ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে এবার অংশ নিয়েছে ৪৮টি দল। তবে বাছাইপর্বে অংশ নেয় বিশ্বের প্রায় সব দেশের জাতীয় দল। বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আয়ের একটি অংশ সদস্য দেশগুলোর উন্নয়ন কার্যক্রমে বরাদ্দ দেয় ফিফা। সেই অর্থের অংশ পাবে বাংলাদেশও।
এবারের বিশ্বকাপে রেকর্ড পরিমাণ ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করেছে ফিফা, যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি।
গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া প্রতিটি দল পেয়েছে ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার, রানার্সআপ ৩৩ মিলিয়ন, তৃতীয় স্থান অধিকারী দল ২৯ মিলিয়ন এবং চতুর্থ স্থান পাওয়া দল পাবে ২৭ মিলিয়ন ডলার।
এ ছাড়া কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পেয়েছে ২০ মিলিয়ন ডলার করে। রাউন্ড অব ১৬ থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর জন্য বরাদ্দ ছিল ১৬ মিলিয়ন ডলার এবং দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলো পেয়েছে ১২ মিলিয়ন ডলার করে। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলকে প্রস্তুতি ও যাতায়াত ব্যয়ের জন্য অতিরিক্ত আড়াই মিলিয়ন ডলারও দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় ফুটবলার জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু বলেন, ‘যখন দলের সংখ্যা বাড়ানো হয় তখন অন্যান্য দলগুলোও উৎসাহিত হবে এই ভেবে যে–আমারও হয়তো সুযোগ রয়েছে। এশিয়া কিংবা আফ্রিকার দিকে দেখলে দেখা যাবে। দলের সংখ্যা যেহেতু বাড়ছে, সেহেতু কোয়ালিফাই করার জন্য প্রতিযোগিতাটাও বাড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপ থেকে ফিফা যে আয় করে, তার একটি অংশ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। যেমন বড় শো, প্রাইজ মানিও আকাশ ছোঁয়া। এবার সব মিলিয়ে ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। লভ্যাংশ থেকে ফিফা সব দেশকেই অর্থনৈতিক সহযোগিতা করবে। গেইম ডেভেলপমেন্টের জন্য বাংলাদেশও বিশ্বকাপ শেষে পাবে বড় অঙ্কের টাকা।
অন্যদিকে মাঠের পারফরম্যান্সেও এবারের বিশ্বকাপ ইতোমধ্যে ইতিহাস গড়েছে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত হয়েছে ২৯৭টি গোল। সর্বোচ্চ আটটি করে গোল করেছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে।
রোববারের (১৯ জুলাই) ফাইনালের পরই নির্ধারণ হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের পাশাপাশি আসরের সেরা খেলোয়াড় ও অন্যান্য ব্যক্তিগত পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই নানা নতুনত্বের সাক্ষী হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপজয়ী দলকে দেওয়া হবে বিশেষ ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’ বা আংটি। মার্কিন ক্রীড়াঙ্গনে চ্যাম্পিয়ন দলকে আংটি প্রদান দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। বিশেষ করে এনএফএলের সুপার বোলজয়ীরা এই সম্মান পেয়ে থাকে। সেই সংস্কৃতিই এবার প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে ফিফার কোনো প্রতিযোগিতার সঙ্গে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপীয় শক্তি স্পেন। ঐতিহ্যবাহী বিশ্বকাপ ট্রফি ও স্বর্ণপদকের পাশাপাশি বিজয়ী দলের জন্য থাকবে এই নতুন সম্মাননা। বিশ্বকাপ উপলক্ষে মোট ২ হাজার ২৬টি চ্যাম্পিয়নশিপ রিং তৈরি করা হবে। এর মধ্যে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যদের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৩০টি আংটি। বাকি ১ হাজার ৯৯৬টি আংটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সমর্থকদের জন্য বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। আংটির এক পাশে থাকবে বিশ্বকাপ ট্রফির নকশা। অন্য পাশে ফুটে উঠবে চ্যাম্পিয়ন দলের পরিচয় ও অর্জনের স্মারক। বিজয়ী দলের জন্য তৈরি প্রতিটি আংটিই হবে স্বতন্ত্র নম্বরযুক্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আঙুলের মাপ অনুযায়ী বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হবে। প্রতিটি আংটির সঙ্গে দেওয়া হবে সত্যায়নপত্রও। ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিজয়ী দলের অধিনায়ক ও প্রধান কোচের হাতে প্রতীকী বা অস্থায়ী আংটি তুলে দেওয়া হবে। পরে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য নির্ধারিত ৩০টি আংটি ব্যক্তিগত মাপ অনুযায়ী তৈরি করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হবে।