সরকারের সক্ষমতা ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষকদের প্রতিটি যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও তা কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট’ আয়োজিত এক শিক্ষক সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
মাহ্দী আমিন বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ের দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যে সুযোগ-সুবিধা ও অবসর ভাতা দীর্ঘদিন বকেয়া পড়েছিল, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই ২ হাজার কোটি টাকার সংস্থান করে তা পরিশোধের রূপরেখা ও কার্যক্রম শুরু করেছেন। এই ধারাবাহিকতায় আগামী দিনগুলোতেও শিক্ষক সমাজের সার্বিক কল্যাণ ও স্বার্থকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।
শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও আধুনিকায়নের ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আগে যেখানে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হতো, বর্তমান সরকার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে শতাধিক শিক্ষকে উন্নীত করেছে। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের সময়ে যেসব শিক্ষক নিপীড়ন সহ্য করেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও মুক্তিকামে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন, তাদের উপযুক্ত সামাজিক ও প্রশাসনিক মূল্যায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া শিক্ষকদের প্রযুক্তিবান্ধব ও দক্ষ করে তুলতে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টিচার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, উচ্চশিক্ষা, বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ ও ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ জোরদারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঐতিহাসিক অবদান স্মরণ করে মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গত ১৬ বছরের রাজপথের সংগ্রাম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে শিক্ষকরা গণতন্ত্রের পক্ষে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং এমপিও চালু, এনটিআরসিএ গঠন, অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার মতো যুগান্তকারী সব উদ্যোগ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলেই বিএনপির হাত ধরে শুরু হয়েছিল।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শিক্ষক-কর্মচারী প্রতিনিধি অংশ নেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ প্রমুখ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সরকারের সক্ষমতা ও পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষকদের প্রতিটি যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও তা কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট’ আয়োজিত এক শিক্ষক সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। মাহ্দী আমিন বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ের দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যে সুযোগ-সুবিধা ও অবসর ভাতা দীর্ঘদিন বকেয়া পড়েছিল, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই ২ হাজার কোটি টাকার সংস্থান করে তা পরিশোধের রূপরেখা ও কার্যক্রম শুরু করেছেন। এই ধারাবাহিকতায় আগামী দিনগুলোতেও শিক্ষক সমাজের সার্বিক কল্যাণ ও স্বার্থকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও আধুনিকায়নের ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আগে যেখানে মাত্র ১২ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হতো, বর্তমান সরকার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে শতাধিক শিক্ষকে উন্নীত করেছে। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের সময়ে যেসব শিক্ষক নিপীড়ন সহ্য করেও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও মুক্তিকামে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন, তাদের উপযুক্ত সামাজিক ও প্রশাসনিক মূল্যায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষকদের প্রযুক্তিবান্ধব ও দক্ষ করে তুলতে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টিচার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, উচ্চশিক্ষা, বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ ও ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ জোরদারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক অবদান স্মরণ করে মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গত ১৬ বছরের রাজপথের সংগ্রাম এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে শিক্ষকরা গণতন্ত্রের পক্ষে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং এমপিও চালু, এনটিআরসিএ গঠন, অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার মতো যুগান্তকারী সব উদ্যোগ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলেই বিএনপির হাত ধরে শুরু হয়েছিল। শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শিক্ষক-কর্মচারী প্রতিনিধি অংশ নেন। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ প্রমুখ।
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় পানি নিশ্চিত করতে গ্যারান্টি ক্লজসহ ভারতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি নতুন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি চায় বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ এ বছরই শেষ হচ্ছে। বর্তমান চুক্তি শুধু নবায়ন না করে বাংলাদেশ সরকার নতুন বা সংশোধিত চুক্তি চায়। এতে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় শুষ্ক মৌসুমের পানি নিশ্চিত করতে গ্যারান্টি ব্যবস্থা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘রিথিংকিং ওয়াটার ফিউচারস: ইয়ুথ লিডারশিপ, জাস্টিস অ্যান্ড কো-অপারেশন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও দীর্ঘমেয়াদি এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ নতুন চুক্তির দিকে এগিয়ে যেতে চায় সরকার। এ্যানি বলেন, ‘আমাদের নতুন একটি চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত। এটি হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি এবং এতে অবশ্যই গ্যারান্টি ক্লজ থাকা বাঞ্ছনীয়।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের নীতি হলো জনগণের স্বার্থ ও দেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে যেকোনো চুক্তি করা।’ ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষর হওয়া ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হবে। এ্যানি বলেন, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন একটি ব্যবস্থা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিয়মিত কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকের ভিত্তিতে ১২ ডিসেম্বরের আগেই চুক্তিটি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’ মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার হবে ১৯৭৭ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মতো একটি গ্যারান্টি ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, পাঁচ বছর মেয়াদি ১৯৭৭ সালের চুক্তিতে একটি গ্যারান্টি ক্লজ ছিল। তবে ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। সেমিনারে দেওয়া বক্তব্যে এ্যানি বলেন, ‘এই সেমিনারে যেমন আলোচনা হয়েছে, ১৯৭৭ সালের চুক্তি ১৯৯৬ সালের চুক্তির চেয়েও শক্তিশালী ছিল।’ বর্তমান চুক্তি শুধু মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে বাংলাদেশ নতুন একটি চুক্তি চাচ্ছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এ্যানি বলেন, সেমিনারে এ বিষয়েই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গ্যারান্টি ব্যবস্থা সম্বলিত দীর্ঘমেয়াদি একটি চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে। জেআরসির কারিগরি দল ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, কারিগরি পর্যায়ের কাজ শেষ হলে অবশিষ্ট বিষয়গুলো মন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা করা হবে। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পানি কূটনীতি সহযোগিতা, বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ, তথ্য বিনিময় এবং আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘পানিকে একটি যৌথ পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে দেখতে হবে। এর টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুই দেশই উপকৃত হতে পারে।’ তিনি বলেন, ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বর্ষায় অতিরিক্ত পানি এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট- এই দুই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ও খরা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে প্রচলিত পানি ব্যবস্থাপনার গণ্ডির বাইরে গিয়ে ভাবতে হবে। এ্যানি বলেন, ‘আমাদের পানি কূটনীতি, অববাহিকাভিত্তিক সহযোগিতা, জলবায়ু সহনশীলতা, অংশগ্রহণমূলক শাসন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ন্যায্য অধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।’ পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে অভিন্ন নদীগুলো নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা কোনো বিকল্প নয়, বরং এটি প্রয়োজনীয়। জাতিসংঘের পানি কনভেনশনে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তঃসীমান্ত পানি সম্পদের ন্যায্য ও দায়িত্বশীল ব্যবহার, তথ্য বিনিময় এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্ম। তিনি আরও বলেন, বন্যা, লবণাক্ততা ও আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনার মতো একই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে এমন দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশকে বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে জোট গড়ে তুলতে হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘তাই আমাদের পানি কূটনীতি একটি সহজ নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত- পানি নিয়ে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সহযোগিতার মাধ্যমে পারস্পরিক সুবিধা নিশ্চিত করা।’ তিস্তা মহাপরিকল্পনাকেও সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পানি ব্যবস্থাপনা অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের জন্য তিস্তা একটি জটিল মৌসুমি সমস্যা তৈরি করে। শুষ্ক মৌসুমে সেখানে তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়, আবার বর্ষায় বন্যা ও নদীভাঙনের সৃষ্টি হয়। পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, তিস্তা প্রকল্পের কারিগরি ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করছে সরকার । তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের খুব দ্রুত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করতে হবে। ওই সমীক্ষার ভিত্তিতেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।’ এ্যানি বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করার দিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে একই বছর মূল তিস্তা প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বড় প্রকল্প। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি মানুষ উপকৃত হতে পারে। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প ইতোমধ্যে একনেকের অনুমোদন পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে এ প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হবে বলে সরকার আশা করছে। সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি প্রধান অতিথি হিসেবে সেমিনারে অংশ নেন। সেমিনারে আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের পানি কূটনীতি শক্তিশালী করা, অংশগ্রহণমূলক শাসন ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার এবং পানি ব্যবস্থাপনায় তরুণদের নেতৃত্ব ও পানি-ন্যায়বিচার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সুন্দরবনে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। আজ বৃহস্পতিবার কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ডাকাত দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাগেরহাটের মোংলা থানার সুন্দরবনের শেলা নদী ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এমন খবর পেয়ে গতকাল রাতে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা সুন্দরবনের গহিনে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক বা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৬ টি একনলা বন্দুক, ৩ টি এয়ারগান, ১ টি পাইপগানের ট্রিগার ও ১৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।