পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে আগামী বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) খাতে বড় ধরনের কর ছাড় ও প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে আয়কর ছাড়, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিদ্যুৎ বিলে রেয়াত ও ইভির ওপর কর কমানোর মতো উদ্যোগ থাকতে পারে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর শূন্য শতাংশ আয়কর সুবিধা দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি যেসব গ্রাহক সৌরশক্তি ব্যবহার করেন, তাদের বিদ্যুৎ বিলে ৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করছে সরকার।
এ ছাড়া লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ও লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্যাক তৈরির কাঁচামাল আমদানির ওপর ২০৩০ সাল পর্যন্ত শুল্ক ও কর মওকুফ করার প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে এসব পণ্যের আমদানিতে মোট করের পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে চায় সরকার। সে কারণেই আগামী অর্থবছরের শুল্ক ছাড়ের বড় অংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দেওয়া হতে পারে।
সবুজ জ্বালানি নীতির অংশ হিসেবে বৈদ্যুতিক গাড়ির নিবন্ধন ও নবায়নের সময় নেওয়া অগ্রিম আয়করও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ইভির ওপর ২ লাখ টাকা অগ্রিম আয়কর নেওয়া হয়। সেটি গাড়ির ক্ষমতা অনুযায়ী কমিয়ে ২৫ হাজার, ৫০ হাজার, ৭৫ হাজার এবং ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ক্ষমতার ইভির জন্য ২৫ হাজার টাকা, ৩০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা, ৪০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ৭৫ হাজার টাকা এবং ৪০০ কিলোওয়াটের বেশি ক্ষমতার গাড়ির জন্য ১ লাখ টাকা কর ধার্য হতে পারে।
সরকার স্থানীয় ইভি যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক, নির্মাতা ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়ার কথা ভাবছে। পাশাপাশি ই-বাইক ও বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জিং স্টেশনের ওপর শুল্ক কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ১১ জুন সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় এসব ঘোষণা দিতে পারেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত মাসে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন।
ইলেকট্রিক স্কুটার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রানার মোটরসের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার ফিরোজ কবির প্রস্তাবগুলোকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়েই পরিবেশবান্ধব পরিবহনের দিকে ঝোঁক বাড়ছে। তবে বাংলাদেশে এখনো চার্জিং অবকাঠামো বা স্টেশন বড় চ্যালেঞ্জ।
তার মতে, বর্তমানে বেশিরভাগ ব্যবহারকারী বাসায় চার্জ দেন। কিন্তু ইভির ব্যবহার বাড়াতে হলে সারা দেশে নির্ভরযোগ্য চার্জিং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা জরুরি।
চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন খান বলেন, শুধু কর ছাড় দিলেই হবে না, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ইভি খাতে সামগ্রিক নীতিগত সংস্কারও প্রয়োজন।
তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষেত্রে সরকার যেখানে শূন্য বা ১ শতাংশ শুল্ক দিচ্ছে, সেখানে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে তারা ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত কর নিচ্ছে। তার ভাষায়, এটি ‘কর বৈষম্য’।
তিনি দাবি করেন, জ্বালানির ওপর কর নির্ধারণ সাপ্লাই চেইনের ওপর ভিত্তি করে না হয়ে খরচের ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত।
গত সপ্তাহে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য একগুচ্ছ কর সংস্কারের প্রস্তাব দেয়। সংস্থাটি সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ যন্ত্রপাতির ওপর অগ্রিম কর প্রত্যাহার, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির শুল্ক কমানো, শক্তি সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপর সম্পূরক শুল্ক বাতিল এবং ইভির কর কমানোর সুপারিশ করেছে।
সিপিডির মতে, বর্তমানে সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ যন্ত্রপাতির ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম কর থাকায় মোট করের পরিমাণ ২৮ থেকে ৩১ শতাংশে পৌঁছে যায়, যা প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।
সংস্থাটি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার এবং এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক তুলে দেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে।
