পুলিশের বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের দায়িত্বের পরিধি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর (পিএইচকিউ) গত ৭ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রস্তাবে এটিইউর নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ)’ করার অনুমোদন চেয়েছে। তাদের যুক্তি, দেশে ও বিশ্বে নিরাপত্তা হুমকির ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। সহিংস উগ্রবাদের পাশাপাশি নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও বিস্তৃত কাঠামো প্রয়োজন।
এ ছাড়া ৮ জুন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে পাঠানো আরেকটি চিঠিতে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি (এসএসইউ-ডিএমপি)’ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সম্প্রতি দেশের জাতীয় এক দৈনিক এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসেন বলেন, ইউনিটগুলোর কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের মূল নিরাপত্তাসংক্রান্ত দায়িত্বও বহাল থাকবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, নতুন নামে পরিচালিত হলে অতীতে বিতর্কিত বা প্রশ্নবিদ্ধ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত অভিযোগ থেকে সংস্থাগুলো বেরিয়ে এসে জনআস্থা পুনর্গঠনে সুবিধা পাবে।
পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) পক্ষে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তার ও তথ্যের দ্রুত প্রবাহের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরন বদলে গেছে। ফলে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা জরুরি।
২০১৬ সালে ঢাকার হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার (যেখানে ১৭ জন বিদেশি নাগরিকসহ ২২ জন নিহত হন) পরিপ্রেক্ষিতে এটিইউ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই ইউনিটে অনুমোদিত জনবল রয়েছে ৬২০ জন। এরপর থেকে এটিইউ সারা দেশে বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী হিসেবে কাজ করছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, উগ্রবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলো এখন আরও আধুনিক কৌশলে হামলার পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন করছে। তাদের লক্ষ্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করা।
এতে আরও বলা হয়েছে, এসব গোষ্ঠী ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা ব্যবহার করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষকে দলে টানে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল মাধ্যমে তরুণদের উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করে গোপন ‘স্লিপার সেল’-এ যুক্ত করে।
এসব পরিবর্তিত হুমকি মোকাবিলায় এটিইউকে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটে (এসএসইউ) রূপান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোতে ইউনিটটি শুধু জঙ্গিবাদ দমনই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জাতীয় স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা রক্ষায়ও বিস্তৃত ভূমিকা পালন করবে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ নামটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। এতে বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা আরও সহজ হবে এবং দেশের অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ও বাড়বে। পুলিশ সদর দপ্তরের দাবি, এই নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের জন্য সরকারের অতিরিক্ত কোনো অর্থ ব্যয় হবে না।
তবে এ উদ্যোগ নিয়ে এটিইউ ও সিটিটিসির ভেতরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই ইউনিটের দুই কর্মকর্তা বলেন, বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত সংস্থার ওপর অতিরিক্ত ও ভিন্ন ধরনের দায়িত্ব চাপানো হলে তাদের মূল কাজ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এটিইউর এক কর্মকর্তা বলেন, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে গঠিত কোনো বিশেষায়িত সংস্থাকে যদি নানা ধরনের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তাদের মূল দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সিটিটিসির এক কর্মকর্তা বলেন, শুধু নাম পরিবর্তন করলে তাৎক্ষণিকভাবে ইউনিটটির বর্তমান দায়িত্বে পরিবর্তন আসবে না। তবে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলে জঙ্গিবাদ দমনে ইউনিটটির কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জনগণের আস্থা অর্জনে নিষ্ঠা, সততা ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। সোমবার (১৭ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন সিভিক সেন্টারে আয়োজিত জেলা পুলিশের বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম। সভায় জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত সদস্যদের কল্যাণ, পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা, সততা, জবাবদিহিতা এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়। ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, পুলিশের মূল শক্তি হলো শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, সততা এবং জনগণের প্রতি অঙ্গীকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নিজেদের আচরণ ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করাও পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অনিয়ম, অবহেলা, অসদাচরণ কিংবা শৈথিল্যের সুযোগ নেই। মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে মানবিকতা, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণকে সেবা দিতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ ও পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। সভাপতির বক্তব্যে এসপি মো. মাসুদ আলম বলেন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। জনগণের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ, দ্রুত সেবা প্রদান এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকার মাধ্যমে জেলা পুলিশের সুনাম ও জনআস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের