ঢাকার শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটের আবাসিক ভবন থেকে এক নারী চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ফারা ফেরদৌস নামে ২৭ বছর বয়সি ওই চিকিৎসক বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্ডিওভাসকুলার অ্যান্ড থোরাসিক সার্জন বিভাগে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।
শুক্রবার বিকালে ১৪ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, “ওই নারী চিকিৎসকের সঙ্গে তিন দিন ধরে তার পরিবারের যোগাযোগ ছিল না। ফোনে সাড়া না পেয়ে স্বজনরা শুক্রবার বাসায় গিয়ে বিছানায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন।
পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
ওসি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে তিনি স্ট্রোক করে মারা যেতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ফারা ফেরদৌস খুলনার ফুলতলা উপজেলার মো. আব্দুর রশিদ ও ফেরদৌসি রশিদের মেয়ে।
৩৯তম বিসিএসের মাধ্যমে তিনি সহকারী সার্জন হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওভাসকুলার অ্যান্ড থোরাসিক সার্জন বিভাগের রেসিডেন্ট হিসেবে প্রশিক্ষণ শুরু করেন। তিনি ‘ফেজ বি রেসিডেন্ট’ প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন।
২০১৭ সালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে তিনি এমবিবিএস পাস করেন।
অবিবাহিত এ চিকিৎসক সেই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে নিলামযোগ্য পচনশীল পণ্য ই-নিলামের মাধ্যমে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত, স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও আইনানুগভাবে এসব পণ্য নিষ্পত্তির লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রমিত কার্যপদ্ধতি (এসওপি) জারি না হওয়া পর্যন্ত এ নির্দেশনা কার্যকর থাকবে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম বিভাগ থেকে আজ মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। কাস্টম হাউসের কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) মুহা. মাহবুবুর রহমানের সই করা আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়, নিলাম কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, পণ্যজট নিরসন, বন্দরের ধারণক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে পচনশীল পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। আদেশে আরও বলা হয়, কাস্টমস আইন অনুযায়ী যথাযথ কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে জীবজন্তু ও পচনশীল পণ্য যেকোনো সময় বিক্রির বিধান রয়েছে। এ ছাড়া এনবিআরের নিলামসংক্রান্ত স্থায়ী আদেশেও ই-নিলামের মাধ্যমে পচনশীল পণ্য বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম কাস্টমসের অধীন নিলামযোগ্য যেসব পণ্যচালানের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধিবিধান কিংবা কোনো আদালত বা কর্তৃপক্ষের আদেশগত বাধা নেই, সেগুলো ই-নিলাম পদ্ধতিতে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। ই-নিলামে তোলার আগে পণ্যচালানের আইনগত অবস্থা, পণ্যের প্রকৃতি ও পরিমাণ, ইনভেন্টরি এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই ও সংরক্ষণ করতে হবে। তবে কোনো পণ্যচালানের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ বা বিক্রয় কিংবা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে স্পষ্ট আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকলে সেটি ই-নিলামে তোলা যাবে না। অন্যদিকে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারাধীন বা ন্যায়নির্ণয়াধীন পচনশীল পণ্য দ্রুত বিক্রির সুযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট আইনগত বিধান অনুসরণ করে যথাযথ অনুমোদন নিয়ে বিক্রির ব্যবস্থা করা যাবে। আদেশে আরও বলা হয়েছে, পণ্যচালানের লট ও ক্যাটালগ প্রস্তুত করে ই-নিলামের জন্য দরদাতাদের (বিডার) পরিদর্শন, অংশগ্রহণ, জামানত, বিডিং এবং পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। পচনশীল পণ্যের দ্রুত পচনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসব পণ্যের নিলাম কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং কোনো বিলম্ব ছাড়াই সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। ই-নিলামে সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য দর পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক অনুমোদন নিতে হবে। নিলামে বিক্রি সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রেতা নিলাম মূল্য, শুল্ক-করাদি, সরকারি পাওনা ও অন্যান্য আইনগত দায় পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় দলিল দাখিলের পর পণ্য খালাস বা অপসারণের সুযোগ পাবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত দরদাতা অর্থ পরিশোধ বা অন্যান্য শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে, বিক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন না হলে কিংবা নিলাম বাতিল হলে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট স্থায়ী আদেশ ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া কোনো পচনশীল পণ্য নিলামের উপযোগী না হলে অথবা আমদানিনীতি, নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার বিধান, আদালতের আদেশ কিংবা অন্য কোনো আইনগত কারণে ই-নিলামের মাধ্যমে বিক্রি সম্ভব না হলে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী তা ধ্বংস বা অন্য কোনো আইনি নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ৯৪ ধারার সঙ্গে পঠিতব্য ২০৭ ও ২৬৬ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কাস্টমস কমিশনার (অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব কাস্টমস) নাজমুল হোসেন বলেন, পচনশীল পণ্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইন ও বিধি মেনে তা নিষ্পত্তির জন্য ই-নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আইনগত বাধা থাকলে এসব পণ্য ই-নিলামে তোলা হবে না।
