উপকূলীয় সুন্দরবনে আবারও জলদস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে। গত দুই দিনে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে ২২ জন জেলেকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এদের মধ্যে পাঁচজনকে মারধরের পর মুক্তিপণ পাঠানোর শর্তে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকি ১৭ জন এখনো জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন।
রোববার (৩ মে) সকাল থেকে সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত সুন্দরবনের চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদীর আগা, চালতে বেড়ে, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে জেলেদের তুলে নেওয়া হয়। অপহরণের জন্য স্থানীয়ভাবে পরিচিত জলদস্যু আলিম ও নানাভাই বাহিনীকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীদের স্বজনরা।
অপহৃত জেলেরা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। এ ঘটনায় সুন্দরবনসংলগ্ন হরিনগর, কদমতলা, মরাগাং, চুনকুড়ি ও মথুরাপুর এলাকার জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অপহৃতদের মধ্যে রয়েছেন, মোমনি ফকির (৩০), মুর্শিদ আলম (৪০), ইসমাইল শেখ (২৮), আব্দুল করিম (৪৮), আব্দুস সামাদ (৪০), মনোহর সরকার (৩৪), আল মামুন (১৬), হুমায়ুন (২৬), মনিরুল (২৫), রবিউল (৩০), সঞ্জয় (৫২), আল আমিন (৩৭), শাহাজান (৫০), আবুল বাসার বাবু (৩৫), রেজাউল (৩৫), আব্দুস সালাম (৫৫) ও আবুল কালাম (৪০)।
এছাড়া মুক্তিপণের শর্তে ছাড়া পাওয়া পাঁচ জেলে হলেন, ধ্রুব সরকার (৩৮), হৃদয় মণ্ডল (৫৩), সবুর গাইন (৫০), সাইফুল ইসলাম (৩২) ও ইউনুস আলী (২৬)।
অপহৃতদের পরিবারের সদস্য ও মহাজনদের ভাষ্য, চার থেকে পাঁচ দিন আগে কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে বৈধ পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান জেলেরা। পরে বিভিন্ন খালে ছড়িয়ে মাছ ধরার সময় দস্যুরা অস্ত্রের মুখে তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্বজন বলেন, এখনো পর্যন্ত জলদস্যুরা নির্দিষ্ট কোনো মুক্তিপণের অঙ্ক জানায়নি। তবে মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এলেই তারা যোগাযোগ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অপহৃতদের নিরাপদে ফেরত পেতে দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
ফিরে আসা জেলেদের অভিযোগ, দস্যুরা লোকালয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকেও জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। এতে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান বলেন, জেলেদের অপহরণের বিষয়টি কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত বড় পরিসরে অভিযান চালানো হবে।
শ্যামনগর থানার ওসি মো. খালেদুর রহমান বলেন, এখনো কোনো ভুক্তভোগী পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানায়নি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জলদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনাটি নতুন করে সুন্দরবন অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত অভিযান ও টহল জোরদার না করলে জেলেদের জীবিকা ও নিরাপত্তা দুটিই হুমকির মুখে পড়বে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, বিএনপি কথায় কথায় আমাদের উদ্দেশ্য করে বলে- জুলাই নিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। জুলাই ব্যবসা ও হাদি ব্যবসা চালু রাখতে হবে। তারা এগুলো বলে অপমান করতে চায়। এগুলো বলে বলে হাদিকে কিন্তু নিউজ ফিড থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোদিবিরোধী আন্দোলনে ১৯ জন মানুষ মারা গিয়েছেন। তাদের নিয়েও আপনাদের ব্যবসা করতে হবে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন মিলনায়তনে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। মাহমুদা মিতু বলেন, জুলাইয়ের কথা এনসিপি ছাড়া আর কে বলে। ১১ দলীয় জোট বলে। কিন্তু সরকারি দল কতক্ষণ বলে। বরং তারা দমায়ে রাখে যাতে ওরা না বলে। এসব অপমান গায়ে মাখবেন না। জুলাইয়ের ব্যবসা করবেন। তারা যদি জিয়া ব্যবসা করতে পারে, জুলাই ব্যবসা করতে অসুবিধা কী। আপনারা যেটাকে