ইভির ক্ষেত্রে সিপিডি ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বাতিল এবং আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার সুপারিশ করেছে। তাদের মতে, সবুজ প্রযুক্তির মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি করের চাপ বহন করছে বৈদ্যুতিক গাড়ি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সম্প্রতি হজ করে এসেছেন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। রেখেছেন দাড়ি। আর এই দাড়ি রাখার কারণেই তিনি প্রশংসিত হচ্ছেন। বুধবার বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক রুহুল আমিন সাদী তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে লেখেন, ‘জেনারেল ওয়াকারুজ্জামান। বাংলাদেশের সেনাপ্রধান। সেনাপ্রধান দায়িত্বে থাকাকালে দাড়ি রাখতে দেখিনি। তিনিই সম্ভবত প্রথম এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। কেউ বলতেই পারেন, দাড়িই কি ইসলাম?জি ভাই, আমার কাছে এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দাড়ির জন্য এই দেশে কত মানুষ গুম হয়েছেন, জ---ঙ্গি ট্যাগ খেয়েছেন, গ্রেফতার হয়েছেন সেই তালিকা অনেক লম্বা। এমন একটি দেশের সেনাপ্রধান যদি দাড়ি রাখেন, আমি একে স্যালুট জানাই। আল্লাহ উনাকে কবুল করুন।’
বৃষ্টি ঝরানো মৌসুমি বায়ুর বিস্তার ঘটেছে দেশের পাঁচ বিভাগজুড়ে। বুধবার (১০ জুন) দেশের সব বিভাগের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। জ্যৈষ্ঠের শেষ সপ্তাহে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাতকে বর্ষার আগমনী বার্তা বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির কালবেলাকে বলেন, ‘দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আসা মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যার মাধ্যমে দেশে কার্যত বর্ষাকালের সূচনা হলো। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। এসব এলাকায় কার্যত বর্ষা এসে পড়েছে। মৌসুমীবায়ু আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে বাংলাদেশের বাকি অংশে বিস্তার লাভ করার জন্য অনুকূল অবস্থায় রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মৌসুমীবায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে, যার প্রভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। ফলে মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গেল সোমবার পর্যন্ত চলা টানা তাপপ্রবাহের অবসান হয়েছে। বৃষ্টি যতদিন চলবে, ততদিন গরম কিছুটা কম অনুভূত হবে। তবে বাতাসে আদ্রতা বেশি থাকায় কখনো কখনো অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হবে।’ বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। দুপুরের দিকে কালো হয়ে আসে আকাশ, যেন সন্ধ্যা নেমে গেছে। এরপর শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। নগরবাসীর জন্য এই বৃষ্টি যেন স্বস্তির পরশ হয়ে এসেছে। এদিন ঢাকায় ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আজ সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল পটুয়াখালীতে; ৩৫ ডিগ্রি দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই সময়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নওগাঁর বদলণগাছীতে; ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় গেল ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ডের তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবারের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে- রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পরবর্তী পাঁচ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে। চলতি বছর স্বাভাবিক সময়ের এক সপ্তাহ পরে দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটেছে। দেশের মোট বৃষ্টিপাতের ৮০ ভাগের বেশি হয় মৌসুমি বায়ুর কারণে। তবে এ বছর বৃষ্টির মৌসুমে তুলনামূলকভাবে কম বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। অথচ উষ্ণ এপ্রিল ও মে মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ ভাগের বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দপ্রাপ্তরা যেন এক বছরের মধ্যে বাড়িঘর নির্মাণ করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। বুধবার (১০ জুন) কেরানীগঞ্জ উপজেলার ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটির আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে প্রকল্প এলাকায় থানা, স্কুল, হাসপাতাল ও বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজও দ্রুত শুরু করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্প এলাকাকে আলোকিত করতে সড়কবাতি স্থাপন এবং নিরাপত্তা জোরদারে সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জাকারিয়া তাহের বলেন, ঝিলমিল প্রকল্প এলাকায় থানা স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় থানার পাঁচটি টহল দল এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। পরিদর্শনকালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং রাজউক–এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী নির্মাণাধীন স্কুল, হাসপাতাল ও থানা ভবনের কাজ ঘুরে দেখেন। পরে প্রকল্পের সাইট অফিসে প্রকল্প পরিচালক মো. আমিনুর রহমান প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন। এ সময় ঝিলমিল সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ মো. মোশারফ হোসেন সোসাইটির পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন। পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজউকের কর্মকর্তা শেখ মতিয়ার রহমান, মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, এরাদুল হক, কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলামসহ রাজউকের কর্মকর্তারা এবং প্লট বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা।