শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রকে ৪০ কোটি ডলার দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে টিকটক। শিশুদের গোপনীয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বড় নিষ্পত্তি। শনিবার বিবিসি এ খবর প্রকাশ করেছে।
২০২৪ সালে টিকটক ও এর মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে মামলা করে মার্কিন বিচার বিভাগ। অভিযোগ ছিল, ১৩ বছরের কম বয়সী লাখো শিশুর কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন বা কপপার লঙ্ঘন।
চুক্তি অনুযায়ী, টিকটক ও বাইটড্যান্স তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন বিচার বিভাগকে ৩০ কোটি ডলার দেবে। পরে মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশনের সঙ্গে ২০১৯ সালের একটি সমঝোতা আদেশ প্রত্যাহার হলে আরও ১০ কোটি ডলার দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট শুমেট বলেন, মামলাটি শুরুর সময়ের তুলনায় বর্তমানে শিশু ও অভিভাবকেরা বেশি সুরক্ষা পাচ্ছেন।
এর আগে শিশুদের গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইউটিউব ২০১৯ সালে ১৭ কোটি ডলার এবং এপিক গেমস ২০২২ সালে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা দিয়েছিল।
মার্কিন সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, মামলাটি দায়েরের সময় টিকটকে ১৭ কোটির বেশি কিশোর ব্যবহারকারী ছিল। কিন্তু প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারকারীদের বয়স যথাযথভাবে যাচাই করতে এবং ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি নিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
মামলার পর টিকটকের মালিকানা, গোপনীয়তা নীতি এবং তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে।
এদিকে টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রমের মালিকানাতেও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রমের ৮১ শতাংশ একটি বিনিয়োগকারী জোটের মালিকানায় রয়েছে, আর বাইটড্যান্সের হাতে রয়েছে ১৯ শতাংশ অংশীদারি।
সূত্র: বিবিসি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
উচ্চগতির রেল যোগাযোগের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে ভারত। দেশটির প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বুলেট ট্রেনের নির্মাণকাজ চলছে বেঙ্গালুরুর ভারত আর্থ মুভার্স লিমিটেডে (বিইএমএল)। মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাইস্পিড রেল করিডরে চলাচলের জন্য তৈরি হচ্ছে ট্রেনটি। রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের আবহাওয়া ও পরিবেশগত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ট্রেনটির নকশা করা হয়েছে। এতে দেশীয় প্রকৌশল প্রযুক্তির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আটটি কোচের ট্রেনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০২ মিটার। পরীক্ষামূলকভাবে এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের সময় এর গতি থাকবে ঘণ্টায় ২৪৯ কিলোমিটার। ট্রেনটিতে একসঙ্গে ৫৫৭ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারবেন। এর মধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও চলাচলে সীমাবদ্ধতা রয়েছে—এমন যাত্রীদের জন্য দুটি নির্ধারিত জায়গা থাকবে। ট্রেনটির আটটি কোচের মধ্যে চারটি মোটরচালিত এবং চারটি ট্রেলার কোচ। সাতটি কোচে থাকবে সাধারণ শ্রেণির আসন, যেখানে ৩×২ বিন্যাসে যাত্রীরা বসতে পারবেন। অন্য একটি কোচে থাকবে নির্বাহী শ্রেণির আসন, যার বিন্যাস হবে ২×২। ট্রেনের দুই প্রান্তে চালকের কেবিন থাকবে। সেখানে থাকবে বুদ্ধিমান অনবোর্ড নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। এর মাধ্যমে চালক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। প্রয়োজনে দুটি আট কোচের ট্রেন জুড়ে ১৬ কোচের ট্রেন হিসেবেও চালানো যাবে। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে আসনগুলো। ভারতীয়দের শারীরিক গড়ন বিবেচনায় নিয়ে আসনগুলোর নকশা করা হয়েছে। এ ছাড়া থাকবে এলইডি বাতি, মাথার ওপর মালপত্র রাখার তাক, অতিরিক্ত লাগেজ রাখার জায়গা এবং ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য বিদ্যুতের সংযোগ। ট্রেনটির বড় জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখা যাবে। পাশাপাশি কোচগুলোর মধ্যে সংযোগপথ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা সহজেই এক কোচ থেকে অন্য কোচে যেতে পারেন। এতে থাকবে বায়ো-ডাইজেস্টার টয়লেট, ওয়াই-ফাইভিত্তিক বিনোদনব্যবস্থা এবং এলসিডি পর্দায় যাত্রীদের জন্য তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা। ইংরেজি, হিন্দি ও আঞ্চলিক ভাষায় এসব তথ্য পাওয়া যাবে। যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে থাকবে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম ও স্বয়ংক্রিয় ঘোষণা। জরুরি প্রয়োজনে ট্রেনের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য থাকবে বিশেষ টক-ব্যাক ইউনিট। প্রতিবন্ধী ও চলাচলে সীমাবদ্ধতা রয়েছে—এমন যাত্রীদের সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে ট্রেনটির নকশায়। প্ল্যাটফর্মের উচ্চতার সঙ্গে কোচের মেঝের উচ্চতা সমন্বয় করে সহজে ওঠানামার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের মধ্যকার দূরত্ব কমাতে থাকবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রসারিত ও সংকুচিত হতে পারে এমন সিঁড়ি। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের উপযোগী দরজা, নির্ধারিত আসন ও টয়লেটের পাশাপাশি ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখা নির্দেশনাও থাকবে। ফলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যাত্রীরাও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বুঝতে পারবেন। প্রতিটি কোচে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের জন্য দুটি করে হিটিং, ভেন্টিলেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) ইউনিট থাকবে। শব্দ নিরোধক ব্যবস্থা, শব্দ কমানোর বিশেষ আবরণ, বগির কাভার ও অ্যারোডাইনামিক নকশা ট্রেনের শব্দ ও কম্পন কমাতে সহায়তা করবে। ট্রেনটিতে ব্যবহার করা হবে ২৫ কিলোভোল্ট, ৫০ হার্টজের একক-ফেজ এসি বিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থা। এর পুনরুৎপাদনমূলক ব্রেকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রেনের গতি কমানোর সময় উৎপন্ন শক্তি পুনরুদ্ধার করে আবার বিদ্যুৎব্যবস্থায় সরবরাহ করা হবে। এতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার আরও সাশ্রয়ী হবে। ট্রেনটির গতিবেগ ও বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ জন্য কম্পিউটেশনাল ফ্লুইড ডাইনামিকস (সিএফডি) সিমুলেশনের মাধ্যমে ট্রেনের সামনের অংশ ও মূল কাঠামোর নকশা উন্নত করা হয়েছে। এর ফলে বাতাসের বাধা ও ঘূর্ণি কমবে। পাশাপাশি টানেলের ভেতরে বায়ুচাপের আকস্মিক পরিবর্তন এবং শব্দের বিস্ফোরণধর্মী প্রভাবও কমানো সম্ভব হবে। বিশেষভাবে তৈরি ছাদের প্যানেল, বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্রাংশ এবং বাইরের কাঠামোর নকশা বাতাসের প্রবাহ আরও উন্নত করবে। এতে উচ্চগতিতে এবং টানেলের ভেতর চলাচলের সময়ও যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় থাকবে। প্রকল্পটি উচ্চগতির রেল প্রযুক্তিতে ভারতের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্র: গালফ নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের শত্রুতামূলক নীতির কোনো পরিবর্তন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা যায় না বলে সতর্ক করে খামেনি বলেন, দল বা গোষ্ঠীর পরিবর্তনের মাধ্যমে আধিপত্যবাদী শক্তির আচরণ বদলে যাবে বলে যারা সামান্যতম আশাও করছেন, তারা ভুল করছেন। একই ভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড় দিলে দেশটি ইরানের জনগণের প্রতি শত্রুতা পরিত্যাগ করবে বলে যারা মনে করেন, তারাও মারাত্মক ভুল করছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ চায়। ওয়াশিংটনকে কোনো ধরনের ছাড় দিলে তা দেশটির আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠার পথ তৈরি করবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। খামেনি বলেন, ‘আধিপত্যবাদী শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণের সামান্যতম প্রবণতাও এখন পর্যন্ত অর্জিত বিপুল সাফল্যকে নষ্ট করে দেবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে টানা পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির দুই মুসলিম নারী রাজনীতিক রাশিদা তালাইব ও ইলহান ওমর। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিজ নিজ আসনে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজিত করে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন তাঁরা। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ১২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী জেমস ডি হুপারকে পরাজিত করেন রাশিদা তালাইব। অন্যদিকে মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী জন নাগেলকে হারিয়ে আসন ধরে রেখেছেন ইলহান ওমর। ডেট্রয়েট ও আশপাশের এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন রাশিদা তালাইব। তিনি মার্কিন কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। ফিলিস্তিনিদের অধিকার, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনায় বরাবরই সরব ছিলেন তিনি। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের গুরুত্বপূর্ণ এই রাজনীতিক ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কংগ্রেসে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদেও বিতর্ক হয়েছে। ২০২৩ সালে ইসরায়েল-হামাস সংঘাত নিয়ে মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাস হয়। অন্যদিকে সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইলহান ওমর ২০১৯ সাল থেকে মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁর নির্বাচনী এলাকার মধ্যে মিনিয়াপোলিস ও আশপাশের অঞ্চল রয়েছে। অভিবাসীদের অধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা এবং প্রগতিশীল নীতির পক্ষে সক্রিয় ভূমিকার জন্য পরিচিত ইলহান ওমর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসননীতি ও তাঁর বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করে আসছেন তিনি। সম্প্রতি অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে তদন্তের মুখে পড়লেও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইলহান ওমর। তাঁর দাবি, এ তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাশিদা তালাইব ও ইলহান ওমর দুজনই ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল ধারার পরিচিত মুখ। পররাষ্ট্রনীতি, অভিবাসন, নাগরিক অধিকার এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসে তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য কোনো দলকে অন্তত ২১৮টি আসন পেতে হয়। এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণেও ভোটারদের রায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।