পাশাপাশি জনগণের প্রতি মানবিক ও সহানুভূতিশীল আচরণকে গুরুত্ব দিতে হবে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি। সভায় পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন সমস্যা ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর অপরাধ ও সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এবং আইনানুগ কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় দায়িত্ব পালনে বিশেষ অবদান, পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের অর্থ পুরস্কার ও সম্মাননা দেওয়া হয়। এ সময় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হবে। রোববার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণ অনুষ্ঠান ২০২৬’-এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমির খসরু বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের ভোটাধিকার, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক সমতার প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়েই বিএনপি তাদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে। দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় হাজার হাজার নেতাকর্মী কঠিন সময় পার করেছেন। সে সময় কারাগারে দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে তেমন তথ্য পৌঁছাত না। তবে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার খবর দ্রুত কারাগারে পৌঁছালে সেখানে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেল সুপার তাকে বন্দিদের শান্ত থাকার আহ্বান জানাতে অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপির কর্মসূচিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ’—এই দুটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াই ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ধারণার মূল লক্ষ্য। অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না; দেশের প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সেটিই অর্থনৈতিক গণতন্ত্রের উদ্দেশ্য। তিনি আরও বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে গ্রামীণ শিল্পী, কারুশিল্পী, খেলোয়াড় ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ সুবিধা, ডিজাইন সহায়তা ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। শীতলপাটি ও মৃৎশিল্পের মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমির খসরু বলেন, স্পোর্টস ইকোনমি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে পারলে মানুষের আয় ও জীবনমান বাড়বে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজার ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকট ছিল। ‘আমরা শূন্য থেকে শুরু করিনি, বরং মাইনাস থেকে শুরু করেছি’—বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করা সম্ভব হবে। আমির খসরু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হলে নাগরিকদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নারী, শিশু, শ্রমিক, প্রতিবন্ধীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেই জুলাই আন্দোলনের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জিত হবে। অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হক সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।
চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে চার দফা প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একইসঙ্গে তা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ৯০ দিনের মধ্যে জাতির সামনে তুলে ধরারও আহ্বান জানিয়েছে দলটি। চলমান জ্বালানি সংকট ও উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তুলে ধরেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই বিরোধীদের উপর দায় চাপাচ্ছে। অথচ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তিন মাস আগেই সরকারকে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে বিরোধী দল। যা সরকারের টেবিলেই আছে। কিন্ত সরকার সেগুলো বাস্তবায়ন না করে বিরোধীদের নিয়ে নানান মন্তব্য করছেন যা অনভিপ্রেত এবং দুঃখজনক। বিরোধীরা ১৭ বছর মাঠে ছিল না— সরকারপ্রধানের এমন বক্তবের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে না থাকায় তিনি জামায়াতে ইসলামীকে মাঠে দেখেননি। এতগুলো জীবন গেল, ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছে, পুরো বিশ্বে দেখেছে, কিন্তু বর্তমান সরকার দেখেনি। তিনি বলেন, বিরোধী দল সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চায় না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকুক, কিন্তু জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রতিযোগিতা হোক স্বচ্ছভাবে। জ্বালানিসংকট নিরসনে স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজন) নিয়ে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল’ গঠনসহ সংবাদ সম্মেলনে চার দফা সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরে জামায়াত। দলটি নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার মধ্যে জরুরি ওয়ার্কওভার ও সংস্কারকাজের অনুমোদনক্ষমতা রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের পরিচালনা পর্ষদে দেয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে বলেছে। জামায়াতের অন্য প্রস্তাবগুলো হলো, রূপপুর বেজ লোড প্ল্যান্ট (পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র) উৎপাদনে এলে কখন আসবে এবং এর ট্যারিফ কী হবে, সেটি দেশের জনগণকে জানানো; জরুরি দরপত্র মূল্যায়নের জন্য স্থায়ী মূল্যায়ন ব্যবস্থা তৈরি করা এবং অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর জন্য একক তদারকি ব্যবস্থা করা, কোন ফাইল কোথায় কত দিন আটকে আছে, সেই তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা। সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, চট্টগ্রামের মহেশখালী ও পটুয়াখালীর পায়রায় টার্মিনাল করার কথা ছিল, সেটি হয়েছে কি না, তা জনগণ জানে না। খুলনার খালিশপুরে রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তৈরি হলেও আজও কমার্শিয়াল উৎপাদনে যেতে পারেনি।