সৌদি আরবের জিজান প্রদেশে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।
হামলার পর স্থাপনাটিতে আগুন ধরে যায়। তবে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিজান প্রদেশে সৌদি আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
হুথিদের নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা ড্রোন ব্যবহার করে জিজানের ওই স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ প্রদেশে সৌদি বাহিনীর চালানো ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ আক্রমণ করা হয়েছে।
তবে হুথিদের হামলার দাবি এবং হামলায় স্থাপনার কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এর আগে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ভোরের দিকে জিজানে সৌদি আরামকোর একটি শোধনাগার-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় আগুনের ঘটনা ঘটে।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
জিজান সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী। ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে সৌদি-ইয়েমেন সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে রয়েছে।
সৌদি হামলার প্রতিশোধের দাবি
হুথিদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ প্রদেশে সৌদি ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই জিজানে সৌদি আরামকোর স্থাপনায় আক্রমণ চালানো হয়েছে।
ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ- দুটি প্রদেশই হুথিদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং হুথিদের মধ্যে সংঘাত চলে আসছে।
হুথিরা এর আগেও সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরবও ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে বিভিন্ন সময়ে বিমান হামলা চালিয়েছে।
জিজানের তেল অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ
জিজান সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। সেখানে সৌদি আরামকোর শোধনাগারসহ বিভিন্ন তেল ও জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা রয়েছে।
এ ধরনের স্থাপনায় হামলা হলে শুধু স্থানীয়ভাবে জ্বালানি সরবরাহের ওপর নয়, আঞ্চলিক তেল বাজারেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে এবারের ঘটনায় উৎপাদন বা সরবরাহ কার্যক্রমে কোনও ধরনের বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনও বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
এদিকে হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং স্থাপনাটির ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরও তথ্য আসার অপেক্ষা করা হচ্ছে।
হুথিদের হামলার দাবি ও হামলার কারণ হিসেবে সৌদি ড্রোন হামলার যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, সেগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দামে ওঠানামা ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সমন্বিত নতুন মূল্য কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, প্রেটোল ১৬০ টাকা ও অকটেন ১৬৫ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠতে পারে আমাদের প্রতিবেশী দেশেগুলোতে এসব জ্বালানির দাম কত? আন্তর্জাতিক তেল সূচক ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় বার্তা সংস্থাগুলোর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তারিখের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোতে লিটারপ্রতি জ্বালানি তেলের বর্তমান খুচরা বাজারদর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো। ভারত (রাজ্যভেদে) পেট্রোল: ১০২.১২ - ১১৬.১৫ ভারতীয় রুপি (প্রায় ১৩১ - ১৪৯ টাকা) অকটেন (প্রিমিয়াম): ১১৫.৫০ - ১২০.০০ ভারতীয় রুপি (প্রায় ১৪৮ - ১৫৪ টাকা) ডিজেল: ৯৫.২০ - ১০৪.২৩ ভারতীয় রুপি (প্রায় ১২২ - ১৩৪ টাকা) (ভারতে রাজ্যভিত্তিক ভ্যাট ও শুল্কের ভিন্নতার কারণে মেট্রো শহরগুলোতে মূল্যের তারতম্য রয়েছে) পাকিস্তান পেট্রোল (সুপার/প্রিমিয়াম ইউরো ৫): ৩৯০.