জাতীয়

থার্টি ফার্স্টে কক্সবাজার পুলিশের ৭ নির্দেশনা

Unknown ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫

থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে পর্যটননগরী কক্সবাজারে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ সাত দফা নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন বছর উদযাপনকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, অনৈতিক কার্যকলাপ বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি না হয়, সে জন্য এসব নির্দেশনা মেনে চলার জন্য স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক এবং ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।


জেলা পুলিশ জানিয়েছে, থার্টি ফার্স্ট উপলক্ষে সমুদ্রসৈকত, হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় অশালীন আচরণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য সেবন, বহন ও কেনাবেচার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে উচ্চ শব্দে গান বাজানো, আতশবাজি ও পটকা ফোটানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে রাতের বেলা সমুদ্রসৈকতে নামা, গোসল করা বা অবস্থান করাও নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হোটেল ও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে অতিথিদের পরিচয়পত্র যাচাই ও সংরক্ষণে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি নজরদারির পাশাপাশি যেকোনো হয়রানি বা অসদাচরণের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।


জেলা পুলিশ আরও জানিয়েছে, থার্টি ফার্স্ট নাইট ঘিরে কক্সবাজার শহর, সমুদ্রসৈকত ও পর্যটন এলাকাজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ভ্রাম্যমাণ টহল, চেকপোস্ট এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আইন ভঙ্গ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করে জেলা পুলিশ সবাইকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতির পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও সবুজ অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।   এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্পখাতে সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। দেশে সবুজ শিল্প কারখানার সংখ্যা বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের একটি উদাহরণ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।   প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।   তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরিবেশ সংরক্ষণে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ২৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

সচিবের স্বাক্ষর ছাড়াই প্রকল্প অনুমোদন করেছেন উপদেষ্টা আসিফ: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

ছবি: সংগৃহীত

ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে বাসমালিক-যাত্রীদের জন্য ডিএমপির বিশেষ নির্দেশনা

অর্থমন্ত্রীর হাতে সুপারিশমালা তুলে দিচ্ছেন শাইখ সিরাজ। ছবি: সংগৃহীত

অর্থমন্ত্রীর হাতে কৃষি বাজেট সুপারিশমালা তুলে দিলেন শাইখ সিরাজ

ছবি: সংগৃহীত
কোরবানির চামড়া ব্যবস্থাপনায় কন্ট্রোলরুম চালু করল সরকার

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় একটি কন্ট্রোল রুম চালু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তা ছাড়া গণসচেতনতা বাড়াতে দেশের সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বিশেষ বার্তা স্ক্রল আকারে প্রচারের অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। রবিবার (২৪ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে উপসচিব নাসরিন সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় কোরবানির পশুর চামড়া যথাযথভাবে ছাড়ানো, পর্যাপ্ত লবণ ব্যবহার এবং কাঁচা চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রাপ্ত কাঁচা চামড়া যাতে নষ্ট না হয় এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে একটি বার্তা প্রচার করা হবে। বার্তায় বলা হয়েছে, কোরবানির চামড়া সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগের জন্য একটি হটলাইন নম্বর ০১৬১৭-৩৩৮০৬৭ দেওয়া হয়েছে।

মারিয়া রহমান মে ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩ কোটি টাকা টোল আদায়

ঈদযাত্রায় সড়কে গণপরিবহন চলছে। ছবি : সংগৃহীত

ঈদযাত্রায় গণপরিবহনে কড়াকড়ি, নিয়ম ভাঙলেই শাস্তি

ছবি: সংগৃহীত

হজযাত্রীরা আজ মক্কা থেকে মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন

ফাইল ছবি
ঈদ উপলক্ষে চার বন্দির সাজা মওকুফ, মুক্তির আদেশ সরকারের

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা চার বন্দির সাজা মওকুফের মাধ্যমে তাদের মুক্তির আদেশ দিয়েছে সরকার। খুব শিগগিরই এসব বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। রোববার (২৪ মে) বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও মিডিয়া) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ। মুক্তির আদেশ পাওয়া বন্দিরা হলেন–খুলনা জেলা কারাগারের কয়েদি মো. ইসলাম শেখ, ফরিদপুর জেলা কারাগারের কয়েদি নাঈম শিকদার, চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের কয়েদি আব্দুল মালেক এবং রাঙ্গামাটি জেলা কারাগারের কয়েদি পলাশ বড়ুয়া। কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে বিশেষ বিবেচনায় তাদের সাজা মওকুফ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সংশ্লিষ্ট কারাগার থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হবে।

মারিয়া রহমান মে ২৪, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

শিশু নির্যাতনে ভয়াবহ চিত্র: ৫ মাসে ১১৮ ধর্ষণ, উদ্বিগ্ন শিশু অধিকার সংগঠন

ছবি: সংগৃহীত

রামিসা হত্যা মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ

ছবি : সংগৃহীত

চাঙ্গা লেনদেনেও সংকটে দেশের চামড়া খাত

0 Comments