বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চার দিনের উত্তরাঞ্চলীয় সফর উপলক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে দলটি।
গতকাল মঙ্গলবার তারেক রহমানের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক এবং রিটার্নিং অফিসারদের এই সফরের বিষয়ে জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, তারেক রহমান এই সফরে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের কবর জিয়ারত এবং দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচিতেও তিনি উপস্থিত থাকবেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সফরটি সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচির অংশ। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত আচরণবিধি কোনোভাবেই এখানে লঙ্ঘন করা হবে না। সফর উপলক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাসহ সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছে দলটি।
সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ জানুয়ারি ঢাকা থেকে রওনা হয়ে টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ হয়ে বগুড়ায় গিয়ে রাত্রিযাপন করবেন তারেক রহমান। পরের দিন ১২ জানুয়ারি তিনি বগুড়া থেকে রংপুরের পীরগঞ্জ ও দিনাজপুর সফর শেষে ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থান করবেন। সফরের তৃতীয় দিন ১৩ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও থেকে পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলা সফর করে তিনি রংপুরে রাত্রিযাপন করবেন। সফরের শেষ দিন ১৪ জানুয়ারি রংপুর ও বগুড়ার গাবতলী হয়ে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তার।
সফরকালে তিনি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শহীদ আবু সাঈদ এবং মরহুমা তৈয়বা মজুমদারসহ শহীদদের কবর জিয়ারত করবেন। পাশাপাশি আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি।
পুরো সফরের সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন পরিচালক (সমন্বয়) ক্যাপ্টেন (অব.) গণিউল আজম।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চিকিৎসা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন লন্ডন সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ৯ মে তিনি দেশ ত্যাগ করবেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, সফরে তার সঙ্গে থাকবেন তার সহধর্মিণী ডা. রেবেকা সুলতানা এবং ৬-৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। এদের মধ্যে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকও থাকবেন। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, লন্ডনের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। সফর শেষে আগামী ১৭ মে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় দুই বছর পর চিকিৎসাসেবা নিতে বিদেশ যাচ্ছেন তিনি। নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই সফরটি সম্পূর্ণ চিকিৎসাজনিত এবং এতে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সময়মতো তিনি তার সহধর্মিণীসহ নির্ধারিত দেশে রওনা দেবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি ২০২৩ সালে হৃদরোগের কারণে কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি করিয়েছিলেন। এরপর থেকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বয়স এখন ৭৬ বছরের কাছাকাছি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার হার্টের বাইপাস সার্জারি হয়। এরপর ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তিনি দুবাই হয়ে লন্ডনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে যান এবং সেখান থেকে ফিরে আসেন। এরপর আর তিনি চিকিৎসা নিতে বা নিয়মিত চেকআপ করাতে দেশের বাইরে যাননি। রাষ্ট্রপতির বয়সজনিত কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি হলেও তা সবসময় বিদেশে সম্ভব হয় না। দেশের ভেতরে বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা থাকলেও আন্তর্জাতিক মানের কিছু পরীক্ষা ও চিকিৎসা কেবল বিদেশেই পাওয়া যায়। সাধারণত রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেশের ভেতরেই সম্পন্ন হয়। তবে বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তিনি বিদেশে যান। কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারির পরে নিয়মিত চেকআপ প্রয়োজন হলেও তা বিলম্বিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তার চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নিলে তিনি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশ যেতে চাইলেও তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। যেহেতু রাষ্ট্রপতির ঘন ঘন বিদেশ সফর হয় না এবং সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান হলেও তার কার্যক্রম মূলত আনুষ্ঠানিক, তাই চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাত্রা করতে হলে সরকারের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমতি না থাকায় তিনি নিয়মিত চেকআপে যেতে পারেননি। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি এক গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চাইলেও তা পাননি। লন্ডনের কেমব্রিজ পার্কওয়ে হাসপাতালসহ বিদেশে চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকা সত্ত্বেও তাকে যেতে দেওয়া হয়নি। এটিকে তিনি ‘মানসিক পীড়ন’ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বড় বিজয় লাভ করলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন এবং রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে প্রেস উইং পুনর্বহাল করা হয়। বর্তমানে তিনি অনেকটাই স্বস্তিতে আছেন। রাষ্ট্রপতির এ আসন্ন লন্ডন সফর তার পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সফরগুলোর ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার অনুপস্থিতিতে সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে আরেকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।
মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব নিরসনে ইসলামী শ্রমনীতি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মনে করেন, এ নীতির বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি মালিকদের স্বার্থও রক্ষা করা সম্ভব। বুধবার (২৯ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে এ আহ্বান জানান এবং ১ মে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। তবে দীর্ঘদিন পরও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই পুরোপুরি সফল হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও প্রাপ্য অধিকার আদায়ে আন্দোলনে নামতে হয়, এমনকি জীবনও দিতে হয়। অন্যদিকে মালিক পক্ষ কখনো নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে। আবার শ্রমিকদের আন্দোলনের ফলে অনেক সময় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতিও হয়। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানবসৃষ্ট কোনো মতবাদ শ্রমিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। তিনি মহানবী (সা.)-এর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বলেন, শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার প্রাপ্য মজুরি পরিশোধ করতে হবে—এ নীতিই শ্রমিকের মর্যাদা রক্ষার মূল ভিত্তি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, শিল্পখাতে প্রায়ই মালিক-শ্রমিক সংঘাত, ছাঁটাই, মামলা ও হামলার ঘটনা ঘটে, যা একটি স্থিতিশীল শ্রমপরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ইসলামী শ্রমনীতি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। শেষে তিনি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে দেশের শ্রমজীবী মানুষসহ সকলকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দিবসটি পালনের আহ্বান জানান।
২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম আগামী ২ মে থেকে শুরু হচ্ছে। এ কার্যক্রম চলবে ২৫ মে পর্যন্ত বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা। বুধবার (২৯ এপ্রিল) প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড জানায়, ইএসআইএফ (eSIF) ফরম পূরণের মাধ্যমে এই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি জমা ও তথ্য অনলাইনে প্রদান করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং ২০২৪ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে বোর্ডের অধীনে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীরাই ২০২৬ সালে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পাবে। বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে—পরীক্ষা বছরের ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীর ন্যূনতম বয়স ১১ বছর এবং সর্বোচ্চ ১৭ বছর। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই সীমা ২২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। শুধুমাত্র বোর্ড অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। অন্যদিকে, অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিকটবর্তী স্বীকৃত স্কুলের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বোর্ডের ওয়েবসাইটে OEMS/eSIF অপশনে গিয়ে EIIN ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে হবে। সোনালী সেবার মাধ্যমে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে পেমেন্ট নিশ্চিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের তথ্য অনলাইনে পূরণ করা যাবে। ব্যাংকে ফরম জমা বা নির্ধারিত খাতের বাইরে অর্থ পরিশোধের সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে তিন সদস্যের একটি রেজিস্ট্রেশন কমিটি গঠন করে শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্তভাবে সাবমিট করতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করা যাবে না। চূড়ান্ত তালিকার হার্ডকপি সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক এবং তথ্যগত কোনো ভুলের দায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও কমিটিকে বহন করতে হবে। প্রতিজন শিক্ষার্থীর জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৬ টাকা, আর বিলম্বে জমা দিলে তা বেড়ে হবে ২৫৬ টাকা। নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নতুন অনুমোদন পাওয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে ব্যানবেইস থেকে EIIN সংগ্রহ করে ১ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিয়ে লগইন পাসওয়ার্ড নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন না হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নিতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। বোর্ড আরও জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি হালনাগাদ থাকতে হবে। স্বীকৃতিহীন বা নবায়ন না করা প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন গ্রহণযোগ্য হবে না। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সনদ সংযুক্ত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।