০০ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ১৭৩ টাকা) অকটেন: ৩৯৫ - ৪০০ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ১৭৫ - ১৭৭ টাকা) ডিজেল (হালকা): ৩০৪ পাকিস্তানি রুপি ( প্রায় ১৩৪.৬৭ টাকা ) ডিজেল (হাইস্পিড): ৪২৪.০৪ পাকিস্তানি রুপি ( প্রায় ১৮৮ টাকা) শ্রীলঙ্কা: পেট্রোল (৯২ অকটেন): ৩৯৯ শ্রীলঙ্কান রুপি (প্রায় ১৪৮.২৪ টাকা) অকটেন (৯৫ অকটেন): ৪৭৫ শ্রীলঙ্কান রুপি (প্রায় ১৭৬.৪৭ টাকা) ডিজেল: ৩৮২ - ৪৭৮ (সুপার ৪ স্টার) শ্রীলঙ্কান রুপি (প্রায় ১৪২ - ১৭৮ টাকা) নেপাল পেট্রোল: ১৯৭ নেপালি রুপি থেকে ২০০ নেপালি রুপি (প্রায় ১৫৮ টাকা) অকটেন: ২৯৫.০০ নেপালি রুপি (প্রায় ২৩৬ টাকা) ডিজেল: ১৯৭ - ২০০ নেপালি রুপি (প্রায় ১৫৮ - ১৬০ টাকা) মিয়ানমার: পেট্রোল (মান ভেদে) : ৩৭১০ - ৩৮১৫ কিয়াত (প্রায় ২১৮ - ২২৪ টাকা) অকটেন (৯৫ অকটেন): ৪০৯২ কিয়াত (প্রায় ২৪১ টাকা) ডিজেল: ৪৩৩১ কিয়াত (প্রায় ২৫৫ টাকা) ভুটান পেট্রোল ও অকটেন: ৯৯: ১০৬ গুলট্রাম (প্রায় ১২৭ - ১৩৫ টাকা) ডিজেল: ১০৪.৩৮ - ১০৮.৬২ গুলট্রাম (প্রায় ১৩৪ থেকে ১৪০ টাকা) ভুটানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো ফুয়েল স্টেশনে ‘পেট্রোল’ ও ‘অকটেন’ নামে আলাদা দুটি পাম্প থাকে না। সেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মূলত গ্যাসোলিন (পেট্রোল) ও ডিজেল- এই দুই ভাগে জ্বালানি বিক্রি হয়। তার মধ্যে পেট্রোল ও অকটেন হলো গ্যাসোলিন।আন্তর্জাতিক সূচক ও ভুটানের ফুয়েল স্টেশনগুলোতে যাকে অকটেন-৯৫ বা মোটর স্প্রিট (এমএস) বলা হয়, সেটিই মূলত সে দেশের প্রধান পেট্রোল। সূত্র: গ্লোবাল পেট্রোল প্রাইস, এনডিটিভি
হিমালয়ের বিতর্কিত একটি অঞ্চলে পাকিস্তান ও চীনের সীমান্ত-সংক্রান্ত সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান ও চীন সম্প্রতি ‘পাকিস্তান-চীন বাউন্ডারি জয়েন্ট কমিশন’ কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ জরিপ, বাণিজ্য এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বাড়ানোর কথা বলা হলেও উদ্যোগটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, যে অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান ও চীন সীমান্ত-সংক্রান্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে, তার একটি অংশ ভারতীয় ভূখণ্ড। ফলে ওই ভূখণ্ড নিয়ে পাকিস্তানের তৃতীয় কোনও দেশের সঙ্গে চুক্তি বা ব্যবস্থা করার আইনগত অধিকার নেই বলে মনে করে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, “পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনও সীমান্ত নেই”—ভারতের অবস্থান এ বিষয়ে স্পষ্ট ও ধারাবাহিক। তিনি নতুন কমিশনকে ‘আইনগত ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকেও ভারত কখনও স্বীকৃতি দেয়নি বলে জানিয়েছেন। কোথায় মূল বিরোধ? পাকিস্তান-চীন সীমান্তের যে অঞ্চলটি নিয়ে ভারতের আপত্তি সবচেয়ে বেশি, তার মধ্যে রয়েছে শাকসগাম উপত্যকা। প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলটি ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান চীনের কাছে হস্তান্তর করে। ভারতের দাবি, শাকসগাম উপত্যকা সাবেক জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের অংশ এবং বর্তমানে ভারত যাকে লাদাখের অংশ হিসেবে দাবি করে। ১৯৬৩ সালের ওই চুক্তিকে তাই নয়াদিল্লি অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে। ভারত কখনও ওই চুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি। অন্যদিকে পাকিস্তানের অবস্থান ভিন্ন। ইসলামাবাদ জম্মু ও কাশ্মীরকে একটি বিতর্কিত ভূখণ্ড হিসেবে দেখে এবং ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকে বৈধ বলে মনে করে। ফলে ওই চুক্তির ভিত্তিতে চীনের সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে বলে পাকিস্তানের অবস্থান। নতুন কমিশন কেন গুরুত্বপূর্ণ? পাকিস্তান জানিয়েছে, নতুন কমিশনের মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যৌথ সীমান্ত জরিপ, বাণিজ্য প্রবাহ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানো হবে। কমিশনের