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের হাতে ট্রফি দেখতে চাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বকাপ প্রতিনিধি অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি। ট্রাম্প নিজেও নাকি ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইনের খেলার খবরাখবর রাখতেন। কিন্তু আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় হারে সেমিফাইনালে থেমেছে ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এদিকে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে মার্কিন খেলোয়াড়ের নিষেধাজ্ঞা বাতিলে হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। কিন্তু ৬০ মিনিটের পর থেকে এই কোচের রক্ষণাত্মক কৌশলই ইংলিশদের ডুবিয়েছে বলে সাবেক ফুটবলার ও বিশ্লেষকদের ধারণা। শেষ দিকে আর্জেন্টিনা দুটি গোল করে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে। বিশ্লেষকদের চোখে ধরা পড়া সেই সুরই এবার শোনা গেল ট্রাম্পের মুখে। গতকাল (শুক্রবার) ট্রাম্প টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবর্ধনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইংল্যান্ডে একজন দারুণ খেলোয়াড় আছে, যার সঙ্গে আমি গলফ খেলেছি। সে হলো হ্যারি (কেইন), অসাধারণ একজন ফুটবলার। আমার মনে হয়, তাকে রক্ষণাত্মক খেলোয়াড় বানিয়ে তারা হয়তো ভুল করেছে। ফুটবল সম্পর্কে আমি-ই বা কতটা জানি? তারা এগিয়ে ছিল, আর তখনই তাদের সেরা খেলোয়াড়কে রক্ষণে পাঠিয়ে দিল।’ ইংল্যান্ড কোচের সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক উল্লেখ করলেও, নিজেকে ফুটবল জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাও স্বীকার করেন ট্রাম্প, ‘আমাদের তো একটু আক্রমণাত্মক হওয়া উচিত, তাই না? তবে না, আমি কোচিং নিয়ে মন্তব্য করব না। কোচিং সম্পর্কে আমি-ই বা কী জানি? কিন্তু সিদ্ধান্তটা একটু অস্বাভাবিক ছিল।’ এদিকে, চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দেওয়া বিষয়গুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। বিষয়টি ফিফাকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প। ২৫ বছর বয়সী এই তারকা আগের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের পায়ে কড়া ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে নিজেদের নীতির বাইরে হাঁটে ফিফা। ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেওয়া ওই বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি (বিশ্বকাপ) অন্য যেকোনো টুর্নামেন্টের চেয়ে আলাদা। যেখানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অবিস্মরণীয় সব মুহূর্ত ছিল। সম্ভবত সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনাটি ছিল যখন ওই ভদ্রলোককে... ওটা কি লাল কার্ড ছিল? তখন আমি বাধ্য হয়ে জিয়ান্নি (ইনফান্তিনো)–কে ফোন করি। আমি বলেছিলাম, “জিয়ান্নি, আমি একটি সুপারিশ করতে চাই। ছেলেটিকে খেলতে দাও!” না, আমি আসলে সেটা বলিনি। আমি বলেছিলাম, আমি একটি অভিযোগ জানাতে চাই।’ ফিফার বালোগানের নিষেধাজ্ঞা ১২ মাসের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্তে কোনো বিতর্ক দেখেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উল্টো ট্রাম্পের আক্ষেপ ফিফা উপযুক্ত কাজের স্বীকৃতি পাবে না, ‘আসলে এরপর কী হবে, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যেভাবে বিষয়টি হলো, সেটিই অনেক ভালো হয়েছে, কারণ এতে আর কোনো বিতর্ক থাকেনি। (বেলজিয়াম) ম্যাচটি জিতেছে এবং আমাদের দলও সব খেলোয়াড়কে নিয়ে খেলেছে। এখন ভেবে দেখলে বলতে হয়, তোমরা আরেকটি দারুণ সিদ্ধান্ত নিয়েছ। তবে এর জন্য তোমরা কখনোই যথাযথ স্বীকৃতি পাবে না।’
বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের বহু পুরোনো একটি ছবি। ২০০৭ সালে বার্সেলোনা ও ইউনিসেফের একটি চ্যারিটি ফটোশুটে শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়ে গোসল করানোর সেই ছবির প্রসঙ্গ এবার নিজেই তুললেন মেসি। শুক্রবার নিউইয়র্কে ফিফার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ছবিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেসি বলেন, “সত্যি বলতে ছবিটা খুবই অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করে। তখন আমি অনেক ছোট ছিলাম, আর আজ বিশ্বকাপের ফাইনালে তার বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।” মেসি আরও বলেন, ইয়ামাল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। স্পেনের হয়ে ইউরো জয়ের পর সে ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত পারফর্ম করছে এবং সামনে তার আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। তবে ফাইনালে আর্জেন্টিনা নিজেদের সেরাটা খেলতে চায়, যাতে ইয়ামাল নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে না পারেন। বার্সেলোনায় দীর্ঘ সময় কাটানোর কারণে ইয়ামালের সঙ্গে নিজের এক ধরনের আবেগের সম্পর্কও রয়েছে বলে জানান মেসি। তার ভাষায়, “বার্সেলোনায় অনেক সময় কাটিয়েছি। সেখান থেকেই ওর সঙ্গে পরিচয়।” ২০০৭ সালের সেই ছবি প্রথম আলোচনায় আসে ২০২৪ সালে। প্রায় দুই দশক পর সেই ছবির দুই চরিত্র এখন ফুটবল বিশ্বের দুই প্রজন্মের প্রতীক—একজন কিংবদন্তি, অন্যজন ভবিষ্যতের তারকা। রবিবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। বড় ম্যাচের চাপ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মেসি বলেন, “আমরা স্বাভাবিকভাবেই খেলতে চাই। ফুটবলে জয়-পরাজয় থাকবেই।”