ব্যবসা বলেন, এটা স্নেহ, মায়া, মমতা, এটা দরদ। এই দরদ আমরা বাঁচিয়ে রাখবো। বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, যেই শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আপনারা আজকে সরকার গঠন করেছেন, তাদের মায়েরা তো আপনাদের কথা বলে না। তারা সংস্কারের কথা বলে, সংবিধান সংস্কারের কথা বলে, পুলিশ কমিশন, গুম কমিশন গঠনের কথা বলে। আপনাদের সাথে আমাদের লড়াই শহীদের আকাঙ্খা বাস্তবায়নের লড়াই। ভালো রাষ্ট্র উপহার দেওয়ার লড়াই। হাজার বেকার তরুণ ভাইয়ের হাতে চাকরি তুলে দেয়ার লড়াই। আপনাদের সাথে আমাদের লড়াই নারীর সম্মানের লড়াই। আমরা পুলিশ সংস্কার চেয়েছি। এই পরিবর্তনগুলোই আমরা আনতে চাই। আমরা জনগণের কথা বলতে চাই। মাহমুদা মিতু বলেন, আপনারা একটা লাঠি দিয়ে বারি দেবেন, একটা চোখ অন্ধ করে ফেলবেন এগুলোর ভয় করি আমরা? আপনাদের মনে হয় এই ছেঁচড়া গুন্ডা লেলিয়ে দিয়ে, ওই জিয়া সাইবার ফোর্সের গুন্ডাগুলা লেলিয়ে দিয়ে, নোংরা নোংরা ছবি এডিট করে, নোংরা কমেন্ট করে আমাদেরকে দামিয়ে রাখবেন। আমরা এসব পরোয়া করি না। এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ। আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় নারী শক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার খালেদা আক্তার, জেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক মো. মুজিব, জাতীয় ছাত্র শক্তির জেলার আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শিমুল চৌধুরী প্রমুখ।
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক পরিস্থিতি ও ক্যাম্পের সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল। শুক্রবার কক্সবাজার সফরকালে প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত অ্যাম্বাসেডর সার্জিও গোর, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. মি. ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সিলর এরিক গিলান, বিশেষ দূতের সিনিয়র উপদেষ্টা চার্লস হর্টন ও চেস্টার ক্রোগার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা অফিসের সহকারী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ক্রিস ওসবোর্ন ও ইয়ান ডিক। আজ দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের এ/৫৮ ব্লকে অবস্থিত ওয়াচ টাওয়ার পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা ওয়াচ টাওয়ারে অবস্থান করে ক্যাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আশপাশের রোহিঙ্গা শেল্টারসমূহ পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় ওয়াচ টাওয়ারের পাশের সড়কে ইউসিআরের (ইউসিআর) তত্ত্বাবধানে প্রায় ৬০ জন রোহিঙ্গা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবির প্রতি প্রতিনিধি দলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্ল্যাকার্ডগুলোতে ছিল ‘উই মিস আওয়ার হোম’, ‘নো মোর রিফিউজি লাইফ, রিটার্নিং ইজ আওয়ার রাইট’, ‘ইফেকটিভ সাপোর্ট ফর রিটার্ন হোম’ এবং ‘হোপ ইজ হোম, আরাকান ইজ আওয়ার হোম’ যেখানে তারা নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি জানান। পরে বিকেল ৩টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প-৬-এর এ ব্লকে অবস্থিত আইআরসি হেলথ সেন্টার পরিদর্শন করেন। সেখানে স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট থেকে ৪টা ১০ মিনিট পর্যন্ত তারা ক্যাম্প-৪-এর ব্লক-১-এ অবস্থিত ই-ভাউচার ডাটা সেন্টার পরিদর্শন করে খাদ্য সহায়তা ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। পরে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট থেকে ৪টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ক্যাম্প-৪-এর এলপিজি ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার পরিদর্শন করে জ্বালানি বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেন। সফরকালে প্রতিনিধি দলটি সাধারণ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খাদ্য, চিকিৎসা, নিরাপত্তা, শিক্ষা, বাসস্থান ও সামগ্রিক জীবনযাত্রার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি ক্যাম্পে কর্মরত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওর মানবিক কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করেন। ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলটি উখিয়া সদর দক্ষিণ স্টেশন এলাকায় অবস্থিত নর্থ এন্ড কফি হাউজে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও চা-চক্রে অংশ নেন। সেখানে রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি, মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতা, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের গুরুত্ব এবং ক্যাম্পের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। পরিদর্শন শেষে আনুমানিক বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে প্রতিনিধি দলটি ক্যাম্প এলাকা ত্যাগ করে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এর আগে শুক্রবার সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। বিমানবন্দরে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তারা উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উদ্দেশ্যে রওনা হন। মার্কিন এই উচ্চপর্যায়ের সফরকে কেন্দ্র করে উখিয়া ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো সফরজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে খুলনা থেকে রাজশাহীগামী সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস (আপ) ট্রেন দাঁড় করিয়ে চালক এক ঘণ্টারও বেশি সময় অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। পরে ১ ঘণ্টা ৭ মিনিট পর চালক ফিরলে ট্রেনটি পুনরায় যাত্রা শুরু করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। স্টেশন সূত্রে জানা যায়, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস বিকেল ৬টা ৭ মিনিটে মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে পৌঁছায়। নির্ধারিত দুই মিনিট বিরতির পর ট্রেন ছাড়ার সংকেত দেওয়া হলেও ট্রেনটি আর ছেড়ে যায়নি। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, চালক ইঞ্জিনে নেই এবং ইঞ্জিনের দরজাও বন্ধ। প্রায় ১ ঘণ্টা ৭ মিনিট পর সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে চালক মাহবুবুর রহমান ফিরে এসে ট্রেনটি পুনরায় যাত্রা শুরু করেন। এ সময় দীর্ঘ অপেক্ষায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা স্টেশনে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশন মাস্টার ও কর্মচারীরা সাময়িকভাবে সরে যান। ট্রেনের যাত্রী বাপ্পি নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি শুক্রবার রাজশাহীতে বিএসসি পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি। খুলনা থেকে এই ট্রেনে উঠেছি। সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। চালক মাহবুবুর রহমান ফিরে এলেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি কোথায় ছিলেন বা কেন ট্রেন রেখে চলে গিয়েছিলেন—এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দিয়েই ট্রেন চালু করেন। সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের গার্ড শফিকুল ইসলাম জানান, খুলনা থেকে ট্রেনটি যথাসময়ে মোবারকগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছায়। স্টেশন থেকে ছাড়ার অনুমতি দেওয়ার পরও ট্রেন না ছাড়ায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চালক ইঞ্জিন ছেড়ে চলে গেছেন। তবে তিনি কী কারণে অনুপস্থিত ছিলেন, তা তিনি জানেন না। মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহজাহান আলী বলেন, সাগরদাঁড়ি ১৬১ আপ ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে স্টেশনে আসে। নিয়ম অনুযায়ী দুই মিনিট পর ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হলেও ট্রেন ছাড়েনি। পরে দেখা যায় চালক ইঞ্জিনে নেই। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় পর তিনি ফিরে এসে ট্রেনটি নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন। এদিকে একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নকশীকাঁথা কমিউটার ট্রেনও পোড়াদহ জংশনে দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেখানেও চালক কিছু সময় অনুপস্থিত থাকার পর ট্রেনটি পুনরায় চলাচল শুরু করে।