প্রথম বৈঠকও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এটি পুরোপুরি নতুন কোনও কাঠামো নয়। প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের বরাতে বলা হয়েছে, ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিতেই একটি যৌথ সীমান্ত কমিশনের ব্যবস্থা ছিল। ২০১৩ সালের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত চুক্তিতেও এই কমিশন গঠনের ভিত্তি রাখা হয়। ফলে সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে পুরোনো ব্যবস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। দিল্লির শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও গভর্ন্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জাবিন টি জ্যাকবের মতে, এটি পুরোপুরি নতুন কোনও ব্যবস্থা নয়; বরং আগে থেকেই থাকা একটি কাঠামোকে কার্যকর করার পদক্ষেপ। তার মতে, চীন তার বিভিন্ন সীমান্তকে আরও সুসংহতভাবে চিহ্নিত ও ব্যবস্থাপনার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের অন্যান্য সীমান্তে অস্থিতিশীলতার সময় চীন-পাকিস্তান সীমান্তে চলাচল ও যোগাযোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়টিও এর পেছনে থাকতে পারে। ভারতের আপত্তির নেপথ্যে কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের আপত্তি শুধু একটি সীমান্ত কমিশনকে ঘিরে নয়; এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের কাশ্মীর বিরোধ সরাসরি জড়িত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এসব ভূখণ্ডের অবস্থান পরিবর্তনের কোনও উদ্যোগ নয়াদিল্লি মেনে নেবে না। ভারতের বক্তব্য, পাকিস্তান যেসব অঞ্চলকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন বলে দাবি করে, সেসব ভূখণ্ড নিয়ে তৃতীয় কোনও দেশের সঙ্গে ব্যবস্থা করার অধিকার ইসলামাবাদের নেই। জয়সওয়াল আরও বলেছেন, ভারত ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকে কখনও স্বীকৃতি দেয়নি এবং ওই চুক্তিকে অবৈধ ও অকার্যকর বলে মনে করে। তার ভাষায়, ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে চীন ও পাকিস্তানের যেকোনও ধরনের সীমান্ত সহযোগিতা নয়াদিল্লির কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর এর কোনও প্রভাব পড়বে না। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরও বড় বিষয় সীমান্ত বিরোধের সঙ্গে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি)-এর বিষয়টিও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। চীনের কাশগর থেকে পাকিস্তানের গওয়াদর বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত এই অবকাঠামো প্রকল্পের একটি অংশ ভারত দাবিকৃত পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে গেছে। এ কারণে ভারত দীর্ঘদিন ধরে সিপিইসি’র বিরোধিতা করে আসছে। সীমান্ত কমিশনকে তাই শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনার প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যায় না। এর সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগ, সিপিইসি-নির্ভর অবকাঠামো এবং কাশ্মীর প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতি-বিশেষজ্ঞ হুসেইন হাক্কানি মনে করেন, নতুন কমিশনের উদ্যোগে বাস্তবিক ও রাজনৈতিক—দুই ধরনের বিষয়ই রয়েছে। তার মতে, সীমান্ত সহযোগিতা বাড়ানো, অবৈধ সীমান্ত পারাপার ঠেকানো এবং সিপিইসি’র সঙ্গে যুক্ত কৌশলগত অবকাঠামো সুরক্ষার পাশাপাশি এটি ভারতের প্রতি একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে। ভারত-চীন সম্পর্কের প্রেক্ষাপটেও তাৎপর্যপূর্ণ এই উদ্যোগ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ভারত ও চীন নিজেদের সীমান্ত উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে। দুই দেশের মধ্যে হিমালয় অঞ্চলের লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) ঘিরে কয়েক বছর ধরে সামরিক উত্তেজনা রয়েছে। ফলে একদিকে ভারত-চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে চীন ও পাকিস্তান তাদের পারস্পরিক সীমান্ত সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। ভারতীয় কৌশলগত মহলে এ বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন কমিশন গঠনের অর্থ এই নয় যে, হিমালয়ে ভারতের সঙ্গে চীন-পাকিস্তানের তাৎক্ষণিক সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অধ্যাপক জ্যাকবের মতে, এই উদ্যোগের কারণে এলএসি-তে এখনই কোনও প্রত্যক্ষ বা দৃশ্যমান পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। চীনের কৌশলগত হিসাব বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা চীনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। কাশ্মীর প্রশ্নে চীন ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানের অবস্থানের কাছাকাছি থেকেছে এবং গিলগিট-বালতিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলকে ভারতীয় নয়, পাকিস্তানি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার প্রবণতা বজায় রেখেছে- এমনটাই উল্লেখ করেছেন হাক্কানি। তার মতে, পাকিস্তানকে কাশ্মীর প্রশ্নে আশ্বস্ত করা চীনের জন্য একই সঙ্গে কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এতে একদিকে চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও গভীর হয়, অন্যদিকে ভারতকে চীন ও পাকিস্তান—দুই প্রতিবেশীকে ঘিরে নিরাপত্তা-সমীকরণ বিবেচনা করতে হয়। তবে এই পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক সামরিক প্রভাব নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এর গুরুত্ব মূলত দীর্ঘমেয়াদে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ ও রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে। বিরোধের কেন্দ্রে ‘সীমান্ত’ নাকি ভূরাজনীতি? সব মিলিয়ে, চীন-পাকিস্তান সীমান্ত কমিশন নিয়ে ভারতের আপত্তি কেবল মানচিত্র বা সীমান্তরেখার প্রশ্ন নয়। এর কেন্দ্রে রয়েছে কাশ্মীরের বিতর্কিত মর্যাদা, ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি, লাদাখের ওপর ভারতের দাবি, সিপিইসি এবং চীন-পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারত্ব। হাক্কানির ভাষায়, ভারত ও চীনের সীমান্ত বিরোধের মূল দ্বন্দ্ব শুধু মানচিত্র বা সীমারেখা নিয়ে নয়; এর সঙ্গে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক হিসাবও জড়িত। ফলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নতুন কোনও প্রক্রিয়া চালু হলেও তা কয়েক দশকের পুরোনো কাশ্মীর ও সীমান্ত বিরোধের মৌলিক প্রশ্নগুলো সমাধান করছে না। বরং চীন ও পাকিস্তান যেখানে নিজেদের সীমান্ত সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে, সেখানে ভারত সেই উদ্যোগকে তার সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত দাবির পরিপন্থী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করছে। ফলে হিমালয়ের এই দুর্গম অঞ্চল ঘিরে ভারত-চীন-পাকিস্তানের ত্রিমুখী ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার আরেকটি অধ্যায় সামনে এসেছে। সূত্র: বিবিসি
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই মিসরের রাজধানী কায়রোতে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) প্রধান জন র্যাটক্লিফ। মিসরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কায়রোতে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মিসরের গোয়েন্দা প্রধান হাসান রাশাদ উপস্থিত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় ইরান, গাজা স্ট্রিপ ও সুদান পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে চলমান হামলা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার হুমকির বিষয়টি প্রাধান্য পায়। বৈঠকে মিসরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আঞ্চলিক সংকট সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, সিআইএ প্রধান জন র্যাটক্লিফ আঞ্চলিক সংকট সমাধানের জন্য শান্তিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ পথ খুঁজতে মিসরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। সূত্র: আল-আরাবিয়া