Wednesday’, জুপিটারের সঙ্গে থরের মিল খুঁজে ‘Thursday’ এবং ভেনাসের সঙ্গে ফ্রিগ বা ফ্রেয়ারকে যুক্ত করে ‘Friday’ নামের প্রচলন ঘটে। তবে ‘Saturday’ নামটি স্যাটার্নের নামেই থেকে যায়। নর্স পুরাণে তার সরাসরি সমতুল্য কোনো দেবতার সঙ্গে নামটি প্রতিস্থাপিত না হওয়ায় রোমান নামটির ধারাই বজায় থাকে। বাংলা সপ্তাহের নামেও জ্যোতিষ্কের প্রভাব বাংলা সপ্তাহের সাত দিনের নামের পেছনেও রয়েছে আকাশের সাতটি জ্যোতিষ্কের ছাপ। ভারতীয় জ্যোতিষ ও সংস্কৃত ঐতিহ্যে সূর্য, চন্দ্র এবং পাঁচটি দৃশ্যমান গ্রহকে কেন্দ্র করে যে ধারণা গড়ে উঠেছিল, তার সঙ্গে দিনের নামগুলোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রবিবার—রবির দিন ‘রবি’ সূর্যের একটি সংস্কৃত নাম। সূর্যকে আলো, জীবন, শক্তি ও প্রাণের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে ভারতীয় ঐতিহ্যে। সেই রবি থেকেই রবিবারের নাম। সোমবার—সোমের দিন ‘সোম’ চন্দ্রের একটি প্রাচীন নাম। ভারতীয় পুরাণ ও ঐতিহ্যে চন্দ্রের সঙ্গে সময়, মন, আবেগ ও পরিবর্তনের বিভিন্ন ধারণা যুক্ত হয়েছে। সোম থেকেই এসেছে সোমবার। মঙ্গলবার—মঙ্গলের নাম থেকে মঙ্গলবারের নাম এসেছে মঙ্গল গ্রহ থেকে। ভারতীয় পুরাণে মঙ্গলকে শক্তি, সাহস ও যুদ্ধের মতো বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্রেও মঙ্গলকে শক্তি, প্রতিযোগিতা ও উদ্যমের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বুধবার—বুধ গ্রহের নামে বুধবার এসেছে বুধ গ্রহের নাম থেকে। ভারতীয় পুরাণে বুধের সঙ্গে বুদ্ধি, জ্ঞান, ভাষা, যুক্তি ও ব্যবসার সম্পর্ক রয়েছে। ফলে দিনের নামকরণেও বুধের নাম স্থান পেয়েছে। বৃহস্পতিবার—বৃহস্পতির দিন বৃহস্পতিবারের নাম সরাসরি বৃহস্পতি গ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারতীয় পুরাণে বৃহস্পতি দেবতাদের গুরু হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহটির সংস্কৃত নামও বৃহস্পতি। শুক্রবার—শুক্রের নামে শুক্রবার এসেছে শুক্র গ্রহের নাম থেকে। ভারতীয় পুরাণে শুক্রাচার্য অসুরদের গুরু হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে জ্যোতিষ ও সাংস্কৃতিক ধারণায় শুক্রের সঙ্গে সৌন্দর্য, প্রেম, ভোগ ও সমৃদ্ধির বিভিন্ন প্রতীকী সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। শনিবার—শনি গ্রহের দিন শনিবারের নাম এসেছে শনি গ্রহ থেকে। ভারতীয় পুরাণে শনি সূর্যের পুত্র এবং কর্মফল ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে যুক্ত এক গুরুত্বপূর্ণ দেবতা হিসেবে পরিচিত। মানুষের কর্ম অনুযায়ী ফল প্রদানের ধারণার সঙ্গে শনির সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রচলিত বিশ্বাস। একই আকাশ, ভিন্ন সংস্কৃতি সপ্তাহের সাত দিনের নামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভিন্ন ভিন্ন সভ্যতা নিজেদের ধর্ম, পুরাণ ও সংস্কৃতির সঙ্গে আকাশের দৃশ্যমান জ্যোতিষ্কগুলোর সম্পর্ক স্থাপন করেছে। প্রাচীন রোমে সূর্য, চাঁদ ও গ্রহগুলোর সঙ্গে রোমান দেবতাদের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। উত্তর ইউরোপে সেই ধারণা স্থানীয় নর্স ও জার্মানিক দেবতাদের সঙ্গে মিশেছে। ভারতীয় ঐতিহ্যেও একই সাতটি আকাশীয় বস্তুকে কেন্দ্র করে দিনের নামের একটি স্বতন্ত্র ধারা গড়ে উঠেছে। অর্থাৎ, সপ্তাহের সাত দিনের নাম শুধু সময় গণনার সুবিধাজনক পরিচয় নয়। এর মধ্যে লুকিয়ে আছে মানুষের আকাশ পর্যবেক্ষণ, পুরাণ, ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রাচীন জ্ঞানচর্চার দীর্ঘ ইতিহাস। হাজার বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ইতিহাস আজও আমাদের প্রতিদিনের কথাবার্তায় টিকে আছে—রবি থেকে শনিবার, সপ্তাহের প্রতিটি দিনের নামের মধ্যেই।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর ফলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেলেন। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেন। দুটি মনোনয়ন, একটি বৈধ নির্বাচন ভবনে সিইসির সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে মির্জা ফখরুলের নামে জমা দেওয়া দুটি মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, দুটি মনোনয়নপত্রের মধ্যে একটি বৈধ ঘোষিত হওয়ায় অন্যটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু। অলি আহমদের মনোনয়নও বৈধ এর আগে একই দিনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করা হয়। তার নামেও দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, একটি বৈধ ঘোষিত হওয়ায় অন্যটি বাতিল হয়ে যায়। ভোট ২০ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগস্ট। ভোট গ্রহণের জন্য ওই দিন জাতীয় সংসদের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদকক্ষে। যেভাবে হবে নির্বাচন বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হন কেবল জাতীয় সংসদের সদস্যরা। এই নির্বাচনে তারা প্রকাশ্য ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন করে চার নেতাকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিএনপির সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানো এবং দলীয় সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এই চার নেতাকে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। স্থায়ী কমিটির নতুন চার সদস্য হলেন—অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমান উল্লাহ আমান, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। রুহুল কবির রিজভী এতোদিন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে যুগ্ম মহাসচিব পদে ছিলেন। সাবেক রাকসু ভিপি রিজভী ছাত্রজীবন শেষে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। আমান উল্লাহ আমান এতোদিন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পদে ছিলেন। ৯০ স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে তার উত্থান। তিনি ডাকসু ভিপি পদে জয়ী হয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এবং যুগ্ম মহাসচিব পদে ছিলেন। ডা. ফরহাদ হোসেন ডোনার বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পদে ছিলেন। তিনি পেশাজীবীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশের অন্যতম চিকিৎসা গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেডিকেল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (বিএমএসআরআই) চেয়ারম্যান। ডা. ডোনার ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর প্রধান উপদেষ্টা, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক। আর ইসমাইল জবিউল্লাহ বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পদে এতোদিন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি সরকারের জনপ্রশাসন উপদেষ্টা পদে রয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের আশা, নতুন অন্তর্ভুক্ত নেতারা তাদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে সুচিন্তিত পরামর্শ দেবেন। একই সঙ্গে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে দল ও জনগণের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অভিজ্ঞ নেতাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনীত হয়েছে। তাই তিনি মহাসচিব ও দলের স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। এছাড়া সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন মারা যাওয়ায় স্থায়ী কমিটির আরেকটি পদ শূন্য হয়। অসুস্থ থাকায় ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যেতে পারেন না। আর মাহবুবুর রহমান রাজনীতি থেকে নিস্ক্রিয়। এমতাবস্থায় বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে নতুন চারজনকে যুক্ত করা হলো।