আওয়ামী লীগের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আজ অবশিষ্ট সাক্ষ্য দেবেন মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে তার এ জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে। প্রসিকিউশন জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার ১৫তম সাক্ষী হিসেবে রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ওই দিন আংশিক জবানবন্দি দেন তিনি। বাকি অংশের জবানবন্দির জন্য ৪ অক্টোবর দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল। তবে ওই দিন সাক্ষ্য গ্রহণ না হওয়ায় আজকের দিন ধার্য করা হয়। জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি শেষ হলেই মামলাটি যুক্তিতর্কের দিকে এগোবে। তবে চাইলে চাইলে সাফাই সাক্ষ্য দিতে পারবে আসামিপক্ষ। এর আগে, ২৭ সেপ্টেম্বর জিয়াউলের মামলায় সাক্ষ্য দেন কামরুল ইসলাম। তদন্তকালে বিভিন্ন স্থান থেকে জব্দ করা আলামতের তথ্য ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন তিনি। একই দিন মামলার ১৩তম সাক্ষী র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা শেষ হয়। তিনি ছিলেন মামলার সর্বশেষ চাক্ষুষ সাক্ষী। এ মামলায় সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়। প্রথমটি হলো- ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউলের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিন হত্যা। দ্বিতীয় অভিযোগে অপরাধের সময়কাল হলো ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। এ সময়টায় বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালঘেঁষা বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা। তৃতীয় অভিযোগেও ৫০ হত্যার অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন। অর্থাৎ, দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লিখিত সময়ে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন অঞ্চলে তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনের প্রাণ নেওয়া। এসব হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। একই দিন ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
পটুয়াখালীর বাউফলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আদায় ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের ছুটি অনুমোদন, টাইম স্কেল ও অডিট খরচের নামে অর্থ আদায়, স্লিপ প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে উৎকোচ গ্রহণ এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক বদলির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বাউফল উপজেলার ২৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তবর্ণের চার্ট (১৭ আইটেম) সরবরাহের নামে ১৭০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। অথচ বাজারমূল্য অনুযায়ী ওই চার্টের দাম মাত্র ৭০০ টাকা। সে হিসেবে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে অতিরিক্ত ১০০০ টাকা করে মোট ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্লিপ প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে এই চার্ট ক্রয়ের ব্যয় দেখানো হলেও নিয়ম অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকরা তা নিজে ক্রয়ের কথা। কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তা আখতার হোসেন জোরপূর্বক তা সরবরাহ করে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া স্লিপ প্রকল্পের মোট বরাদ্দ থেকে প্রতিটি বিদ্যালয় বাবদ ২ হাজার টাকা করে শিক্ষা কর্মকর্তাকে উৎকোচ দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি গত জুন মাসে ‘জুন ফাইনাল’-এর কথা বলে হিসাবরক্ষণ অফিসের নামে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা করে আদায়েরও অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শিক্ষক বদলিকে কেন্দ্র করেও রমরমা বাণিজ্য চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, মন্ত্রণালয় কর্তৃক বদলি বন্ধের নির্দেশনা উপেক্ষা করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পেছনের তারিখ উল্লেখ করে অন্তত ৬ জন শিক্ষককে বদলির সুপারিশ করেছেন তিনি। সম্প্রতি বাউফলের ধাউড়াভাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুসরাত সুলতানাকে বিধিবহির্ভূতভাবে দুমকি উপজেলার নলদোয়ানী পাঙ্গাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির জন্য তিনি সুপারিশ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী স্বামীর স্থায়ী ঠিকানায় নারী শিক্ষকদের বদলির বিধান থাকলেও, নুসরাত সুলতানার স্বামীর বাড়ি বরিশাল শহরে আর বাবার বাড়ি বগা এলাকায়। অভিযোগ রয়েছে, তার ব্যবসায়ী স্বামীর কাছ থেকে বড় অংকের উৎকোচ নিয়ে এই বদলির সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ডেপুটেশন এবং মাতৃত্বকালীন বা চিকিৎসাজনিত ছুটি অনুমোদনের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত হারে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়মিত অফিস করেন না। বিশেষ করে বৃহস্পতি ও রোববার স্কুল পরিদর্শনের নাম করে তিনি অধিকাংশ সময় ভোলায় নিজের বাড়িতে অবস্থান করেন। অফিসে গেলে কর্মচারীরা জানান তিনি পরিদর্শনে আছেন। এ ছাড়া শিক্ষকদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তার বা অফিসের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত হলে শিক্ষকদের চাপ প্রয়োগ করে নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়।এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাউফল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আখতার হোসেন তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি কুচক্রীমহল আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।’ যুক্তবর্ণের চার্ট ও স্লিপ বরাদ্দ নিয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তবর্ণের চার্ট সরবরাহের বিষয়টি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাধীন এবং বিদ্যালয়গুলোর মানসম্মত শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ের সুবিধার জন্যই করা হয়েছে। এখানে কোনো অতিরিক্ত বা জোরপূর্বক টাকা নেওয়া হয়নি। স্লিপ প্রকল্পের বরাদ্দের বিষয়ে উৎকোচের কথা সম্পূর্ণ বানোয়াট।’ বদলি বাণিজ্য ও ছুটি সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘শিক্ষক বদলি বা ডেপুটেশনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সরকারি বিধিমালা ও নীতিমালা পুরোপুরি অনুসরণ করা হয়। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে কাউকে বদলির সুপারিশ বা আর্থিক লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই। একইভাবে মাতৃত্বকালীন বা চিকিৎসাজনিত ছুটিও সরকারি বিধি মোতাবেক দেওয়া হয়।’ অফিসে অনুপস্থিতি ও অসদাচরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি নিয়মিত অফিস করি এবং রুটিন অনুযায়ী স্কুল পরিদর্শনে যাই। শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সত্য নয়, আমি সবসময় শিক্ষকদের সম্মান করি।’